তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প

0
32
তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প উপস্থিত বুদ্ধি
তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, মহান আল্লাহ তা-আলার রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প সম্পর্কে জানাবো। তারা সব কিছুতেই উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগ করে নিজের সর্বনাশ ডেকে নিয়ে এসেছে। চলুন তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প।

তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প

মঙ্গল হোক সকল মানবের মঙ্গল হোক। পরমাশক্তি থেকে এই পৃথিবীকে মুক্ত করুক। উপস্থিত সকলে বলল, আপনাকে প্রনাম গুরুদেব। গুরু দেব আজ আপনি আমাদের কে একই সময়ে স্মরণ করেছেন। আজ কি আমরা কোন বিশেষ শিক্ষা লাভ করতে চলেছি। গুরু দেব বললেন বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই বৎস। তোমরা আমার আশ্রমের শ্রেষ্ট ছাত্র।

তোমাদের একত্রে আহব্বান করাণ অন্য আজ তোমাদের এই আশ্রমে শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সূর্দয় থেকে তোমাদের নতুন জীবন শুরু হবে। এতদিন তোমরা যা শিক্ষা লাভ করেছ তা দেশে বিদেশে যাচাই করার সময় হয়ে এসেছে। ছাত্রদের মধ্যে একজন বলল, আমরা ধন্য হলাম গুরুদেব আমরা ধন্য হলাম।

যাও তোমরা এখন বিশ্রামে চলে যাও। ঠিক আছে গুরুদেব ঠিক আছে। তারপর তারা তাদের ঘরে চলে যায়। তোমাদেরকে আর আমি কি বলব, দেশে বিদেশে আমাদের যে কদর হবে তোমরা কি তা জান? ১ম পন্ডিত বলল, আমি যেখানে যাব সেখানে আমার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হবে। অন্য একজন বন্ধু বলল, ভাই তোমরা যেখানে যাবে আমাকে সঙ্গে করে নিও।

তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প এর সেরা ছাত্ররা বললো, তোমার শিক্ষার যা বহর তোমাকে আমাদের সাথে নিলে আমারা মুসকিলে পড়ব। তুমি আলাদা থেকো। তুমি তো পুরো শিক্ষা সম্পন্ন করনি। আর তুমি যদি আমাদের সাথে যাও তাহলে আমাদের সম্মানে আঘাত হানবে। তাই তো আমি তোমাদের সাথে থেকে আমার জ্ঞান কে বাড়াতে চাই বন্ধু। শোন যদি তোমাদের বন্ধু বলতে সমস্যা হয় তাহলে বলিও আমি তোমাদের ছাত্র। তাহলে তো আর অসুবিধা নেই। তাহলে ঠিক আছে তিন জন বললো।

এই কথা বলে তারা পরের দিন সকালে বের হলো গ্রামের উদ্দেশ্যে। তারা সকলে মিলে হাটতে থাকল একসাথে। হাটতে হাটতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল আর বলল, এখন বস ভাই একটু বিশ্রাম করি। এখানে কিছু খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ওদের মধ্যে একজন বলল, এই গাছে তো প্রচুর ফল আছে দেখছি চল চল পেড়ে খাওয়া যাক।

মূর্খ পন্ডিতের উপস্থিত বুদ্ধি

তারা লাফিয়ে লাফিয়ে ফল পাড়ার চেষ্টা কলছিল কিন্তু তারা এতে ব্যর্থ হয়েছিল। ওদের মধ্যে এক ছাত্র বলল, এভাবে ফল পাড়া যাবেনা দাঁড়াও আমি ব্যবস্থা করছি। তুমি কি আর ব্যবস্থা করবে হে, জন্মকান্ত (ওদের ছাত্রের নাম জন্মকান্ত)।

দেখো দেখো যাতে করে বেশি বুদ্ধি খরচ করে ফেল না। তখন সে লাফ দিয়ে গাছে উঠে যায়। আর বলে শোন বন্ধুরা তোমরা বুদ্ধির চর্চায় অনেক দক্ষ বটে তবে উপস্থিত বুদ্ধি ও কম কাজে লাগে না। তবে যাই হোক, এখন তাহলে এগুলো খাওয়া যাক।

এগুলো খাওয়ার পর তারা আবার চলতে শুরু করল। এই জঙ্গলের পথ এখনো শেষ হচ্ছে না। আমারা তো আরও ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি ভাই। কতদিনে যে বসতির মাঝে পৌছাতে পারবো তা কে জানে। তারা হাটতে হাটতে এক গুহার সামনে এসে পৌছে গেল। তারা দেখতে পেল গুহার সামনে একটা ছিন্ন ভিন্ন একটা কঙ্কাল।

তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প এর জন্মকান্ত বলল, দেখো দেখো কতগুলো হারের টুকরো। আমার তো মনে হয় এগুলো কোন জংলি প্রাণীর হার হবে। একজন বললো আমি তো দেখছি তুমি তো সবই জান হে, তাহলে তুমি কি এটা উপস্থিত বুদ্ধি দ্বারা জানলে? না বন্ধু এটা সাধারণ জ্ঞান। এই জঙ্গলের মধ্যে জংলি প্রানীর হার হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি তাই না বন্ধু। তুমি যে কথাটি বলেছো তা যুক্তি সংগত তবে আমার প্রশ্ন হল এটা কোন প্রাণীর হতে পারে। আমরা পথিত বিদ্যা দিয়ে তা জানতে পারি।

তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প এর জন্মকান্ত বলে, আমাত তো মনে হয় এটা বাঘ এর হারের অংশ। একজন বলে আমার তো আবার শিয়াল বলে সন্দেহ হচ্ছে। কিন্তু জন্মকান্ত যে বাঘ এর অংশ বিশেষ বলে দাবি করছে কোন বিদ্যায় তা আমার জানা নেই। জন্মকান্ত বলে, এই বিদ্যার নাম পর্যবেক্ষণ। বেশ বেশ এই প্রমাণ আগামীকাল হবে। তাহলে চল আমরা এই রাতটা বিশ্রাম নিয়ে নেই। তারপর তারা সেই জঙ্গলে রাতটা কাটিয়ে নেয়।

তিন মূর্খ পন্ডিতের কঙ্কাল নিয়ে গবেষনা

তারপর তারা সকালে সেই জায়গায় যায় আবার পর্যবেক্ষণ করা শুরু করে দেয়। এতে ১ম পন্ডিত বলে, এটা আমি আমার বিশেষ বিদ্যা প্রয়োগ করে এই বিক্ষীত বস্তুকে আমি পূর্ণ আকৃতি দান করছি। সে প্রথমে বলে গুরু আপনার শিক্ষা যেন বিফলে না যায়। তারপর সে মন্ত্র পাঠ করা শুরু করে দেয়। হ্যা বন্ধু তুমি পেরেছো।

১ম পন্ডিত বলে দেখ জন্মকান্ত এই হল আসল শিক্ষা যা কখনো বিফলে যায় না। ২য় পন্ডিত বলে, একেবারে সঠিক কথা বন্ধু। তোমার বিদ্যা চর্চা একেবারেই স্বার্থক। ৩য় পন্ডিত বলে, এখনো কিন্তু নিশ্চিত করা যায়নি যে এটা কোন প্রাণী। জন্মকান্ত, ঠিক কথা ঠিক কথা। ২য় পন্ডিত বলে, তুমি কিসের কথা বলছো।

৩য় পন্ডিত বলে, এই কঙ্কালটি কোন প্রাণীর। আমরা কিছুটা আন্দাস করেছি বটে তবে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বন্ধুরা এটা জানা কি খুব জরুরী? ৩য় পন্ডিত, আমরা না জেনে তো নিশ্চিত করে বলতে পারি এটা পশু না হয় অন্য কিছুর কঙ্কাল।

আচ্ছা বেশ বেশ তাহলে আমরা এই ব্যাপারে কিভাবে আমরা নিশ্চিত হব। ৩য় পন্ডিত বলে, সেই দায়িত্ব আমাকে দাও। আমি আমার বিশেষ বিদ্যা দ্বারা এই কঙ্কালের গায়ে মাংস ও চামরা ধরিয়ে দাব। জন্মকান্ত বলে, তাহলে আগামী কাল এটার সত্যতা যাচাই করা হবে কেমন।

তারপর তারা আবার বিশ্রাম নিতে চলে যায়। পরের দিন সকালে আবার তারা সেই জায়গায় চলে আসে। ৩য় পন্ডিত বলে, তুমি মনে হয় উর্ষাকৃত হচ্ছ তা আমি বুঝতে পারছি। না বন্ধু ,না তোমরা আমাকে ভুল বুঝছো। জন্মকান্ত বলে, আর সময় নষ্ট না করে আজকের উদ্দেশ্য সাধন করা যাক।

এই কথা শুনে ৩য় পন্ডিত, মন্ত্র পাঠ করা শুরু করে দিল। মন্ত্র পাঠ শেষ করার পর তারা দেখতে পেল এইটা ছিল বাঘ। জন্মকান্ত বলে, তুমি ঠিকি বুঝতে পেরেছ বীরবাহু তোমার মন্ত্র সাধন আজ স্বার্থক হল। সবাই একসাথে বলে উঠলো তুমি ধন্য বীরবাহু, তুমি ধন্য বীরবাহু। ৩য় পন্ডিত বলে, জন্মকান্ত তুমি এই সব বিদ্যা সাধন করতে পারোনি বলে দুঃখ পেয়োনা। আমাদের সাথে থাকলে তুমি একদিন না একদিন ঠিকি পারবে।

মূর্খ পন্ডিতের অহংকার

তিন মূর্খ পন্ডিতের গল্প এর জন্মকান্ত বলে, আমি আমার বন্ধুদের জন্য গর্বিত সমেশ্বর (৩য় পন্ডিতের নাম)। এবার কি আমরা যাত্রা শুরু করতে পারি বন্ধু? তুমি কি জানো? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যা আমার আয়েত্বে আছে। যার প্রয়োগ কিন্তু এখনো বাকি আছে। জন্মকান্ত বলে, সেটা কিসের বিদ্যা। তখন সে বলে প্রাণ দানের বিদ্যা। শুধু আমিই এই বিদ্যায় সক্ষম হয়েছি। কি বল তুমি, এই শ্রেষ্ঠ বিদ্যা তুমি অর্জন করেছো।

হ্যা। আমি তা করেছি যাতে তোমাদের অবিশ্বাস না হয় সে জন্য আমি এই বাঘের উপর প্রয়োগ করে আমি তা প্রমাণ করব। জন্মকান্ত বলে, অসম্ভ তোমাদের কি মস্তিকের বিকৃতি ঘটেছে বাগের প্রাণ ফেরাতে চাইছো তোমরা। ৩য় পন্ডিত বলে, তোমার আপত্তির কারণ কি? তোমরা যে বিদ্যা অর্জন করেছ তা যেন মানুষের উপকারের জন্য হয়।

একটি প্রাণিকে তার প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া কি জগতের উপকার নয়? হোক না সে পশু বা মানুষ। জন্মকান্ত বলে, প্রাণী গুলো জগতের নিয়মে মারা যায়। প্রকৃতির বিরোধিতা করা কি উচিৎ। যেখানে উপকারের চেয়ে বিপদের সম্ভাবনাই বেশি। এই কর্মে আমি কখনোই তোমাদের সাথে থাকব না। হে মূর্খ কাপুরুষ তুমি এখনে আমাদের সঙ্গ ত্যাগ কর।

জন্মকান্ত বলে, তোমরা আমার বাল্য কালের বন্ধু। তোমাদের কে তো আমি বিপদের মুখে রেখে যেতে পারিনা। তাই আমি নিরাপদ দূরত্বে থাকি। তারপর সেই ৩য় পন্ডিত মন্ত্র পাঠ করা শুরু করে দেয়। আর এদিকে বাঘ তার প্রাণ ফিরে পায়। বাঘ প্রাণ ফিরে পাওয়ার পর হুংকার দেওয়া শুরু করে দেয়। বাঘ কে দেখে ৩য় পন্ডিত বলে, দেখ বন্ধুরা আমি পেরেছি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিদ্যা অর্জন করতে পেরেছি।

এই কথা বলা শেষ হতে না হতেই বাঘ তাদের কে হামলা করে ফেলে এবং তাদের তিন জনকে বাঘ খেয়ে ফেলে। এদিক থেকে জন্মকান্তি কাঁদে আর বলে বন্ধুরা, তোমরা যদি আমার কথা শুনতে তাহলে তোমাদের আজ এই অবস্থা হত না। তাই তো আমি বলি, পুথিগত বিদ্যা জানলে হবে না। উপস্থিত বুদ্ধি থাকার প্রয়োজন আছে।