মজার গল্প-শাশুড়ি ও বৌমা ফুচকা চ্যালেঞ্জ

0
31
মজার গল্প শাশুড়ি ও বৌমা ফুচকা চ্যালেঞ্জ
শাশুড়ি ও বৌমা ফুচকা চ্যালেঞ্জ

আসসালামুয়ালাইকুম। বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন। আজকে আমি আপনাদের কাছে নতুন একটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি। আর আমি তার নাম দিয়েছি, মজার গল্প শাশুড়ি ও বৌমা ফুচকা চ্যালেঞ্জ । আশা করি গল্প টি সবার ভাল লাগবে। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে এখন শুরু করি সেই মজার গল্প টি শাশুড়ি ও বৌমা ফুচকা চ্যালেঞ্জ –

মজার গল্প শাশুড়ি ও বৌমা ফুচকা চ্যালেঞ্জ

মোহনপুর নামে একটা গ্রাম ছিল। সেই গ্রামে থাকতো শান্তি আর অনামিকা। তারা দু-জনে খুব খাদ্য প্রিয় ছিল। যে রকমেরই খাবার হোক না কেন, তাদের খুব পছন্দ ছিল। কিন্তু ফুচকার কথা একটু আলাদা ছিল। একদিন দু-জনে বসে বসে ফুচকা খাচ্ছিল, আর ভাবছিল যাতে অন্য জন বেশি না খেয়ে ফেলে।

এর মধ্যে অনামিকার স্বামী বাড়ি চলে আসে। আজ তো রাস্তা থেকে গন্ধ পেয়েছি যে, বাড়িতে পায়েশ তৈরী হয়েছে। আর সেই গন্ধ পেয়ে তারাতারি বাড়িতে দৌরে এলাম। আমার খুব খিদে পেয়েছে তারাতারি খেতে দাও। তার স্বামীর কথা শুনে বলে, আরে এস তারাতারি তুমি দেখ আর আনন্দ নাও।

আমি তো তোমার জন্য কখন থেকে অপেক্ষা করছিলাম। আমি ভাবলাম তোমার আসতে দেরি হবে তাই খেতে শুরু করলাম। মহেশ বসে পড়ে একটা প্লেট নিয়ে। যখন সে পায়েশ নিতে যায় দেখে বাটির মধ্যে একটা দানাও নেই। তা দেখে মহেশ অবাক হয়ে যায়। বাটির মধ্যে একফোটা পায়েশও নেই, তোমরা জান না আমিও এই বাড়ির মধ্যে থাকি।

সব পায়েশ খেয়ে ফেললে তোমরা। মহেশের বউ বলে, আরে চেয়েছিলা তোমার জন্য একটু পায়েশ বাচিয়ে রাখতে। কিন্তু তোমার মা তো কোন কথা শুনল না। সব পায়েশ তিনি নিজেই খেয়ে ফেলেছেন। আরে বউ মা তুমি এসব কি বলছো, তুমি তো সব খেলে আমি তো সামান্য একটু খেয়েছি। আমার ছেলে একটু খাবে জন্য। কিন্তু তুমি তো তা ভাবো নাই।

এভাবে তারা খাচ্ছিল আর একে অপরের দোষ দিচ্ছিল। তাদের এসব কথা শুনে মহেশ বলে আরে তোমরা চুপ কর তো। আমি জানি যে তোমরা দু-জনে খুবই পেটুক। তারপরও তোমরা একে অপরেরে দিকে দোষ চাপাচ্ছ। সেখানে মহেশ কিছু বকা দিয়ে, ভাত খেয়ে সেখান থেকে চলে যায়।

তারপর তারা চুপ হয়ে যার যার ঘরের দিকে চলে যায়। এরপর তারা বিকেল বেলা মহেশের কাছে চলে যায়। তারা মহেশের কাছে গিয়ে হাতটা এগিয়ে দেয়, মহেশ বলে আবার তোমাদের টাকা চাই। তারা দু-জন কোন কথা না বলে, মাথা নাড়ায়।

মজার গল্প ফুচকা পাগল মা

তোমাদের এই পাগলামী আমি বুঝি ওঠতে পারি না। তোমরা একদিন ফুচকা না খেয়েছো তো? মহেশের বউ বলে, আমি জানিনা আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন থেকে আমার এই অভ্যাস। আর মা তুমি কখন থেকে ফুচকা পাগল হলে। আমি জানিনা বাবা তবে আমার মনে হয় আমার ফুচকা খাওয়া খুব দরকার। না খেলে আমি বাঁচব না বাবা। টাকা দে বাবা।

তখন মহেশের আর কোন কথা বলার মুখ থাকে না। সে তাদের হাতে টাকা দিয়ে দেয়। আর বলে একদিন ঘরের সব টাকা শেষ হয়ে যাবে তোমাদের এই ফুচকা খাওয়ার জন্য। যাও তারাতারি খেয়ে বাড়ি ফিরে এস। বেশী দেরি করনা কিন্তু।

তারপর তারা খুব খুশি হয়ে ফুচকা খাওয়ার জন্য বেড়িয়ে পড়ে। ফুচকা ওয়ালা সুমন তাদের কে দেখে আর ভাবে ফুচকা পাগল শাশুড়ি আর বউ মা এদিকে আসেছে। যদিও তারা আমার রেগুলার কাস্টমার তবে লোকসানও খুব হয়। যতখন সুমন এই সব ভাবছিল ততখনে তারা তার কাছে এসে যায়।

ও সুমন কেমন চলছে তোমার ব্যবস্যা। সুমন বলল, আপনার আর আপনার বউমার দোয়ার ভালই চলছে। তাহলে আমাদেরকে একপ্লেট ফুচকা দিয়ে দাও। শান্তি তাকে টাকা দিয়ে এই কথা বলে। ইতিমধ্যে অনামিকাও তাকে টাকা দিয়ে বলে, আমাকেও একপ্লেট ফুচকা দিয়ে দাও।

তাদের কথা মত সুমন তাদের হাতে ফুসকার প্লেট তুলে দেয়। তারপর তারা ফুচকা খেতে লাগে। আমরা তোমার দোকানে প্রতিদিন ফুচকা খেতে আসি দুটো ফুচকা বেশি দিবে না? আপনারা যদি প্রতিদিন দুটো করে ফুচকা বেশি খেয়ে ফেলেন তাহলে একপ্লেট হয়ে যাবে তিন দিনে। সুমন রেগে এই কথাটি বলে।

সুমনের কথা শুনে শান্তি বলে, তুমি যদি এভাবে বল। তাহলে আমরা পাশের গলি থেকে ফুচকা খেয়ে আসব। কথাটি জেনে রেখ। সুমনের কিছু করার ছিল না তাই সে তাদেরকে দুটো ফুচকা খেতে দিয়ে দেয়। তারপর তারা ফুচকা দুটো খেয়ে আনন্দে বাড়ি ফিরে যায়।

ফুসকার লোভে খাবার চুরী

এভাবে তাদের দিন কাটছিল। একদিন তারা দু-জনে ফুসকা খেতে যায় বিকাল বেলা, প্রত্যেক দিনের মতো। কিন্তু সেদিন সুমনের ফুসকার দোকান বন্ধ ছিল। তা দেখা তাদের মন খুবই খারাপ হয়ে গেল। হে ভগমান এটা কি রকম অন্যায়। ও আজকে কেন দোকান দিল না আমাদেরকে না জানিয়ে।

এবার আমারা কি করব মা তুমি বল। এই সুমনের মাথায় কি একটুও বুদ্ধি নেই। কালকে আমাদেরকে একটা কথাও বলল না কেন? চল আমরা আজ অন্য মহল্লায় যাই। তারা গলিতে ঘুরতে থাকে ফুচকা খাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কোথাও ফুসকার দোকান দেখতে পেল না।

ততখনে অনেক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তারপর শাশুড়ি মা বলে, আমার পায়ে খুব ব্যাথা করছে আমি আর চলতে পারছিনা। এই কথা বলে সেখানে সে দাঁড়িয়ে যায়। অনামিকা বলে, মা ঐদেখ ওখানে একটা ছোট অনুষ্ঠান হচ্ছে, আমি ওখানে যাচ্ছি খাবার খেতে। আপনি যাবেন কি?

শান্তি এই কথা শুনে তার পায়ের সব ব্যাথা দূর হয়ে যায়। তারপর তারা সেই অনুষ্ঠানে পৌছে যায়। সেখানে ছোট একটা জন্মদিনের অনুষ্ঠান করা হচ্ছিল। তারপর তারা ধীরে ধীরে রান্না ঘরে ঢুকে সব খাবার খেয়ে ফেলে। তারা কম সময়ের মধ্যে এই কাজ করে ফেলে, কারণ তাদের কে যেন কেউ ধরতে না পারে।

কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষ তাদেরকে দেখে ফেলে। তারা পুরো বাটি পরিষ্কার করে খাচ্ছিল। সে বুড়ো লোকটি বলল, কে তোমরা সব খাবার খেয়ে ফেল্লে কেন। কে কোথায় আছ সবাই আস এদিকে। এরা যখন এই কথা শুনতে পায় তারা তখন খুব ভয় পেয়ে যায়। আর অন্ধকারে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। তারপর তারা সেখান থেকে লুকিয়ে বাড়িতে চলে আসে।

আজ এত দেরি কেন হল। মহেশ বলল, তোমরা আজ কোথায় গিয়েছিলে। এভাবে সে তার মা বউকে জিজ্ঞাসা করে। মহেশের মা বলে, খাবার খেয়ে আসতে একটু দেরী হয়ে গেল। আমার মনেহয় কালকে যে, ফুচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা হবে তার ভাগ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলে। তাই না? ফুসকার খাওয়ার প্রতিযোগিতা, সেটা আবার কোথায় হচ্ছে। তার মা বলল, তারাতারি বল কোথায় হচ্ছে আমরা যাব সেখানে।

মজার গল্প ফুচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা

মহেশ বলল, এই তো পাশেই বেশি দূরে না। তারপর সে সেই ঠিকানা বলে দেয়, যেখানে প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। তারপর তারা ভাবতে লাগল তারা তো বিনা পয়সায় ফুচকা খেতে পারবে। তাই তারা সেই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার কথা ভাবে।

তারপর তারা সেই জায়গায় চলে যায় যেখানে প্রতিযোগিতা হবার কথা ছিল। আর নিজেদের নাম লিখে দেয়। তারা পাঁচ জন ছিল যারা ফুচকা খেতে এসেছিল। তারপর সেখান থেকে ওঠে এসে পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু শান্তি আর অনামিকা বসে বসে খেতেই থাকে। তারা তা দেখে চমকে যায় যে, তারা এখনো খাচ্ছে। একের পর এক তাদের জন্য ফুচকা আসতেই থাকল।

কিন্তু তাদের থামার নাম নেই, খেয়েই চলছে তারা। তারপর তারা সেদিন একের পর এক খেতেই থাকে। এভাবে তারা অনেকক্ষন ধরে ফুচকা খায়। উপস্থিত সকলে তাদের এই কান্ড দেখে পুরাই অবাক হয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পরে তারা বুঝতে পারে তাদের পেটের মধ্যে কি হচ্ছে। তারা ফুচকা এমন ভাবে খেয়েছে যে, তারা আর ওঠতে পারছে না। ওঠার চেষ্ঠা করলেও তারা মাটিতে ধরাম করে পড়ে যায়। আর তারা দু-জনে বমি করতে থাকে। তারপর তাদের পেটে এমন ব্যাথা হয় যে, তারা কাঁদতে শুরু করে।

তাদের কে সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর তারা বুঝতে পারে বিনা মূল্যে পাওয়া জিনিস বেশি খেলে তার বিপরীত হয়ে পারে। তারপর থেকে তারা আর এমন ভাবে ফুচকা খেত না।

শিক্ষা, এই মজার গল্প শাশুড়ি ও বৌমা ফুচকা চ্যালেঞ্জ থেকে আমরা বুঝতে পাড়ি, যে কোন জিনিস হোক না কেন বেশি খেলে তার বিপরীত হতে পারে। আর তাই আমরা রুচির বাহিরে কিছু খাবনা।