ঝিনুক কন্যার গল্প । মজার রুপকথার গল্প

0
32
ঝিনুক কন্যার গল্প । মজার রুপকথার গল্প
ঝিনুক কন্যার গল্প । মজার রুপকথার গল্প

আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা। আজ আমি আপনাদের জন্য, মজার একটা রুপকথার গল্প নিয়ে এসেছি। আর সেই গল্পের আজ আমি নাম দিয়েছি, ঝিনুক কন্যার গল্প। আশা করি আমার এই গল্পটি পরে সবার খুব ভাল লাগবে।

ঝিনুক কন্যার গল্প । মজার রুপকথার গল্প

কোন এক নদীতে মৎস্য কুমারী বাস করতো। সে অনেক দিন থেকে অসুস্থতায় ভুগছিল। মৎস্য কুমারী চিন্তা করলো। আমি অনেক দিন থেকে আমার মৎস্য রাজ্যেটা ঘুরতে পারি না। না জানি চারদিকে কি অবস্থা হয়ে আছে। এখন সুস্থ আছি যাই একটু মৎস্য রাজ্যেটা ঘুরে আসি। এই বলে মৎস্য কুমারী নদীর চারদিকে ঘুরতে থাকে। মৎস্য কুমারী তার মৎস্য রাজ্যে ঘুরতে ঘুরতে নদীর উপরে চলে যায়।

কিন্তু মৎস্য কুমারী পানির উপর একটি বাচ্চা মেয়ে কে দেখতে পায়। মৎস্য কুমারী তারাতারি ছোট বাচ্চা মেয়েটার কাছে চলে যায়। সেখানে গিয়ে মৎস্য কুমারী বাচ্চা মেয়েটাকে কোলে তুলে নেয়। তখন মৎস্য কুমারী বলল, এই সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা মেয়েটা কার। আর নদীর মধ্যে কিভাবে আসলো। আর একটু হলেই তো পানিতে ডুবে যেত।

আশেপাশে তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আর এই মানুষের বাচ্চা কে নিয়ে আমি এখন কি করি। পানির মধ্যে থাকলে তো ডুবে মারা যাবে। আমাকে একটা উপায় খুজে বের করতে হবে। এই কথা বলে মৎস্য কুমারী তার যাদুর দ্বারা ছোট বাচ্চা মেয়েটাকে একটা ছোট মাছে পরিনত করলো। আর বলল, এখন সে পানির মধ্যে নিশ্বাস নিতে পারবে।

কিন্তু আমি যদি এখন এই ছোট মাছটিকে পানির মধ্যে ছেরে দেই। তাহলে তো হিংস্র বড় মাছ একে খেয়ে ফেলবে। তখন এর কি হবে। নানা আমাকে অন্য কোন উপায় খুজে বের করতে হবে। তখন মৎস্য কুমারী অন্য একটা উপায় খুজে বের করলো। সে বলল, আমি বরং একটা কাজ করি। আমি এই ছোট মাছটিকে একটা ঝিনুকের মধ্যে বন্দি করে এই নদীর মাঝে ভাসিয়ে দেই।

তাহলে সে সুরক্ষিত থাকবে। আর তখনি বাচ্চাটি তার রুপ ফিরে পাবে যখন কোন সৎ, সত্যবাদি,ন্যায়পরায়ন মানুষ তাকে স্পর্শ করবে। এই বলে মৎস্য কুমারী তার যাদুর দ্বারা একটা বড় ঝিনুক এনে তার মধ্যে মাছটিকে রেখে দিল। তারপর মৎস্য কুমারী ঝিনুকটাকে নদীর মাঝে ভাসিয়ে দেয়। আর মৎস্য কুমারী তার রাজ্যে চলে যায়।

ঝিনুক কন্যার লালন-পালন । রুপকথার গল্প

এদিকে এই ঝিনুক ভাসতে ভাসতে নদীর এক দিক থেকে অন্য দিকে যেতে থাকে। আর নদীর ধারেই ছিল একটা গ্রাম। সেই গ্রামে আচল নামে একজন বিধবা মহিলা বাস করতো। আচলের কোন সন্তান ছিল না। সে প্রতিদিন ঐ নদীতে পানি আনতে যেত। সেদিনও সে নদীতে পানি আনতে গিয়েছিল।আচল যখন তার কলসে পানি ভরছিল।

তখনি একটা ঝিনুক ভাসতে ভাসতে আচলের কাছে চলে আসলো। আচল ঝিনুকটা দেখে অবাক হয়ে গেল। আর বলল, নদীর মাঝে এত বড় ঝিনুক। আর এটা এখানে আসলো কিভাবে। দেখিতো এর ভেতর কি আছে। এই বলে আচল ঝিনুকটা খুলে ফেললো। আর ঝিনুক ছোট মাছটি দেখতে পেল। আচল মাছটিকে দেখে অবাক হয়ে গেল।

সে তখন মাছটিকে কোলে তুলে নিল। কি আশ্চায্য মাছটি সাথে সাথে একটি ছোট বাচ্চায় পরিনত হলো। ছোট বাচ্চাটাকে দেখে আচল ভয় পেয়ে যায়। তখন আচল বলল, একি হল এই মাছটা মানুষের বাচ্চা হল কিভাবে। কি অবাক কান্ড। আর কে এই সুন্দর বাচ্চাটাকে এই ঝিনুকের মধ্যে রেখেছে। মেয়েটা ঝিনুকের মধ্যে ছিল।

তখন আচল চিন্তা করল, তাহলে এটা কি ঝিনুক কন্যা। যাই হোক একে এখানে রেখে যাওয়া আমার ঠিক হবে না। তার থেকে ভাল হবে আমি এই ঝিনুক কন্যা কে আমার সাথে আমার বাড়ি নিয়ে যাই। তারপর আচল ঝিনুক কন্যা কে সাথে নিয়ে বাড়িতে চলে যায়। মামনি এই হল আমার বাড়ি। আর এই ছোট বাড়িটাতে আমি একা থাকি।

আমার এই পৃথিবীতে আপন বলতে আর কেউ নেই। আজ থেকে তুমি আমার মেয়ে হয়ে আমার সাথে থাকবে। আর তোকে পেয়ে আমার জীবনটা আলোকিত হয়ে গেছে। তাই আমি তোর নাম রাখবো আলো। তারপর আচল আলো কে তার নিজের মেয়ের মত বড় করতে থাকে। আচল মাঝে মাঝে তার ঝিনুক কন্যা আলোর দিকে খেয়াল করতো।

ঝিনুক কন্যার অলৌকিক শক্তি । মজার গল্প

দেখতো ঝিনুক কন্যা আলোর মাঝে কিছু অলৌকিক শক্তি রয়েছে। যখন তার মাঝে অশুভ বিপদ আসে। তার কপালের উপর একটা চোখ ভেসে উঠতো। আর ঐ চোখ দিয়ে অনেক আলো বের হতো। এছাড়া আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা দেখতো। যার জন্য আচল ঝিনুক কন্যা আলোকে খুব আগলে রাখতো।

এভাবে দেখতে দেখতে অনেক বছর কেটে গেল। ঝিনুক কন্যা আলো দেখতে দেখতে অনেক বড় হয়ে গেল। ঝিনুক কন্যা আলোর বয়স এখন সাত বছর। একদিন ঝিনুক কন্যা আলো, তার মাকে ডাক দিয়ে বললো। দেখ মা তোমার জন্য আমি কি নিয়ে এসেছি। তখন তার মা, আলোকে বলল কি হয়েছে।

আর এটা তোমার হাতে কি। আর এভাবে চিল্লাইতেছো কেন। আর একি তোমার হাতে ফুলের মালা। তুমি এ ফুলের মালা কোথায় পেলে। তুমি আবার বাহিরে গিয়েছিলে। আমি তোমাকে বার বার বলছি কখনো তুমি বাহিরে যাবে না। তখন ঝিনুক কন্যা আলো বলল, আমি বেশি দূরে যাই নি মা। আর আমি অনেক দিন থেকে বাহিরে যাই না। সে জন্য গিয়েছিলাম মা। আর ঐখানে এই ফুল গুলো পেলাম সে গুলো দিয়ে তোমার জন্য মালা গেথে নিয়ে আসলাম।

আমার ভুল হয়ে গেছে মা আমি আর কখনো বাহিরে যাব না। আলোর কথা শুনে তার মা বলল, হয়েছে আর বলতে হবে না। এখন ঘরে চল। তোকে নিয়ে আমার অনেক ভয় হয় মা। আর কখনো আমাকে না বলে কোথাও যাবে না। কারন আচল ঝিনুক কন্যা আলো কে খুব ভালবাসতো। এভাবে তাদের দুইজনের দিন ভাল ভাবে কেটে গেল।

আজকে মা বাড়িতে নেই। আর তার ফিরতেও অনেক দেরি হবে। তাই আজকে আমি একটু বাহির থেকে ঘুরে আসি। কতদিন হয়ে গেল আমার পাখি গাছপালাদের সাথে দেখা হয় না। যাই একটু তাদের সাথে দেখা করে আসি। এরপর ঝিনুক কন্যা আলো, ঘুরার জন্য বাহিরে বের হলো।আর সে এদিক সেদিক ঘুরোঘুরি করে। ঘুরতে ঘুরতে আলো জঙ্গলের ভিতরে চলে গেল।

ঝিনুক কন্যার বাবার সাথে সাক্ষাৎ । মজার রুপকথার গল্প

আর সে হঠাৎ করে দেখতে পায় একটি সাপ একটি পাখিকে শিকার করতে চায়। সেটি দেখে ঝিনুক কন্যা আলো বলল, দ্বারা তুই আমার পাখি বন্ধুদের মারতে চাস। দ্বারা তোকে দেখাচ্ছি মজা। ঝিনুক কন্যা আলো এ কথা বলে, সাপটার দিকে তাকাতেই তার কপালে তৃতীয় চোখটি বের হয়ে আসলো। আর সে চোখ দিয়ে অনেক আলো বের হতে থাকে।

সেই আলো দেখে সাপটি দ্রুত পালিয়ে যায়। যখন ঝিনুক কন্যা আলো পাখিটার সাথে কথা বলছিল। ঠিক তখনি জঙ্গলের মাঝে চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পায়। কে কোথায় আছো বাঁচাও আমাকে। ডাইনি আমাকে মেরে ফেলবে বাঁচাও আমায়। সে চিৎকার শুনে আলো বলল, ডাইনি লোকটিকে ধরে ফেলছে। লোকটিকে আমায় বাঁচাতেই হবে।

এইভেবে ঝিনুক কন্যা আলো ডাইনির কাছে চলে গেল। আর বলল, দুষ্ট ডাইনি তুই এই নিরীহ মানুষদের অকারনে মারছিস। আজ তোকে আমি উচিত শিক্ষা দেবো। ঝিনুক কন্যা একথা বলতেই তার মাঝে এক অলৌকিক শক্তি চলে আসলো। তখন ঝিনুক কন্যার তৃতীয় চোখটি আবার বের  হয়ে আসলো। আর সেই চোখ দিয়ে প্রচন্ড আলো বের হতে লাগলো।

সেই আলোতে ডাইনি পুরে ছাই হয়ে গেল। তখন ঐ লোকটি ঝিনুক কন্যা আলো কে বলল, মা নিরা তুমি। তুমি এতদিন কোথায় ছিলে মা।লোকটির কথা শুনে ঝিনুক কন্যা আলো বলল, আপনি এসব কি বলছেন। আর আমার নাম হচ্ছে আলো। আর আমি আপনার মেয়ে হব কিভাবে। তখন ঐ লোকটি আলো কে বলল, তুমি আমার হারানো মেয়ে মা। তুমি আমার মেয়ে নিরা।

ঝিনুক কন্যার পরিচয় । রুপকথার গল্প

আর আমি হলাম ভাওয়াল রাজ্যের রাজা প্রতাপ সেন। তোমার কপালের ঐ তৃতীয় চোখটি দেখে। আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি মা নিরা। কারন তুমি অলৌকিক শক্তি প্রাপ্ত। তুমি তোমার ঐ শক্তির দ্বারা অশুভ শক্তিকে নষ্ট করে ফেলতে পারবে। আজ থেকে ছয় বছর আগে আমি তোমাকে নিয়ে নদী পার হতেছিলাম। হঠাৎ এক ঝরে তুমি নদীতে পরে পানিতে ভেসে গেয়েছিলে।

সেদিন থেকে তোমাকে আমি অনেক খুজেছি। কিন্তু তোমাকে পাইনি নিরা। আজ খুজে পেয়েছি আমার সাথে রাজ্যে ফিরে চল মা। লোকটির কথা শুনে ঝিনুক কন্যা আলো বলল, আমি আপনার কথা বিশ্বাস করি না। ঠিক তখনি আলোর মা আলো কে বলল, উনি হয়তো ঠিক বলছে মা। তুমি উনারি মেয়ে। আমি তোমাকে নদীর তীরে ঝিনুকের মাঝে পেয়েছিলাম। তবে তুমি আমার নিজের মেয়ে না আলো।

তখন ঐ লোকটি বলল, তুমি আমার রাজ্যে ফিরে চল মা। তোমার মা তোমার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। আর তোমার যখন মন চাইবে তখন তুমি তোমার এই মায়ের সাথে দেখা করে যাবে। তার কথা শুনে ঝিনুক কন্যা রাজি না হলেও। তখন আচল আলো কে বুঝিয়ে রাজি করায়। আর তখন আলো প্রতাপ সেনের সাথে তার রাজ্যে চলে যায়। আর বাকি জীবন ঝিনুক কন্যা আলো তার আসল বাবা মার সাথে কাটিয়ে দেয়।

বন্ধুরা কেমন লাগলো আজকের মজার রুপকথার গল্প ঝিনুক কন্যার গল্প। কেমন লাগলো আজকের রুপকথার মজার গল্পটি তা কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ