পরীর বাচ্চার সোনা রুপার চুলের গল্প

0
31
পরীর বাচ্চার সোনা রুপার চুলের গল্প
পরীর বাচ্চার সোনা রুপার চুলের গল্প

আসসালামু আলাইকুম, আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজ আমি অন্য রকম একটা গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। আজ আমি আপনাদের জন্য যে গল্পটি লিখেছি সেটি হল, পরীর বাচ্চার সোনা রুপার চুলের গল্প। আশা  করি গল্পটি পড়ে সবার ভাল লাগবে। তাহলে বন্ধুরা আমরা এখন পড়বো পরীর বাচ্চার সোনা রুপার চুলের গল্প।

পরীর বাচ্চার সোনা রুপার চুলের অজানা গল্প

পরী রাজ্যে আলো পরী নামে এক রানী পরী বাস করতো। দুই জমজ পরীর বাচ্চার জন্ম হয়েছিল। তাদের একজনের চুল ছিল সোনার আর একজনের চুল ছিল রুপার। পরী তাদের নাম রেখেছিলেন চুলের রং দেখে। যার চুলের রং সোনার তার নাম রেখেছিলেন সোনালী আর যার চুলের রং সাদা তার নাম রেখেছিলেন রুপালী। পরী রাজ্যের সব পরী তাদের কে নিয়ে খুব খুশি ছিল। আর এইভাবে তাদের অনেক বছর কেটে গেল। সোনালী আর রুপালী দুজনে অনেক বড় হয়ে গেল। পরী রাজ্যে তাদের মত সুন্দরী পরী আর কেউ ছিল না।

একদিন রুপালী পরী চিরুনী দিয়ে তার মাথা আচরার ছিল। তখন সোনালী পরী রুপালী পরী কে বলল, তোমার এই সাদা চুল আচরিয়ে আর কি করবে। আর তুমি তো দেখতে তেমন সুন্দর না। তোমাকে দেখতে তো বুড়ির মত লাগে। সোনালীর পরীর কথা শুনে রুপালী পরী বলল, তুমি আমাকে এভাবে কেন বলছো। আর আমার চুল গুলো রুপার তাই কি হয়েছে। আমি যে রকম দেখতে তাতেই খুব খুশি। তখন সোনালী পরী বলল, তুমি খুশি থাকলে তাতে কার কি হবে। কোন রাজকুমার তোমাকে পছন্দ করবে না। তোমাকে সারা জীবন একা একাই থাকতে হবে। সোনালী পরী সবসময় রুপালী পরীর সাদা চুলের মজা নিত। এদিকে রুপালীর পরীর মা রুপালী পরী কে বেশি আদর করত না। রানী পরী সবসময় সোনালী পরী কে বেশি আদর করতো।

রানী পরী সোনালী পরী কে বলল, তোমার চুল গুলো যেহেতু সোনার। সে জন্য আমি তোমার জন্য সোনার চিরুনি বানাতে দিয়েছি। আর সেই চিরুনি দিয়ে শুধু তুমি চুল আচরাবে। আর কেউ ঐ সোনার চিরুনি ব্যবহার করতে পারবে না। সোনালী পরী বলল, আচ্ছা মা ঠিক আছে। তখন রুপালী পরী বলল, মা আমার কি কোন ভাল চিরুনি লাগবে না। আমিও তো মাথা আচরাই মা। তখন রুপালী পরীর মা রুপালীকে বলল, তোমার চুলের জন্য কোন ভাল চিরুনির দরকার নেই। তোমার চুল গুলো হলো রুপার। সে জন্য দরকার নেই। আর সোনালীর চুল গুলো হল স্বর্ণের। তাই ওর চুলের জন্য আলাদা চিরুনির দরকার আছে। তাই আমি সোনালী পরীকে সোনার চিরুনি বানিয়ে দিচ্ছি।

রানী পরী সোনালী পরী কে বেশি আদর করত বলে, সোনালী পরী সবার সাথে খারাপ আচরন করতো আর খুব অহংকার ছিল। আর রানী পরী রুপালি পরী কে খুব বেশি আদর করতো না। অন্য দিকে রুপালী পরী প্রকৃতি খুব ভালবাসত। রুপালী পরী আকাশ বাতাস গাছ পালা পশু পাখি এদের সাথে থাকতে খুব পছন্দ করতো। সোনালী পরী একদিন ঘরে গিয়ে দেখলো তার ঘর ময়লা হয়ে আছে। সে বলল, দাসিরা কি আমার ঘরটা ঝাড় দেয়নি। সে তখন তার মাকে গিয়ে বিচার দিল, সোনালী পরীর কথা শুনে রানী পরী অনেক রাগ করলো। রানী পরী তখন দাসিকে বলল, তোমার সাহস কত। তুমি আমার মেয়ের ঘর পরিষ্কার করোনি। তুমি এখনি এই মহল থেকে বের হয়ে যাও। তুমি শুধু এই মহল থেকে না। এই পরী রাজ্যে থেকে চিরদিনের জন্য বের হয়ে যাও।

রানী পরীর কথা শুনে সোনালী পরী বলল, তুমি ঠিক বলেছো মা। ঐ দাসিকে বের করে দাও এই পরী রাজ্যে থেকে। তাদের কথা শুনে রুপালী পরী বলল, এই সামান্য ঘটনা নিয়ে তুমি এই দাসিকে এত বড় শাস্তি দিতে পার না মা। সে কি এমন অপরাদ করেছে। সে জন্য তুমি এই দাসি কে এত বড় শাস্তি দিচ্ছো।  কিন্তু রানী পরী রুপালী পরীর কথা কিছুতেই শুনলো না। রানী পরী সোনালী পরীর কথাই শুনলো। সেই দাসি যখন মহল থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল। তখন সেই দাসি প্রতিজ্ঞা নিল, আমি ঐ সোনালী পরী কে দেখে নেব। সোনালী পরী  চুলের খুব অহংকার করে তাই না। আমি ওর চুলকে দেখে নেব। আমি ওর চুল মাথা থেকে কেটে ফেলেবো।

কিছুদিন পর রানী পরীর সাথে অন্য পরী রাজ্যের রানী দেখা করতে আসলো। দুই পরী খুব ভাল বান্ধবী ছিল। তার বান্ধবী, রানী পরীর সাথে তার পুত্র সাইমন রাজকুমার এসেছিল। সাইমন কে দেখেই সোনালী পরী তাকে ভালবেসে ফেললো। আর মনে মনে বলল, এই সাইমন রাজকুমার আমার। আমি বিয়ে করলে এই সাইমন রাজকুমার কেই বিয়ে করবো।

একদিন সাইমন রাজকুমার জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাজকুমার রুপালী পরী কে দেখতে পেল।  রুপালী পরী কে দেখে সাইমন রাজকুমার তার কাছে চলে আসলো। সাইমন রাজকুমার রুপালী পরীকে বলল, তুমি এখানে কি করছো। আর এই গভীর জঙ্গলে একা আছো। তোমার ভয় করছে না। রুপালী পরী  বলল,না আমার ভয় করেনা। আর এই জঙ্গলের গাছপালা পশু পাখি আমার খুব ভাল লাগে। রুপালী পরীর কথা শুনে তখন সাইমন  বলল, এসব আমারও খুব ভাল লাগে। তাহলে তোমার সাথে আমার অনেক মিল আছে। তারা দুজনে অনেক কথা বললো। তারা দুজন দুজন কে সেদিন খুব পছন্দ করলো। আর তাদের দুইজনের মধ্যে ভালবাসা হয়ে গেল।

একদিন সোনালী পরী তার মা রানী পরীকে বলল, মা আমি তোমার বান্ধবীর ছেলে সাইমন রাজকুমার কে বিয়ে করতে চাই। আমার ওকে খুব ভাল লেগেছে মা। সোনালী পরীর কথা শুনে রানী পরী বলল, এটা তো খুশির কথা। আমি আজকে আমার বান্ধবীর সাথে তোমার বিয়ে নিয়ে কথা বলবো। তারপর রানী পরী তার বান্ধবীর কাছে সোনালী পরীর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে চলে গেল। তাদের দুজনের বিয়ে নিয়ে কথা হলো। তাদের বিয়ের দিন তারিখও ঠিক হয়ে গেল।

তখন সাইমনের মা সাইমন কে বলল, আমার বান্ধবী তার মেয়ের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আর তুমি কি এই বিয়েতে রাজি আছো। তখন সাইমন তার মাকে বলল, আমি রাজি মা। এই বিয়েতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সাইমন রাজকুমার মনে করেছিল তার বিয়ে রুপালীর পরী সাথে ঠিক হয়েছে।

হঠাৎ একদিন সেই দাসি পরী রাজ্যে চলে আসলো। সেই দাসি সোনালী পরীর ঘরে ঢুকলো আর তার মাথার চুল সব কেটে ফেললো। কিন্তু পরের দিনে সোনালী পরীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে সোনালী পরী বুঝতে পারলো। তার মাথায় কোন চুল নেই। সে কাঁদতে থাকলো। সকালে রানী পরী সোনালীর মাথা দেখে অবাক হয়ে গেল। তিনি সোনালী পরী কে বলল, তোমার মাথার সোনার চুল গুলো কোথায়। সোনালী পরী বলল, আমি কিছু বলতে পারি না মা। আমার মাথার চুল কে যেন কেটে নিয়ে গেছে। আর এখন সাইমনের সাথে আমার বিয়ে হবে কিভাবে।

তখন রুপালী পরী  তার বোন সোনলী পরী কে বলল, তুমি কোন চিন্তা করোনা। আমি আমার রুপার চুল গুলো তোমাকে দিয়ে দিচ্ছি। রুপালী পরীর এরকম ভালবাসা দেখে সোনালী পরী আর তার মা দুজনে তাদের ভুল বুঝতে পারলো। তারপর তারা রুপালী পরীর কাছে ক্ষমা চাইলো। পরের দিন রুপালী পরীর সাথে সাইমন রাজকুমারের বিয়ে হয়ে গেল। এরপর রুপালী পরী সুখে শান্তিতে ঘর সংসার সাজালো। আর এভাবে তার জীবন কাটলো।

তাই বন্ধুরা এই গল্প থেকে আমরা শিখতে পেলাম যে, যার যতটুকু আছে তাই নিয়ে আমাদের খুশি থাকতে হবে। কারো সাথে অহংকার করা যাবে না।