দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প

0
35
দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প
দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প

দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প টিতে একজন বুড়ি সবসময় কান্না করতো। কেননা তার মেয়েদের নিয়ে অনেক কষ্ট ছিল। কিন্তু দিন দিন এমন হচ্ছে যে বুড়ির প্রত্যেক দিন শুধু কান্না করতে হয়। একদিন এক দরবেশ তাকে হাসি খুশি থাকার জন্য কিভাবে দৃষ্টিভঙ্গি বদলিয়ে সুখে থাকতে হয় তা জানায়।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। সবাই কেমন আছেন? আজকে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প বলবো। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প এর মাধ্যমে আমরা একেক জন খুব ভাল মনের মানুষ হতে পারবো। আমরা আমাদের জীবনকে আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারবো। চলুন কথা না বাড়িয়ে আজকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প শুরু করা যাক।

দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প

একদা কোন এক সময়ে একটি শহরের মধ্যে এক বুড়ি বসবাস করতেন। সব সময় লক্ষ্য করলে দেখা যেত যে বুড়িটি কান্না করছেন। তার দুই মেয়ে ছিল। দারিদ্রতার কারনে সে তার বড় মেয়েকে বিয়ে দেয় এক ছাতা বিক্রেতার সাথে। আর ছোট মেয়েটাকে বিয়ে দেন এক নুডুলস বিক্রেতার সাথে। বিয়ে দিয়ে বুড়ি শুধু তাদের কথা চিন্তা করে।

রৌদ্রজ্জল দিনগুলোতে বুড়ি খুবই চিন্তায় থাকেন। কারন রোদের মধ্যে মানুষ কম ছাতা কিনবে। বুড়ি চিন্তা করে যে, আজকের দিনটি অনেক রৌদ্রময়, কেউই আজে ছাতা কিনবে না। বিক্রি হলেও সামান্য পরিমান বিক্রি হবে যা দিয়ে মেয়ের সংসার চলবে না। আর বিক্রি না হলে যে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। কি হবে দোকান বন্ধ হলে? এইসব চিন্তা তাকে আবেগি করে তোলে। তাদের জন্য কিছু করতে না পেরে সেই বুড়িটি কান্না করতে থাকেন।

আর বৃষ্টির দিনগুলোতে তিনি তার ছোট মেয়ে কে নিয়ে ভাবতেন আর কান্না করতেন। কেননা তার ছোট মেয়ের স্বামী ছিলেন নুডুলস বিক্রেতা। সে নুডুলস তৈরী করে। এই স্যাতস্যাতে দিনে সে আজকে নুডুলস রোদে শুকাতে পারবে না। তাহলে তারা এখন নুডলস বিক্রি করতে পারবে না। কি হবে এখন তার ছোট মেয়ের? এই ভেবে বৃষ্টির দিনেও সেই বুড়ি কান্না করতে থাকেন।

এর ফলস্বরূপ বুড়িটি  সারা বছরে শোকাতর হয়ে জীবন যাপন করেন। এবং কান্না করতে থাকেন হোক সেটা রৌদ্রময় দিন বা বৃষ্টির দিন। সর্বদা তিনি কোন না কোন মেয়েকে নিয়ে ভাবতেন আর কাঁদতেন। প্রতিবেশীরা তাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে শান্তনা দিলেও সে বুঝতো না। তাই তাকে সবাই কাদুনে বুড়ি বলে ডাকতো।

দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প টির বুড়ি প্রতিদিনের মত কাদতেছিলেন হঠাৎ এক দরবেশ বুড়ির বাড়ির সামন দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দরবেশের সাথে বুড়ির দেখা হয়ে যায়। দরবেশ অনেক কৌতহলী ছিলেন যে বুড়ি এত কান্না করছে কিসের জন্য। তাই দরবেশ তাকে সব কথা তার নিকট এ খুলে বলতে বললেন। বৃদ্ধা মহিলাটি ও সব কথা আস্তে আস্তে খুলে বললেন।

দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য দরবেশের কৌশল

বুড়ির কথা শুনে দরবেশ মৃদু হাসলেন এবং বললেন আপনি চিন্তিত হবেন না। আমি আপনাকে খুশি থাকার একটা রাস্তা দেখাবো। আপনাকে আর শোক করে কান্না করতে হবে না। এই কথা শুনে বৃদ্ধা অনেক খুশি হলেন। এবং কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইলেন কি সেই রাস্তা বলুন। আমাকে কি বা করতে হবে খুশি থাকার জন্য?

দরবেশ উত্তরে বললেন এটা খুবই সহজ একটা কাজ। আপনাকে শুধু আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আর কোন কিছুই করতে হবে না আপনাকে। তাহলেই আপনি খুশি থাকতে পারবেন। যেমন, রোদ এর দিন গুলোতে আপনি আপনার বড় মেয়ের কথা না ভেবে, ছোট মেয়ের কথা ভাববেন। চিন্তা করবেন এই রোদ এ তারা হয়তো অনেক নুডুলস রোদ এ শুকিয়েছে। তাদের ব্যবসা খুব ভাল ভাবে চলছে। তাদের ব্যাবসায় অনেক লাভ হয়েছে। আর তারা দুজন খুব সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।

অন্য দিকে বৃষ্টির দিনে এইরকম ভাবে ছোট মেয়ের কথা না চিন্তা করে বড় মেয়ের কথা চিন্তা করবেন। এই বৃষ্টিতে সবাই ছাতা কিনছে হয়তো। আজকে আপনার মেয়ের জামাই অনেক ছাতা বিক্রি করছেন হয়তো। তার দোকান অনেক ভালো চলছে। অনেক লাভ ও হইছে হয়তো। আর তাদের ঐ উপার্জন দিয়ে তারা খুব সুখে শান্তিতে আছে। এইসব চিন্তার কথা শুনেই বৃদ্ধার মুখে হাসি চলে এসেছে। আর কেনই বা সে হাসবে না। তার দুই মেয়েই তো সুখে শান্তিতে বাস করছে।

বৃদ্ধা মহিলাটি দরবেশের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে লাগলেন। এভাবে চলতে চলতে এক সময় আসলো মহিলাটি আর কান্না করে না। সেই বৃদ্ধা মহিলাটি এখন শুধু হাসে। তিনি সর্বদাই তার মেয়ের কথা চিন্তা করে হাসেন। তিনি ভাবেন যে তার মেয়েরা তো সুখেই আছে তার আর দুঃখ কিসের। এখন তিনি তার হাসি খুশি থাকার কারনে সবাই তাকে এখন হাসি বুড়ি নামে ডাকে।

ঠিক তাই, আপনি আপনার জীবনের দিকে খেয়াল করলে দেখতে পারবেন সব কিছু আসলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করছে। সর্বদাই একটি মুদ্রার দুটি দিক থাকে। আর দিকটা আপনার উপর নির্ভর করবে যে আপনি কোন দিক দেখবেন।

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

আসলে বৃদ্ধার জীবনে তেমন কিছুই পরিবর্তন হয় নি। না পরিবর্তন হয়েছে রোদের দিনগুলো না পরিবর্তন হয়েছে বৃষ্টির দিনগুলো। এবং তার মেয়েদের জিবনেও কোন পরিবর্তন নিয়ে আসেনি। কিন্তু যেটা পরিবর্তন হয়েছে সেটা তিনি নিজেই, তার দৃষ্টিভঙ্গি। অথচ দৃষ্টিভঙ্গির কারনে সে আগের থেকে সুখে দিন যাপন করছে।

বন্ধুরা, আমরা দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর অনুপ্রেরণামূলক গল্প থেকে যে শিক্ষা নিয়েছি। সেই দিকগুলো ভাল ভাবে উপলব্ধি করে চলতে হবে। নিজেদের চিন্তা ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। যদি আমরা আমারা আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারি তাহলে আমরা সবাই খুব শান্তিতে বসবাস করতে পারবো। আর দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো হলো সুখি জীবনের গোপন মন্ত্র।