দুই বোনের গল্প – বেগুন ক্ষেতে সাপ

0
30
বাংলা রুপকথার গল্প দুই বোনের গল্প
দুই বোনের গল্প - বেগুন ক্ষেতে সাপ

দুই বোনের গল্প গুলো খুব মজার হয়ে থাকে। রুপকথার দুই বোনের গল্প শুনতে আশায় আপনাকে স্বাগতম। আশা করি আজকে বাংলা দুই বোনের গল্প আপনাদের খুব ভাল লাগবে।

দুই বোনের গল্প টিতে বড়বোন আরাফার সৎ বোন ছিল ছোট বোন আদুরি। এজন্য আদুরি আরাফাকে সহ্য করতে পারতো না। আদুরি আরাফার কোন কথা শুনত না। আদুরি আরাফার সাথে সবসময় খারাপ আচরন করত। আরাফা ছোট বোন মনে করে সব কিছু সহ্য করে যেত। একদিন আরাফার কথা না শোনার কারনে আদুরির একটি মহা বিপদ হলো।

আচ্ছালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা। সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালই আছেন। আজকে আপনাদের জন্য একটি অন্য রকম রুপকথার গল্প এনেছি। এই রুপকথার গল্পের নাম দিয়েছি দুই বোনের গল্প বেগুন ক্ষেতে সাপ। আশা করছি বাংলা দুই বোনের গল্প বেগুন ক্ষেতে সাপ গল্পটি পড়লে আপনাদের খুব ভালো লাগবে। আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক-

দুই বোনের গল্প

অনেক দিন আগে মিরপুর গ্রামে দুই বোন বাস করত। বড় বোনের নাম ছিল আরফা আর ছোট বোনের নাম ছিল আদুরি। আরফা ছিল অনেক ভাল মনের মানুষ। আরফা তার ছোট বোন আদুরিকে অনেক ভালবাসতো। কিন্তু আদুরি তেমন ভালো ছিল না। সে তার বড় বোন আরফাকে একদমই সহ্য করতো না। সে সব সময় আরাফার সাথে খারাপ আচরন করতো।

আরাফা খাবার জন্য ডাকলো, আদুরি ও আদুরি। আদুরি বিরক্তির সাথে বলে, কি হয়েছে কি? আমাকে বিরক্ত করা ছাড়া আর কোন কাজ নেই তোর। আরাফা বলে, আসলে বোন তুই তো অনেকক্ষণ ধরে তো তুই কিছু খাস না। তোর হয়তো অনেক খিদে পেয়েছে তাই তোর জন্য খাবার নিয়ে আসলাম। নে বোন খাবারটা খেয়ে নে। আদুরি উত্তরে বলে, ইস আমার জন্য মহারানি খাবার নিয়ে এসেছে।

দরদ যেন একেবারে উতলে পড়ছে। এই দারা দারা খাবারে আবার কিছু মেশাশনি তো। যেমন ধর বিষ যেগুলো খেয়ে আমি মারা যাই। আরাফা বললো, ছি বোন এগুলা তুই কি বলছিস? আমি তোর খাবারে বিষ মেশাবো? তোকে আমি মারতে চাইবো? আর তোকে আমি মারতে চাইবো কেন বল? তুই তো আমার ছোট বোন। তোকে আমি কত ভালোবাসি আর তুই বলছিস কিনা আমাই তোর খাবারে বিষ মিশিয়ে তোকে দিবো।

আদুরি বলে, আমি তোর বোন ঠিক আছে কিন্তু আমি তোর নিজের বোন না। আনাকে মেরে ফেললে তো বাবার সম্পতি সব তোর হয়ে যাবে। আমি কি কিছু বুঝি না ভেবেছিস। আরাফা বলে, আমি তোকে অনেক ভালোবাসি আর আমি তোকে কখনো সৎ বোন মনে করি নারে। আর এসব সম্পতির কোন লোভ নেই আমার। সব সম্পতি তুই নিয়ে নিস তবু আমায় ভুল বুঝিস না তুই। এসব সম্পতির থেকে তোর মুল্য আমার কাছে অনেক বেশি।

আরাফা আদুরির সৎ বোন ছিল। কিন্তু আরাফা তাকে সৎ বোন মনে করতো না কিন্তু আদুরি আরাফাকে সৎ বোনের চোখে দেখতো। নিজের বোন হিসেবে মেনে নিতো না আর খারাপ আচরন করতো। এই ভাবেই দুই বোনের দিন যেতে লাগলো।

ছোট বোনের বিপদ । দুই বোনের গল্প

একদিন একাই আদুরি ঘুরতে বের হয় আর ঘুরতে ঘুরতে এক বেগুন ক্ষেতে চলে আসে। আর বেগুন ক্ষেত দেখে বলে, বাহ কি সুন্দর বেগুন ক্ষেত।

আর বেগুনের গাছ গুলো কি সুন্দর। আগে যদি আমি এই বেগুন ক্ষেতের কথা শুনতাম তাহলে আমি আরো আগে এখানে বেড়াতে আসতাম। এসব বলে আদুরি বেগুন ক্ষেতে হাটতে থাকে। আর তখনি হঠাৎ কোথা থেকে একটা সাপ এসে আদুরিকে কামড়ে দেয়। আর আদুরি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

আর এদিকে তার বোন আরাফা তাকে বাড়ি না দেখে খুব চিন্তায় পড়ে যায়। আর আদুরিকে এদিক সেদিক খুজতে থাকে। আর বলে, মেয়েটা যে কোথায় গেলো কোথায় খুজব আমি ওকে? কত জায়গায় খুজলাম ওকে কোথাও তো পেলাম না। এই বলে সে আবার খুজতে থাকে। আর খুজতে খুজতে সে বেগুন ক্ষেতের কাছে চলে আসে। সেখানে আদুরিকে পড়ে থাকতে দেখে আরাফা খুব ভয় পেয়ে যায়।

আর তার কাছে গিয়ে তাকে ডাকতে থাকে। আদুরি কোন সাড়া দেয় না। আরাফা লক্ষ্য করলো তার শরীর নীল হয়ে যাচ্ছে। সে বুঝতে পারলো তাকে নিশ্চই বিষাক্ত কিছু কামড়েছে । সে নিজে নিজে বললো, কি করি এখন। আমাকে এখন ভৈরবি মাকে ডেকে আনতে হবে। বোন তোর কিচ্ছু হবে না। আমি এক্ষুণি আসছি।

এই বলে আরাফা ভৈরবি মায়ের কাছে যায় আর তাকে খুব তারাতারি আদুরির কাছে নিয়ে আসে। বেগুন ক্ষেতে সাপ গল্পের ভৈরবি মা আদুরিকে দেখে বলে, তোর বোনকে এক বিষাক্ত সাপ এ কামড়েছে। আর তাকে বাঁচাতে হলে জীবন মনী গাছের পাতা লাগবে। কিন্তু ঐ পাতা আনা যে খুবই কষ্টকর।

ছোট বোনের জীবন বিপন্ন । দুই বোনের গল্প

আরাফা ভৈরবি মাকে বলে, যত কষ্ট হোক না কেন আমি আনবো ওই পাতা। আপনি আমায় বলুন কোথায় ঐ জীবন মনী গাছের পাতা পাওয়া যাবে? ভৈরবি মা বললো, জীবন মনী গাছের পাতা আছে কামাক্ষা নদীর ওপারে সারম্বা জঙ্গলে। সেই পাতা পাহাড়া দেয় এক বিষাক্ত সাপ।

বেগুন ক্ষেতে যে সাপ টি তোর বোনকে কামড়িয়েছে। পাতাটি তোকে আগামি সাত প্রহরের মধ্যে আনতে হবে। না আনতে পারলে তোর বোনকে বাচাতে পারবি না। আরাফা বলে, ঠিক আছে মা। আপনি কোন চিন্তা করবেন না আমি সাত প্রহরের আগেই নিয়ে আসবো। আপনি এদিকে সব কিছু প্রস্তুত করে রাখুন।

এই কথা বলে আরাফা সেই কামাক্ষা নদী পেরিয়ে সারম্বা জঙ্গলের কাছে চলে আসে। আর বললো, এটাই তো মনে হয় সারম্বা জঙ্গল কিন্তু কোথায় আছে জীবন মনী গাছ। ভৈরবি মা তো বলেছিল যে সেই জীবন মনী গাছ এক বিষাক্ত সাপ পাহাড়া দেয়। তবে আমি কি করে সেই সাপের মোকাবেলা করবো। জাক গে আগে আমি গাছ টা খুজে বের করি।

এই বলে আরাফা সেই জীবন মনী গাছ খুজতে থাকে। খুজতে খুজতে সে হঠাৎ বীনের শব্দ শুনতে পায়। সে দেখলো এক সাপুড়ে বীন বাজাচ্ছে আর তার সামনে একটি নাগিন রয়েছে। সে নিজে নিজে বললো, একি ওই নাগিন টা এত দুলছে কেন? মনে হয় তার খুব কষ্ট হচ্ছে? আর সাপুড়েটা ,মনে হয় নাগিনের ক্ষতি করবে। আমার নাগিনকে সাপুড়ের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। নাহলে সে মারা যাবে। কিন্তু কি করব আমি?

আরাফা এসব বলতেই পাশে একটি লাঠি দেখতে পায়। সে লাঠিটি হাতে তুলে নেয়। তার পর সেই লাঠি টি দিয়ে সাপুড়ের মাথায় আঘাত করে। আর সাথে সাথে সাপুড়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। আর নাগিন ও সাপুরের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। নাগিন আরাফাকে বলে, তোমায় অনেক ধন্যবাদ গো। আজকে তুমি না থাকলে এই সাপুড়ে আমায় মেরেই ফেলতো।

বড় বোনের সাহসিকতা । দুই বোনের গল্প

কিন্তু কে তুমি আর এই জঙ্গলেই বা কি করছো? এর পর আরাফা তার সমস্ত কথা নাগিনকে খুলে বললো। সব শুনে নাগিন বলে, তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি তোমাকে সাহায্য করবো ঐ জীবন মনী গাছের পাতা নিতে। আমার কথা সকল সাপ মেনে নেয়। আমি তাকে বললে সে তোমায় জীবন মনী গাছের পাতা নিতে বাধা দিবে না। এর পর নাগিন আরাফাকে নিয়ে সেই জীবন মনী গাছের কাছে যায়।

সেখানে গিয়ে দেখে এক বিষাক্ত সাপ সেই জীবন মনী গাছকে পাহাড়া দিচ্ছে। নাগিনের সহায়তায় আরাফা সেই কাংক্ষিত জীবন মনী গাছের পাতা সংগ্রহ করে। এর পর আরাফা জীবন মনী গাছের পাতা নিয়ে তার বোন আদুরি ও ভৈরবি মায়ের কাছে যায়। সেখানে গিয়ে আরাফা সেই পাতা ভৈরবি মায়ের কাছে দেয়। ভৈরবি মা সেই পাতাকে রস করে আদুরির মখে দেয়।

কিছুক্ষণ পর আদুরি চোখ খুলে। সে সুস্থ্য হয়ে বলে, একি মা আপনি কেন এখানে। কি হয়েছিল আমার? আমি তো বেড়াতে আসছিলাম। এর পর ভৈরবি মা আদুরিকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। আদুরি তার ভুল বুঝতে পারে। আর বলে, দিদি তুই আমার জন্য এত কিছু করেছিস। আমি তোর সাথে কত খারাপ ব্যবহার করেছি। তোকে বকেছি আর তুই কিনা শেষ পর্যন্ত আমায় বাঁচিয়েছিস।

আমায় তুই ক্ষমা করে দে দিদি আমার ভুল হয়ে গেছে। আর তুই আমার সৎ বোন না তুই আমার নিজের বোন। আরাফা বলে, আমি কিছু মনে করিনি রে। তুই তো আমার ছোট বোন। এভাবে দুই বোনের সম্পর্ক খুব গাঢ় হয়ে যায়। তারা সুখে শান্তিতে বাস করতে থাকে।

বন্ধুরা এই ছিল আজকের রুপকথার গল্প – দুই বোনের গল্প বেগুন ক্ষেতে সাপ। কেমন লাগলো আজকের বাংলা দুই বোনের গল্প বেগুন ক্ষেতে সাপ গল্পটি। কমেন্ট করে মতামত জানাবেন। ধন্যবাদ