মজার গল্প মডার্ণ বউ

0
32
মডার্ণ বউ
মডার্ণ বউ

মজার গল্প মডার্ণ বউ গল্পে বউ ও শাশুড়ির হিংসা থেকে ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটেছে। বউ আর শাশুড়ি এর মধ্যে ভালোবাসা কিভাবে প্রতিস্থাপন করবে একজন বউ তার প্রতিফলন ঘটেছে এই গল্প টিতে। চলুন শুরু করা যাক আজকের অনেক একটা মজার গল্প মডার্ণ বউ।

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি, মহান আল্লাহ তা-আলার রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে একটা মজার গল্প – মডার্ণ বউ সম্পর্কে জানাবো। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি মজার গল্প-মডার্ণ বউ।

মজার গল্প – মডার্ণ বউ

নুরপুর গ্রামে বাস করত জয় ও তার মেয়ে রেবা। রেবা মা মরা মেয়ে। তার বাবা তাকে অনেক ভালোবাসত। রেবার বাবা মেয়ের জন্য একটা ভালো পাত্র খুজতে লাগল। অনেক গুলো ছেলে দেখার পরও তার কোন ছেলে পছন্দ হয় না। হঠাৎ একদিন শহর থেকে রেবার জন্য ভালো একটা বিয়ের প্রস্তাব এল।

অনেক খোজ-খবর  নিয়ে জয় দেখল। ছেলেটির পরিবার অনেক ভালো। তাই জয় ভাবলো ওই ছেলেটির সাথে তার মেয়ের বিয়ে দেবে। তার কিছুদিন পর সেই ছেলেটির সাথে রেবার বিয়ে হল। রেবার শাশুড়ি তাকে অনেক ভালোবাসত। কিন্তু রেবা ছিল অনেক অলস। সে বাড়ির কোন কাজ করতে চাইত না।

রেবার শাশুড়ি রেবাকে বলল, আজ রান্নাটা তুমি করিও মা। আজ আমার শরীরটা ভালো লাগছে না। মডার্ণ বউ রেবা বলল, আমি রান্না করতে পারব না, আমি এখন শপিং করতে যাচ্ছি। আমাকে বিরক্ত করবেন না তো মা। আপনি আমাকে সারাদিন শুধু কাজ করতে বলেন, আমার আর ভালো লাগেনা এসব।

মডার্ণ বউ রেবা বাড়ির কোন কাজ-কর্ম করতো না। এভাবে অনেক দিন চলে গেল। রেবার শাশুড়ি রেবার সাথে অনেক রাগারাগী করে। কারন, বাড়ির সব কাজ রেবার শাশুড়িকে করতে হত। তোমার বাবার বাড়িতে তোমাকে কোন কাজ শেখায়নী। কোন কাজ করছ না আর শুধু বসে বসে খাচ্ছ।

আমি আজকের পর থেকে আর কোন কাজে হাত দিব না। সব কাজ তোমাকে করতে হবে। মডার্ণ বউ রেবা বলল, চুপ করেন আমার স্বামীর টাকায় খাবেন। আর আমার কোন কাজ করে দিবেন না তা কি করে হয়। আমি কোন কাজ করতে পারবনা। কাজ করবেন না হয়, বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান।

এভাবে যত দিন গড়াতে থাকে তত শাশুড়ি আর বউয়ের ঝগড়া বেরে যায়। একদিন মডার্ণ বউ আর শাশুড়ি অনেক ঝগড়া হয়। ঝগড়া করে রেবা তার বাবার বাড়ি চলে যায়। রেবার বাবা তার মেয়েকে দেখে বলল, মা তুমি হঠাৎ এখানে কেন? আর জামাই কোথায়। কথা বলছো না কেন।

মেয়ের জন্য বাবার ভালবাসা

আমি আর ঐ বাড়িতে যাব না বাবা। রেবার বাবা বলল, কেন মা কি হয়েছে? তখন সে বলল আমার শাশুড়ি আমাকে একদম দেখতে পারেনা। সারাক্ষন শুধু কাজের কথা বলে। উনি আমার স্বামীর টাকায় খাবে আর আমার কথা শুনবে না তা কি করে হয়। ঐ বুড়িকে একদক দেখার ইচ্ছা করে না আমার।

রেবার বাবা বললেন, ঠিক আছে মা তুমি ঘরে যাও আমি দেখছি। তোমার সাথে পরে  কথা হবে। দুই দিন তো হয়ে গেল। তুমি আর কতদিন থাকবে। তুমি শশুড় বাড়িতে চলে যাও মা। বাবা আমি আর ঐ বাড়িতে ফিরে যাব না। দেখ মা, তোমার শাশুড়ি খুব ভালো একজন মানুষ। শ্বশুর বাড়িতে থাকতে হলে তোমাকে কাজ করতে হবে।

মা তুমি ফিরে যাও দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে। বাবা তুমি যদি আর একবার ফিরে যেতে বল, তাহলে আমার দু-চোখ যে দিকে যায় চলে যাব। তবুও ঐ বাড়িতে আমি যাব না। তাহলে, তুমি কি চাও। তোমার শাশুড়ি মারা যাক। তখন মডার্ণ বউ রেবা বলল, হ্যা বাবা আমি তাই চাই। ঠিক আছে আমি তোমাকে একটা ঔষধ দিচ্ছি  এই ঔষধ গুলো প্রতিদিন তোমার শাশুড়িকে খাওয়াবে দেখবে তোমার শাশুড়ি এক মাসের মধ্যে মারা যাবে।

সে এমন ভাবে মারা যাবে যে, কেউ বুঝতে পারবে না। বেরা বলল, তুমি অনেক ভালো বাবা। দাও দাও সেই ঔষধ গুলো দাও আমি এখনে নিয়ে যাচ্ছি। তবে একটা কথা এই এক মাস তোমাকে নিয়মিত ঔষধ খাওয়াতে হবে। আর বাড়ির সব কাজ তোমাকে করতে হবে। ঠিক আছে বাবা আমি তাই করব তবুও আমি ঐ বুড়িকে মারবই মারব। এই কথা বলে রেবা তার শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়।

মডার্ণ বউ রেবার শাশুড়ি বলল, তোর বাবার বাড়িতে জায়গা হয়নি তুই আবার এসেছিস। এই বুড়ি তো একমাস পরে মারা যাবে। তাই তার সাথে আর খারাপ ব্যবহার না করি। মডার্ণ বউ রেবা বলল, আমাকে মাফ করে দিন মা আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। এখন থেকে আমি আর আপনাকে বাড়ির কোন কাজ করতে দেব না, আমি সব কাজ করে দেব।

মডার্ণ বউ এর পরিকল্পনা

এরপর থেকে রেবা বাড়ির সব কাজ করতে শুরু করে। তার শাশুড়িকে কোন কাজ করতে দিত না। সময় মতো তার শাশুড়িকে ঔষধ খাওয়ায় এবং সে বাড়ির সব কাজ সামলিয়ে নেয়। সে রাতের খাবারের পর ঘুমানোর আগে দুধের সাথে তার বাবার দেওয়া ঔষধ মিশিয়ে দেয়। রেবার শাশুড়ি বলল, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা।

বাড়ির বউ যদি কাজ-কর্ম না করে তাহলে আমার অনেক রাগ হয়। এরপর থেকে সে বাড়ির সব কাজ করত ও প্রতিদিন তার শাশুড়িকে ঔষধ খাওয়াত। এভাবে বেশ কিছু দিন চলে গেল। তার ছেলের বউয়ের এই ব্যবহার দেখে তার শাশুড়ি তাকে আরও বেশি ভালোবাসত লাগল। ঠিক আগের মত আজও তার শাশুড়ির জন্য দুধ নিয়ে এসেছে মডার্ণ বউ।

দুধের গ্লাস রেখে দিয়ে তার শাশুড়ি তার হাতে অনেক গহনা তুলে দেয়। আর বলল এই গুলো আমার শাশুড়ি আমাকে দিয়েছিল। আজ আমি তোমাকে এগুলো দিয়ে দিলাম মা। আর আজ থেকে এই সংসারের সব দায়িত্ব তোমার মা। এই সংসার তোমার হাতে তুলে দিয়ে আমি নিচিন্ত হতে পারব। এই কথা গুলো শুনে মডার্ণ বউ রেবা মনে মনে খুব কষ্ট পেল।

দিন দিন তার শাশুড়ির শরীর। তার শাশুড়ি বলল, মা আমার শরীরটা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে, আমি মনে হয় আর বেশি দিন বাঁচব না। আমি যদি কোন অন্যায় করে থাকি তাহলে তুমি আমাকে মাফ করে দিও মা। আপনি এসব কি বলছেন মা। আপনার কিছুই হবে না আর আমি আপনাকে মরতে দিবনা।

শাশুড়ির প্রতি ভালবাসা

এখন সে বুঝতে পারল তার ঐষধের কারণে তার শাশুড়ির শরীর খারাপ হয়ে গেছে। রেবা তার শাশুড়িকে বাঁচাতে তার বাবার বাড়ি চলে গেল। রেবার বাবা বলল, কি হয়েছে মা তুই আবার এসেছিস। রেবা বলল, বাবা আমার শাশুড়ির শরীরটা খুব খারাপ। তুমি তাকে ভালো করে দাও। মনে হয় আমার দেয়া ঐষধের কারণে এ রকম হয়েছে। আমি আর আমার শাশুড়িকে মারতে চাইনা বাবা। তুমি আমার শাশুড়িকে ভালো করে দাও।

কেন মা হঠাৎ করে তোমার এমন মনে হল কেন। বাবা এতদিন আমি আমার শাশুড়িকে ভুল বুঝেছি। তিনি অনেক ভালো মানুষ। তিনি এখন আমাকে অনেক ভালোবাসে। ওনাকে বাঁচিয়ে দাও বাবা। আমি আর তাকে মারতে চাই না। তিনি আমাকে আমার মায়ের মতো দেখেন। আর আমিও তাকে আমার মায়ের মতো দেখি। আমি তার সাথে সারা জীবন থাকতে চাই।

তোমার কথা শুনে অনেক খুশি হয়েছি মা। তোমাকে আমি যে ঐষধটা দিয়েছি সেটা তোমার শাশুড়িকে মারার উদ্দেশ্যে নয় তাকে ভালো করারা জন্য। শুধু তোমাকে বোঝানোর উদ্দেশ্যে দিয়েছিলাম মা। তবে হ্যা প্রথমে ঐষধটা খেলে একটু অসুস্থ বোধ করবে তারপর ঠিক হয়ে যাবে।

মা তুমি দেখবে কালকের মধ্যে তোমার শাশুড়ি ঠিক হয়ে যাবে। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা। আমি আমার নিজের ভুল বিঝতে পেরেছি। এই কথা বলে রেবা তার শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন তার শাশুড়ি সুস্থ হয়ে যায় এবং রেবা খুব খুশি হয়ে যায়। তারপর থেকে মডার্ণ বউ আর তার শাশুড়ি সুখ শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।