বুদ্ধিমান তিন পুতুলের গল্প

0
32
বুদ্ধিমান তিন পুতুলের গল্প
বুদ্ধিমান তিন পুতুলের গল্প

আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের কে শিক্ষনীয় গল্প বুদ্ধিমান তিন পুতুলের গল্প বলবো। যে গল্প টি পড়ে সবাই কিছু জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। আর আমি আমার গল্পের নাম দিয়েছি বুদ্ধিমান তিন পুতুলের গল্প। আশা করি সবাই মনোযোগ সহকারে শিক্ষনীয় গল্প বুদ্ধিমান তিন পুতুলের গল্প টি পড়বেন।

শিক্ষনীয় গল্প বুদ্ধিমান তিন পুতুল

বহু বছর আগে ভারতবর্ষে এক রাজা বাস করত। তার নাম ছিল রাজা নেপাল দাস। তিনি ধাঁধা খুব ভালবাসতেন। তিনি ধাঁধাঁর সমাধান করতে খুব ভালবাসতেন। একদিন তার বন্ধু রাজা নরেষ রাজার জন্য উপহার পাঠালেন। তিনি বললেন রাজা নরেষ আপনার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। রাজা নরেষের মন্ত্রি উপহারটি রাজার কাছে নিয়ে আসলেন। তার উপহার পেয়ে রাজা খুব খুশি হলেন।

রাজা বললেন এটা নিশ্চয় কোন ধাঁধাঁ। তোমাদের রাজা আর আমি এরকম অনেক ধাঁধাঁর সমাধান খুজে বের করেছি। যখন আমরা গুরুর কাছে ছিলাম। যত বড় ধাঁধাঁই হোক না কেন আমরা তার সমাধান বের করেছি। আর আমি এই ধাঁধাঁর উওর যতখন না পেয়েছি। ততক্ষন তুমি এই রাজ প্রসাদে সব কিছু উপভোগ করবে। রাজার কথা শুনে মন্ত্রি বলল, ঠিক আছে মহারাজ।

তারপর রাজা তার বন্ধু নরেষের চিঠি পরে দেখলো। রাজা সেখানে পরে দেখলেন, তার বন্ধু যে তিনটি পুতুল পাঠিয়েছিলেন সেখানে কোন পাত্থক্য খুজে পাও কিনা। সেই চিঠি পরে রাজা তার বন্ধু নরেষ কে চিঠি লেখলেন। রাজা লেখলেন, আমি কথা দিচ্ছি খুব তারাতারি এর উওর তোমার কাছে পাঠিয়ে দেব, ধন্যবাদ নরেষ।

তারপর বাস্কো থেকে তিনটি পুতুল বের করলেন। তিনি তিনটি পুতুল কে টেবিলের উপর রেখে পাত্থক্য খুজতে লাগলেন। রাজা অনেকক্ষন ধরে পুতুল গুলো দেখলেন। কিন্তু তিনি পুতুল গুলোতে কোন আলাদা পাত্থক্য খুজে পেলেন না। তখন রাজা হতাশ হয়ে গেলেন। তিনি চিন্তা করতে থাকলেন।

যে তার বন্ধু রাজা নরেষ কি জন্য এই তিনটি পুতুল পাঠিয়েছেন। তিনি আর কোন উপায় খুজে না পেয়ে। রাজ্যের সব থেকে বুদ্ধিমান লোককে ডেকে পাঠালেন। সেই বুদ্ধিমান লোকটি রাজার কাছে আসলেন। রাজা সেই বুদ্ধিমান লোকটিকে বললেন, আপনি দেখুন যে, এই তিনটি পুতুলের মধ্যে কোন পাত্থক্য আছে কিনা। বুদ্ধিমান লোকটি রাজা কে বললেন, আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করবো।

রাজার রাজ্যে বুদ্ধিমান লোক

বুদ্ধিমান লোকটি তিন টি পুতুলই খুব ভালভাবে দেখতে থাকলেন। কিন্তু বুদ্ধিমান লোকটিও কোন আলাদা পাত্থক্য খুজে পেলেন না। বুদ্ধিমান লোকটি রাজা কে বললেন আমি কোন ভাবেই এদের মধ্যে আলাদা তফাৎ খুজে পেলাম না। আর আমার চোখের দৃষ্টিতে তিনটি পুতুলেই একই রকম মহারাজ। তার কথা শুনে রাজা অবাক হয়ে বললেন, এটা কিভাবে সম্ভব। তখন বুদ্ধিমান লোকটি রাজা কে বললেন, হয়ত আপনার বন্ধু আপনার সাথে মজা করছে।

রাজা তার কথা শুনে রাগ হয়ে গেলেন। আমার বন্ধু এই ধাঁধাঁর বিষয় নিয়ে কখনো মজা করবে না। আমাদের রাজবিধূষকের আরো ভাল করে কাজ করা উচিৎ ছিল। ঠিক তখনি রাজবিধূষক সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাজার কথা শুনে রাজবিধূষক তার কাছে চলে আসলেন। তিনি এসে রাজা কে বললেন, আপনি আমার কথাই বলছিলেন।

তাই আমি আপনার কাছে চলে এসেছি। আপনি কি এখন কোন নারীর নৃত্য দেখতে চান মহারাজ। রাজা তখন অবাক হয়ে বিধূষক কে বলল, আচ্ছা তুমি কি এই তিনটি পুতুলের মধ্যে কোন তফাৎ খুজে বের করতে পারবে। রাজবিধূষক তিনটি পুতুলেই হাতে নিলেন আর বললেন,এই তিনটি পুতুলের অনুভুতি এক, দেখতে একই রকম, তিনিটি পুতুলের ওজন এক, তাদের হাসি একই রকম, এদের শুনতেও একই রকম, এদের শব্দও একই রকম আর সেটা শুনতেও একই রকম।

সত্যি বলতে এদের মধ্যে কোঁন পাত্থক্য নেই মহারাজ। আর আমার মনে হয় ধাঁধাঁটা একটা মজার মহারাজ। রাজা তখন রাগ হয়ে বিধূষক কে বললেন, আমার বন্ধু ধাঁধাঁ আর হেয়ালি নিয়ে কখনো মজা করবে না। চলে যাও এখান থেকে। রাজা এতটাই অস্থির ছিলেন যে, কেউ তার উওর খুজে দিতে চাইলে তাকে সুযোগ করে দিতেন। কিন্তু কেউ এর উওর খুজে বের করতে পারল না।

পাঠক ও মহারাজা

হঠাৎ একদিন এক গল্প পাঠক কে রাজার সামনে আনা হল। তিনি রাজার কাছে এসে বললেন, আমি জানতে পারলাম আপনি নাকি একটা ধাঁধাঁর জন্য বিপদে পরেছেন। তার কথা শুনে রাজা বললেন, এখন কি তাহলে গল্প পাঠকরাও ধাঁধাঁর সমাধান বের করছে নাকি। রাজার কথা শুনে গল্প পাঠক বললেন, এটা হতে পারে কোন গল্পের ধাধা।

আর এই ধাঁধাঁর মধ্যে কোন গল্প লুকিয়ে আছে। রাজা তখন গল্প পাঠক কে চেষ্টা করতে বললেন আর চলে যেতে লাগলেন। তখন গল্প পাঠক বললেন, একটা গল্পের একজন পাঠক আর একজন স্রোতা লাগে মহারাজ। তখন রাজা দারিয়ে গেলেন আর বললেন, তাহলে কি আমাকে এখানে থাকতে হবে। গল্প পাঠক বলল জ্বি মহারাজ, এখানে আমার সাথে আপনাকে থাকতে হবে।

আর আমি চাই আপনার তিনটি আলাদা আলাদা চুল। রাজা তাকে বলল, তিনটি চুল কেন। রাজার কথা শুনে গল্প পাঠক বলল, তিনটি জিনিস বাহির থেকে ঠিক একই রকম মনে হলেও ভিতরে আলাদা হতে পারে মহারাজ। আর আপনি কি আপনার তিনটি চুল আমাকে দেবেন মহারাজ। একটা একটা করে।

রাজা তার কথা শুনে রেগে বললেন, আমার মনে হচ্ছে তুমি আমাকে আদেশ করছো। শুনে হয়তবা মনে হতে পারে রাজা মশাই। কিন্তু আমি তো ওই ভাবে আপনার কাছ থেকে চাইছি না মহারাজ। তাহলে এই নাও তোমার চুল।

এবার শিক্ষনীয় গল্প এ পাঠক রাজার তিনটি চুল প্রত্যেক টি পুতুলের কান দিয়ে ঢুকিয়ে দিল। কোনটি চুল পুতুলের কান দিয়ে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হল, কোনটি এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে বের হলো, আবার কোনটি অধের্ক ঢুকে আর কোন পাশ দিয়ে বের হল না। এটা দেখে রাজা অবাক হয়ে গেল।

তিন পুতুল থেকে শিক্ষা

এবার শিক্ষনীয় গল্প এ পাঠক তিনটি পুতুলের গল্প রাজা কে বললেন, এই অধের্ক চুল ঢুকানো পুতুলটা একজন বুদ্ধিমান লোকের। সে মানুষের কথা শুনে আর নিজের বুদ্ধি দিয়ে কাজ করে। যে পুতুলটার চুল এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে বের হয়েছে সেটা হচ্ছে বোকা লোকের পুতুল। যে মানুষের কথা এক কান ঢুকায় আর এক কান দিয়ে বের করে দেয়।

আর যে পুতুলটার চুল এক কান দিয়ে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়েছে সেটা হচ্ছে একজন গল্প পাঠক। সে নিজে শুনে আর মানুষ কে বলে দেয়। এবার রাজা গল্প পাঠক কে বলল, তোমার মতে কোন পুতুল টা সবচেয়ে ভাল মনে হয়। তখন গল্প পাঠক রাজা কে বললেন, সময় আপনাকে সব বলে দেবে মহারাজ। তবে অনেক সময় গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিৎ মহারাজ।

এরকম অনেক গল্প থাকে যে সে গুলোতে মন দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আর যখন কোন গল্পে জ্ঞ্যানার্জন বা শিক্ষার জন্য হয়। সে গুলো শুনে সবার  তা অর্জন করা উচিৎ। এটা কোন পুতুলের ব্যাপারে নয়। এখানে কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ, আর বিষয় হচ্ছে আপনি কোন বিপদে কোন পুতুলটা বেছেদ নেবেন।

রাজা শিক্ষনীয় গল্প এ পাঠকের কথা শুনে খুশি হয়ে তাকে কিছু সোনার মুদ্রা দিলেন। আর তাকে ধন্যবাদ জানালেন। এবার রাজা তার বন্ধু নরেষ কে ধাঁধাঁর উত্তর পাঠালেন আর তাকে ধন্যবাদ দিলেন। তার ধাঁধাঁর মাধ্যমে এই শিক্ষার জন্য। প্রত্যেক বার রাজা কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা গোপন রাখবেন, নাকি অবহেলা করবেন না, নাকি সবাই কে জানাবেন।

রাজা সব সময় এই তিনটি পুতুলের কথা ভাবতেন। যা রাজাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতো। তাই আমরা সবাই এই শিক্ষনীয় গল্প তিনটি পুতুলের মত শিক্ষা গ্রহন করি। যা আমরা যে কোন পরিস্থিতে বিপদে পরবো না।