রোমান্টিক গল্প-জাদুর নতুন বছর

0
31
রোমান্টিক গল্প-জাদুর নতুন বছর
রোমান্টিক গল্প-জাদুর নতুন বছর

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি, মহান আল্লাহ তা-আলার রহমতে তোমরা সবাই ভালো আছো। আজকে আমি আপনাদেরকে খুব মজার একটা রুপকথার রোমান্টিক গল্প-জাদুর নতুন বছর গল্পটি শুনাবো। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে এখনই শুরু করি সেই রোমান্টিক গল্প-জাদুর নতুন বছর মজার গল্পটা।

রোমান্টিক গল্প-জাদুর নতুন বছর

কিছু বছর আগে পলাশপুর নামের একটা গ্রাম ছিল, সে গ্রামে দোলা, নিরব ও তার আপু তাদের বাবা মায়ের সাথে থাকত। ওরা খুব গরিব ছিল। ওর বাবা মা কোন কাজ করতে পারত না। কারণ তারা দুই জনই খুব অসুস্থ ছিল। তবে ওদের সংসার আগে মোটামুটি ভাল চলত। কারণ ওদের বাবা টিউশনি করত। এখন কোন মতো তাদের সংসার চলতেছে।

একদিন তারা পরিবারের সবাই মিলে কথা বলছিল। ওদের বাবা বলল, শোন মা মণিরা, তোমরা সবাই ভালো করে পড়া লেখা করবে। তোমরা যদি নিজেরা কিছু না করতে পার তাহলে কেউ তোমাদের গুরুত্ব দিবে না। দোলার বোনের নাম ছিল মিতু। তারা তাদের বাবাকে বলল, বাবা তুমি কোন চিন্তা করিও না। আমরা কোন ভুল পথে যাব না।

আমরা অবশ্যই নিজেদেরকে বিকশিত করব। হ্যা বাবা আমরা নিজেরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। তোমার স্বপ্ন আমরা অবশ্যই পূরণ করব। ওদের দুই বোনের কথা শুনে তাদের বাবা মা খুব খুশি হল। একদিন ওরা তিন ভাই বোন মিলে একসাথে খেলা করছিল, তাদের ভাই নিরব বলল, আপু শোন, আমি বড় হয়ে ডাক্তার হব আর আমার বাবা মাকে আমি সুস্থ করে তুলবো।

আর হ্যা তোমরাও তো বড় হয়ে চাকুরী করবে তখন আমাদের আর কোন অভাব থাকবে না। হ্যা আমাদের একসময় অনেক টাকা হবে, নিরবের বোন বলল। তবে আমাদের টাকা হোক বা না হোক তবে তোকে তো ডাক্টার হতেই হবে।

আমরা কি এখন গরিব আছি নাকি? আমরা তো এখন বড়লোক হয়ে গেছি। আমাদের মত হাসি খুশি আর কে থাকতে পারে বল। হ্যা আপু তুই একদম ঠিক বলেছিস, চলো আমরা এখন বাড়ি ফিরে যাই। এই বলে ওরা সবাই বাড়িতে চলে আসল।

ওরা তিন জনেই পড়ালেখা করত। ওরা পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের পরিবারে আরও বেশী অভাব দেখা দিল। ওদের অবস্থা খুব খারাপ হতে লাগল। দোলা মিতুকে বললো, আপু এবার কি হবে বলতো। আমি এখন কি করব। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরিবারে আরও সমস্যা দেখা দিবে।

দোলাকে অভয় দিয়ে মিতু বলে, তুই কোন চিন্তা করিস না মহান আল্লাহ তা-আলা যা করেন তা মানুষের মঙ্গলের জন্য করেন। ওদের মনে খুব সাহস আর আত্ববিসশ্বাস ছিল। ওদের অভাব থাকলে তারপরও তারা হাসি খুশি থাকত। গ্রামের লোকজন কখনো বুঝতে পারত না যে তাদের সংসারে অভাব আছে।

পলাশপুর গ্রামে প্রতি বছর একটা মেলা হত। সেই মেলায় তারা তিন ভাই বোন যেত। সেই মেলাতে ওরা খুব মজা করত। এবছর ও তারা তিনভাই বোন মেলায় গিয়েছে। আর মেলায় গিয়ে মিতু বললো, আমি ভেবে ছিলাম এবার মেলায় অনেক কিছু কিনবো। আলু, বেগুল, পিয়াজ আরও  আরও অনেক কিছু  কিনব। এই বলে ও মন খারাপ করে চলে গেল। কারন তাদের সে সামর্থ ছিল না। ওর কথাগুলো শুনে দোলা ও তার ছোট ভাই নিরব খুব জোরে জোরে হাসছিল।

ওদের হাসি দেখে মিতুর খুব রাগ হচ্ছিল। কারণ ও প্রতি বছর এই দিনে একই কথা বলত। মিতু প্রতি বছর এ মিতু বলতো, আলু, বেগুল, পিয়াজ কিনবে তারপর ওরা খুব মজা করবে। তারপর ওরা বাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু তাদের সে আশা আর পৃরণ হল না।

বাড়ি ফিরে তারা তাদের বাবা মাকে খাওয়ার জন্য বলতো, তোমরা এগুলো খাও, আমরা এখন ঘুমতে যাচ্ছি আমাদের খুব ঘুম পাচ্ছে। এভাবে তাদের  দিন কেটে যাচ্ছিল কোনমতো। অভাবে থকলেও তারা খুব খুশি ছিল। ওরা তিন ভাই বোন খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করত। আর ওরা খুব পরিশ্রম করত। কষ্ট করতে করতে কেটে গেল ওদের একটা বছর।

নিরব ওদের আপুদের বলল, কাল কি করবে কোন প্লান আছে কি তোমার? মিতু বললো, আগামীকাল কি হবে সেটা কি বলতে পারব না রে ভাই? তবে ইনশাআল্লাহ আগামীকল দিনটা ভালো কাঁটবে রে ভাই। এ বছর এ আমরা অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। ভাগ্যে যদি থাকে তাহলে আমাদের এ বছরেও কষ্ট থাকবে। আর যদি আমাদের কপালে সুখ থাকে তাহলে আপনা আপনি আমাদের দিন হয়ে যাবে। আগে থেকে প্লান করে কি হবে।

কয়েক দিন পর ওদের বাড়িতে অপরিচিত একটা লোক এল। ম্যাম আপনাদের এখানে মিতু কে বলতে পারেন? মিতু এগিয়ে এসে বললো, হ্যা বলুন আমি মিতু। লোকটি মিতুকে একটা ভাল খবর দেয়। মিতু সেরা মেধাবীদের তালিকায় সেলেক্টেড হয়েছে। আর যারা যারা মেধা তালিকায় নির্বাচিত হয়েছে তাদের নাকি একটি করে ল্যাপটপ দেয়া হবে।

এই কথা বলে, লোকটি সেখান থেকে চলে গেল। তখন নিরব বলে ওঠে আরে! এতো দেখছি দারুন খবর। নতুন বছরে নতুন খবর, শুধু খবরে নয় এ তো দেখছি দারুন খবর। তাহলে আগামী দিনগুলো আমাদের ইনশাআল্লাহ অনেক ভালো কাঁটবে। এই কথা গুলো শুনে ওদের পরিবারের সবাই আনন্দে মেতে ওঠেছিল। ওরা তিন ভাই বোন খুশি হয়ে বাহিরে বের হল একটু ঘুরতে। ওরা তিন জন মিলে মজা করছিল।

হঠাৎ একটা পরী এসে হাজির হল। পরীটির নাম ছিল শাকিলা। পরী বলল আমি নতুন বছরে এই পৃথিবীতে ঘুরতে এসেছি।তোমাদের এই নতুন বছরের শুভেচ্ছা রইল। ওরা পরীকে দেখে তো অবাক হয়ে গেল। তোমাকেও নতুন বছর এর শুভেচ্ছা রইল পরী। আর আমার নাম মিতু। আজকের এই দিনে তোমাকে দেখে আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি। পরী বললো, তোমাদের দেখে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তোমরা তিনজন খুব ভারি মিষ্টি। বিশেষ করে এই ছেলেটা।

দোলা বলল ও আমার ছোট ভাই নিরব। আর আমরা তিনজন ভাই বোন। আমার নাম দোলা। তুমিও অনেক সুন্দর পরী। আমরা গল্পে তোমাদের কথা শুনতাম। আজ নিজের চোখে দেখলাম। আজ নিজেদের কে বড় ভাগ্যবান মনে করছি। পরী অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে তাদের সাথে কথা বলছিল। কথা বলতে বলতে দুপুর হয়ে গেল। পরী বলল, তোমাদের সাথে কথা বলে আমার অনেক ভালো লাগল। এই নাও নতুন বছর এর উপহার। এটা তোমাদের জন্য। এই কথা বলে, শাকিলা পরী সেখান থেকে চলে গেল।

তারপর তারা সবাই বাড়ি ফিরে এলো। বাবা, মা জানো আমাদের কাছে এই বছর জাদুর নতুন বছর মনে হচ্ছে। আমাদের জীবনে অনেক নতুন বছর এসেছিল কিন্তু এবারের টা অন্য রকম। তাদের মা বলল, আরে বাবা জাদুর নতুন বছর আবার হয় নাকি। তুই না একটা পাগল। তখন তাদের বাবা তাদের মাকে বললো, তুমি ছেলেটাকে এভাবে ধমকাচ্ছো কেন? আজ হয়তো সে এমন কিছু দেখেছে তা আগে দেখেনি। হ্যা বাবা, নিরব একদম ঠিক বলেছে। ওরা তিনজনে আজকে দিনে কি হয়েছে তা সব খুলে বলল। এদের এই সব কথা শুনে তার বাবা মা অবাক হয়ে গেল।

তারপর তারা পরীর দেওয়া সেই উপহারটা খুলে দেখল। তারা খুলে দেখে অবাক হয়ে গেল। সেখানে অনেক টাকা ছিল। তাদের বাবা বলে উঠলো, এত টাকা আমি তো আমার জীবনেও দেখিনি রে বাবা। নিরব বলল, আমি জানতাম এমন কিছু থাকবে। আমি আগে বলেছিলাম আমাদের কাছে এই বছরটা  জাদুর নতুন বছর বলে মনে হয়। আমার কথাটা হল তো।

তার বাবা বলল, হ্যা তুই ঠিক বলেছিস। সত্যি এই নতুন বছরটা আমাদের কাছে জাদুর নতুন বছর। তাদের মা বললো একের পর এক ভালো কিছু হচ্ছে আমাদের সাথে। হ্যা মা তোমরা ঠিক বলেছো। আমরা কখনো ভাবিনি নতুন বছরে আমাদের সাথে এমন কিছু হবে। আমাদের কাছে সত্যি জাদুর নতুন বছর। তারপর থেকে ওরা সবাই হাসি খুশিতে ছিল। তবে এরপর থেকে তাদের আর কোন অভাব ছিল না।