জুতার গাছ

0
34
জুতার গাছ
জুতার গাছ

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালই আছেন। আজকে আপনাদের জন্য একটি অন্য রকম রুপকথার গল্প নিয়ে এসেছি। গল্পটির নাম দিয়েছি আমি জুতার গাছ। আশা করি আপনাদের জুতার গাছ রুপকথার গল্পটি পড়ে খুব ভালো লাগবে। কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক-

অনেক দিন আগে রাজিবপুর গ্রামে একজন বৃদ্ধা বাস করতেন। তার নাম ছিল রজবালা। সে তার নাতনি রত্নার সাথে বাস করতো। রত্নার বাবা মা মারা গেছে যখন রতনের বয়স মাত্র ছয় বছর। রজবালা ভিক্ষা করে তাদের সংসার চালাতো। তারা অনেক গরীব ছিল।গরীব থাকা সত্ত্বেও তারা খুব সুখে দিন যাপন করছিলো।

জুতার গাছ

একদিন রত্না তার দাদিকে বলছিলো। আচ্ছা দাদি আমার মাকে দেখতে বুঝি খুব সুন্দর ছিল। তার দাদি বলে হ্যা।তোর মা দেখতে অনেক সুন্দর ছিল। তুইও তো তোর মায়ের মতই হয়েছিস। তোর বাবাও অনেক ভাল মানুষ ছিল। রত্না বললো,জানো দাদি আমার না বাবা মাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে। তাদের কথা খুব মনে পড়ে। বাবা মা যে কেন আমায় রেখে চলে গেলো? এই বলে রত্না কাঁদতে লাগলো।

তার দাদি তাকে বলে, এভাবে কাঁদতে হয় না, তুই কাঁদলে যে তোর বাবা মা অনেক কষ্ট পাবে। তুই যে তোর বাবা মায়ের অনেক আদরের ছিলি। এখন এভাবে তুই আর কাঁদিস না দিদি ভাই। তুই এভাবে কাদলে কিন্তু আমিও কাঁদবো বলে দিলাম। রত্না তার দাদিকে বললো, থাক আর তোমাকে কাদতে হবে না। এই বয়সে আর ঢং করতে হবে না। দাদি তুমি বুঝি ভিক্ষা করতে যাচ্ছো? তার দাদি তাকে বললো, হ্যা রে দিদি ভাই। অনেক বেলা হয়ে গেছে। সাবধানে থাকিস আর বাড়ি থেকে কোথাও যাস না। রত্না বললো, দাদি এই বয়সে এসে ভিক্ষা করতে তোমার অনেক কষ্ট হয় বুঝি।

তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি যখন বড় হবো, তখন আমি চাকরি করবো। তখন আমি তোমায় আর ভিক্ষা করতে দিবো না। তার দাদি তাকে বললো, অত দিন আমি বেচেই থাকবো না। রত্না তাকে বললো, দাদি তুমি এসব কথা আর কখনো বলবে না। তুমি আমায় ছেড়ে কোথাও যাবে না বুঝলে। এসব কথা বললে কিন্তু আমি অনেক কান্না করবো। দাদি রত্নাকে বলে, আমার ভুল হয়ে গেছে দিদি ভাই। আমি আর এসব কথা বলবো না। এই বলে তার দাদি ভিক্ষা করতে বের হয়ে গেলো।

রত্না একা বাড়িতে রয়ে যায়। এভাবেই সে প্রতিদিন একলা একলা খেলে দিন পার করে দেয়। একদিন খেলতে খেলতে রত্না নদীর ধারে যায়। আর সেখানে এসে যখন  নদী আর গাছ পালার প্রশংসা করছিলো। তখন সে সময় একটা পরী আসে। পরীকে দেখে রত্না ঘাবড়ে যায়। রত্না কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরী রত্নাকে নিয়ে উড়ে চলে যায়।

ডাইনির জুতার গাছ

পরী রত্নাকে নিয়ে চন্দ্রলোকে আসে। রত্না পরীকে বলে, আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছো। আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি। আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আমার দাদির কাছে ফিরে যেতে চাই। পরী রত্নাকে বলে, রত্না তুমি একদম কেদো না। এখানে তোমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

রত্না পরীকে বলে, তুমি আমাকে কেন নিয়ে এসেছো? পরী রত্নাকে কিছু না বলে তাকে বলে এদিকে এসো। তারা দুজনে একটা কক্ষে গেলো। তখন পরী বললো, এই যে বিছানায় যাকে দেখছো সে আমার মা। আমার মাকে একমাত্র তুমিই ঠিক করতে পারবে। তাই আমি তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি। তোমার সাহায্যের যে আমার খুব প্রয়োজন। রত্না পরীকে বললো, আমি তোমার মাকে কি করে বাঁচাবো। কি হয়েছে তোমার মায়ের? পরী বললো, আমি জানি তুমিই আমার মাকে বাচাতে পারবে। এখানে আমার মায়ের শুধু শরীরটা পরে আছে। আমার মায়ের আত্তাকে এক শয়তান ডাইনি আটকে রেখেছে।

তোমাকে আমার মায়ের আত্তাকে ঐ ডাইনির কাছ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। রত্না বলে, আমি এই কাজ করতে পারবো না। আমি একজন সাধারন মানুষ। আমি কি করে ঐ ডাইনির কাছে যাব? আমি কিভাবে পারবো তুমিই বলো? পরী বলে , তুমি পারবে কেননা তোমার ভিতর এক অদ্ভুত শক্তি আছে। চন্দ্র লক্ষিমার এক শুভ সময়ে তোমার জন্ম হয়েছে। তাই তোমার মাঝে এক শুভ শক্তি রয়েছে। আর তুমিই একমাত্র মেয়ে, যে কিনা ঐ ডাইনিকে শেষ করতে পারবে। আর আমার মাকেও আবার আগের মত সুস্থ্য করতে পারবে।

রত্না পরীকে বললো, সেটা তো বুঝলাম কিন্তু ঐ ডাইনি থাকে কোথায়। আর তোমার মায়ের আত্তাকে কোথায় রেখেছে? পরী বললো, ওই ডাইনি থাকে লাল পাহাড়ে আর ডাইনির লাল রঙ খুব পছন্দ। ঐ ডাইনির গুহায় এক অদ্ভুত গাছ রয়েছে। আর ঐ গাছে রয়েছে অনেক রকমের রঙ এর জুতা। ওই গাছের জুতার মধ্যে আমার মায়ের আত্তাকে রেখেছে। ঐ গাছে অনেক জুতা রয়েছে। কিন্তু আমার জানা নেই কোন জুতাতে আমার মায়ের আত্তা রেখেছে। সেটা তোমাকে বুদ্ধি করে বের করে নিতে হবে ।

লাল জুতার গাছ

আর শোন, তুমি শুধু একবারই ঐ গাছ থেকে জুতা নিতে পারবে। তাই তোমায় খুব সাবধানে বুদ্ধি করে জুতাটা নিতে হবে। রত্না পরীকে বললো, তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি আনবো সেই জুতা যা দিয়ে তোমার মা ভালো হবে। কিন্তু ওই ডাইনির সাথে তো আমি পেরে উঠবো না। আমাকে দেখলেই তো সে মেরে ফেলবে। পরী বললো, ভয় পেয়ো না ডাইনি লাল রঙ খুব পছন্দ করে।

তাই তোমায় লাল জামা পড়ে যেতে হবে। আর এই লাল ফলটা তোমাকে ঐ ডাইনিকে খাওয়াতে হবে। এই ফল খাওয়ার সাথে সাথেই ডাইনি মারা যাবে। এই বলে পরী তার জাদুর লাঠির সাহায্যে তার গায়ের জামা লাল করে দিলো। আর তার হাতে ঐ লাল ফল টা দিলো। সাথে পরী রত্নাকে একটা মাদুর দেয় যেটা কিনা তাকে উড়ে ঐ ডাইনির প্রাসাদে নিয়ে যাবে।

মাদুরে করে রত্না লাল পাহাড়ে যায়। এর পর রত্না সাহস করে সেই লাল পাহারের গুহায় প্রবেশ করে। গুহার ভিতর সব কিছু লাল ছিল। এত লাল রঙ দেখে রত্না কিছুটা ঘাবড়ে যায়। ঠিক তখনি সেই ভয়ংকর ডাইনি এসে যায়। যার পরনে ছিল লাল কাপড়। রত্নাকে দেখে ডাইনি বললো, ও মা গো এত দেখি ছোট লাল টুকটুকে পরী। কি সুন্দর লাল জামা। এই কেরে তুই আর এখানে কেন এসেছিস।

রত্না চালাকির সাথে বলে, ও মা গো তোমাকেও তো খুব সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে পরী। তুমি তো দেখতে খুব সুন্দর। এজন্য তো তোমায় আমি দেখতে এলাম গো। ডাইনি বললো, ও মা সত্যিই বুঝি। তুই খুব ভাল রে। রত্না ডাইনিকে আরো বললো, আমি তোমার জন্য এই লাল ফল টি এনেছি তুমি কি খাবে? আমি অনেক কষ্ট করে শুধুই তোমার জন্য এই লাল ফল টি এনেছি। ডাইনি রত্নার কথায় অনেক খুশী হয় আর আনন্দে তার দেয়া লাল ফলটি খেয়ে ফেলে। ফলটি খাওয়ার পর সেই ডাইনি মারা যায়।

অদ্ভুত জুতার গাছ

রত্না সেই অদ্ভুত জুতার গাছ খুঁজতে থাকে সেই গুহার মধ্যে। হঠাৎ রত্না সেই  জুতার গাছ দেখতে পায়। আর দেখেই সে তার কাছে যায়। আর বলে, কি অদ্ভুত জুতার গাছ। কত রঙের জুতা কিন্তু এর মধ্যে কোন জুতার মধ্যে ডাইনি পরীর মায়ের আত্তাকে রেখেছে। তখন তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো। সে ভাবলো, আচ্ছা ডাইনির তো পছন্দের রঙ লাল আর এই গাছে একটি মাত্র লাল জুতা আছে। তাহলে এই লাল জুতাতেই ডাইনি পরীর মায়ের আত্তা রাখতে পারে। এই বলে রত্না গাছ থেকে লাল জুতাটা পেরে নেয়।

আর যখনি সে জুতা গাছ থেকে নিলো তখনি গাছটি সাধারন ফল গাছে পরিনত হয়ে যায়। পরী তাকে বলেছিলো যে সঠিক জুতা নিতে পারলেই জুতার গাছ টি সাধারন গাছে পরিনত হবে। এর পর রত্না জুতা নিয়ে মাদুরে করে পরীর কাছে ফিরে আসে। পরী সেই জুতা দিয়ে তার মায়ের প্রাণ বাঁচায়। আর বলে, তুমি সত্যি খুব ভালো মেয়ে। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। চলো তোমাকে তোমার বাড়ি পৌছে দিয়ে আসি। এই বলে পরী তাকে নিয়ে উড়ে তার বাড়িতে দিয়ে আসে। রত্নাকে দেখে তার দাদি অনেক খুশী হয়। এর পর পরী তাদের অনেক সোনা দানা দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এই সম্পদ দিয়ে তারা অনেক সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।