রাগী রাজার মজার গল্প

0
32
রাগী রাজার মজার গল্প
রাগী রাজার মজার গল্প

রাগী রাজার মজার গল্প টিতে রাজার নাম বিক্রম আদিপ্ত। তিনি খুবই রাজি ছিলেন। খুব ছোট বিষয়ে তিনি খুব রেগে যান। একদিন তিনি তার মন্ত্রীকে নিয়ে নদী ঘুরতে গেলেন।

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা? আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, মহান আল্লাহ তা-আলার রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে রাগী রাজার মজার গল্প শুনাবো। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে রাগী রাজার মজার গল্প শুরু করি।

রাগী রাজার মজার গল্প

অনেক দিন অগের কথা, বিক্রমগড় নামে একটা রাজ্য ছিল। আর সেই রাজা বিক্রম আদিপ্ত খুবই রাগী ছিল। তিনি ছোট ছোট বিষয়ে খুবই রেগে জেতেন। কোন কোন সময়ে তিনি রাগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যার ভোগ তার রাজ্যের প্রজাতের পোহাতে হত।

একদিন তিনি তার খাস মন্ত্রী সুজন সিংহের সাথে নদীর তীরে ভ্রমণ করছেন। রাজা মশাই নদীর তীরে গিয়ে সুজন সিং কে জিজ্ঞাস করলেন, সুজন সিং এই নদী আমাদের রাজ্য হয়ে কোথায় যায়। সুজন সিং বলেন, রাজা মশাই আমাদের এই নদী আনাদের রাজ্য হয়ে পূর্বের রাজ্যে যায়।

এখানকার লোক এই নদী দিয়ে কি করে। মন্ত্রী বলে, তারাও আমাদের মত এই নদীর পানি ব্যবহার করে। এই কথা শুনে রাজা খুবই রেগে গিয়ে বললেন, তা কি করে সম্ভব। এই নদী আমাদের কেউ আমার অনুমতি না নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেনা।

রাগী রাজাকে দেখে সুজন সিং খুব ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি জানতেন যদি রাজা মশাইয়ের রাগ কমানো না যায় তাহলে তিনি নিশ্চই ভুল কো সিদ্ধান্ত নিবেন। তাই তিনি রাজাকে বললেন, মহা রাজ কিন্তু নদীর জল তো, এই কথা বলতে না বলতেই রাগী রাজা বলে, সুজন সিং তুমি আজই রাজ্যের সিমানায় প্রাচীর তুলে দাও।

আমাদের রাজ্যের জল যেন পূর্বের রাজ্যে জেতে না পারে। এই কথা শুনে সুজন সিং খুব ভয় পেয়ে গেলেন। সুজন সিং জানতে এর ফলে কোন না কোন সমস্যা হবেই। তিনি রাগী রাজার সামনে কিছুই বলতে পারলেন না। তাই সুজন সিং কিছু রাজ মিস্ত্রী ডেকে এনে রাজ্যের সিমানায় একটা মজবুদ দেয়াল তৈরী করলেন।

আর সেই দেয়াল দেখে রাগী রাজা মশাই খুবই খুশি হয়ে গেলেন। কিন্তু তার রাগের ফল রাজ্যের লোকেদের ভোগ করতে হল। নদীর মধ্যে দেয়াল তুলে দেওয়ার কারণে সেই পানি রাজ্যের জমিতে এসসে গেল আর সকল ধান খেত ডুবে যায়। আর তাই হতাস হয়ে রাজ্যে রাজার কাছে চলে আসে।

রাজা মশাই নদীর পানি আমাদের সকল ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। আর এখন পানি আমাদের ঘরে প্রবেশ করছে। দয়া করে আপনি কিছু একটা করুন রাজা মশাই। তা না হলে আমাদের  অনেক বড়  ক্ষতি হয়ে যাবে। সুজন সিং এদের সকলের কথা  উপলদ্ধি করলেন।

এবং সুজন সিং বললেন, আপনারা চিন্তা করবেন না। আমি এই সমস্যার একটা সমাধাণ বের  করছি। সুজন সিং এর কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে তারা সেখান থেকে চলে গেল। তারা বের হয়ে  যাওয়ার পর তিনি চিন্তা করতে লাগলেন।

তিনি ভাবলেন, মহারাজ তো ভিষন রাগী আমি যদি মহা রাজাকে বুঝাতে যাই তাহলে, আমাকেই মেরে ফেলবেন। ঠিক তখনি তার মাথায় একটা বুদ্ধি চলে এল। তিনি তার নিজের ঘরে গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুনিয়ে পড়লেন। যেই না মাঝ রাত হল তিনি জাগলেন এবং রামশেবক যিনি রাজ মহলে থাকেন তিনি তার কাছে গেলেন। রামশেবকের কাজ ছিল সকালে সূর্য ওঠার পর একটা বড় ঘন্টা বাজানো।

যে রাজাও রাজ্যের সকলে জানতে পারে যে সকাল হয়ে গেছে এবং ওঠার সময় গয়ে গেছে। সুজন সিং রামশেবক কে বললেন, সকাল হয়ে গেছে ঘন্টা বাজিয়ে দাও। এই কথা শুনে রামশেবক বলল, মন্ত্রী মশাই এখন তো মাত্র মাঝ রাত। মহা রাজ যদি জানতে পারে তাহলে আমাকে মেরেই ফেলবে। মন্ত্রী মশাই বলে, তুমি কোন চিন্তা করনা তোমার কছুই হবে না।

সুজন সিং এই কথা বলায় রাম শেবক রাজি হয়ে গেল, এবং খুব জোরে জোরে ঘন্টা বাজিয়ে দিল। ঘন্টা বাজতেই সবাই জেগে গেল। মহা রাজও জেগে মহলের বাহিরে চলে এলেন। তিনি বাহিয়ে বের হয়ে দেখে বাহিরে ঘোর অন্ধকার। সূর্যের কোথাও কোন চিহ্ন মাত্র নেই। রাগী রাজা রেগে গিয়ে রাম শেবক কে বললেন, রামশেবক তোমার কি দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে গেছে।

তুমি দেখতে পারছোনা এখন মধ্য রাত। রাগী রাজার এই কথা শুনে রামশেবক ভয় পেয়ে যায়। রাজা মশাই আমি এসব, এই কথা বলা মাত্রই সুজন সিং বলে ওঠলেন মহা রাজ এখানে রামশেবকের কোন দোষ নেই। রাজশেবক তো ঠিক সময়ে ঘন্টা বাজিয়েছে যেমন আপনি তাদের রাজ্যে পানি যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তেমনি তারা আপনার রাজ্যে সূর্য ওঠা বন্ধ করে দিয়েছে।

আর তাই আমাদের চাঁদের আলোই ভরসা। এই কথা শুনে রাজা মশাই রেগে গিয়ে বললেন,পূর্বের রাজ্যের সাহস কি করে হল এমন কাজ করার। সুজন সিং আপনি সেনা বাহিনী প্রস্তুস করুন আমরা আজই পূর্বের রাজ্যে আক্রমন করব।

কিন্তু মহা রাজ আমরা এত অন্ধকারে কিভাবে প্রস্তুতি নেব। আর আমরা প্রস্তুস না নিয়ে যাই তাহলে আমাদের পরাজয় চিশ্চিত। তাহলে তুমি কি করতে চাও, আমরা সূর্য ছাড়া থাকি আমরা এভাবে থাকতে পাড়ব না। তবে মহা রাজ এই সমস্যার একটা সমাধান আছে। মহারাজ বললেন, কি উপায় তারাতারি বল তুমি।

মহারাজ যদি আপনি পূর্বের রাজ্যের পানি ছেড়ে দেন তাহলে ওরাও আপনাদের সূর্যের আলো ছেড়ে দেবে। রাজা মশাই বললেন, না আমরা আমাদের জল কাউকে দেব না। রাজা মশাইয়ের কথার জবাবে সুজন সিং বুদ্ধি খাটিয়ে বললেন, আপনি একদম ঠিক বলেছেন মহারাজ। আমরা আমাদের নদীর জল কাউকে দেব না কিন্তু আমরা তো পূর্বের রাজ্যের সাথে তো আমরা সূর্যের ব্যবসা করতেই পারি।

সুজন সিং এই কথা বলাতেই মহারাজা নদীর মাঝের দেয়াল ভাঙ্গার অনুমতি দিলেন। এবং বললেন, ঠিক আছে তুমি সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলো আর পূর্বের রাজ্যে খবর পাঠাও আমরা আমাদের নদীর পানি দিব ও তারাও যেন আমাদের কে সূর্যের আলো দেয়।

দেয়াল ভাঙ্গার পর সূর্য ওঠার সময় হয়ে গিয়েছিল। দেখতে দেখতে সূর্যের আলো পুরো রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল। দেখতে দেখতে নদীর পানিও কমতে লাগল। আর তাদের জমির ধান খেতও বেঁচে গেল। তাহলে আমরা এই গল্প থেকে এই শিক্ষা পাই যে, যেকোন সমস্যার সমাধাণ নিশ্চই আছে। আর বিশেষ করে কারো সাথে হিংসা করা যাবে না।