পিঁপড়া এবং ফড়িংয়ের গল্প

0
32
পিপড়া এবং ফড়িংয়ের গল্প
পিপড়া এবং ফড়িংয়ের গল্প

আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আজ আমি যে গল্পটি নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি সেটি হল, পিঁপড়া এবং ফড়িংয়ের গল্প। আর এই গল্পটি শিক্ষনীয় গল্প, যা থেকে আমরা কিছু শিক্ষা নিতে পারবো।

পিঁপড়া এবং ফড়িংয়ের গল্প

এক সময় একটা তৃণভূমিতে পিঁপড়ে আর ফড়িং বাস করত। পিঁপড়েরা সারা দিন কঠিন পরিশ্রম করে দূরের চাষির জমি থেকে শষ্য দানা সংগ্রহ করে আনত। তারা খুব নিয়ম মেনে কাজ করত। প্রত্যেক দিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে তারা মাঠে যেত আর সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে শষ্য দানা সংগ্রহ করে আনত। গমের শষ্য দানা তারা খুব সাবধানে তাদের সংগ্রহ শালায় রেখে আবার তারা মাঠে যেত।

অন্য দিকে ফড়িং ছিল অলস। সে সারা দিন ছায়ায় বিশ্রাম নিত আর মন খুলে গান গাইতো এবং সুস্বাদু খাবার খেত। সে সব সময় ফুর্তিতে থাকতো। নদীতে সাতার কাটত মন ভরে। সে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করত না। সে সারদিন পরিশ্রম করা বেচারা পিঁপড়েদের কথা ভেবে কষ্ট পেত। ভাবত আহা তাদের কি কষ্ট।

তাদের সারা দিন মাঠে কাজ করতে হয়। আর আমি কি সুন্দর হেসে খেলে বেড়াতে পারি। সে নিজেকে নিয়ে গর্ব বোধ করতে থাকে। এভাবে দিন যেতে থাকল। আর ফড়িং এভাবে সারা দিন অলস ভাবে ঘুমিয়ে, গান গেয়ে, নেচে ঘুরে বেড়াত। আর মনের খুশিতে গান গাইতে থাকলো কারন তার কোন কষ্টই ছিল না। কিন্তু অন্য দিকে পিঁপড়েরা অনেক কষ্ট করে সারাদিন শষ্য দানা বয়ে আনত তাদের বাসায়।

একদিন যখন পিঁপড়েরা শষ্য দানা বইছিল তখন একটা পিঁপড়ে শষ্য দানার ভার বইতে না পেরে পড়ে গেল। সে ক্লান্ত ছিল আর তার পায়ে আঘাত পেয়েছিল যার ফলে সে ভার সহ্য না করতে পেয়ে পড়ে যায়। কিন্তু ফড়িং তাকে সাহায্য না করে তাকে পড়ে যেতে দেখে হাসতে থাকলো। তখন পিঁপড়ে টা ফড়িং টাকে বললো তুমি কি দয়া করে আমাকে এই গমের শষ্য দানা টা আমার বাসায় পৌছে দিয়ে আসতে পারবে।

অহংকারী ফড়িং

আমি খুব ক্লান্ত। আমি আর এই দানার ভার সহ্য করতে পারছি না। তুমি পৌছে দিয়ে আসলে আমার খুব উপকার হবে। কিন্তু ফড়িং তার কথা না শুনে মনের সুখে গান গাইতে থাকলো। অনেক কষ্ট করে সেই শষ্য দানা পিঁপড়েটা একাই তুললো। আর খুব কষ্ট করে সেই শষ্য দানা টা নিয়ে যেতে থাকলো।

ফড়িং তাকে বললো, তোমরা এত কাজ কেন করছো? এসো বিশ্রাম করো। আমি গান গাইছি তুমি সেটা শোন। গ্রীস্মকালের দিন চার দিকে এত রোদ। এত কাজ করে কি লাভ? পিঁপড়ে ওর কথা না শুনে আরো তারাতারি মাঠের দিকে যেতে চেষ্টা করছিল। কেননা তার সাথিরা অনেক আগে চলে গেছে।

এটা দেখে ফড়িং আরো জোরে হেসে উঠলো। সে চিৎকার করে বললো,আরে বোকারা , আসো আমার সাথে নাচো। মজা করো, এত কাজ করে কি লাভ। তখন পিঁপড়ে টা বললো, আমি শীতের জন্য খাবার সঞ্চয় করছি। আর আমি তোমাকেও সেটা করার জন্য বলছি।

তুমিও খাবার সঞ্চয় করা শুরু করে দাও। খুব তারাতারি শীত এসে পড়বে। ফড়িংটা বললো, শীতের জন্য এখন ভেবে কি লাভ? আর এখন তো খাবার অনেক আছে। আর শীতের খাবার যোগার করার জন্য অনেক সময় পড়ে আছে। কিন্তু পিঁপড়ে জানত তার কি করা উচিত। তাই সে আবার নিজের কাজ করতে মাঠের দিকে চলতে শুরু করলো।

আর ফড়িং মাঠে ময়দানে মনের খুশিতে লাফাতে লাফাতে গাইতে থাকে আর নাচতে থাকে। এটা আগামী অনেক দিন ধরে চলতে থাকলো। শীতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার বদলে ফড়িং তার অবসর সময়ে নাচ গান আর ফুর্তিতে কাটিয়ে দিল। সে বুঝতে পারে নি এই রকম সুন্দর গ্রীস্মকাল সারা জীবন থাকবে না। একদিন ঠিকই শীত চলে আসবে।

অলসতার পরিনাম কেমন

গ্রীস্ম কাল পেরিয়ে শরৎ কাল আসলো। আর শরৎ কাল পেরিয়ে শীত কাল এলো। সারা দিনে সুর্য প্রায় দেখাই যেত না। দিন ছোট হতে থাকলো আর রাত অনেক বড় হতে থাকলো। তুষার পাত শুরু হয়ে গেলো। বাইরে খুব ঠান্ডা পরলো। ফড়িং শুকনো পাতা দিয়ে নিজেকে ঢেকে শীত নিবারনের চেষ্টা করলো। কিন্তু প্রবল বাতাসের কারনে সেই পাতাও আর টিকলো না।

পাতাটা উড়ে নিয়ে চলে গেলো। ফড়িং আবার ঠান্ডায় পড়লো। ফড়িং এর খিদে পেলো। সে চার দিকে খুজে কোন খাবার পেলো না। সে বুঝতে পারলো সে তারাতারি কিছু না খেলে মারা যাবে। সে দুর্বল হয়ে পড়লো। সে বুঝতে পারলো পিঁপড়েই ঠিক কথা বলে ছিল। তাকে পিঁপড়ের মত প্রস্তুত হওয়া উচিত ছিল।

ফড়িং এর গান গাওয়ার শক্তি ছিল না। সে দুর্বল আর ক্ষুদার্থ ছিল। শীত নিবারনের জন্য তার কোন আশ্রয় ছিল না। তৃণভুমি বরফে ঢেকে যাওয়ায় জমিতে আর কোন খাদ্য ছিল না খাওয়ার মত। সে শীতে কাপতে থাকে আর বলে, কি করবো আমি আর কোথায় বা যাবো? ফড়িং দুঃখ প্রকাশ করতে থাকে।

সে আগে ভাবেনি শীত কাল টা এতো কঠিন হয়ে যাবে। যেহেতু সে নিজে থেকে খাবার সঞ্চয় করেনি বা কাউকে সঞ্চয় করতে সাহায্য করেনি তাই সে সামনের গ্রীস্মকাল অব্দি বেচে থাকবে না। বরফ থেকে বাচার জন্য তার কোন আশ্রয় ছিল না। আর খিদের জ্বালায় সে মরতে বসেছে।

পিপড়ার কাছে ফড়িং এর সাহায্য

সে হাটতে ছিল খাবারের সন্ধানে তখনি সে দেখতে পেল সেই পিঁপড়েদের। যাদের সে বোকা বলে উপহাস করেছিল। তারা তাদের গ্রীস্মকালের সঞ্চয় করা খাবার খাচ্ছিলো। ফড়িং ভাবলো, আমার পিঁপড়ে দের কাছে যাওয়া উচিত। তাদের থেকে খাবার আর আশ্রয় চাওয়া উচিত।

তারপর সে পিঁপড়ে দের টিলায় উঠে তাদের দরজায় দাঁড়িয়ে দিলো আর বললো শুনছেন। পিঁপড়েরা দরজা খুলে দিলো। কিন্তু তাকে বাহির থেকেই কথা বলতে হলো। সে খুশি হয়ে বললো আমি এসে গেছি। আমি তোমাদের গান শোনাতে এসেছি, আর চাই একটু আগুন পোহাতে। আর আমাকে কিছু খাবার দিবে তোমাদের সঞ্চয় থেকে।

একজন বলে উঠলো না না না আমরা তোমার কোন গান শুনতে চাই না। ফড়িং ভিতরে আসার জন্য অনুরোধ জানালো আর বললো তাকে কিছু খাবার দিতে। তাকে খাবার না দিলে যে সে মারা যাবে। পিঁপড়েরা অবাক হয়ে বললো কী? তুমি শীতের জন্য কিচ্ছু সঞ্চয় করোনি।

তাহলে তুমি সারা গ্রীস্মকাল কি করেছিলে। ফড়িং বলে , আমার কাছে কোন সময় ছিল না, খবার সঞ্চয় করতে। সে অনুতাপ করে বললো আমি গান গাইতে নাচতে খুব ব্যস্ত ছিলাম। যতক্ষণে আমি বুঝেছি ততক্ষণে শীতকাল এসে গিয়েছে। পিঁপড়েরা বিরক্ত হয়ে মাথা ঝাকালো আর না শোনার ভান করে তাদের নিজের কাজ করতে ফিরে গেলো।

যে পিঁপড়েটা একদিন ফড়িং এর কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছিল সে তার কাছে গেলো। কাছে গিয়ে বললো সারা গ্রীস্মকাল আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি আর তুমি আমাকে নিয়ে মজা করেছ গান গেয়েছো নেচেছো। তখন তোমার শীতকাল নিয়ে ভাবা উচিত ছিল। এখানে তোমার জন্য কোন খাবার নেই। এই বলে পিঁপড়ে দরজা লাগিয়ে দিলো। এর ফলে ফড়িং এর কাদা ছাড়া আর কোন উপায় থাকলো না।

পিঁপড়া এবং ফড়িংয়ের গল্প থেকে আমরা শিক্ষা নিলাম যে, কাজের সময় কাজ করতে হবে আর অবসরের সময় বিশ্রাম নিতে হবে। আর আমরা যদি কাজের সময় কাজ না করে ঘুরে বেড়াই। তাহলে জীবনে আফসোস ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। তাই সবাই কে সময়ের মূল্য দেওয়া শিক্ষতে হবে।