ভুতের মাথায় গুপ্তধন

0
31
ভুতের মাথায় গুপ্তধন ভয়ংকর ভৌতিক ভুতের গল্প
ভুতের মাথায় গুপ্তধন

আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রিয় বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের কে একটি ভয়ংকর ভৌতিক ভুতের গল্প বলবো। আর সেই গল্প টির আমি নাম দিয়েছি, ভুতের মাথায় গুপ্তধন। চলুন বন্ধুরা শুরু করা যাক ভয়ংকর ভৌতিক ভুতের গল্প ভুতের মাথায় গুপ্তধন গল্প টি।

ভুতের মাথায় গুপ্তধন গল্প

অনেক দিন আগের কথা। মোহনপুর নামে এক গ্রাম ছিল। ঐ গ্রাম থেকে একটু দূরে এক ভয়ংকর গুহা ছিল আর সেই গুহায় ছিল এক ভূত। সেই ভূতের মাথায় অনেক সোনার মোহর ছিল। ঐ ভুতের মাথায় গুপ্তধন যে চুরি করতে যেত তাকে তার মন্ত্র দিতে পাথর বানিয়ে রাখত।

সেই ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করার জন্য একটা মন্ত্র পরা খুব জরুরি ছিল। যতখন ঐ মন্ত্রটা পড়তে থাকবে ততখন সেই ভুতটা ঘুমতে থাকবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ ভুতের মাথায় গুপ্তধন যে আছে, তা থেকে থেকে মোহর চুরি করতে পারেনি। এরকম ভাবে একদিন কিছু চাষী কাজ করে বাড়ি ফিরছিল। ওদের কোন খেয়াল ছিল না যে, ওরা গুহার রাস্তার এসে গেছে যেখানে ঐ ভুতটা  থাকে।

ওদের মধ্যে একজন বলে ওঠল ওরে মরে গেলাম রে, একি আমরা কোথায় আসলাম। আমরা তো ভুল রাস্তায় এসেছি। তারাতারি এখান থেকে পালাও? এই গুহাতে ভুত থাকে। একটা কথা বল সত্যি কি এই ভুতের মাথায় গুপ্তধন থাকে। একজন বলল হ্যা থাকে আমি শুনেছি।

ঐ ভূতের মাথায় অনেক মোহর লুকানো আছে। যেটা কোনদিনও শেষ হয় না। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ সেই মোহর চুরি করতে পারেনি। যেই ঐ ভূতের মাথা থেকে মোহর নিতে গেছে সেই মারা পরেছে।

তারা এই কথা গুলো বলার সময় ঐ গুহা থেকে আওয়াজ শুনতে পায়। আসে যাও হুম হুম এসে যাও। আরে এটা তো ভূতের আওয়াজ। যার মাথায় মোহর লুকানো আছে। চল রে তারাতারি চল, তারাতারি চল। তারা খুব তারাতারি তাদের বাড়ির দিকে ফিরে যায়।

ঐ গ্রামের এক লোক মিজু তার খুব লোভী ছিল। ও এত লোভী ছিল যে, টাকার লোভে সে অনেক নিচে নামতে পারত। একদিন সে ভাবলো কিভাবে ঐ ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করা যায়। আমি যদি ঐ মোহর পাই তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী হতে পারব।

মিজু ঐ ভূতের ব্যাপারে সব জানত। তারপর তার স্ত্রী মায়াকে বলল, ভূতের মাথায় যে মোহর আছে যদি আমি চুরি করি তাহলে আমি অনেক বড়লোক হতে পারব। মিজুর স্ত্রী বলল, তুমি কি পাগল হয়েছ কি বলছ এগুলো। তোমার তো সব জানা আছে তারপরও তুমি আজে বাজে কথা বলছ।

আজ পর্যন্ত কেউ এই মোহরগুলো চুরি করতে পারেনি। ঐ গুহাতে যে গেছে সে কোনদিন ফেরেনি। আরে হ্যা গো হ্যা আমি ত সব জানি। আরে ভাব ভাব আমি যদি ঐ মোহরগুলো পেয়ে যাই তাহলে তুমি রানীর মতো রাজত্ব করবে। হা-হা-হা।

মিজুর স্ত্রী বলল আমাদের দরকার নেই ঐ মোহরের। রাজত্ব তো তখন করব যখন তুমি বেঁচে ফিরবে। আরে তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছ। আমার কিছু হবে না, আমি মোহর নিয়ে আসব। হা-হা-হা।

মিজু ঐ ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করার চিন্তা করতে থাকে সারা রাত-দিন। হঠাৎ একদিন মিজু মায়াকে না বলে সে ঐ ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করতে গুহার কাছে চলে যায়।

যেখানে ঐ ভূতটা ছিল। মিজু সাহস করে ভিতরে যায়, যেখানে ঐ ভূতটা থাকে। গুহার ভিতরে যাওয়ার পর মিজুর মাথা খারাপ হয়ে যায়। ওরে বাবা রে এতো অনেক বড় ভূতরে, হা-হা-হা।

মিজু ভূতের মন্ত্র পড়া আরাম্ভ করে। কিন্তু তারাহুরা করতে সে মন্ত্র গরপর করে ফেলে। শুয়ে পর ভূত শুয়ে পর। আরে এ ভূত তো শুতেছেনা, এখন কি করি। সে আবার বলতে শুরু করল ভূত শুয়ে পর, শুয়ে পর। কিন্তু তার কোন কথায় কাজ হচ্ছিল না।

মিশু বলতে লাগল ভূত, ভুত শুয়ে পড় শুয়ে পড়। মিশু ভুল মন্ত্র পাঠ করার কারণে তার এ অবস্থা হয়েছে। যখন তার মন্ত্র কাজ হচ্ছিল না তখন সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।

ভুত বলল হা-হা-হা-হা আমার কাছ থেকে মোহর নিতে এসেছিস তুই। আজ পর্যন্ত কেউও আমার কাছ থেকে মোহর নিতে পারেনি। হা-হা-হা তুই তো আজ শেষ। তারপর আবার কি শেষ পর্যন্ত মিশুকে পাথর বানিয়ে রাখল। সেদিন থেকে মায়া খুব চিন্তিত ছিল।

মিশু এদিকে ভুতের গুহায় পাথর হয়ে আর ঐ দিকে,

মায়া কেঁদে কেঁদে তো অস্থির। সে বলল, মিজু তুমি কোথায় আমি কি আর তোমাকে কোনদিনও পাব না। মায়ার কান্নার আওয়াজ শুনে গ্রামের লোকেরা চলে আসে। মায়া তোমার কি হয়েছে বলতো। মিজু তো কাল রাত থেকে বাড়িতে আসেনি।

আমার তো মনে হয় ও ঐ গুহাতে গেছে  ভুতের মাথায় গুপ্তধন যে থাকে সেখান থেকে মোহর আনতে। আমি তাকে অনেক বাড়ন করেছি তা সে কোনভাবে শুনেনি। ও কখন যে চিলে গেছে তা আমি জানিনা। এখন কি হবে?

ও আচ্ছা, আজ পর্যন্ত কেউ ঐ ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করতে পারেনি। আর মিজু গেছে ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করতে। গ্রামের লোকেরা মায়াকে চুপ থাকতে বলে আর তারা ওখান থেকে চলে যায়। তারপর আস্তে আস্তে গ্রামে ছড়িয়ে পরে। মিজু ভুতের মাথা থেকে মোহর চুরি করতে গিয়ে ধরা পরেছে। গ্রামের লোকেরা ভুল করেও ওই রাস্তা দিয়ে যেতনা যেখানে ভুত থাকে।

তার পরের দিন, ঐ গ্রামের মহিলা লাজ্জু তার বর দিমুকে বলে, হ্যা গো তুমি কি জান মিজু ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করতে গিয়ে ধরা পরেছে। আমার মনে হয় ঐ ভূত মিজুকে পাথর বানিয়ে রেখেছে। হ্যা সেটাই তো আমি শুনলাম। মানুষ নিজের প্রানটাকে কিভাবে যে বিপদে ফেলে।

এই কথা বলে, দিমু তার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পরে জমি চাষ করার জন্য। দিমুর বাড়ির অবস্থা খুব একটা ভালছিলনা, সে জন্য দিমু খুব চিন্তিত ছিল। এমনে একদিন লাজ্জু তার স্বামীকে বলল, হ্যা গো শোন এমন করে আর কতদিন চলবে। বাড়িতে আর কোনকিছু খাবার জন্য নেই।

আমাদের কাছে যা টাকা ছিল তা আমার শ্বাশুরীর অসুকের পিছনে খরছ করতে হল। আমি ভাবছিলাম অন্যের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করতাম। দিমু বলল, আমি বেঁচে থাকতে তোমার কাজ করার দরকার নেই গো। আমি কিছু একটা করছি। এই কথা বলে দিমু তার নিজের ঘরে যায় আর ঘুমানোর চেষ্টা করে।

কিন্তু তার ঘুম কোন ভাবে আসছিল না, সে শুধু ভাবতে থাকে। এভাবে ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেল। সকাল হতে না হতেই দিমু জমি চাষের জন্য বেরিয়ে গেল। সারা রাস্তা দিমু ভাবতে থাকে। লাজ্জু তো ঠিক কথা বলেছে, এভাবে আর কতদিন বা চলতে পারে। বাড়িতে তো কোন খাবের নেই।

আর জমিদার মশাইয়ের টাকাও বেড়ে যাচ্ছে। কি করব ভেবে পাচ্ছি না। এভাবে ভাবতে ভাবতে দিমুর সারাদিন পেরিয়ে যায়। সন্ধ্যা নামতে থাকে। সবাই তাদের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছেন, কিন্তু দিমু আরও টাকা রোজগার করার জন্য আরও কাজ করে যাচ্ছে।

দিমু কাজ শেষ করে বাড়ির দিকে ফিরতে থাকে। দিমুর খেয়াল ছিল না যে, সে ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে যেখানে ভূতটা থাকে। গুহা দেখে দিমুর মনে পরে। একি আমার তো মনে ছিলনা যে এখানে ভূতটা আছে। যে ভুতের মাথায় গুপ্তধন বা মোহর লুকানো আছে। দিমু ঐ গুহা থেকে কিছু আজব আওয়াজ শুনতে পায়। আওয়াজটা ছিল এরকম- এসে যাও এসে যাও হা-হা-হা-হা।

ভূতের আওয়াজ শুনে দিমু ভয় পেয়ে যায়। আর সে ওখান থেকে দৌরে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। বাড়ি গিয়ে দিমু খাবার খেয়ে ঘুমতে চলে যায়। তখনে দিমুর মাথায় ভূতের খেয়াল আসে। ভূতের মাথায় মোহরের কথা ভাবতে শুরু করে দেয়।

দিমু ভাবতে ভাবতে বলে, আমি যদি ভূতের মাথার মোহর চুরি করতে পারি তাহলে আমি আমার পরিবারের সকল দুঃখ, কষ্ট দূর করতে পারব। আমাকে ওই ভূতের মাথা থেকে মোহর চুরি করতেই হবে। এতে আমার প্রাণ চলে গেলে যাবে। তাতে আমার কোন দুঃখ নেই।

পরের দিন সকালে দিমু ঐ ভুতের মাথায় গুপ্তধন যে থাকে সেখান থেকে মোহর চুরি করার জন্য সকল কিছু তৈরি করে নেয়। আর ভূতকে ঘুম পাড়ানোর মন্ত্রটা মুখস্ত করে নেয়। এমন ভাবে মুখস্ত করে যে, যেন কোনভাবে ভুল না হয়। মন্ত্রটি হলঃ ভূত আমতু ভূত আমতু চুয়ান্তু, ভূত আমতু ভূত আমতু মাথা খুলান্তু।

ভূত আমতু ভূত আমতু চুয়ান্তু, ভূত আমতু ভূত আমতু মাথা খুলান্তু। দিমু এই মন্ত্রটি খুব ভালো করে পড়তে থাকে যেন, ভুল না করে। ভাল না করলে সে মারা পরে যাবে।

মন্ত্র পড়ে ভুতের মাথার গুপ্তধন চুরি

দিমু যতখন এই মন্ত্র পড়তে থাকবে ভূত ততখন ঘুমে থাকবে। আর ভূতের মাথা নিজে থেকে খুলে যাবে। মাথা  খোলার পর যে কেউ সেই মোহর নিতে পারবে। দিমু বাড়িতে কাউকে না বলে  বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। আর সে সেই গুহাতে চলে যায় যেখানে ভূতটা থাকে।

প্রথমে দিমু ভুতকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। ও বাবারে এতো অনেক বড় ভূত রে। ভূত যখন দিমুর দিকে আসতে থাকে তখন দিমু মন্ত্র পাঠ করতে থাকে। ভূত আমতু ভূত আমতু চুয়ান্তু, ভূত আমতু ভূত আমতু মাথা খুলান্তু। দিমু যখন এই মন্ত্র পাঠ করতে থাকে তখন ভুত ঘুমিয়ে পড়ে।

দিমু এই মন্ত্র পাঠ করতেই থাকে সে কোন ক্রমে মন্ত্র পাঠ ছেড়ে দেয় না। এভাবে কিছুক্ষণ মন্ত্র পাঠ করার পর ভুতের মাথা খুলে যায়। দিমু মন্ত্র বলার সাথে সাথে সে সব মোহর তার ব্যাগে ভরিয়ে নেয়। তারপর সে মন্ত্র পড়তে পড়তে গুহা থেকে বেড়িয়ে যায়।

তারপর সে বড় একটা পাথর দিয়ে গুহার মুখটা বন্ধ করে দেয়। তারপর সে বাড়ি ফিরে আসে। দিমু বলতে থাকে এখন আমার আর কোন অভাব থাকবে না। তারপর থেকে দিমুর জীবন ভালোভাবে কাটাতে থাকে। বন্ধুরা আমাদের আজকের ভুতের গল্প টি এখানেই শেষ।