বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প-নীলকথা

0
34
বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প-নীলকথা
বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প-নীলকথা

প্রিয় পাঠক বৃন্দ সবাই কেমন আছেন। আশা করি ভালই আছেন। আজকে আমি আপনাদের বাংলা রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প সম্পর্কে জানাবো। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আর এই ভালোবাসার গল্প টি আপনার অতীতের কথা স্বরণ করে দেবে। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি আজকের বাংলা রোমান্টিক ভালবাসার গল্প।

আমি সুমি ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। পড়াশুনায় খুব বেশি ভাল ছিলাম না আবার খুব বেশি খারাপ ও ছিলাম না। আমার এক মামাতো ভাই নীল সে আমাদের বাসায় থাকতো। আমার নীল ভাইয়াকে খুব ভালো লাগতো। কিন্তু ভয়ে তার সাথে আমি কথাই বলতে পারি না। জানি না উনি আমাকে পছন্দ করেন কিনা।

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

হঠাৎ একদিন রাতে সূর্যের প্রচন্ড তাপকে শান্ত করার মত প্রেম নিবেদনের বার্তা নিয়ে আগমন হল মেঘের। রাতের আকাশে কৃষ্ণ মেঘ ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার করে উঠছে। আমার ঘরের ছোট জানালা পেরিয়ে আসা মৃদুমন্দ সমিরনে চঞ্চল হচ্ছে। মাথার উপর অনবরত ঘুরতে থাকা পাখার বাতাসে কৃতিম এবং স্বাদহীন মনে হচ্ছে।

শোয়া থেকে উঠে বসলাম আমি। মুখ ফুলিয়ে নিশ্বাস নিয়ে ফ্যান বন্ধ করে দিলাম। মূহুর্তেই আমার আধো আলোকিত ঘর নিরব হয়ে গেল। নিরবতায় আমি বিছানায় বসে দু-চোখ বুজে দিলাম। আর তাৎক্ষনাৎ বাতাসের শব্দ শুনতে পেলাম।

আর বাতাসের শব্দে মাদকতা খুজে পেলাম আমি যেন কোথায় হারিয়ে গেলাম। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দ। ভয় পেয়ে বিছানা থেকে চমকে ওঠলাম। তারপর বিদ্যুৎ এর শব্দ আর ঝর ঝর বৃষ্টি। আমি বৃষ্টির মত নই, তবে মেঘের প্রেয়সী হয়ে নিজেকে মেঘের হাতে ধরা দিতে চাই।

আর মেঘের সম্মুখে নিবেদন করতে চাই, আমার প্রণয় বার্তা। ওহে মেঘ, তোমার কৃষ্ণ রঙ্গের প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই। তোমার গর্জনে আঁতকে ওঠতে চাই। তোমার থেকে সৃষ্ট বৃষ্টিস্নাত বাতাসে নিজেকে উতলা করতে চাই। মাটির ঘ্রাণ তোমায় উপলদ্ধি করে ভালোবাস দিতে চাই। মেঘকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার ভিরে নিজেকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। কেন জানি আজ-কাল পানি ছাড়া আর অন্য কিছু গলাধ-করণ করতে মন, চায় না।

খাওয়ার অরুচি ধরে গেছে। মশারি তুলে বিছানা থেকে নেমে গেলাম। পড়ার টেবিলের উপর রাখা পানির বোতল দেখি, হায় আল্লাহ? এটা কখন শুন্য হয়ে গেল। এত পানি আমার পেটে যায় নাকি। কালেই আমি বাবা কে বলব আমার জন্য ট্যাংকি নিয়ে আসতে।

আগামী কাল থেকে বোতলে নয় ট্যাংকিতে পানি ভরে রাখব। পানি আনার জন্য মনস্থির করলাম। গায়ের সুতি ওরনা পিঠে পেচিয়ে নিলাম। ধীরে ধীরে খাবারের ঘরে চলে এলাম। হঠাৎ ফ্রিজের দিকে চোখ পড়ল আর আমার চকলেটের কথা মনে পড়ে গেল। আর আমি মনে মনে বললাম চকলেট। হি-হি-হি। ফ্রিজ খুলে একটুখানি চকলেট মুখে দিলাম।

ভালোবাসায় আবল তাবল

গতকাল বাবা আমার জন্য চকলেট নিয়ে এসেছিল। সন্ধায় যখন খেতে বসলাম তখন দেখি চকলেট কাগজের সাথে আকটে আছে। খাওয়া আর হল না। পরে আর কোন কিছু না ভেবে শক্ত হওয়ার জন্য ফ্রিজে রেখে দিলাম। এখন হাতে নিয়ে দেখি সে চকলেট শক্ত হয়ে আছে।

খানিকটা চকলেট মুখে নিয়ে বাকিটা আবার ফ্রিজে রেখে দিলাম। চকলেট খেতে খেতে মনের সুখে হাঁটছিলাম। হঠাৎ কানে গিটারের শব্দ আসল। আমি চমকে ওঠলাম আর মনে মনে বির বির করে বললাম ভাইয়া কি এখনো জেগে আছে। ব্যাপারটা দেখে কৌতহল মনে করলাম। তাই আস্তে আস্তে ভাইয়ার রুমের কাছে গিয়ে উকি মারলাম।

সাদা শার্ট আর নীল ট্রাউজার পরে বিছানায় বসে আছেন, অনেক গম্ভীর অবস্থায় বসে আছেন। এই গম্ভীরতা ব্যাখা করা আমার সর্বদা অজানা। দুই হাতের তলায় বন্দি কালো গিটার। চোখ বুঝে মাথা হেলে আছেন এলোমেলো চুলগুলো কপালে পরেছে। বিছানার পাশে খোলা জানালা দিয়ে আসা বাতাস যখন ওনাকে স্পর্শ করছে, তখন উনি মৃদু হেসে বাতাস কে আপন করে নিচ্ছেন।

ধীরে ধীরে ওনার ছোট নোখগুলো কালো গিটারের তারে নেচে উঠলো। আমিও দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বুঝে দিলাম। বৃষ্টির সাথে গিটারের মিষ্টি সুর হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে লাগলাম। শীতল বাতাস আর সুরের মায়ায় মূহুর্তে অন্য এক ভুবনে হারিয়ে গেলাম। হঠাৎ কারো কন্ঠের আওয়াজ শুনলাম। আর আমি চমকে ওঠলাম।

চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে দেখি, আমি ধরা পরে গেছি। হায়, খোদা এ যে নীল ভাইয়া আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এখন আমার কি হবে উনি তো আবার রাত জাগা পছন্দ করেন না। সেটা শুধু আমার ক্ষেত্রে। নিজে আবার রাত দুইটা তিনটা পর্যন্ত জেগে থাকে, তাতে কিছু নাই আমি রাত জাগলে দোষ।

রাত সাড়ে বারোটায় ওনার গম্ভির মুখখানা আমার ঠিক হজম হচ্ছে না। শুকনো একটা ঢোগ গিলে জবাব দিলাম পানি নিতে এসেছিলাম ভাইয়া। টিউবয়েল টা কি আমার রুমের পাশে। ভাইয়া প্রশ্ন করা শেষ করে আমার দিকে হাত মুঠ করে আসতেছে, আমি ফুলে যাওয়া বেলুনের মত চুপসে গেলাম।

ভালোবাসার জন্য প্রেম প্রস্তাব

আপনার গিটার বাজানোর সুরে নিজেকে আকটাতে পারিনি। তাই শুনতে চলে এসেছি। আপনি খুব ভালো গিটার বাজাতে পারেন ভাইয়া। রাত  দুপুরে কেন গিটার বাজিয়ে মানুষকে পাগল করছেন ভাইয়া? আমি ঘুম বাদ দিয়ে আপনার গিটার বাজানো শুনতে এলাম।

এটা কি ঠিক? তড়িৎ গতিয়ে আমি ভাইয়াকে এই কথা গুলো বললাম। হয় আল্লাহ আমি এটা কি করলাম। আমি উনার মুখের উপর এতগুলো কথা কি করে বললাম। এ যেন এক রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প এর মত তাকে বলে দিলাম। এখন উনি তো আমাকে আস্ত গিলে খাবে, আল্লাহ আমাকে বাঁচান।

ভয়ের দরুন আমার হাটু কাঁপতাছে আর হৃদৎস্পন্দন বাদরের মতো কাপচ্ছে। এতটাই লাফাচ্ছে যে, মনে হয় হৃদস্পন্দন ফেটে মাটিতে পরবে। এদিকে আমার কথায় ভাইয়া অনেক চমকে গেছে। আমি যে ওনাকে এতগুলো কথা বলতে পারি তা উনি ভাবতে পারেনি। উনি খুব চমকে গেলেন। হয়তো এটা ভাবছেন যে আমার সাথে কথা বলতে ভয় পায়। সে আজকে কি করে এত রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প এর মত কথা গুলো আমার সামনে বললো।

আবারও বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে। ঠান্ডা বাতাস আসতেছে, মনে হয় এখনে বিদ্যুৎ চলে যাবে। ভাইয়া বলল, যা গিয়ে শুয়ে পড়। ঘন কালো পাপড়িতে চোখে কৌতহল ভেসে উঠলেও কথায় সেটা ব্যক্ত করলেন না তিনি। আমি তো সেটা ঠিকই বুঝেছি, অবশ্য তা বুঝলেও তা বলার মতো কথা নেই আমার কাছে। তাই মাথা নিচু করে বললাম, ঠিক আছে ভাইয়া।

এই বলে আমি রুমের দিকে যাচ্ছিলাম তখন উনিও যাচ্ছিলেন কিন্তু উনি হঠাৎ দাঁড়ালেন আর আমাকে ডেকে পাঠালেন, পেত্নী, এদিকে আয়। ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম, কি ভাইয়া। মুখে চকলেট লেগে আছে, মুছে নে আর একটু বড় হওয়ার চেষ্টা কর। চিরকাল তো আর বাচ্চাদের মত থাকলে চলবে না, বাচ্চাদের নিয়ে তো আর সংসার করা যায় না।

নীল ভাইয়ার মুখে এই কথা শুনে আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। আর দেরি না করে সোজা রুমে চলে গেলাম। এই ভাবে আমাদের রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প শুরু হল।

বন্ধুরা

আমাদের এই রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প এর মত যদি আপনার জীবনে হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে স্যালুট। আর আপনার জীবনে কিভাবে রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প শুরু হয়েছে তা কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দেবেন।