জাদুর দুই গোলাপি নদীর গল্প

0
33
জাদুর দুই গোলাপি নদীর গল্প
জাদুর দুই গোলাপি নদীর গল্প

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজকে আমি  আপনাদের যে রুপকথার গল্প টি বলবো তা হলো জাদুর দুই গোলাপি নদীর গল্প। কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক আজকের রুপকথার গল্প জাদুর দুই গোলাপি নদীর গল্প ।

গোলাপি নদীর গল্প

অনেক দিন আগে হাসানপুর নামের একটি গ্রাম ছিল। ঐ গ্রামের দুই দিকে দুটি নদী বয়ে গেছে। আর হাসানপুর গ্রামটি ঐ দুই নদীর মাঝ খানে ছিল। ঐ গ্রামে পুতুল ও রিয়া নামের দুই জন মেয়ে ছিল। ওরা দুজন খুব ভালো বন্ধু ছিল। দিনের প্রায় সব সময় ওরা একই সাথে ছিল।

পুতুল খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। সে বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করত। আর অন্য দিকে রিয়া ছিল বদ মেজাজের। সে গ্রামের লোকের সাথে ঝগড়া বিবাদ করত। ওরা দুজনে নদীর ধারে ঘুরতে যেত। সেখানে তারা বসে নানা রকম গল্প করত, হাসি তামাশা করত।

একদিন রিয়া পুতুলের বাসায় আসলো আর পুতুলকে নিয়ে ঘুরতে যেতে বের হলো। তারা দুজনে নদীর ধারে গেলো যেমনটা ওরা প্রতিনিয়ত করে। কিন্তু রিয়া তাকে বললো, শোন না আমরা তো প্রতিদিন নদীর এই পাড়েই সময় কাটাই।

আজকে আমরা নদীর ঐ পাড়ে যাবো যেখানে জঙ্গল আছে। পুতুল বললো, তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? জানিস না আমদের ঐ পাড়ে যাওয়া মানা। আর আমার মা আমাকে নদীর ওই পাড়ে যেতে নিষধ করেছে। আমি তো কখনোই ঐ পাড়ে যাব না।

রিয়া বললো, আরে তোর মা তোকে ভয় দেখানোর জন্য ঐ কথা গুলো বলেছে। আসলে ঐ পাড়ে তেমন কিছু নেই। আমি তো শুনেছি ঐ জঙ্গলটা খুব সুন্দর। পুতুল বললো, ঠিক আছে তাহলে আমরা জঙ্গলের বাহির থেকে ঘুরে ফিরে আসবো। জঙ্গলের ভিতরে ঢুকবো না। এই বলে তারা দুজনে জঙ্গলের দিকে নদীর ঐ পাড়ে যেতে শুরু করলো।

নদীর ওপারে যেতেই তারা দেখতে পেলো সুন্দর একটা জঙ্গল। জঙ্গলে সুন্দর সুন্দর গাছ ছিল। এত সুন্দর গাছ দেখে পুতুল আর রিয়া খুব খুশি হয়ে গেলো। তখন পুতুল রিয়াকে বললো তুই সত্যি কথায় বলেছিস এই জঙ্গল টা খুব সুন্দর। আজকে যদি আমি এখানে না আসতাম তাহলে এত সুন্দর গাছ আমার দেখাই হত না।

রিয়া বললো, দেখলি তো, আমি বলেছিলাম না। চল একটু ভিতরে গিয়ে দেখি। ভেতরটা মনে হয় আরো সুন্দর হবে। হ্যা হ্যা চল আমারও তাই মনে হয় পুতুল বললো।

জাদুর দুই গোলাপি নদীর গল্প জঙ্গলের পেত্নি

এই বলে দুজনে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে পড়লো। ভিতরে গিয়ে দেখতো আরো সুন্দর গাছ। ওরা ঘুরতে লাগলো। ঘুরতে ঘুরতে ওরা একটি গাছের নিচে বসে পড়ল একটু বিশ্রাম নিতে। গোলাপি নদীর গল্প। হঠাত তখন ওদের সামনে একটি পেত্নি এসে দাড়াল। ওরা খুব ভয় পেয়ে গেলো আর কান্না করতে থাকলো।

তারা ভয়ে দুজনে দৌড় দিলো পালানোর জন্য। পেত্নিও ওদের পিছু পিছু দৌড় দিলো। আর পেত্নি বলতে থাকলো, তোমরা আমাকে দেখে ভয় পেয়ো না আমাকে সাহায্য করো। আমি তোমাদের কিছু করবো না। তোমরা ফিরে এসো। ঐ পেত্নি ওদের কাছ থেকে অনেক্ষণ ধরে সাহায্য এর জন্য বলছিলো।

সাহায্যের কথা শুনে ওরা থেমে গেলো আর পেত্নির দিকে চলে আসলো। তখন পেত্নি বললো, তোমরা ভয় পেয়ো না আমার তোমাদের সাহায্য চাই। পুতুল বললো, ঠিক আছে আমরা আপনাকে সাহায্য করবো কিন্তু কথা দিতে হবে যে আপনি আমাদের কোন ক্ষতি করবেন না।

পেত্নি বললো, ঠিক আছে আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করবো না।কিন্তু আমার পিঠে কেউ তীর মেরেছে আমার খুব ব্যথা হচ্ছে। তোমরা ঐ তীর টা বের করে দাও। পেত্নির কথা শুনে পুতুল ওর পিছনে গেলো আর দেখলো আসলে ওর পিঠে কেউ তীর মেরেছে। আর সেখান থেকে রক্ত পড়ছিল। এই দেখে পুতুলের খুব খারাপ লাগলো।

তখন পুতুল পেত্নির পিঠ থেকে তীর বের করে দিলো। আর পেত্নি তখন বললো, তোমরা খুব ভালো। তোমরা আমার জীবন বাচালে। রিয়া পেত্নিকে বললো, আপনি তো পেত্নি। আপনি পেত্নি হয়েও আমাদের কিছু বললেন না। আপনি কি এই জঙ্গলেই থাকেন? পেত্নি উত্তর দেয়, আসলে আমি পেত্নি না আমি পরীলোকের রাজকুমারী।

কিছু দিন আগে আমি এই জঙ্গলে ঘুরতে এসেছিলাম। তখন এক ডায়নী জাদুকরণী এখানে থাকত। ওড়ার সময় আমার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। তাই আমি তার গায়ের উপর গিয়ে পরি আর এতে তার ধ্যান নষ্ট হয়ে যায়। সেজন্য উনি রেগে গিয়ে আমাকে পেত্নি বানিয়ে দেন। তখন থেকে আমি এখানেই আছি। পুতুল বললো, কিন্তু রাজকুমারী আপনি কি আর কখনই পরী হতে পারবেন না। পেত্নি বললো, হ্যা পারবো।

জাদুর দুই গোলাপি নদী

জাদুকরণী বলেছে যে যদি আমি এমন একজন মানুষকে নিয়ে যাই যার মনে কোন লোভ নেই সে আমাকে আবার পরী বানাতে পারবে। তোমরা কি আমাকে সাহায্য করবে? রিয়া বলে উঠলো, না না আমরা কাউকে সাহায্য করতে পারবো না। আমরা এখানে ঘুরতে এসেছিলাম এখন আমাদের বাড়ি ফিরে যেতে হবে।

পুতুল রিয়াকে বলে, আরে তুই এসব কি বলছিস? আমাদের সব সময় বিপদে পড়া লোকদের সাহায্য করতে হবে। এই বলে পেত্নিকে বললো, আমরা আপনাকে সাহায্য করবো। আপনি আমাদের ঐ জাদুকরণীর কাছে নিয়ে চলুন। উনি যা বলবে আমরা তাই করবো। রিয়া আর পুতুলকে বারণ করতে পারলো না। আর ওরা দুজনে পেত্নির সাথে ওই জাদুকরণীর কাছে গেলো।

জাদুকরণী ওই জঙ্গলেই থাকতো। যখন সে এদের তিন জন কে দেখলো তখন বললো, আচ্ছা এই দুইজন তোমাকে সাহায্য করতে এসেছে? এটা তো খুব ভাল কথা। এরা দুইজন কি রাজি হয়ে গেছে তোমার মত পেত্নির সাথে আসতে? গোলাপি নদীর গল্প।

তখন পুতুল বললো, জাদুকরণী আমরা এই রাজকুমারীকে আবার পরী বানাতে চাই। তাই তাকে সাহায্য করার জন্য আমরা এখানে এসেছি। আমাদের কি করতে হবে বলুন? জাদুকরণী বললো, তোমরা যেহেতু এসেই পরেছো, তখন আমি তোমাদের একতা পরীক্ষা নেবো।

সেটা হলো আমি দেখবো তোমাদের কারো মনে কোন লোভ আছে কিনা। যদি তোমাদের মনে কোন লোভ না থাকে তাহলে ও আবার পরী হয়ে যাবে। পুতুল বলে, এর জন্য আমাদের এখন কি করতে হবে। উত্তরে জাদুকরণী বললো, তোমরা দুই জন গ্রামের ঐ দিকে যাও।

সেখানে দুইটা নদী আছে। সেখানে তোমরা অপেক্ষা করবে যতক্ষণ না নদীর পানির রঙ গোলাপি না হয়ে যায়। ওর মধ্যে একটা নদীতে তোমাদের নামতে হবে। তার পর পেত্নি আবার পরী হয়ে যাবে। পুতুল জিজ্ঞেস করলো, কিন্তু আমরা কি করে জানবো কোন নদীতে ডুব দিলে পরী আবার ঠিক হয়ে যাবে।

সোনা ও লোহার দুই নদী

সেটা আমি তোমাকে বলবো দাঁড়াও, ওখানে বা দিকে যে গোলাপি নদী আছে ঐ নদীর নিচে অনেক সোনা আর হীরে রাখা আছে। যদি তুমি ঐ নদীতে যাও তাহলে ওগুলো তোমার হয়ে যাবে সব গুলো। আর তুমি যদি ডান দিকের নদীতে যাও তাহলে সেখানে তুমি একটা লোহার মুদ্রা দেখতে পাবে। সেটা দিয়েই তুমি আবার পরীকে আগের মত করতে পারবে।

তোমরাই বলো কে কোন নদীতে নামবে। রিয়া বললো, আমি কাউকে বাচাতে চাই না। আমি শুধু সোনা আর হীরে চাই। আর পুতুল বললো, আমার কিছু চাই না আমি শুধু পরীকে বাচাতে চাই। এই বলে তারা নদীতে গেলো। আর যখন পানি গোলাপি হয়ে গেলো তখন তারা দুই জনে দুই নদীতে নামলো। রিয়া যখনি ডুব দিলো সে পানির নিচে কিছুই পেলো না। সে নিরাশ হয়ে উপরে উঠে এলো। গোলাপি নদীর গল্প।

কিন্তু যখন পুতুল  অন্য নদীতে ডুব দিলো তখন সে নদীর নিচে লোহার মুদ্রা পেল। ও ঐ লোহার মুদ্রার সাহায্যে পেত্নিকে পরী বানিয়ে দিলো। সে জন্য পরী খুব খুশি হলো। পরী তার জাদুর লাঠি ঘোড়ালো তখনি সেখানে অনেক সোনা আর মণি মুক্তা চলে আসলো।

এসব কিছু সে পুতুলকে দিলো আর বললো, তোমার সাহায্যে আবার আমি পরী হতে পারলাম এজন্য তুমি এসব নিয়ে যাও। এগুলো আমার পক্ষ থেকে তোমার পুরস্কার। আর রিয়া তুমি সাহায্য করার চাইতে নিজের লাভটা বেশি চিন্তা করেছো। সে জন্য তুমি আজকে থেকে আরও গরীব হয়ে যাবে। এই বলে পরী সেখান থেকে চলে গেলো।

তারা দুজনে বাড়ি ফিরলো। কিন্তু রিয়া বাড়ী ফিরে দেখলো যে তার ঘর নেই উধাও হয়ে গেছে।। আর ওদের থাকার জায়গা নেই। আর রিয়ার লোভি স্বভাবের জন্য পুতুল ওর সাথে বন্ধুত্ব ছেড়ে দিয়েছে। তার পর পরীর সোনা আর হীরের সাহায্যে পুতুল অনেক বড় লোক হয়ে গেলো। আর গ্রামের লোকেদের সাহায্য করতে লাগলো।

তো বন্ধুরা আজকের রুপকথার জাদুর দুই গোলাপি নদীর গল্প থেকে আমরা এটাই শিখতে পারলাম, যে নিজের লাভের চিন্তা করে সে কখনোই জীবনে উন্নতি করতে পারে না।