বাদর আর কুমিরের গল্প

0
30
বাদর আর কুমিরের গল্প
বাদর আর কুমিরের গল্প

আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রিয় পাঠকবৃন্দ আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের কে একটা মজার গল্প বলবো। আর যে গল্পটি নিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি তার আমি নাম দিয়েছি বাদর আর কুমিরের গল্প। আর এই গল্পটি পড়ে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারবো। তাই বন্ধুরা, সবাই মনোযোগ দিয়ে আজকে আমার এই গল্পটি পড়বেন।

বাদর আর কুমিরের গল্প

বহু দিন আগের কথা। এক অরন্য জংগলে একটি বিশাল বড় নদী ছিল। আর সেখানে থাকত এক বুড়ো কুমির। সে অনেক কাল থেকে এই জংগলে বাস করে আসছে। কুমির টি এত দূর্বল যে সে কখনো শিকার করতে পারত না। দিন দিন না খেতে পেরে কুমিরের অবস্থা খুব খারাপ হতে লাগলো।

একদিন কুমিরের ভীষন ক্ষিদা লাগল। সে ভাবল, আমার যে বয়স। আর এই বয়সে পানির বাহিরে শিকার করা খুব কঠিন। তাই আমাকে নদী থেকে মাছ শিকার করে খেতে হবে। তাছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই। কিন্তু সে যখনি মাছ ধরতে যায় তখনি মাছ তার মুখের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। সে নদীতে মাছ ধরতে না পেরে ক্লান্ত হয়ে নদীর তীরে চলে আসে।

উপরে এসে নদীর পাশে একটি জাম গাছের নিচে বসে আরাম করতে লাগলো। আর ঐ গাছের উপরে শুয়ে জাম খাচ্ছিল একটি বানর । কুমির ঐ বানর কে দেখে বলল, এই যে বানর ভাই তুমি কি খাও। আমাকে একটু দাও না ভাই। আমি অনেক ক্ষুধার্ত। আমি বেশ কিছুদিন হল ভাল কিছু খাই না তাই আমাকে কিছু দাও না ভাই।

কুমিরের কথা শুনে বানর বলল, এগুলো জাম। আর এ গুইলো খুব মিষ্টি। তুমি কি খাবে। কুমির বলল হ্যা ভাই। তখন বানর কিছু জাম পেরে কুমির কে দিল। কুমির জাম খেয়ে বলল,হ্যা ভাই জাম অনেক মিষ্টি। অনেক ভাল লাগলো তোমাকে ধন্যবাদ ভাই। আমার অনেক ক্ষিদে পেয়েছিল আর তুমি আমাকে জাম দিয়ে সাহায্য করেছো।

তুমি খুব ভাল। আমি আরো খুশি হব যদি তোমার মত একজন কেউ আমার সাথে বন্ধুত্ব করে। তখন বানর বলল, হ্যা হ্যা কেন হবো না। আজ থেকে তুমি আমার ভাল বন্ধু। আর আমি এই জাম গাছে থাকি। যখনি তোমার ক্ষিদা লাগবে তখনি তুমি আমার এই গাছের নিচে চলে আসবে। আমি তোমার জন্য গাছ থেকে জাম পেরে তোমাকে দেব।

এভাবে প্রতিদিন কুমির জাম গাছের নিচে আসে আর বানর জাম পেরে কুমির কে দেয়। একদিকে বাদর আর কুমিরের গল্প সারা দিন শেষ হত না। তার দুজনে মিলে খুব মজা করত। বানর কখনো কুমিরের পিঠে চড়ে পানিতে ঘুরে বেরাত। দুজনের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব গরে উঠল।

একদিন কুমির বানর কে বলল, ভাই আমাকে কিছু জাম দেবেন। আমি আমার বউ কে খাওয়াবো। আপনার গাছের মিষ্টি জাম খেলে সে অনেক খুশি হবে। তখন বানর বলল, ঠিক আছে তাহলে এখনে জাম নিয়ে আসছি। চল আমরা জাম গাছের কাছে যাই। তারপর বানর জাম গাছ থেকে আনন্দে কুমির কে জাম পেরে দিল।

কুমির খুশি হয়ে জাম নিয়ে চলে গেল। কুমির জাম নিয়ে চলে গেল যেখানে তার বউ থাকে। কুমির বউয়ের কাছে গিয়ে বলল, এই দেখ তোমার জন্য আমি জাম নিয়ে এসেছি। এগুলো আমার বন্ধু বানর তোমার জন্য পাঠিয়েছে। জাম পেয়ে কুমিরের বউ খুব খুশি হয়ে গেল। মিষ্টি জাম খেয়ে কুমিরের বউ বলল, আর কতদিন এই জাম খেয়ে বেঁচে থাকবো।

কুমিরের বউ কুমির কে বলল, এই জাম খেতে কি মিষ্টি। তোমার বন্ধু রোজ এই মিষ্টি জাম খেয়ে থাকে। তাহলে তোমার বন্ধু কত মিষ্টি হবে। তার বউয়ের  কথা শুনে কুমির বলল, আমার বানর বন্ধু খুব ভাল। সে প্রতিদিন নিজেও জাম খায় আর আমাকেও জাম দেয়।

কুমিরের বউ বলল, আমি সেটা বলছি না। আমি বলছি তোমার বানর বন্ধুর কলিজার কথা। কতদিন হল আমি মাংস খাইনি। তুমি আমাকে তোমার বানর বন্ধুর কলিজাটা এনে দাও। কুমির তার বউয়ের কথা শুনে খুব চিন্তায় পরে গেল। সে বলল, আমি কি করে আমার বন্ধুর সাথে এই বেইমানিটা করবো।

আর বানর হলো আমার ভাল বন্ধু। তাকে আমি কিভাবে ধোকা দেব। আর আমি যদি তার কলিজাটা নিয়ে আসি তাহলে তো সে মারা যাবে। তাছাড়া সে আমাকে খেতে দিয়েছে। আর কিভাবে তোমার জন্য তাকে আমি মেরে ফেলবো। কুমিরের কথা শুনে তার বউ রাগ হয়ে বলল, আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাই না।

আমার শুধু তোমার বন্ধুর কলিজাটা চাই। তা না হলে আমি নিজেকে শেষ করে দেব। কুমির তার বউয়ের কথা শুনে মন খারাপ করে বানরের কাছে চলে আসলো। বানর কে সাথে করে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

কুমির বানরের কাছে এসে বানর কে বলল, বানর ভাই আমার বউ আপনার গাছের জাম খেয়ে অনেক খুশি হয়েছে। আর তোমাকে আমাদের বাসায় যাওয়ার জন্য বলেছে। চল তাহলে আজ আমরা সবাই এক সাথে বসে আমাদের বাসায় খাব। কুমিরের কথা শুনে বানর বলল, ঠিক আছে কুমির ভাই চল তাহলে।

বানর কুমিরের কথায় রাজি হয়ে তার পিঠে বসে কুমিরের বাড়ির দিকে রওনা দিল। কিছুখন যাওয়ার পর বানর কুমির কে বলল, আচছা কুমির ভাই তোমার বউ আজ কি রান্না করবে। কুমির বলল, তোমার তো কলা অনেক পছন্দ তাই না ভাই। আজ কে কলা দিয়ে অনেক মজাদার খাবারের আয়োজন করবো। শুধু তোমার জন্য বানর ভাই।

বানর বলল, আজ তাহলে আমি পেট ভরে খাবো। অনেক দিন থেকে ভালমন্দ কিছু খাওয়া হয়না ভাই। তোমার কথা শুনে আমার মুখে পানি চলে আসলো। বানরের খুশি দেখে কুমির ভাবল তার বউ যে তার কলিজাটা খেতে চেয়েছে তা বলে দেওয়া উচিত। বানর , বন্ধু আমার কি যে খুশি হয়েছে।

আর সে তো জানেনা আমার বউ তার কলিজাটা খেতে চেয়েছে। আমি যে এখন কি করি কিছু বুঝতে পারছি না। এর চেয়ে ভাল আমি বানর ভাই কে আমার বউয়ের সব কথা বলে দেই। তারপর কুমির বানর কে বলল, বানর ভাই আপনাকে একটা কথা বলতে চাই। বানর বলল কি কথা কুমির ভাই বলুন।

তখন কুমির বানর কে বলল, বানর ভাই আমার বউ আপনার কলিজাটা খেতে চেয়েছে। আমাকে মাফ করবেন বানর ভাই। আর ও যদি আপনার কলিজাটা খেতে না পারে। সে তো মারা যাবে। বানর কুমিরের কথা শুনে অবাক হয়ে গেল আর তখনি একটা উপায় বের করলো। কেননা বানর ও ছিল অনেক চালাক।

তখন বানর কুমির কে বলল, তাই নাকি। আপনি আপনার বউয়ের আশা পুরণ করবেন তা আমাকে আগে বলবেন না। আমরা বানরেরা নিজেদের কলিজা সবসময় গাছে ঝুলিয়ে রাখি। এখন সেটা আনার জন্য আমাদের আবার সেখানে যেতে হবে। এখন তুমি আমাকে গাছের নিচে নিয়ে চলো।

কুমির বলল, আমরা কত বড় পাগল সেটা আনার জন্য আমাদের সেখানে যেতে হবে। ঠিক আছে চলো তাহলে আমরা সেখানে যাই। আর তোমার কলিজাটা নিয়ে আসি। আর খালি হাতে গেলে তোমার ভাবি মানে আমার বউ আবার আমার কলিজাটা খেয়ে ফেলবে। তারপর বানর আবার কুমির কে সেই গাছের নিচে নিয়ে গেল কলিজা আনার জন্য।

আর যখনি তারা গাছের নিচে গেল তখনি বানর লাফ দিয়ে গাছের ডালে বসলো। আর কুমির কে বলল, বোকা কুমির। কেউ কি কখনো নিজের কলিজা বাহিরে বের করে রাখতে পারে। আর কলিজা কখনো বাহিরে বের করলে সে কখনো বেঁচে থাকতে পারে। আমি তোমাকে আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু ভেবে ছিলাম।

তোমার বিপদে আমি তোমাকে সাহায্য করেছি। তোমার ক্ষুদার্তের সময় আমি তোমাকে খাবার দিয়েছি। আজ তুমি আমার বন্ধুতের এই প্রতিদান দিলে। এখন তুমি না পাবে আমার কলিজা না পাবে আর কোন জাম। চলে যাও তুমি এখান থেকে। বানর নিজের বুদ্ধির জন্য প্রানে বেচে গেল আর কুমির নিজের বোকামির জন্য বন্ধু আর জাম দুটোই হারালো।

তাহলে বন্ধুরা এই গল্পটা থেকে আপনারা কি জানতে পারলেন। আপনারা কেউ বলতে পারলে না।

আচছা ঠিক আছে আমি বলছি। এই গল্পে আমরা জানতে পারলাম,বিপদে আমাদের ধৈয্য ধারন করতে হবে। আর বানরের মত বুদ্ধি করে বিপদ থেকে বাঁচতে হবে। আর আমাদের যতই বিপদ আসুক না কেন। বিপদে কোন বন্ধুকে ধোকা দেওয়া উচিত নয়। তাহলে বন্ধুরা আমাদেরও কুমিরের মত অবস্থা হয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত বিপদের সময় বন্ধু কে সাহায্য করা।