সাত রঙ্গের আম

0
31
সাত রঙ্গের আম
সাত রঙ্গের আম

সাত রঙ্গের আম গল্পটিতে রিতার আদরের বোন ছিল কোয়েল। কোয়েলের ইচ্ছা পূরন করতে গিয়ে রিতা পরে যায় এক মহা বিপদে। সে নদীতে পদ্ম ফুল তুলতে গিয়ে নিজে পদ্মফুল হয়ে যায়। আর তার ছোট বোন এসব দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়।

আচ্ছালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা। কেমন আছেন সবাই বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালই আছেন। আজকে আপনাদের জন্য অন্য রকমের একটি রুপকথার গল্প নিয়ে এসেছি। আজকের গল্পের নাম হল সাত রঙ্গের আম। আশা করি গল্পটি পড়লে আপনাদের খুব ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক-

সাত রঙ্গের আম

অনেক দিন আগের কথা। রিতা আর কোয়েল নামের দুই বোন ছিল। ছোট বোন কোয়েলের বয়স ছিল সাত বছর। আর রিতার বয়স ছিল পনেরো। তাদের বাবা মা মারা যায় যখন কোয়েলের বয়স দুই বছর। তখন থেকেই কোয়েল রিতার কাছে মানুষ হয়। রিতা কোয়েলকে খুব ভালবাসতো। তাদের বাসা থেকে একটু দূরে ছিল একটি নদী।

সাত রঙ্গের আম গল্পের নদীটির নাম ছিল রুপসা। রিতা কোয়েলকে সেখানে ঘুরতে নিয়ে যেত। আজকে তারা দুই বোন রুপসা নদীর তীরে ঘুরতে এসেছে। নদীর ধারে এসে ছোট বোন কোয়েল বললো, দিদি আমাকে নদী থেকে ঐ পদ্ম ফুল এনে দে না দিদি। আমার ওই পদ্ম ফুল গুলো খুব ভাল লাগছে। কিরে দিদি চুপ করে আছিস কেন এনে দে না একটা পদ্ম ফুল। রিতা তার ছোট বোনকে বলে, হ্যা রে পদ্ম ফুল গুলো অনেক সুন্দর।

তুই পদ্ম ফুল নিবি? দাড়া আমি এনে দিচ্ছি তোকে। রিতা তার ছোট বোনকে অনেক ভালোবাসে তাই তার কোন আবদার অপূর্ণ রাখে নি। আর এটা তো সামান্য ফুল চেয়েছে। তার পর কোয়েলের জন্য পদ্ম আনতে নদীতে নামলো। নদী থেকে পদ্ম তুলে হাতে নেয়। আর সাথে সাথেই রিতা পদ্ম ফুল হয়ে যায়। আর নদীতে পদ্ম হয়ে ভাসতে থাকে। কিন্তু কোয়েল এসব কিচ্ছু বুঝতে পারে না।

কোয়েল জোরে জোরে বলে, দিদি এই দিদি কোথায় গেলি তুই? তোকে যে আর আমি দেখতে পাচ্ছি না। আচ্ছা দিদি আবার নদীর জলে ডুবে গেলো না তো? এখন আমি কি করে দিদি কে খুজে পাবো? এই সব বলে কোয়েল কান্না করতে থাকে। কান্না করতে করতে এক সময় কোয়েল সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায়।

যখন কোয়েলের জ্ঞান ফেরে তখন সে দেখতে পায় সে একজন ভৈরবি মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে। আর ভৈরবি মা কোয়েলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তখন ভৈরবি মা কোয়েলকে জিজ্ঞেস করে, বাছা কি হয়েছিল তোর? তুই অমন নদীর ধারে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলি কেন? কি হয়েছে তোর বল আমাকে। এর পর কোয়েল ভৈরবি মাকে তার বোন রিতার অদৃশ্য হওয়ার ঘটনার কথা সব খুলে বলে।

তখন সাত রঙ্গের আম গল্পের ভৈরবি মা কোয়েলকে বলে, কি সাংঘাতিক ব্যাপার! তোর বোন রিতা তো ঐ রুপসা নদীর পদ্ম ফুল তুলে খুব বড় ভুল করেছে। কারন ঐ নদীটা যে এক জাদুর নদী। আর ওই নদীতে যে পদ্ম ফুল দেখছিস সেগুলো সব পদ্ম মাতার সন্তান। তাই কেউ যদি ঐ নদীতে নামে আর সেই পদ্ম ফুল তোলে তাহলে পদ্মমাতা খুব রেগে যায়। আর তাকে পদ্ম ফুল বানিয়ে দেয় আর নদীর জলে তাকে ভাসিয়ে রাখে।

কোয়েল কেদে কেদে বলে, এসব আপনি কি বলছেন ভৈরবি মা। আমার দিদির তাহলে কি এত বড় ভুল হয়েছে? তাহলে কি আমার বোন রিতা কেও পদ্মমাতা পদ্ম ফুল বানিয়ে ভাসিয়ে রেখেছে বুঝি? কিন্তু অতগুলো পদ্ম ফুলের মধ্যে আমার দিদি কোনটা? আমি আমার দিদিকে দেখতে চাই। এই বলে কোয়েল কাদতে থাকে। ভৈরবি মা তখন বলে, অস্থির হোস না বাছা। চল আমার সাথে ওই নদীর ধারে। তোর দিদি কোনটা সেটা আমি দেখাচ্ছি।

এই বলে দুই জনে চলে আসলো সেই রুপসা নদীর ধারে। আর একটা পদ্ম ফুলের দিকে আঙ্গুল দিয়ে বলে, বাছা ওই পদ্ম ফুলটিই হলো তোর দিদি। ভৈরবি মায়ের কথা শেষ হতে না হতেই পদ্ম ফুলটি কথা বলতে শুরু করে। আর বলে, বোন আমিই তোর দিদি। আমায় চিনতে পারছিস না বোন? দেখ আমায়? কোয়েল সাথে সাথে কান্না স্বরে বলে ওঠে, দিদি এই দিদি আমি তোকে ছাড়া থাকবো কি করে? আমি একা থাকতে পারবো না। আমি আসছি দিদি। এই বলে কোয়েল নদীতে নামতে যায়।

ঠিক তখনি ভৈরবি মা বলে ওঠে, বাছা তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? তোকে বললাম না এই নদীতে কেউ নামলে পদ্ম মাতা তাকে পদ্ম ফুল বানিয়ে দেয়। তাহলে কি তুইও কি পদ্ম ফুল হতে চাস নাকি? তাহলে তোর দিদিকে কি করে বাচাবি? তুই কি তোর দিদিকে মানুষ বানাতে চাস না? তখন কোয়েল থেমে যায়। আর ভৈরবি মাকে বলে, হ্যা মা আমি আমার দিদিকে মানুষ বানাতে চাই। কিন্তু কিভাবে তাকে মানুষ বানাবো? কি করে আমি আমার দিদিকে আগের রুপে ফিরিয়ে আনবো? বলুন ভৈরবি মা।

ভৈরবি মা কোয়েলকে বললেন, তোর বোন রিতাকে মানুষে পরিণত করার একটা উপায় আছে। আর তা হল সাত রঙ্গের আম। কোয়েল চিন্তার স্বরে বললো, সাত রঙ্গের আম ? কিন্তু সাত রঙ্গের আম দিয়ে কি হবে ভৈরবি মা? ভৈরবি মা বলে, হবে অনেক কিছু হবে। এই সাত রঙ্গের আম দিয়ে পদ্ম মাতার ভিতরের রাক্ষসের বীজকে ধ্বংস করে পদ্ম মাতাকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে হবে।

আসলে বাছা পদ্ম মাতা ছিলেন খুবই ভাল মনের মানুষ আর দয়ালু। কিন্তু পদ্ম মাতা পৃথিবী ভ্রমনে এসে ভুল করে রাক্ষসের ফেলে যাওযা বীজফল খায়। আর সেই বীজ ফল খাওয়ার ফলে পদ্ম মাতার ভিতরের দয়ালু আত্তা হারিয়ে যায়। আর পদ্ম মাতা রাক্ষসের মত আচরন শুরু করে। আর কেউ সামান্য ভুল করলে তখন থেকে পদ্ম মাতা তাকে ভয়ানক শাস্তি দেয়। যেমনটা সে তোর দিদিকে দিয়েছে। তোকে সেই সাত রঙ্গের আম দিয়ে তার দয়ালু রুপটা ফিরিয়ে আনতে হবে।

তবেই তুই তোর বোনকে আবার আগের মত মানুষ রুপে ফিরিয়ে আনতে পারবি। আর পদ্ম মাতা ছাড়া যে তোর দিদিকে কেউ মানুষ রুপে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তাই যে করেই হোক তোকে সাত রঙের আম এর মধ্যে নীল আমটাই আনতে হবে। আর সেই আমটা পদ্ম মাতাকে খাওয়াতে হবে আর পদ্ম মাতার দয়ালু রুপটাকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

কোয়েল বললো, সেসব তো বুঝলাম ভৈরবি মা কিন্তু আমি সেই সাত রঙ্গের আম কোথায় পাবো। বলুন ভৈরবি মা। ভৈরবি মা বলে, শোন বাছা এখান থেকে দুইশো ক্রশ দক্ষিনে আছে সাত রঙ্গের রাজ্য। সে রাজ্যের একজন রাজ মাতা আছে। যার কাছে আছে মায়া আম গাছ। আর সেই আম গাছে আছে সাত রঙ্গের আম । তার মধ্যে তোকে নীল আমটা নিইয়ে আসতে হবে। এর পর কোয়েল ভৈরবি মায়ের কথা মত দক্ষিনে যাত্রা শুরু করল। যেতে যেতে সে সাত রঙ্গের রাজ্য দেখতে পায়। সেখানে সে ঢুকে অনেক খোজা খুজির পর রাজ মাতার দেখা পায়। কোয়েল তার কাছে যায়।

রাজ মাতা তাকে দেখেই বলে, কে রে তুই এখানে কেন এসেছিস? এখানে তো সাধারণত কোন মানুষ আসে না। তুই কি সাহায্য চাইতে এসেছিস নাকি? কি সমস্যা তোর বল? এর পর কোয়েল রাজ মাতাকে সব কিছু খুলে বলে। আর রাজ মাতার কাছে ঐ সাত রঙ্গের আম এর মধ্যে নীল আম তা চায়। কোয়েলের এমন হতাশা আর তার বোনের প্রতি ভালোবাসা দেখে রাজ মাতার মনে অনেক মায়া হয়। তার পর রাজ মাতা তার মায়া আম গাছ থেকে সাত রঙ্গের আম গাছ থেকে খুশী হয়। আর নীল আমটা কোয়েলকে দিয়ে দেয়। কোয়েল সেই আমটা নিয়ে নদীর ধারে ফিরে আসে।

তারপর কোয়েল পদ্মমাতাকে ডাকতে থাকে। বলে, পদ্ম মাতা পদ্ম মাতা কোথায় আপনি? দয়া করে দেখা দিন আমায়। কোয়েলের এমন ডাক শুনে পদ্ম মাতা সদৃশ্য হন। আর বলেন, কে রে তুই? আমায় এভাবে ডাকছিস কেন হ্যা? আর তুই এই নীল আম টা নিয়ে এখানে এসেছিস কেন? কোয়েল খুব বুদ্ধি করে বললো, পদ্ম মাতা আমাকে এই নীল আম নিয়ে রাক্ষসি মাতা পাঠিয়েছে তোমাকে দেবার জন্য। আর রাক্ষসি মাতার আদেশ অনুযায়ী এই নীল আমটা গ্রহন করুন পদ্ম মাতা।

রাক্ষসি মাতার কথা শুনে কোন কিছু না ভেবে পদ্ম মাতা কোয়েলের হাত থেকে নীল আমটা নেয়। আর সাথে সাথে আমটা খেয়ে ফেলে। যেই না আমটা খেয়ে ফেলেছে তখনি পদ্ম মাতার রাক্ষসি রুপ টা ধ্বংস হয়ে দয়ালু রুপটা জেগে ওঠে। আর কোয়েলকে বলে, কে মা তুই ? তুই এখানে কি করছিস? এর পর কোয়েল পদ্ম মাতাকে তার রাক্ষসি রুপের বর্নণা দেয়।

পদ্ম মাতা বলে, যদিও বা আমি আমার আগের কথা কিছু মনে করতে পারছি না, তবুও মনে হচ্ছে আমি তোর দিদির সাথে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি। তবে তুই কোন চিন্তা করিস না আমি এক্ষুনি তোর দিদিকে মানুষে রুপান্তরিত করে দিচ্ছি। এই বলে পদ্ম মাতা রিতাকে পদ্মফুল থেকে মানুষে রুপান্তর করে দেয়। এর পর পদ্ম মাতা কোয়েলকে কিছু সর্ণ মুদ্রা দেয়। তার পর পদ্ম মাতা তাকে সম্মান জানিয়ে জলে ডুবে যায়।

এর পর রিতা আর কোয়েল সর্ণ মুদ্রা নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরে আসে।