মৎস্য রাজকুমার ও রাজকন্যার গল্প

0
30
মৎস্য রাজকুমার ও রাজকন্যার গল্প
মৎস্য রাজকুমার ও রাজকন্যার গল্প

আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের কে এমন একটি গল্প বলবো যে গল্পটি পড়লে আপনাদের মন ভাল হয়ে যাবে। আর সেই গল্প টি হচ্ছে, মৎস্য রাজকুমার ও রাজকন্যার গল্প ।

মৎস্য রাজকুমার ও রাজকন্যার রোমান্টিক গল্প

কোন এক সময় এক রাজ্যে রাজা রানী বাস করতো। তাদের সুখের কোন সীমা ছিল না। কিন্তু তাদের একটাই কস্ট তাদের কোন সন্তান ছিল না। তারা শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রাথর্না করতো কবে তাদের ঘরে একটা সন্তান আসবে। রানী সব সময় ঈশ্বরের কাছে সন্তান চাইতেন।

হঠাৎ একদিন রাজ দরবারে মাছ আনা হয়। সেই মাছ রাজা রানীর জন্য রান্না করার কথা ছিল। কিন্তু রান্না ঘরে মাছ আনার পর যা ঘটল। মাছ গুলোর মধ্যে সব থেকে সুন্দর একটা মাছ ছিল এবং মাছ গুলোর মধ্যে ওই মাছটি কথা বলতে পারতো। যা দেখে রাজার কমর্চারী অবাক হয়ে গেল। তিনি ছিলেন অনেক লোভি। তিনি ভাবলেন মাছটি যদি রানী মাকে দেই তিনি আমাকে অনেক পুরুষ্কার দিবেন।

তাই তিনি মাছটিকে সুন্দর পাত্রে করে নিয়ে গেলেন। মাছটিকে দেখে রানী অনেক খুশি হলেন। রানী তখন রাজা কে মাছটি দেখালেন, মাছটি দেখে রাজা রানী কে বললেন, এবার তোমার প্রাথর্না ঈশ্বরের কাছে মঞ্জর হয়েছে। রানী মাছের পাত্রটি নিয়ে আনন্দে আতর্হারা হয়ে ওই লোকটিকে পুরুষ্কূত করলেন। আর মাছের সাথে সময় কাটাতে শুরু করলেন।

রানী বললেন, আমি সব সময় একটি সন্তানের জন্য প্রাথর্না করেছিলাম। আজ আমার প্রাথর্না কবুল হয়েছে। আজ থেকে তুমি আমার সন্তান আর আমি তোমার মা। এখন থেকে তুমি হবে এই রাজ্যের মৎস্য রাজকুমার। তখন মাছ বলে আপনাকে ধন্যবাদ রানী মা। দিন কাটাতে থাকলো রানী তার মৎস্য রাজকুমার কে নিয়ে। এটি রাজ্যের সবার কাছে হাসির হলেও তা নিয়ে কেউ কখনো তামাশা করতে পারতো না।

তারপর যা ঘটল,পরের দিন সকাল বেলা রানী ঘুম থেকে উঠে দেখে। যে তার মৎস্য রাজকুমার এত বড় হয়ে গেছে যে, তার থাকার জায়গাটা ছোট হয়ে গেছে। তার ঐ ছোট পাত্রে জায়গা হচ্ছে না। তা দেখে তিনি মৎস্য রাজকুমারের জন্য বড় পাত্রের ব্যবস্থা করলেন।

দিন যত যাচ্ছে মৎস্য রাজকুমার তত বড় হচ্ছে। কিন্তু তার জন্য জায়গা টা ছোট হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে রানী মৎস্য রাজকুমারের জন্য বিশাল বড় ট্যাংকের ব্যবস্থা করলেন। যা পেয়ে মৎস্য রাজকুমার অনেক আনন্দিত হলো।

মৎস্য রাজকুমার পানির ট্যাং পাওয়ার পর

তখন মৎস্য রাজকুমার রানীকে ধন্যবাদ দিল। রানী বলল, এই সব কিছু শুধু তোমার জন্য। এভাবেই তাদের দিন কাটল, রাজা রানী অনেক খুশি। কিন্তু রানী একদিন দেখতে পেলেন ট্যাংকের পানি স্থির মৎস্য রাজকুমারের মন খারাপ। রানী মৎস্য রাজকুমার কে বললো, তোমার কি হয়েছে রাজকুমার। মৎস্য রাজকুমার বলল, এই এত বড় ট্যাংকে একা থাকতে আমার ভাল লাগেনা।

এখানে আমার খুব একা একা লাগে। রানী এ কথা শুনে অবাক হয়ে গেলেন। কিন্তু রানী তার রাজকুমার কে খুব ভালবাসতেন। আর রাজকুমার কস্টে থাকবে এটা তিনি সহ্য করতেন না। তুমি আমার সন্তান তাই তুমি কস্টে থাকবে আমি এটা চাই না। আমি তোমার জন্য সুন্দর বউ খুজে নিয়ে আসবো। আর এখানেই একটা ঘর বানিয়ে দেব।

তাই রানী তার মৎস্য রাজকুমারের জন্য ট্যাং বাড়ি তৈরী করলেন। আর রানী তার সেনাপতি কে বললেন, যে আমার সন্তানের বউ হবে তাকে অনেক পুরুষ্কার দেওয়া হবে। সৈন্যরা প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে পৌছিল কিন্তু কেউ মৎস্য রাজকুমারের বউ হতে রাজি হল না। তারা জানতো মৎস্য রাজকুমার স্ত্রী চাই। এই ভেবে সবাই তারা অস্বীকার করলো। পরের বাইশ তম দিনে সেনাপতি এমন এক বাড়িতে গেলেন।

সে বাড়িতে সৎ মায়ের সাথে মাহি নামের একটি মেয়ে থাকতো। তার সৎ মা ছিলেন অনেক লোভী তাই তার সৎ মেয়ে কে বিয়ে দিতে রাজি হন। মাহির সৎ মা বললেন আমার মেয়ে অনেক সুন্দর। সে মৎস্য রাজকুমারের স্ত্রী হওয়ার যোগ্য। একথা শুনে সেনাপতি চলে গেলেন।

মাহির সৎ মা মাহিকে সব জানালেন,কিন্তু মাহি কিছুতেই মৎস্য রাজকুমারের সাথে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। দুষ্ট মহিলা অনেক টাকার লোভী ছিলেন। আর তাই তিনি মাহি কে বাধ্য করলেন বিয়েতে রাজি হতে। তিনি মাহি কে নদীতে যেতে বললেন তার সব কাপড় ধোয়ার জন্য।

মৎস্য রাজকুমার এর সাথে রাজকন্যার বিয়ে

মাহি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলেন নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য। মাহি নদীর তীরে গিয়ে যখন কাঁদতে থাকলেন তখন সাত মাথার একটি সাপ বের হয়ে আসে। সাপটি মাহি কে বলল, কি হয়েছে তোমার তুমি কাদছো কেন। মাহি তখন সাপটিকে সব বলল। সাপটি বলল, এর সম্পর্কে আমি সব জানি।

মাহি তুমি আমার বাসার বাহিরে তিনটি মনি দেখতে পারছো। এই তিনটি মনি তুমি নিয়ে যাও। যখন মৎস্য রাজকুমার তোমার কাছে আসবে তখন প্রথমটি দিয়ে তার গায়ে আঘাত করবে। এতে সে কিক্ষনের জন্য নিচে চলে যাবে। আবার পুনরায় উপরে চলে আসবে তখন দ্বিতীয়টি দিয়ে আঘাত করবে।

আবার যখন তোমার দিকে ছুটে আসবে তখন তূতীয়টি দিয়ে আঘাত করবে। তারপর সব মায়া শক্তি কেটে গিয়ে মৎস্য রাজকুমার আবার মানুষের রুপে পরিনত হবে। একথা শুনে মাহি সাপ কে বলল সে তাহলে মছ নয়। সাপ বলল, তার সৎ ভাই এবং মা মিলে তাকে যাদু বস করে মাছ বানিয়ে দিয়েছে।

একথা শুনে মাহি সেনাপতির সাথে  প্রসাদে চলে যায়। সেখানে তাদের সুন্দর বাড়ি দেখতে পায়। সেটা তৈরী করা হয়েছিল মৎস্য রাজকুমারের জন্য। রানী মাহি কে দেখে অনেক খুশি হলেন আর বললেন, তুমি আমার সেই মিস্টি ছেলের বউ। মাহির প্রতি সবার দয়া দেখে মাহি খুব খুশি হলো।

এরপর মাহি তার ঘরে চলে গেল। সেখানে গিয়ে মাহি মৎস্য রাজকুমারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। বাহিরে সবাই মৎস্য রাজকুমারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কখন সে উপরে উঠে আসবে মাহিকে বরন করে নিবে। রাজকুমার একবারের জন্য উপরে উঠে আসল না। সময় পার হয়ে রাত নেমে আসল। পরে সবাই চলে গেল। আর মাহি তিনটি মনি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

মৎস্য থেকে রাজকুমারে পরিণত

চারদিকে শুধু পাখি আর পোকামাকরের আওয়াজ। কিন্তু হঠাৎ ঝর শুরু হলো। ট্যাংকের ভিতরে প্রচন্ড ঢেউ শুরু হলো। ঠিক তখন মৎস্য রাজকুমার উপরে চলে আসলো। তখন মাহি ১ম মনি দিয়ে পরে দ্বিতীয় মনি দিয়ে আঘাত করলো।

যখন দ্বিতীয় মনি দিয়ে আঘাত করলো রাজকুমার আর উপরে আসলো না। প্রায় অনেকখন পরে প্রচন্ড আওয়াজ করে মাহির দিকে ছুটে আসলো। মাহি ভয়ে ভয়ে তৃতীয় মনিটা দিয়ে আঘাত করলো। কিন্তু সেটা প্রায় ফস্কে গিয়েছিল ভাগ্যেক্রমে তার লেজের মধ্যে লেগেছিল।

আর কিছুক্ষন পরে এক রাজপুত্রে পরিনত হলো। মৎস্য রাজকুমার উপরে উঠে এসে মাহিকে বলল, তুমি আমার সব যাদু শেষ করে দিয়েছ। তখন মাহি রাজকুমার কে বলে তুমি আর মাছ নেই। আমি অনেক খুশি। রাজকুমার মাহিকে বলে তুমি তো আঘাত পাওনি। এবার চল আমরা বাহির থেকে ঘুরে আসি। আমরা এখন এই জগতের সব কিছু দেখবো। আমাদের জন্য আর এই ট্যাং লাগবে না।

তারপর তাদের সকাল শুরু হয় প্রেমের গল্প দিয়ে। রাজকুমার আর মাহি সোনার পোশাক পরে রানীর কাছে চলে যায়। রাজা রানী তাদের এই গল্প শুনে তাদের কে বুকে টেনে নেন। রানী বলল, মাছ হয়েও থাকলে আমার কোন সমস্যা ছিল না। কারন তুমি আমার সন্তান।

তখন যা ছিলে এখনও তাই আছো। তারপরের দিন রাজা রানী অনেক ধুমধাম আশীরবাদের মধ্যে দিয়ে তাদের বিয়ে দিয়ে দিলো। তাদের বিয়েতে সারা বিশ্বের রাজকুমার ও রাজকন্যাদের দাওয়াত করা হলো। তাদের আমন্ত্রনে মৎস্য রাজকুমার ও মৎস্য রাজকন্যার বিবাহ দেওয়া হলো। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করলো।