পরীর বাচ্চার গল্প

0
35
পরীর বাচ্চার গল্প
পরীর বাচ্চার গল্প

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। কেমন আছেন সবাই? আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের যে গল্প টা বলবো তার নাম হলো পরীর বাচ্চা। গল্পটি লেখা হয়েছে বজরা হলদিয়া গ্রামের একটি ছোট পরিবার কে নিয়ে। তাহলে চল বন্ধুরা পড়তে থাকো আমাদের আজকের, পরীর বাচ্চার গল্প টি।

পরীর বাচ্চার গল্প

বজরা হলদিয়া গ্রামের সৎ দয়ালু, সুন্দরী খেয়া নামের একটি মেয়ে বাস করতো। খেয়ার সাথে তার মা এবং বোন চাঁদনী থাকতো। খেয়ার পরিবার তেমন বিওশালি ছিলনা। তারা মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ছোট সংসার ছিল। কিন্তু তাদের পরিবারের সবাই ছিল সৎ ও ভাল মনের মানুষ।

গ্রামের সবার সাথে তারা মিলেমিশে বসবাস করতো। তার পরিবারের সবাই একে অপরের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। তারা কখনো গ্রামের মানুষের ক্ষতি করতো না। এজন্য গ্রামের সব মানুষ তাদের খুব ভালবাসত।

বজরা হলদিয়া গ্রামের পাশে ছিল একটি বড় পুকুর। আর পুকুরের পাশে ছিল এক বিরাট জংগল। মানুষের মুখে শুনা যায় ঐ জংগলে নাকি অনেক ভয়ংকর কিছু ঘটনা ঘটে। আর যদি কেউ এই জঙ্গলে যায়। সে নাকি আর কোনদিন ফিরে আসে না। এই ভয়ে গ্রামের কেউ জঙ্গলে যেত না।

কিন্তু হঠাৎ একদিন সকালে খেয়া ঐ পুকুর পাশ দিয়ে হাটতেছিল। তখন খেয়া একটি আওয়াজ শুনতে পেল। এখানে এমন কেউ কি আছো। যে আমাকে এখান থেকে বাঁচাতে পার। কেউ এসে আমাকে একটু সাহায্য করো।

আর কেউ যদি আমাকে সাহায্য করে তার প্রতি আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। দয়াকরে কেউ আমাকে বাঁচাও। গলার আওয়াজ শুনে খেয়া সেখানে দাঁড়িয়ে গেল। ঐ আওয়াজ শুনে খেয়ার মনে দয়া হলো। তখন খেয়া মনে মনে ভাবল, লোকটি মনে হয় বিপদে পরেছে। তাই এখন লোকটিকে আমার সাহায্য করা দরকার।

আর লোকটি কে বিপদে রেখে আমাকে এখান থেকে যাওয়া যাবেনা। আমার তাকে সাহায্য করা উচিত। মানুষ বলে এই জঙ্গল নাকি অনেক ভয়ানক। কি এমন বিপদ ঘটতে পারে। আমার যত বিপদ ঘটক না কেন লোকটিকে আমার সাহায্য করতে হবে।

এসব চিন্তা করে খেয়া জঙ্গলের ভিতরে চলে গেল। আর সেখানে গিয়ে খেয়া দেখলো, একটা ডাইনি দাঁড়িয়ে আছে। খেয়া ডাইনি কে দেখে অনেক ভয় পেয়ে গেল। কারন ডাইনিটা দেখতে ছিল অনেক ভয়ংকর। খেয়া ডানিটাকে দেখে কি করবে কিছু বুঝতে পারলো না। সে এখন লুকাবে না দৌড় দিবে। সে অস্থির হয়ে গেল। এদিকে ডাইনিটা খেয়া কে দেখে তার কাছে চলে আসলো।

পরীর সাথে খেয়ার বন্ধুত্ব

ঠিক তখনি একটা পরী উরে এসে খেয়া কে নিয়ে উরতে লাগলো। তখন ডাইনিটা বলল, শয়তান পরী তুমি আমার মুখের আহার কেরে নিয়েছো। আমি তামাকে ছারবো না। ডাইনি তখন তার যাদু শক্তি প্রয়োগ করলো। কিন্তু কোন কাজ হল না। পরী নিমিশেই খেয়া কে নিয়ে উদাও হলো।

তারপর পরী উরে এসে পরল খেয়াদের বাড়ির সামনে। তখন খেয়া পরীকে বলল, আজ যদি তুমি না থাকতে তাহলে ঐ ডাইনিটা আমাকে খেয়ে ফেলত। আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। আর তোমার এই উপকারের কথা কোন দিন ভুলতে পারবো না। খেয়ার কথা শুনে পরী বলল, যারা অন্যকে সাহায্য করে।

তাদের কোন দিন বিপদ হয় না। তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য ঈশ্বর অন্য কাউকে পাঠিয়ে দেন। আর তুমি বিপদের কথা শুনে লোকটিকে সাহায্য করতে গিয়েছিলে। তোমার মনে তো কোন বাজে উদ্দেশ্য ছিল না। আর তাই ঈশ্বর আমার দ্বারা তোমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে খেয়া আর পরীর মধ্যে অনেক ভাব হয়ে গেল। তাদের মধ্যে একে অপরের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল। তারপর পরী চলে গেল তার পরীর রাজ্য আর খেয়া চলে গেল তার বাড়িতে। এরপর পরী প্রায় এই পৃথিবীতে খেয়ার বাড়িতে আসতো। সেখানে এসে পরীর বাচ্চা খেয়ার পরিবারের সাথে গল্প করে সময় কাটাতো। পরীর সাথে খেয়ার পরিবারের খুব ভাল সম্পর্ক গরে উঠলো।

কিন্তু কিছুদিন হয়ে গেল পরী আর পৃথিবীতে আসে না, খেয়ার সাথে দেখা করতে। কারন পরী মা হতে চলেছে। সেজন্য পরী সব সময় বাড়িতে থাকে। এভাবে অনেক দিন কেটে গেল। এবার পরীর মা হবার দিন চলে এসেছে। একদিন পরীর কোলে সুন্দর এক ফুটফুটে পরীর বাচ্চার জন্ম হলো। আর এই খবর ঐ জঙ্গলের ডাইনিটার কাছে চলে গেল। ডাইনিটা সাথে সাথে চলে আসে পরীলোকে বাচ্চা পরীকে অপহরন করার জন্য।

পরীর রাজ্যে ডাইনি

এদিকে পরী রাজ্যে ডাইনি আসার খবর এক রাজ্যে থেকে অন্য রাজ্যে চলে যায়। তখন এক পরী, রানী পরী কে ডাইনি আসার কথা জানায়। ঐ পরী বলে, ওই দুষ্ট ডাইনিটা নাকি অনেক ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। মনে হয় সে আমাদের উপর হামলা করবে। পরীর কথা শুনে রানী পরীর মনে পরে গেল সে দিনের কথা। তখন অসুস্থ শরীর নিয়ে রানী পরী তার সধ্য জন্ম নেয়া বাচ্চা পরীকে নিয়ে পরীর রাজ্যে থেকে পালিয় গেল।

আর পৃথিবীতে খেয়াদের বাড়িতে চলে আসলো। সেখানে গিয়ে পরী তাদের কে বলল, খেয়া আর চাঁদনী তোমরা দুজনে আমার বন্ধু। তাই তোমাদের দুজনের কাছে আমি আমার বাচ্চা পরীকে রেখে যাচ্ছি। আমি যানিনা বাঁচবো কি মরবো। তোমরা দুজনে আমার এই বাচ্চা পরী কে দেখে রাখবে।

আর সব রকম বিপদ আপদ থেকে আমার বাচ্চা পরী কে রক্ষা করবে। এসব কথা বলে, পরী সেই ডাইনির কথা খেয়ার পরিবার কে খুলে বললো। পরী তারপর তার বাচ্চা পরী কে খেয়ার পরিবারের কাছে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে পরীলোকে চলে গেল।

সেখানে গিয়ে পরী ওই দুষ্ট ডাইনির সামনে পরে গেল। আর ওই দুষ্ট ডাইনি পরী কে বলল, আমি তোমার বাচ্চা পরী কে চাই। তুমি আমার কাছ থেকে একদিন আমার মুখের আহার কেরে নিয়েছিলে। আমি সেদিনের কথা এখনো ভুলতে পারেনি। আজ তার প্রতিশোধ নিব। তোমার বাচ্চা পরী কে নিয়ে গিয়ে আমি আমার প্রতিশোধের জ্বালা মেটাবো।

আর যদি তোমার বাচ্চা পরী কে না পাই। তাহলে এই পরীলোকে সব পরীকে আমি শেষ করে ফেলবো। ডাইনির কথা শুনে পরী বলল, আমার জীবন থাকতে আমি আমার বাচ্চা পরীর কথা তোমাকে বলবো না। আর আমি হলাম এই পরী রাজ্যের রানী, গোলাপি।

আমি বেঁচে থাকতে এই পরী রাজ্যের একটি পরীকেও তুমি মারতে পারবেনা দুষ্ট ডাইনি। এই কথা শুনে ডাইনি রেগে গেল। পরী আর ডাইনির মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়ে গেল। অবশেষে পরী আর ডাইনি দুজনে মারা গেল।

পরীর মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ

আর এদিকে বাচ্চা পরী খেয়া ও চাদনির সাথে পৃথিবীতে বড় হতে থাকলো। এভাবে কয়েক বছর কেটে গেল। বাচ্চা পরী বড় হয়ে গেল। আর তার নাম রাখা হল রেবা। এরপর রেবার যখন বার বছর বয়স হলো। তখন বাচ্চা পরী রেবার মধ্যে পরীদের সব গুনাবলি দেখা দিতে লাগলো।

হঠাৎ একদিন রেবা খেয়ার পরিবারের কাছে এর কারন জানতে চাইলো। তখন খেয়া তার মা বোন সবাই পরীর  বাচ্চার গল্প কাহিনী রেবাকে সব ঘটনা খুলে বললো। তাদের কথা শুনে বাচ্চা পরী রেবা বলল, তাহলে আমি একজন পরী। আর তোমরা আমার নিজের কেউ না। আর ঐ দুষ্ট ডাইনি আমার মাকে মেরে ফেলেছে। বাচ্চা পরী রেবার কথা শুনে সবার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। খেয়া সব থেকে বেশি মন খারাপ করলো।

তার কারন হল খেয়া বাচ্চা পরী রেবা কে খুব আদর যত্ন ভালবাসা দিয়ে বড় করেছে। খেয়া তখন বাচ্চা পরী রেবা কে বলল, আমরা তোমার রক্তের কেউ না, তাই বলে আমরা তোমাকে কখনো পর মনে করি নাই। তাদের কথা শুনে বাচ্চা পরী রেবা বলল, আমি তোমাদের কে কথাটা সে ভাবে বলিনি। তোমরাই তো আমার সব। আর রক্তের সম্পর্ক থাকলেই কি আপন হওয়া যায়। তবে কথাটা এভাবে বলাটা আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও।

একথা বলে বাচ্চা পরী তাদের বলল, আমি আমার মায়ের প্রতিশোধ নিব। এই বলে বাচ্চা পরী রেবা ঐ জঙ্গলে দুষ্ট ডাইনির কাছে চলে গেল। তারপর বাচ্চা পরী রেবা তার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে দুষ্ট ডাইনিটা কে বন্ধি করে ফেললো। তারপর বাচ্চা পরী রেবা চলে আসে খেয়াদের বাড়িতে। আর তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস শুরু করে। আর এভাবেই সে তার বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়।

তাহলে বন্ধুরা এই পরীর বাচ্চার গল্প থেকে আমরা শিখলাম, মায়েরা নিজের জীবন দিয়ে হলেও তার সন্তান কে বিপদ থেকে রক্ষা করে। কোন মা তার নিজের কথা কখনো চিন্তা করে না। তাই আমাদের সবার উচিত মায়ের সাথে সব সময় ভালভাবে ভদ্রতার সাথে কথা বলা। আর তাদের কে ভালবাসা।