পরীর পেটে রাক্ষসী জন্মের গল্প । রুপকথার পরীর গল্প

0
32
পরীর পেটে রাক্ষসী জন্মের গল্প । রুপকথার পরীর গল্প
পরীর পেটে রাক্ষসী জন্মের গল্প । রুপকথার পরীর গল্প

আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের কে একটা মজার রুপকথার গল্প বলবো। আমরা চিরদিন শুনেছি পরীর গর্ভে পরী জন্ম নেয়। কিন্তু আমরা কখনো শুনিনি পরীর পেটে রাক্ষসী জন্মের ঘটনা। তাই এমনি একটা রুপকথার গল্প আজ আমরা নিয়ে এসেছি। আর রুপকথার গল্পটির নাম দিয়েছি পরীর পেটে রাক্ষসীর জন্ম।

রুপকথার গল্প । পরীর পেটে রাক্ষসী

অনেক বছর আগে শিমুলপুর গ্রামে তানিয়া নামে এক মেয়ে বাস করতো। তার বাবা মা ছিল না। সে ছিল একটি এতিম মেয়ে। সে ছিল একা একটা মেয়ে। তার বাবা মা এমনকি সাথে তার কোন আত্বীয় স্বজন ছিল না। তানিয়া শিমুলপুর গ্রামে একটা পুরুনো ভাঙ্গা বাড়িতে একা থাকতো। আর এই ভাঙ্গা পুরুনো বাড়িটা ছিল কোন এক বিট্রিশ ব্যাক্তির। আর সেই বাড়িতে তানিয়া একাই বাস করতো।

গ্রামের সবাই বলত, ঐ পুরুনো ভাঙ্গা বাড়িতে নাকি অনেক ভূত পেত্নি বাস করে। তাই গ্রামের কেউ এই বাড়ির আশে পাশে যেত না। কেননা বাড়িটা দেখতে ছিল খুবই অদ্ভুত। একদিন তানিয়ার এক বান্ধবী বলল, আচ্ছা তানিয়া তুমি একাই এই পুরুনো ভাঙ্গা বাড়িতে কিভাবে থাকো। গ্রামের সব মানুষ বলে, এই পুরুনো বাড়িতে নাকি ভূত পেত্নি আছে। তোমার কোন ভয় করে না। তানিয়া তার বান্ধবী কে বলল, আরে না। আমার কোন ভয় করে না। আর শোন রুনা ভূত পেত্নী বলতে কিছু নেই।

আর এগুলো আমাদের মনের ভুল ধারনা। তুমি আমাকে দেখ, আমি কি কখনো এসব ভূত পেত্নির ভয় করেছি। না করিনি তো। আচ্ছা তুমি বলো, এখানে যদি কোন ভূত পেত্নি থাকতো। তারা কি আমাকে জীবিত রাখতো। তখন রুনা তানিয়া কে বলল,আচ্ছা তোমার কথা যদি সত্যি হয়। তাহলে গ্রামের মানুষ বলে কেন। আর আমরা যখন স্কুলে পরতাম স্যারেরা বলত বড়্ররা যা বলে তা সব ঠিক। তাহলে তুমি বল, তারা কি মিত্থ্যা বলছে। আর আমার মা বাবা কি আমাকে মিত্থ্যা বলেছে।

তখন তানিয়া তার বান্ধবী কে বলল, আমিতো সেটা বলিনি। আর আমি যতটুকু যানি ভূত পেত্নি বলতে এই জগতে কিছু নেই। আমরা সবাই যেগুলো ভূত পেত্নি মনে করি সেগুলো হচ্ছে অশুভ আত্বা। আর সেটা বলতে সেখানে আরেকটা মেয়ে আসে। মেয়েটার নাম ছিল এমিলি। সে তানিয়াকে বলে তুমি নিজেই একটা দেখতে পেত্নি। আর তোমার কি হবে। তোমার যে চেহেরা কালো, কুৎসিত একটা মেয়ে। আর তোমাকে দেখেতো ভুত পেত্নিরাই ভয় পেয়ে যাবে। তোমার গাঁয়ের রং যেমন ভুত পেত্নির গায়ের রংও তেমন।

মজার গল্প । পরীর পেটে রাক্ষসীর জন্ম

এমিলি তানিয়াকে অপমান করতে লাগলো। এসব কথা শুনে তানিয়ার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। আর তখন সে কাঁদতে কাঁদতে তার পুরুনো ভাঙ্গা বাড়িতে চলে আসলো। আর ঐ পুরুনো ভাঙ্গা বাড়িতে একটা অন্ধকার ঘর ছিল। হঠাৎ করে তানিয়া একদিন সকালে ঐ ঘরের তালা খুললো। সে ভয় ভয় করে ভেতরে ঢুকলো। আর সে ভেতরে গিয়ে অবাক হয়ে গেল। কারন ঐ ঘরের ভেতর ছিল সোনাদানা হীরা মুক্তা দিয়ে ভরা।

আর এগুলো দেখে তানিয়া বলল, এই অন্ধকার ঘরের ভেতর চকচকে এতকিছু। আর এটাতো অন্ধকারের মধ্যে আলো হয়ে গেল। আমিতো কখনো ভাবতে পারিনি। এই অন্ধকার ঘরের ভেতর এতকিছু থাকতে পারে। তানিয়া অবাক হয়ে সে ঘর থেকে বের হয়ে আসলো। এরপর তানিয়ে সে ঘর থেকে সোনাদানা বের করে আর বাজারে বিক্রি করে। সোনা বিক্রির টাকা দিয়ে তানিয়া নিজের সংসারের খরচ চালাতো। এমনকি তানিয়া অনেক গরীব অসহায় মানুষ কে টাকা দিয়ে সাহায্য করতো।

পৃথিবী থেকে দূরে ছিল একটা পরীর রাজ্যে। সেই পরীর রাজ্যে গোলাপি নামের একজন পরী থাকতো। সেই গোলাপি পরীর ছিল অনেক অহংকার। আর সে নিজেকে মনে করত অনেক সুন্দরী। তাই সে সব সময় কালো অসুন্দর পরী দের কে অবহেলা করতো। সেই গোলাপি পরী একদিন পৃথিবীতে আসলো। গোলাপি পরী পৃথিবী দেখে খুবই অবাক হয়ে গেল। সে ভাবলো, না জানি পৃথিবীর মানুষ কত সুন্দর।

আর সে পৃথিবীর সব সুন্দর মানুষ কে অনেক কিছু উপহার দেবে। এই ভেবে গোলাপি পরী খুশি হয়ে পৃথিবীতে নামলেন। পৃথবীতে নেমে এসে গোলাপি পরী যখন হাটতে শুরু করলো। হাটতে হাটতে সে চলে গেল সেই পুরুনো ভাঙ্গা বাড়ির কাছে। ঠিক তখনি শিমুলপুর গ্রামের কালো মেয়ে তানিয়া গোলাপি পরীর সামনে পরে গেল।

তানিয়ার কুৎসিত কালো চেহেরা দেখে গোলাপি পরী মুখ ভেংচিয়ে বলল, ছিঃছিঃ আমি মনে করে ছিলাম পৃথিবীর সব মানুষ সুন্দর। কিন্তু শুরুতেই তোমার মত কালো কুৎসিত মেয়ে কে দেখতে হবে। আমি সেটা কখনো ভাবিনি। পৃথিবীতে তোমার মত কালো মেয়ে থাকতে পারে। এটা আমি কখনো ভাবিনি। আর আমি তোমার মত কালো মেয়ে আমার জীবনেও দেখিনি।

পরীর অহংকার । পরীর গল্প

তানিয়া গোলাপি পরীকে বলল, আমার এই কালো কুৎসিত চেহেরা দেখে এভাবে বলোনা। আমি অনেক কস্ট পাই। আর তুমি অনেক সুন্দরী কিন্তু অহংকারী। নিজের সৌন্দর্য আর রুপ নিয়ে বেশি অহংকার ভাল না।

কারন তোমার এমন এক, দিন আসবে। সেদিন তুমি বুঝতে পারবে সুন্দর আর অসুন্দর নিয়ে কখনো কাউকে বিচার করতে নেই। তানিয়া অনেক ছোট ছিল আর দেখতেও অসুন্দর ছিল। কিন্তু সে অনেক সুন্দর কথা বলতে পারতো।  সে বুঝিয়ে বুঝিয়ে মানুষের সাথে কথা বলতো। তখন গোলাপি পরী রেগে গিয়ে তানিয়ার সাথে বগবগ করলো। তারপর সেখান থেকে সে চলে গেল।

পরী তখন পরী লোকে গিয়ে সব পরীর উপর অধিকার প্রয়োগ করলো। আর সে নিজে সুন্দর বলে সব পরীকে খোটা দিত। তার কথা শুনে বাকি পরীরা খুব মন খারাপ করতো। এভাবে অনেক বছর কেটে গেল। ইতিমধ্যে সে গর্ভ ধারন করল। গোলাপি পরীর বাচ্চা হওয়ার সময় চলে আসলো। কিন্তু তার রুপের অহংকার কমলো না। হঠাৎ গোলাপি পরীর বাচ্চা জন্ম হলো। তার বাচ্চা দেখে গোলাপি পরী অনেক খুশি হয়ে গেল। সে বলল, আমার এই বাচ্চা পরী হবে পরী রাজ্যের সব থেকে সুন্দরী।

আর কোন পরীর সাথে আমার মেয়ের তুলনা হবে না। আমি ওর নাম রাখবো এঞ্জেল। এসব কথা বলে গোলাপি পরী অনেক আনন্দ উপভোগ করলো। কিন্তু এদিকে  দিন যায় তার বাচ্চা বড় হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন একটা অদ্ভুত কান্ড ঘটে গেল। গোলাপি পরীর হাত থেকে তার  বাচ্চা পরী পরে গেল।

আর চোখের পলকে কালো কুটকুটে রাক্ষসের মত রুপ হয়ে গেল। এরপর দিন যত গেল রাক্ষসির মত রুপ ধারন করতে লাগলো। রাক্ষসির মত বাচ্চা দেখে অন্য পরীরা ভয় পেয়ে গেল। গোলাপি পরী অবাক হয়ে বলল, এটা কিভাবে সম্ভব, আর রাক্ষসের মত দেখতে হল কিভাবে। আর আমার মত পরীর পেটে রাক্ষসী জন্মের গল্প শুনলে সবাই আমাকে ঘৃণা করবে

পরীর অহংকারের ফল । রুপকথার পরীর গল্প

গোলাপি পরীর কথা শুনে তার বাচ্চা পরী বলল, আমি তোমার মেয়ে মা আর তুমি আমাকে এভাবে বলছো কেন। আমি রাক্ষসির মত দেখতে তাই বলে কি আমি তোমার মেয়ে নই। আমি রাক্ষসি হলেও তোমারি তো মেয়ে মা।মেয়ের কথা শুনে গোলাপি পরী বলল, নানা তোমার মত কালো কুৎসিত আর রাক্ষসের মত দেখতে আমার মত সুন্দরী পরীর মেয়ে হতে পারে না।

এসব কথা বলে গোলাপি পরী তার মেয়ে কে ঘৃণা করলো। আর তাকে অস্বীকার করলো। তখন হঠাৎ করে পৃথিবীতে বাস করা কালো কুৎসিত তানিয়ার কথা মনে পরে যায় গোলাপি পরীর। আর তখন সে তার নিজের ভুল বুঝতে পারলো। গোলাপি পরী তার ভুল বুঝতে পেরে তার রাক্ষসি মেয়ের কাছে চলে গেল।

তার রাক্ষসি মেয়ে কে আপন করে নিল। তখন গোলাপি পরী তার মেয়েকে বলল, তুমি রাক্ষসির মত দেখতে কিন্তু তুমি তো রাক্ষসি নও। পরীর পেটে জন্ম হয়েছে তোমার তাই বলে তুমি তো রাক্ষসি না।

তাই তোমার মাঝে পরীদের সব গুণাবলি থাকবে। আর তখন গোলাপি রানী বলল, রুপ আর চেহেরা দিয়ে কাউকে বিচার করা যায় না। তুমি রাক্ষস হও বা মানুষ। তুমি যে রকমই হওনা কেন। তুমি আমার মেয়ে আর আমার সব গুণাবলি তোমার মাঝে থাকবে। পরীর পেটে রাক্ষসীর জন্ম হয়েছে তাতে কি। তুমি তো রাক্ষস পরী না। তুমি একজন পরী।

আমার প্রিয় বন্ধুরা, আমরা এই রুপকথার গল্প পরীর পেটে রাক্ষসী জন্মের গল্প থেকে শিখতে পারলাম যে, আমরা মানুষ যে রকমই দেখতে হইনা কেন আমাদের মধ্যে সব রকম বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান আছে। যেগুলো মানুষের মাঝে থাকা দরকার। তাই কখনো মানুষের চেহেরার উপর ভিত্তি করে কাউকে বিচার করা যাবে না। যা আমরা পরীর পেটে রাক্ষসী জন্মের গল্প থেকে জানতে পারলাম।

তো বন্ধুরা আজকের রুপকথার গল্প পরীর পেটে রাক্ষসী জন্ম গল্পটি আপনাদের  কাছে কেমন লেগেছে তা কমেন্ট করে জানবেন। এই রকম আরো মজার মজার রুপকথার গল্প পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন। ধন্যবাদ