জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প

0
29
জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প
জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প

জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প টিতে কদম আলী তার বৌ এর অসুস্থতার কারনে নিজের গরু বিক্রি করার জন্য হাটের দিকে রওনা দেয়। অথচ সেই গরুর দিয়ে তাদের সংসার চলত। পথিমধ্যে একজন সন্যাসির সাথে কদম আলীর সাক্ষাত হয়।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আজ আমি আপনাদের নতুন রুপকথার গল্প শুনাতে চলেছি। সেই রুপকথার গল্প টির নাম হল জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প । আশা করছি রুপকথার এই জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প টি আপনাদের খুব ভাল লাগবে। চলুন শুরু করা যাক আজকের জাদুর বালা আর টাকার গাছ গল্প টি।

জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প

অনেক দিন আগের কথা এক গ্রামে বাস করত কদম আলী নামের এক চাষী। কদম আলী খুব গরীব ছিল। তার কাছে ছিল মাত্র একটি গরু। এছাড়া তার কাছে আর কিছুই ছিল না। কদম আলী সেই গরুর দুধ বিক্রি করে তার সংসার চালাতো।

হঠাৎ একদিন কদম আলীর বউ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। কিন্তু কদম আলীর কাছে কোন টাকা ছিল না। সে জন্য কদম আলী সিদ্ধান্ত নিল সে তার গাভিটা বিক্রি করবে। এছাড়া তার আর কোন উপায় নেই। কদম আলী এই ভেবে তার গরুকে নিয়ে বাজারের দিকে রওনা দিল। বাজারের রাস্তাটি ছিল জঙ্গল এর মধ্য দিয়ে।

যেতে যেতে হঠাৎ কদম আলী এক সাধুকে দেখতে পেল। কদম আলী তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল সাধু বাবা আপনি এই জঙ্গলে কি করে এলেন? সাধু বাবা বলে, হে বৎস! আমি অন্য গ্রাম থেকে এসেছি। আমাকে পাশের গ্রামে যেতে হবে। তবে আমি তো রাস্তা ভুলে গেছি। আর আমার খুব খিদা পেয়েছে, কদম আলী বলল বাবা গ্রাম তো এখান থেকে অনেক দূরে।

আর আমি তো আমার গরুকে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছি। তবে সাধু বাবা আপনি যদি চান আমি এখনে গরুর দুধ বের করে আপনাকে খাওয়াতে পারি। যদি আপনাকে আমি দুধ খাওয়াতে পারি তাহলে এটা আমার আর গরুর সৌভাগ্য হবে বাবা। ঠিক আছে বৎস? এই কথা শুনে কদম আলী গরুর দুধ দোহন করে সাধুকে দিয়ে দেয়।

সেই দুধ খেয়ে সাধু বাবার খিদা নিবারন হয়। তখন সাধু জিজ্ঞেস করে, এই গরু তুমি বিক্রি করতে যাচ্ছ কেন বলতো? তখন কদম আলী বলল সাধু বাবা আমার বউয়ের শরীর খুব খারাপ তাই আমি এই গরু বিক্রি করতে যাচ্ছি। আর এই টাকা দিয়ে আমি আমার বউয়ের চিকিৎসা করব।

কদম আলীর এই কথা শুনে সাধু বাবা বললেন, হে বৎস তুমি আর তোমার গরু আমাকে অনেক সাহায্য করেছ। আর তাই এখন তোমার গরু বিক্রি করার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু সাধু বাবা আমি যদি এই গরু বিক্রি না করি। তাহলে আমি আমার বউয়ের চিকিৎসা করাব কি করে।

সাধু বাবার জাদুর বালা

কদম আলীর এই কথা শুনে সাধু বাবা একটা মন্ত্র পরে নিলেন এবং সাথে সাথে একটি বালা সামনে এসে যায়। সাধু বাবা সেই বালা কদম আলীকে দিয়ে বললেন, নাও বৎস এই বালাটা নিজের হাতে পরে নাও। এটা একটা জাদুর বালা আর যখন তোমার টাকার প্রয়োজন হবে তখন তোমার মাথায় জাদুর বালা টি লাগিয়ে নেবে।

তখন তোমার কাছে একটা টাকার গাছ এসে যাবে। সেই গাছ থেকে তুমি নিজে প্রয়োজন মত টাকা পেরে নিও। তারপর সেই গাছ নিজে থেকেই অদৃশ্য হয়ে যাবে। কিন্তু মনে রাখবে তুমি ছাড়া আর কেউ এই জাদুর বালা ব্যবহার করতে পারবে না। আর যদি কেউ এই জাদুর বালা ব্যবহার করে তাহলে সে কোন কথা বলতে পারবে না, আর বিছানা থেকে উঠতে পারবেনা।

কদম আলী সাধু বাবার কথা মন দিয়ে শুনলো। আর সে বলল ঠিক আছে সাধু বাবা আমি তা খেয়াল রাখব। আপনি আমার অনেক বড় সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। এবার আমি আমার বউয়ের চিকিৎসা ভালো করে করাতে পারব। যাও বৎস এবার নিজের বাড়িতে ফিরে যাও।

তারপর কদম আলী তার গরুকে নিয়ে তার বাড়িয়ে ফিরে যায়। তার কাছে গরু দেখে তার বউ তাকে জিজ্ঞেস করে তুমি তো গরু বিক্রি করতে গিয়েছিলে তুমি এত তারাতারি ফিরে এলে যে? কদম আলী বলল এবার আমাদের আর গরু বিক্রি করার কোন প্রয়োজন নেই। রাস্তায় আমার সাথে সাধু বাবার দেখা হয়েছিল। তিনি আমাকে একটা জাদুর বালা দিয়েছে।

কদম আলীর বউ বলল জাদুর বালা? দাঁড়াও আমি তোমাকে দেখাচ্ছি, এই দেখ। তারপর কদম আলী তার সেই জাদুর বালা মাথার সাথে ছোঁয়ায়। তারপর তার সামনে একটা টাকার গাছ চলে আসে। টাকার গাছ দেখে তারা দু-জন খুব খুশি হয়ে যায়। কদম আলী সেই গাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে নেয়। তারপর গাছ অদৃশ্য হয়ে যায়। আর সেই টাকা দিয়ে কদম আলী তার বউ কে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়।

কদম আলীর উপর নজর

এইভাবে কদম আলী প্রতিদিন তার প্রয়োজন মতো জাদুর বালা তার মাথায় ছোয়ায় আর টাকা নিয়ে নেয়। ধীরে ধীরে তার দারিদ্রতা শেষ হয়ে যায়। তারপর থেক সে তার আশেপাশের লোকজনদের সাহায্য করতে থাকল। কদম আলীর কাছে এত টাকা দেখার পর সবাই অবাক হয়ে গেল। আর বলল কদম আলী এত টাকা কোথায় পায়। তারা ভাবতে থাকল।

আর তারা বলল আমাদের কে কদম আলীর উপর নজর রাখতে হবে। তারা দু-জনে কদম আলীর উপর নজর রাখতে শুরু করল। হঠাৎ একদিন হরির নজর কদম আলীর বাড়ির দিকে পরে। তারপর সে কদম আলীর বাড়ির ভিতরে যায়। হরি কদম আলীর জানালা দিয়ে দেখে যে, কদম আলী টাকার গাছ থেকে টাকা পাড়ছে। এটা দেখে হরি অবাক হয়ে যায়।

আর সে ভাবতে লাগল আহ টাকার গাছ। আমি সত্যি কোন স্বপ্ন দেখছি না তো? তাহলে কদম আলীর কাছে এই টাকার গাছ আছে। তাহলে ও এই টাকার গাছের জন্য বড়লোক হয়ে গেছে। তাই তো বলি কদম আলী এত টাকা কোথায় পায়। এই কথা এখনে রামুকে বলে দিতে হবে। হরিস তারাতারি রামুর কাছে চলে যায়।

আর তাকে সব কথা বলে দেয়। এই কথা শুনে রামুর মনে লোভ চলে আসে। রামু হরি কে বলে, শোন হরি আজ রাতে কদম আলী যখন রাতে শুয়ে পড়বে তখন আমরা তার বাড়িয়ে গিয়ে তার গাছের সব টাকা চুরি করে নেব। তুমি ঠিক বলেছ রামু। আজ রাতে তাহলে তুমি রেডি থেক হরি।

রামু আর হরি রাত হওয়ার পর কদম আলীর বাড়ি চলে যায়, গাছের সব টাকা চুরি করার জন্য। কিন্তু ওরা কেউ সেই টাকার গাছ দেখতে পেল না। রামু রেগে গিয়ে হরিকে নিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসে। আর রেগে গিয়ে হরিকে বলে, কদম আলীর বাড়িয়ে টাকার গাছ নেই তুমি আমাকে বোকা বানিয়েছ। না বন্ধু আমি মিথ্যা বলছি না, আমি নিজের চোখে দেখেছি সেই টাকার গাছ। আর আমি তোমাকে বোকা বানাতে যাব কেন বলো।

হরির জাদুর বালা চুরি

আমি সত্যি কদম আলীকে টাকার গাছ থেকে টাকা পাড়তে দেখেছি। রামু হরির কথা বিশ্বাস না করে ওখান থেকে চলে যায়। কিন্তু হরি সেই টাকার গাছ কে ভুলতে পারে না। আমি তো কদম আলীর বাড়িতে টাকার গাছ দেখেছিলাম। কিন্তু সেই টাকার গাছ গেল কোথায়। এই কথা গুলো ভাবতে ভাবতে হরি সেখান থেকে চলে যায়।

কিন্তু পরের দিন সকালে সে কদম আলীর বাড়ির দিকে চলে আসে। আর তার বাড়ির আশে পাশে উকি মারতে থাকে। আজ আমি সেই টাকার গাছ এর রহস্য না জেনে এখান থেকে যাব না। আর তাই হরি কদম আলীর বাড়ির বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিদিনের মতো কদম আলী তার হাতের জাদুর বালা তার মাথায় লাগায়।

তখন কদম আলীর সামনে টাকার গাছ চলে আসে। তারপর কদম আলী তার প্রয়োজন মত টাকা নিয়ে নিল। তারপর সেখান থেকে সেই টাকার গাছ আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। এই সব দেখে হরি সবকিছু বুঝতে পারে আর বলে এই ব্যাপার। আমি আজ রাতে ওই বালা কদম আলীর কাছ থেকে চুরি করে নেব। তারপর ওই টাকার গাছ থেকে টাকা নিয়ে আমি অনেক বড়লোক হয়ে যাব। হা-হা-হা ।

এই বলে হরি সেখান থেকে চলে যায়। তারপর রাতে হরি, কদম আলীর বাড়িতে জালানা দিয়ে ডুকে যায়। আর বালা খুজতে থাকে। তারপর দেখতে পেল কদম আলী খুব আরামে ঘুমাচ্ছে। হরি কোন রকমে সেই জাদুর বালা বের করে নেয়। আর সেখান থেকে চলে যায়। তারপর হরি তার নিজের বাড়িতে চলে আসে। হরি বলে এবার আমিও বড়লোক হয়ে যাব। এখন থেকে আমার কাছে অনেক টাকা থাকবে।

আর আমার কোন অভাব থাকবে না। এবার আমি এখনে টাকার গাছকে ডেকে নিচ্ছি। এই কথা বলে যখন হবি সেই জাদুর বালা পরে আর মাথায় আঘাত করতে গেলে হরি জোরে একটা ঝকটা খায়। আর সে মাটিতে পরে যায়। হরি অনেক চেষ্টা করার পরও সে উঠতে পারে না আর সে কোন কথা বলতে পারে না। এভাবে কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর সে চেষ্টা করা থামিয়ে দেয়।

অন্যের টাকায় লোভ করতে নেই

যখন কদম আলী হরির ব্যাপারে জানতে পারে তখন সে তার বাড়িতে যায়। আর হরিকে বলে, শোন হরি এই বালা শুধু আমার হাতে কাজ করবে আর কারো হাতে না। কারণ সাধু বাবা আমকে এই জাদুর বালা দিয়েছিলেন আর বলেছিলেন এই বালা তোমার হাত ছাড়া আর কারো হাতে কাজ করবে না।

আর যে, এই বালা দিয়ে চেষ্টা করবে তাহলে সে বিছানা থেকে উঠতে পাড়বে না আর কোন কথা বলতে পাড়বে না। এই কথা বলে কদম আলী হরির কাছ থেকে তার বালা নিয়ে নেয়। আর সেখান থেকে চলে যায়। তাহলে বন্ধুরা আজকের জাদুর বালা আর টাকার গাছের গল্প থেকে জানলাম অন্যের ধন দেখে লোভ করা ঠিক নয় তাতে বিপদ হয়।