ভুতূরে তেতুল গাছের গল্প । বাংলা ভুতের গল্প

0
31
ভুতূরে তেতুল গাছের গল্প ভূতুরে তেতুল গাছ
ভুতূরে তেতুল গাছের গল্প

তেতুল গাছে ভুত থাকে তা আমরা সবাই জানি। আজকে আমি সত্যি একটি ঘটে যাওয়া ভুতের গল্প আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। গল্পটির নাম ভুতূরে তেতুল গাছ  । বাংলা ভুতের গল্প পড়তে ভালই লাগে সবার। চলুন শুরু করা যাক –

আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের কে সত্য ঘটনা অবলম্বনে একটি ভুতের গল্প বলবো। আর আমি তার নাম দিয়েছি ভুতূরে তেতুল গাছ এর গল্প। চলুন তাহলে শুরু করা যাক ভূতুরে তেতুল গাছ এর গল্প টি।

ভুতূরে তেতুল গাছ এর অলৌকিক ঘটনা

এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালে। আর এই ঘটনাটি ঘটেছিল আমাদের স্কুলে। আমাদের স্কুলের নাম নতুন বাজার ধোপাডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাংলাদেশের গাইবান্দা জেলার সুন্দরদঞ্জ থানার একটি গ্রামে স্কুলটি অবস্থিত। স্কুলটি ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

গ্রামের এই স্কুলটি অনেক পুরনো হওয়ায় এবং নতুন করে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। স্কুলের আশেপাশে অনেক গাছ পালা থাকায় অনেক ঝোপঝারের স্তুপ হয়ে গেছে। যা পরিস্কার করা হয় না অনেক দিন থেকে। যেখানে দিনের বেলা অন্ধকার মনে হয়। আর সব থেকে মজার ব্যাপার টা হল। স্কুলের সামনের দিকে একটি বিশাল বড় পুরনো তেতুল গাছ।

এই বিশাল বড় পুরনো ভুতূরে তেতুল গাছ এর বয়স ছিল প্রায়  ছয়শত বছর। এত বিশাল বড় ভূতুরে তেতুল গাছ আশে পাশে এলাকা জুরে ছিল না। এই অঞ্চলের তেতুল গাছ টি মাথা উচু করে দারিয়ে আছে। যা এই স্কুল প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকে। আমাদের এই স্কুলটির নাম বললে তেমন কেউ চিনত না।

কিন্তু যদি কেউ তেতুল তলা স্কুল বলতো। তাহলে সবাই চিনতো। তবে এই ভুতূরে তেতুল গাছ এর ইতিহাস বেশি ভাল না। এই ভূতুরে তেতুল গাছ এ অনেক সময় অনেক ধরনের অলৌকিক ঘটনা দেখা যেত। যা এই এলাকার মানুষের জন্য অনেক খারাপের হত।

তেতুল গাছটি রাস্তার সাথে হওয়ায়, গভীর রাতে কেউ একা যেতে সাহস পেত না। যদি একা কেউ কোনদিন যেত, তাহলে পরের দিন অনেক ঘটনা শুনা যেত। কেউ বলতো, আমার সামনে দেবী এসেছিল, আবার কেউ বলতো আমার সামনে ভুত এসেছিল, কেউ বলতো আমার সামনে শয়তান এসেছিল এরকম অনেক ভুতের গল্প বলতো।

তবে এই ভুতূরে তেতুল গাছ এর ইতিহাস খুজলে জানা যায়, সে সময় হিন্দু ধর্মালম্ববীরা এই তেতুল গাছের পূজা করতো। তারা এই তেতুল গাছ কে দেবী হিসাবে মানত। কেননা সে সময় হিন্দুরা বড় গাছ, কোন অদ্ভুদ গুহা, কোন অলৌকিক আগুন এসবের পূজা করতো।

ভুতূরে তেতুল গাছে ভুত

সে হিসাবে আমরা জানতে পারি যে, হিন্দুরা এই ভূতুরে তেতুল গাছ কে দেবতা হিসাবে মানতো। এই ভুতূরে তেতুল গাছ এর অনেক ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে আমার জানা একটি ঘটনা। সেটি হল, কেউ যদি এই ভুতূরে তেতুল গাছ এর এক টুকরো ডাল পালা নিয়ে যায়। তাহলে তার সাথে অনেক খারাপ ঘটনা ঘটতো। হয়তো বা রাতে তার বাড়িতে ভুত পেত্নি গিয়ে ভয় দেখাতো। কিন্তু এই রকম ভুতের গল্প গুলো আমরা কেউ বিশ্বাস করতাম না।

একদিন আমাদের স্কুলে একটা আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানটি শেষ হতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যে যেতে পেরেছে সে বাড়িতে চলে গেছে। আর আমরা কিছু ছাত্র স্কুলের দফতরি, কয়েকজন স্যার ও ডেকোরেটরের লোক মিলে সব ঠিকঠাক করছিলাম।

আর এগুলো করতে রাত প্রায় সারে বারটা বেজে গিয়েছিল। তখন রাত অনেক গভীর হয়ে গেছে। কাজ শেষ করে স্কুলের দফতরি ও ডেকোরেটরের লোক বাড়িতে চলে গেল। কিন্তু আমরা কয়েকজন বন্ধু স্কুলে থেকে যাই।

আমরা কয়েক জন বন্ধু স্কুলের বারান্দায় বসে থাকি আর গল্প করি। এদিকে গল্প করতে করতে রাত অনেক গভীর হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ গল্পের মাঝে আমার কেন জানি তেতুল খেতে মন চাইলো। আমি গাছে ঠিক ভাবে উঠতে পারতাম না। তখন আমি আমার এক বন্ধু কে বললাম, তুই তো গাছে উঠতে পারিস।

তুই আমাকে কিছু তেতুল গাছ থেকে তেতুল পেরে দিবি। আমার খুব তেতুল খেতে মন চাইছে। সে প্রথমে রাজি হল না। সে আমাকে বলল, এত রাতে আমি গাছে উঠতে পারবো না। সে চুপ করে বসে থাকলো। কিন্তু হঠাৎ করে সে আমাকে বলল, দ্বারা বন্ধু আমি তোর জন্য তেতুল গাছ থেকে তেতুল পেরে আনতেছি। তখন সে একাই ভুতূরে তেতুল গাছ এর কাছে গেল, আর আমার জন্য তেতুল পেরে আনলো।

ভুতূরে তেতুল গাছ এর অলৌকিক ঘটনা

আমি যখন ওর কাছ থেকে তেতুল নিতে গেলাম। তখন আমি ওর দিকে লক্ষ্য করলাম, সে মনে হয় অনেক ব্যথা পেয়েছে। আর তাকে খুব অস্থিরতা দেখাচ্ছে। ওর চোখ এত লাল যে দেখতে ভয় লাগে। আমি ভাবলাম ওর চোখে মনে হয় গাছের ময়লা পরেছে। সে জন্য হাত দিয়ে চোখ বুলিয়েছে।

সে জন্য ওর চোখ লাল দেখাচ্ছে। আর দেখলাম কেনো জানি চোখ এদিক ওদিক তাকাইতেছে। আমি ওর কারনটা বুজতে পারলাম না। আমারও স্বরন ছিল না, আর ও যে ভুতূরে তেতুল গাছ থেকে আমার জন্য তেতুল নিয়ে আসলো। তারপরও আমি ওকে বললাম, তোর কি খারাপ লাগছে। তোর কোন সমস্যা হয়েছে। তখন সে বলল, আমার কোন সমস্যা নেই। তবে আমি এখন বাড়িতে যাব।

তখন ওর কথা শুনে আমি চিন্তা করলাম, ওর বাড়ি থেকে আমার বাড়ি খুব কাছে। আর ও এখন বাড়িতে যেতে চাইছে। আর কিভাবে সে রাতে বাড়িতে যাবে। তখন আমি আমার বন্ধু কে বললাম, তুই না হয় আজ  আমার বাড়িতে থেকে যা। এত রাতে তুই একাই বাড়িতে যেতে পারবি না। তুই বরং আজ আমার বাড়িতে থেকে যা বন্ধু।

তখন আমার বন্ধু বলল, না আমি এখনি বাড়িতে যাবো। তখন আমি বন্ধু কে বললাম, আমি না হয় ফোন দিয়ে আন্টিকে বলে দেব। তুই আমার বাড়িতে আমার কাছে আছিস। কিন্তু আমার বন্ধু কোন কথা না শুনে সে একাই বাড়ির উদ্দেশ্য যাওয়া শুরু করলো। কেননা আমার বন্ধুর বাড়ি ছিল স্কুল থেকে অনেক দূরে।

আর তার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তায় ছিল একটা শ্বসান ঘাট। আর ঐ শ্বসান ঘাট ছিল অনেক ভয়ংকর। তাদের বাড়ির রাস্তাটাও ছিল খুব খারাপ। প্রায় অনেক ঘটনা ঘটত ঐ রাস্তার মধ্যে। আবার সে ঐ রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাবে। সে আমার কোন কথা শুনলো না। সে বাড়ি চলে গেল।

আমরা তখন বাকি বন্ধুরা সবাই বাড়িতে চলে গেলাম। আমিও বাড়ি চলে আসলাম। আমি আমার বাড়িতে পৌছিলাম। বাড়িতে গিয়ে ওর জন্য আমার খুব চিন্তা হলো। আমার বন্ধু কি বাড়িতে গেল নাকি কিছু হলো। এই সব চিন্তা করে ঘুমিয়ে পরলাম।

ভুতূরে তেতুল গাছের গল্প

তেতুল গাছে ঝুলন্ত বন্ধুর লাশ

পরের দিন সকালে আমি যা জানতে পারলাম, সে কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমি জানতে পারলাম, আমার বন্ধুটি নাকি আর বেচে নেই। তার মারা যাওয়ার কথা শুনে আমার মন খুব খারাপ হয়ে গেল। আর সে নাকি ঐ  ভুতের/ভূতুরে তেতুল গাছ এ গলায় দড়ি দিয়ে মারা গেছে। আমি তার মারা যাবার ব্যপার টা বুজতে পারলাম না।

কেননা, সে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে চলে গেল। আর সে কিভাবে ভূতুরে তেতুল গাছ এ গলায় দড়ি দিয়ে মারা যায়। তখন আমার মনে হয়ে রাতের কথা। তাহলে কি ঐ তেতুল গাছটি ছিল ভুতের গাছ। যার কারনে, আমার বন্ধুর চোখ লাল হয়েছিল কেন আর তাকে অস্থির দেখাচ্ছিল কি জন্য।

আমি অনেক মন খারাপ করে বসে থাকলাম। আর আমার বন্ধুর জন্য আফসোস করলাম, তবে কি আমার বন্ধু আমার জন্য মারা গেল। এই সব চিন্তায় আমি আর কোন ভাবেই নিজেকে শান্তনা দিতে পারলাম না।

আমার বয়স এখন পনেরো বছর। আমার বন্ধু থাকলে তার বয়সও আজ আমার মত হতো। আজ আমি আছি কিন্তু আমার বন্ধুটি নেই। সে থাকলে আজ কতই না ভাল হতো। ভাল থেকো বন্ধু ওপারে।

বন্ধুরা, এই ছিল ভুতূরে তেতুল গাছের ভুতের গল্প টি। আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ