ভুতুড়ে লঞ্চ । ভয়ংকর ভুতের গল্প

0
33
ভয়ংকর ভুতের গল্প সত্য ঘটনা অবলম্বনে
ভুতুড়ে লঞ্চ। ভয়ংকর ভুতের গল্প

ভুতের গল্প পড়তে কে না ভালবাসে। হোক সেটা কাল্পনিক ভুতের গল্প। আর সেটা যদি হয় সত্যি ভুতের গল্প তাহলে তো আগ্রহের শেষ নেই। আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা অবলম্বনে ভয়ংকর ভুতের গল্প বলবো।

আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজকে আমি আপনাদের কে সত্য ঘটনা অবলম্বনে একটি ভয়ংকর ভুতের গল্প বলবো। আর আমি আমার গল্পটির নাম দিয়েছি ভুতুড়ে লঞ্চ। এই ঘটনাটি ২০১৫ সালের। তখন আমি আমার আব্বু আম্মুর সাথে লঞ্চে করে সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়েছিলাম।

লঞ্চে সত্য ভুতের গল্প

সেই দিন প্রায় ভোর চার টার সময় আমাদের লঞ্চ সুন্দর বনের দিকে যাত্রা শুরু করল। আমরা সবাই খু্ব কৌতুহল নিয়ে আমাদের লঞ্চ যাত্রা শুরু করলাম। সর্বোপরি আমি আব্বু আম্মুর চেয়ে একটু বেশিই কৌতুহল ছিলাম। এর কারণ হলো, এটাই ছিলো আমার জীবনের সর্ব প্রথম সুন্দর বন ভ্রমন করা।

আমরা সবাই খাওয়ার জন্য লঞ্চের একটা কোণে বসলাম। আম্মু খাওয়ার জন্য বাসা থেকে খাবার এনেছিল। আম্মু খাবারের ব্যাগ থেকে একটা গামছা বের করে তার উপর খাবারের বাটি রাখলো। আমরা সবাই খাওয়ার জন্য বসে আছি। হঠাৎ তখনি আমার ওয়াস রুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লো।

মাকে বললাম, মা আমি ওয়াস রুমে যাবো। মা আমাকে বলল, এটা তোমার বদ অভ্যাস। লঞ্চ ছাড়তে না ছাড়তে তোমার ওয়াস রুমে যাইতে হয়। আমি বললাম, আচ্ছা মা ঠিক আছে পরে না হয় আমার সাথে ঝগড়া করো। এখন তারাতারি আমার সাথে চলো। হ্যা ঠিক আছে, আম্মু  আমার সাথে আসলো। ওয়াস রুমে যাওয়ার সময়,আম্মু বাবাকে বলল,খাবারের দিকে খেয়াল রাখতে। খাবারে যেন কোন মশা মাছি না পরে।

তারপর আম্মু আর আমি এক সাথে ওয়াস রুমের দিকে গেলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে দেখতে পেলাম। একটা মেয়ে নদীর পানিতে ভাসছে। আমি ভয়ে ভয়ে আম্মু কে বললাম, আম্মু দেখ ঐখানে পানিতে একটা মেয়ে ভাসছে। আম্মু নদীর দিকে তাকিয়ে বলল কই কি এখানে কিছু নেই।

আম্মু বলল, তোমার ঘুম ধরেছে তাই তুমি এসব বলছো। এবার তুমি ওয়াস রুমে যাও তারাতারি চলে এসো। আমার অনেক ক্ষিদে লেগেছে। আমি আবার পানির দিকে দেখলাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। অনেক ভয়ে ভয়ে ওয়াস রুমে গেলাম। তবে আমি শুনেছিলাম ভুতূরে লঞ্চ বলে কিছু আছে। তাই আমি কথা না বাড়িয়ে চলে গেলাম।

এদিকে ফজরের আজানের সময় হয়েছে। আমি ফজরের নামাজের জন্য ওযু করে ওয়াস রুম থেকে বের হলাম। আমি আর আম্মু এক সাথে চলে আসলাম, কিন্তু নদীর পানিতে কিছু দেখতে পেলাম না।

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা । ভয়ংকর ভুতের গল্প

আমার ভয় লাগছে। নদীর পানিতে ভাসা মেয়েটির ছবি বারবার আমার চোখে ভাসছে। আমরা এক সাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। খাওয়া দাওয়া শেষে খাবারের বাকি অংশ টুকু লঞ্চের এক কোণে রেখে দিলাম। এদিকে ফজরের আজান হল। আমরা নামাজ আদায় করলাম।

হঠাৎ, নামাজ শেষে গরম হাওয়া আমি অনুভব করলাম। কিন্তু সে সময় ছিল শীতকাল। তখন লঞ্চের আশেপাশে কোন আগুনের কালো ধোয়া ছিল না। আমি ব্যাপারটা আব্বু আম্মু কে বললাম না। তারপর আমরা একসাথে বসে গল্প করা শুরু করলাম।

ঠিক তখনি আমি গরম হাওয়া আবার অনুভব করলাম। এবার আমি আম্মুকে বললাম,আম্মু তুমি কিছু অনুভব করছো। আম্মু রাগ হয়ে বলল তুমি বেশি কথা বলছো। এখন চুপ কর। আম্মুর কথা শুনে আমার আরো ভয় লাগলো।

এদিকে শীতের রাত অন্য দিকে গরম হাওয়ার ভয় বুকটা কেন যেন থর থর করে কাপছে। লঞ্চের এই ঘটনা আমি আর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আব্বু আমাদের কে সুরা কালাম পরতে বললেন। আমরা সবাই সুরা কালাম পড়তে শুরু করলাম। একটু পরেই ভোর হয়ে গেল। আমরা দশ টার সময় সুন্দরবন লঞ্চ ঘাটে পৌছিলাম। আব্বু আম্মু আর আমি তিনদিন বেশ মজা করে ঘুরোঘুরি করলাম।

এবার আমাদের বাড়ি ফিরার পালা। বাড়ি ফেরার দিন হোটেলের ম্যানেজার আমাদের কিছু কথা বললেন। তার কথা শুনে আমার মনের ভয় আরো বেরে গেল। তিনি বললেন, আপনারা তো নদী পথে যাবেন তবে একটু সাবধানে যাবেন। কারন আজকাল শুনা যায় নদী পথে লঞ্চে নাকি নরপিচাশ দেখা যায়।

ভয়ংকর ভুতের গল্প

আমি মনের ভিতরে ভয় নিয়ে লোকটিকে বললাম, আচ্ছা নরপিচাশ এর আসার ধরন টা কেমন করে বুঝবো। আর তারা লঞ্চে কি জন্য আসে, আর কি করে। তিনি বললেন, নরপিচাশ যখন আসে তখন হালকা গরম হাওয়া অনুভব হয়। নরপিচাশ লঞ্চে আসে মূলত বাড়তি বা নোংরা খাবারের আশায়। ঠিক তখনি আমার মনে হলো সে দিন তো আমাদের কাছেও বাড়তি খাবার ছিল। তারমানে সেদিনও নরপিচাশ আমাদের কাছে এসেছিল।

তখন মনের ভিতর আরো ভয় লাগলো। তারপর আমরা সর্তক হয়ে লঞ্চে উঠলাম। কিন্তু লঞ্চে আমরাই ছিলাম প্রথম যাত্রী। লঞ্চে উঠে আমরা যা দেখলাম, যা দেখে আমরা হতবাক হয়ে গেলাম। দেখলাম লঞ্চের মেঝেতে কিছু নোংরা খাবার আর পচা মাছের টুকরো ভয়ংকর ভাবে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পরে আছে । ঐসব দেখে আমরা তাড়াতাড়ি লঞ্চ থেকে নামলাম। সে দিন আমরা আর বাড়িতে ফিরতে পারলাম না।

তার পরের দিন বেলা বারটার  দিকে আমরা লঞ্চে উঠলাম। লঞ্চে উঠে দেখি একজন হুজুর সুরা কালাম পরে ভুতূড়ে লঞ্চের চারদিকে ফু দিচ্ছেন। হুজুর যখন লঞ্চের চারদিকে ফু দিয়েছিলেন, তখন আমি নদীতে একটা দৃশ্য দেখেছিলাম। আমি দেখেছিলাম সেই মেয়েটি, যে মেয়েটি নদীর পানিতে ভাসতেছিল, সেই মেয়েটির দেহ আগুনে পুরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।

ঐ দৃশ্যটি দেখে আমার মনের ভয় একটু কমে গেল। তারপর আমাদের বাড়িতে ফিরতে আর কোন সমস্যা হয়নি। আমরা ভালভবে বাড়িতে ফিরে আসলাম। তারপর আমি আর কোনদিন নদী পথে যাতায়াত করি নি। আর এটাই ছিল আমার জীবনের শেষ সুন্দরবন ভ্রমন।

বন্ধুরা আপনারা যদি কখনো কোথাও ভ্রমনে যান। তাহলে আপনারা সবাই নিজের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।

বন্ধুরা কেমন লাগলো সত্য ভয়ংকর ভুতের গল্প তা কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।