বদমাশ দোকানদারের গল্প

0
31
বদমাশ দোকানদারের গল্প
বদমাশ দোকানদারের গল্প

বদমাশ দোকানদারের গল্প টি একটি বাস্তবধর্মী গল্প। বদমাশ দোকানদারের গল্প এর মূল চরিত্রের নাম রাজ। তার জীবনের একটাই লক্ষ্য যে কি করে খুব তারাতারি সে বড়লোক হতে পারে। বড়লোক হতে সে সব কিছু করতে রাজি আছে। হোক সেটা নৈতিক কাজ বা অনৈতিক।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। সবাই কেমন আছেন আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজকে আমি আপনাদের একটি অন্য রকম গল্প বলবো। গল্পটির নাম দিয়েছি বদমাশ দোকানদারের গল্প যা বাস্তবধর্মী। চলুন শুরু করা যাক বদমাশ দোকানদারের গল্প টি-

বদমাশ দোকানদারের গল্প

রাজ খুব উচ্চাকাংক্ষী প্রকৃতির মানুষ ছিল। তার জিবনে একটাই স্বপ্ন ছিল যে, সে খুব ধনী ব্যক্তি হবে। টাকার জন্য সে সব কিছু করতে পারে। এর জন্য সে অনেক রকমের কাজ শুরু করে, যাতে সে তারাতারি ধনী হতে পারে। তাই সে কোন ব্যবসায় যদি লাভ কম হত তাহলে সে তা বাদ দিত। ব্যবসা বদল করতে করতে সে আজকাল কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেছে। এমনিতে রাজের দোকান দেখতে ভালই ছিল। কিন্তু সে আসলে বাজার থেকে সস্তা দামে কাপর কিনে এনে তাতে ব্রান্ড এর কাপড়ের ট্যাগ লাগিয়ে চড়া দামে বিক্রি করতো।

একদিন সকাল সকাল দোকান খুলতেই অনেক ক্রেতা তার দোকানে এসে ভিড় জমালো। ওরা সবাই রেগে বলতে লাগলো, আরে আপনি তো বলেছিলেন আপনার কাছে ইম্পোর্ট এর কোয়ালিটির জিনিস পত্র থাকে। রাজ বললো, হ্যা বলেছি তো আর এখনো বলছি। শুনুন দাদা আমি সম্মানের সাথে ব্যবসা করি। নিজের জিনিসের সম্মন্ধে একটি বাজে কথাও শুনবো না।

ওর এই কথা শুনে ক্রেতা আরো রেগে গেলো আর ব্যাগ থেকে একটা শার্ট বের করে রাজের টেবিল এ রাখলো। আর বললো, এই শার্টটা আমি আপনার এখান থেকে গত সপ্তাহে নিয়ে গিয়েছিলাম ১৫০০ টাকা দিয়ে। দেখুন একবার ধোয়ার কারনে এর সব রঙ উঠে তো গেছেই এখন এই জামা আর আমার ছেলের ও হবে না। বুঝলেন?

রাজ বললো, আরে দাদা আপনি তো শুধু শুধুই আমার উপর রাগ দেখাচ্ছেন। এই রঙ মনে হয় আপনার ডিটারজেন্ট এর কারনে হয়েছে। আপনি আসলে কোন কোম্পানীর ডিটারজেন্ট ব্যবহার করেন। রাজের এই কথা শুনে দোকানে থাকা বাকি ক্রেতারা তার দোকানের কাপড়ের নিন্দা করতে থাকলো। এর মধ্যে একজন বললো, আরে মিথ্যা কথা বলতে তোমার লজ্জা করে না। নিজে বাজে কাপড় বিক্রি করো আর দোষ দিচ্ছো ডিটারজেন্ট এর।

আর একজন বলে উঠলো, এ এমনিতে মানার পাত্র নয় চলুন পুলিশে কমপ্লেইন করি। পুলিশের নাম শুনে রাজ ভয় পেয়ে গেলো আর তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে লাগলো আর বললো, আরে দাদা আপনারা এই গরিবের উপর দয়া করুন। এমনটা করবেন না আমি একজন সৎ ব্যবসায়ী। আমার দোকানে যদি পুলিশ আসে তাহলে আমার দোকানের বদনাম হবে দাদা। দয়া করুন আমার উপর। একজন বললো, এই কাজ করার আগে তোমার ভাবা উচিত ছিল।

রাজ বললো, আরে দাদা এই কাপড় তো আমি নিজের ঘরে বানাই না। আমিও তো কারো কাছ থেকে কিনে আনি। যদি ওখান থেকে খারাপ জিনিস দেয় তাহলে আমি কি বা করতে পারি। এতে আমার দোষ কি? এই কথা বলে সে ক্রেতার সামনে সে মিছে কান্না করতে লাগলো। তার কান্না দেখে ক্রেতাদের তার উপর দয়া হলো। তারা পুলিশের কাছে কমপ্লেইন করলো না।

রাজ ওদের সমস্ত টাকা ফেরত দিয়ে দিলো। রাজ মনে মনে বললো, আজকে তো আমি খুব বড় বাচা বেচে গেলাম। আর একটু হলেই তো ধরা পড়ে যেতাম। এই ঘটনার পর রাজের দোকানে ক্রেতা আসাও কমে গেলো। কারন সবার কাছে রাজের খবর জানাজানি হয়েছিল যে, রাজ সস্তা কাপড় কিনে তা চড়া দামে বিক্রি করে।

১০ দিন এভাবে কেটে গেলো। সে বলতে লাগলো, আজকে ১০ দিন হয়ে গেলো একটি ক্রেতার ও দেখা পেলাম না। এভাবে চলতে থাকলে তো দোকান বন্ধ করতে হবে। রাজ খুব চিন্তায় পড়ে গেলো কারন তার আয় রোজগার একেবারে বন্ধ প্রায় হয়ে গিয়েছিল।

একদিন সে দোকানে বসে ভিডিও দেখছিলো। ভিডিওর মাঝ খানে একটা স্পাই ক্যামেরার এ্যাড আসলো। ঐ বিজ্ঞাপনে একটি ছেলে বলছিলো , এখন আপনিও রাখতে পারবেন যে কারোর উপর নজর। আপনার কাজ ও হয়ে যাবে আর কেউ জানতে পারবে না। এ হলো আমাদের  জোজো কোম্পানীর স্পাই ক্যামেরা।

এর সব থেকে মজার বিষয় হলো ক্যামেরা টা এত ছোট যে কেউই একে দেখতে পাবে না। আপনি শুধু একবার একে লুকিয়ে রাখুন তার পর দেখুন এর জাদু। কেউ আপনার কাছে ঘুষ চাইছে, কেউ আপনার সাথে অন্যায় করছে ব্যাস শুধু এটা লুকিয়ে রাখুন আর সব কিছু রেকর্ড করুন। তার পর তাকে দিন ইচ্ছা মত সাজা।

এই ভিডিও দেখার পর রাজের মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসে। আর সে নিজে নিজে বলে এই স্পাই ক্যামেরা তো খুব কাজের এখন এটাই আমাকে কোটিপতি করবে। এর পর রাজ তিন চারটে স্পাই ক্যামেরা নিয়ে এলো। এরপর রাজ সেই স্পাই ক্যামেরা গুলো দোকানের চেঞ্জিং রুম এ লাগিয়ে দিলো।

তার পরিকল্পনা ছিল যে চেঞ্জিং রুম এ চেঞ্জ করতে আসা লোকেদের ভিডিও ধারন করা ও সেগুলো ইন্টারনেট এ বিক্রি করে দিয়ে টাকা উপার্জন করা। দোকানে ক্যামেরা তো লাগিয়েছিল কিন্তু সমস্যা হলো তার দোকানে ক্রেতাই আসে না। সে নিজে নিজে বললো ধ্যাত দোকানে তো খদ্দের ই আসে না। লোক না আসলে কি আমি নিজেই ভিডিও রেকর্ডিং করবো।

এমতবস্থায় সে একটি বুদ্ধি কাজে লাগালো। সে দোকানের জামা কাপড়ে ডিস্কাউন্ট লাগিয়ে দিলো। শুধু তাই নয় সে দোকানের পুরনো কাপড় বদলিয়ে সব নতুন কাপড় আনলো। যার মধ্যে বেশিরভাগই মেয়েদের পোষাক ছিল। রাজের পরিকল্পনা কাজে আসলো। রাজের দোকানে এখন মেয়ে খদ্দের এর ভিড় লেগেই থাকত।

আর মেয়েরা জানতই না যে তার সাথে চেঞ্জিং রুম এ কি হচ্ছে। রাজ কারোর সাথে ফোন এ কথা বলছে, আরে ভাই তোমার যত ভিডিও স্টক চাই আমি তত ভিডিও দিতে পারবো। কিন্তু সমস্যা হলো আমার রেট ডাবল লাগবে। রাজ অনেকক্ষণ ধরে ভিডিওর দাম দর ঠিক করছিলো।রাজ তার মন মতো দাম পেতে সক্ষম হলো। আস্তে আস্তে রাজ এর বড়লোক হবার ইচ্ছা পুরণ হতে লাগলো। সে এই ভিডিও দিয়ে এত টাকা উপার্জন করলো যেন মনে হয় তার বাড়িতে টাকার বৃষ্টি হতে লাগলো।

রাজ শহরেরে দামি জায়গায় একটা বিশাল বাড়ী কিনে নিলো। সাথে দামি গাড়ি ও কিনে নিলো। সে টাকার জোরে তার দোকানের সব কর্মচারীদের ও কিনে নিলো। রাজের এই উন্নতি দেখে সবাই ভাবলো এটা তার সৎ পরিশ্রমের ফল। কিন্তু এটা কেউ জানতো না যে সে ব্যবসার আড়ালে নোংড়ামি শুরু করেছিল। কিন্তু কথায় আছে না পাপ করলে তার শাস্তি তাকে পেতেই হবে।

একদিন সুজাতা নামের একজন মেয়ে তার দোকানে কাপড় কিনতে আসলো। সে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রি ছিল। তাকে দেখে রাজ বললো, আরে আপনি একদম চিন্তা করবেন না এখানে যারা একবার আসে তারা বার বার আসতে চায়। সুজাতার একটি জামা খুব পছন্দ হলো। সে ট্রায়াল রুম এ গেলো চেঞ্জ করতে। সে দেখে জামাটি তার গায়ে একদম ফিট হয়েছিল।

কিন্তু সুজাতা জানতেই পারলো না যে তার কত বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। সুজাতা জামার দাম দিয়ে বের হতেই রাজ তাকে ডেকে বললো,ম্যাডাম বলছিলাম কি আপনি কিন্তু অবশ্যই আপনার বান্ধুবিদের আম্র দোকানের ঠিকানাটা দিবেন। এই বলে রাজ সুজাতার দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিলো। সুজাতা বুঝতেই পারেনি আজকে ওর সাথে কি হলো।

কিছুদিন পর সুজাতার বান্ধুবি কাকলি ওকে বললো যে সুজাতার ড্রেস চেঞ্জ এর ভিডিওটা ইন্টারনেট এ ভাইরাল হয়েছে। এই কথা শুনতেই সুজাতা কেদে ফেললো। কেউ তার সম্মানে আঘাত করললো এটা ভেবে সুজাতার অনেক রাগ হলো। সেই রাগ এ কাকলি কে বললো, কাকলি আমি এক্ষুণি পুলিশের কাছে রিপোর্ট করাতে যাবো।

কাকলি বললো, আরে তুই জানিস না পুলিশের কাছে গেলে তোর আরো বদ নাম হবে। সুজাতা বললো, এখন আমার কোন বদনামটা হচ্ছে না কাকলি। কিছু বদমাস লোক আমার ভিডিও ধারন করে তা ভাইরাল করে দিলো আমি কি তাদের এমনিতেই ছেড়ে দিবো। সুজাতা কাকলিকে নিয়ে তারাতারি পুলিশের কাছে গেলো।

সেখানে গিয়ে পুলিশ ডি এস পি রচনাকে সব খুলে বললো আর রিপোর্ট করালো। ডি এস পি রচনা তাকে বললো, এটা তো খুব সিরিয়াস ইস্যু। আমি তোমার সাহসিকতা দেখে অবাক যে তুমি এই পদক্ষেপ নিলে। তাছাড়া এসব ব্যাপারে প্রায় সব লোকেরাই চুপ থাকে। সুজাতা বললো, ম্যাডাম আমি ওই বদমাস লোক গুলোকে সবথেকে কঠিনতম শাস্তি দিতে চাই যে কিনা মেয়েদের সম্মান নিয়ে এরকম করে।

রচনা তার ওই ভিডিও বারবার বিভিন্ন দিক থেকে দেখছিলো। আর সুজাতাকে বলছিলো তুমি কি এর মধ্যে কোন কেনা কাটা করতে গিয়েছিলে। সুজাতা বলে হ্যা ম্যাডাম। রচনা সুজাতাকে বলছিলো যে তুমি কি সেখানে অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করেছিলে? সুজাতা উত্তরে বলে না ম্যাডাম, তবে ঐ লোক আমাকে বার বার বলছিলো যে, আমি যেন আমার বান্ধুবিকে ওই দোকানের ঠিকানা দেই।

কিন্তু এমনটা তো সবাই বলে। ডি এস পি রচনা আর কিছু না বলে সেই রাজের দোকানে গেলো। কিন্তু এবার সে পুলিশ হিসেবে যায় নি সে সাধারন মানুষের মত গিয়ে একটা জামা পছন্দ করলো। আর ট্রায়াল রুম এ গেলো চেঞ্জ করার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে রচনা জামা চেঞ্জ না করে সেই ক্যামেরা খুজতেছিলো।

সে চট করেই কাচ ভেঙ্গে স্পাই ক্যামেরাটা বের করে ফেললো। ক্যামেরা খুলে ফেলতেই রাজের ফোনে সব অন্ধকার হয়ে গেলো। রাজ বললো কি হলো সবকিছু অন্ধকার হলো কেন।ক্যামেরা নস্ট হয়ে গেলো নাকি। কিছুক্ষণ পর ডি এস পি রচনা কাউন্টারে ক্যামেরাটি রেখে রাজকে বললো,কি এটা? রাজ না জানার ভান করে বললো, আমি বুঝতে পারছি না আপনি কি বলছেন।

এই কথা শুনে রচনা রাজকে খুব জোরে একটা থাপ্পড় মারলো। রাজ রাগ হয়ে বললো, এই মেয়ে তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে চড় মারার তাও আবারা আমার দোকানে এসে। তুমি কি জানো আমি কে হ্যা? রচনা বললো,শয়তান লোক তুমি স্পাই ক্যামেরা দিয়ে মেয়েদের ভিডিও ধারন করে বাজারে বিক্রি করো তাই না?

আর আমাকে বলছো আমার সাহস কি করে হলো। তখনি বাইরে থাকা পুলিশরা দোকানের ভিতরে ঢুকলো। রাজ কিছুই বুঝতে পারছিলো না যে এসব কি হচ্ছিল। রচনা কন্সটেবল কে বলে ট্রায়াক রুমে রাখা বাকি ক্যামেরা গুলো খুজে বের করলো। রাজ ও তার কর্মচারীদের জেল এ পুরে তার দোকান বন্ধ করে দিলো। যখন তাদের আদালতে নেয়া হলো তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের ১০ বছরের জেল দেয়া হল।

বন্ধুরা আজকাল এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা নিজেরা একমাত্র সচেতন থাকলে আমারা এসব ঘটনা থেকে বাঁচতে পারি।