জাদুর কেক এর ঘর

0
33
জাদুর কেক এর ঘর
জাদুর কেক এর ঘর

আচ্ছালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা। সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালই আছেন। আজকে আমি আপনাদের একটি রুপকথার গল্প বলবো। আর যে গল্পটি বললো সেটির নাম হলো জাদুর কেক এর ঘর। আশা করি এই রুপকথার গল্পটি পড়লে আপনাদের খুব ভালো লাগবে। তো চলুন বন্ধুরা আজকের গল্পটি শুরু করা যাক-

এক সময় এক গ্রামের নাম ছিল হরিপুর। সেখানে মিম নামের একটি মেয়ে বাস করত। মিম তার বাবা মায়ের সাথে বাস করত। মিমের মা খুব ভালো কেক বানাতে পারতো। হরিপুর গ্রামে মিমদের একটা বেকারি ছিল। সেখানে মিমের মা জন্ম দিনের কেক তৈরী করে বিক্রি করতো। সেই গ্রামে মিমদের বেকারির কেকের খুব নাম ডাক ছিল। মিমদের বানানো কেক সবাই খুব পছন্দ করতো। মিম তার মায়ের কাজে সাহায্য করতো। যার ফলে মিম ও খুব ভাল কেক বানাতে পারতো।

এক দিন রুপা নামের একটি পরী তার দুই বান্ধুবিকে নিয়ে পৃথিবী লোকে ঘুরতে আসলো। রুপার এক বান্ধুবি বললো, আমি এই প্রথম বার পৃথিবী লোকে ঘুরতে আসলাম। এই গ্রামটি তো খুব সুন্দর। রুপা বললো, ঠিক বলেছো। এই গ্রামটি আমাদের পরীলোকের মতই শান্ত। খুব নিরিবিলি পরিবেশ এই গ্রামটার। আর এখানকার লোক জন ও খুব ভালো। রুপা পরীর আরেক বান্ধুবি বললো, আমারো এই গ্রামটা খুব ভাল লেগেছে। কিন্তু আমার এখন খাবার দরকার কারন আমার খুব খিদে পেয়েছে।

আর এখন যদি আমি কিছু না খাই তাহলে আমি উড়ে যেতে পারবো না। ঠিক তখনি তারা মিম দের বেকারি দেখতে পেল। কেক এর দোকানে তখন মিম ছিল। দোকান দেখে রুপা পরীর বান্ধুবি বললো, ঐ দেখো আমাদের সামনে একটি কেক এর দোকান। ওই দোকানে কত ভাল ভাল কেক রাখা আছে। চল ওখানে গিয়ে আমরা কেক খাই। তখন রুপা বলে, কিন্তু আমাদের কাছে তো পৃথিবী লোকের টাকা নেই। আমরা একটা কাজ করতে পারি, আমরা কেক খেয়ে দোকানিকে সোনার মুদ্রা দিয়ে দেবো।

এর পর এই চিন্তা করে তিন জন পরী মিমদের কেক এর দোকানে গেল। আর দোকানে গিয়ে মিমকে বললো, তুমি কি আমাদের খাবার জন্য কেক দিবে? মিম বললো, হ্যা আপনাদের যে কেক টা পছন্দ হয় সেই কেক টাই নিতে পারেন। এই কথা শুনে রুপা মিমকে একটা চকলেট এর কেক দিতে বললো। মিম তাদের কথা মত চকলেট কেকটা এনে দিলো। আর দেখতে দেখতে তারা তিনজনে মিলে সেই চকলেট কেকটা খেয়ে ফেললো। কেক খাওয়া শেষে, রুপা পরী মিমকে বললো, আমরা এরকম ভাল আর সুস্বাদু কেক এর আগে কখনো খাই নি। এই নাও তুমি এটা রাখো। এই বলে রুপা পরী মিমকে একটা সর্ণের মুদ্রা দিলো।

সেই সর্ণের মুদ্রা দেখে মিম রুপা পরীকে বললো, এটা তো সোনার মুদ্রা। এটার তো দাম অনেক। এটা আপনি আমায় কেন দিচ্ছেন? আমার তো এটা চাই না। তখন রুপা পরী বলে, আমরা পরী লোক থেকে এসেছি তাই আমাদের কাছে পৃথিবী লোকের কোন টাকা পয়সা নেই। তুমি এই সোনার মুদ্রা টা তোমার কাছে রেখে দাও। মিম পরীকে বললো, আমি এটা আপনার কাছ থেকে নিতে পারবো না। কারন আমার মা আমাকে শিখিয়েছে কেউ যদি কোন বিপদে পরে তাহলে তার সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে টাকা না নিতে। এই বলে মিম সোনার মুদ্রাটা রুপা পরীকে ফেরত দিলো।

মিমের এই ব্যবহার দেখে রুপা পরী খুবই খুশি হয়ে গেলো। আর মিমকে বললো, তুমি সোনার মুদ্রা দেখেও লোভ করলে না। আসলে তুমি যতটা সুন্দর তোমার দোকানের কেক ও ততটা সুন্দর। রুপা পরী বললো, আর সামনের মাসে পরীলোকে পরী রাণীর জন্ম দিন আছে। তুমি একটা ভালো কেক  তৈরী করে রেখো। পরী রাণী তোমার তৈরী করা কেক খেলে খুব খুশি হয়ে যাবে।

এই বলে পরীরা সেখান থেকে চলে গেল। মিমদের কেক এর দোকান ভাল মত চলতে লাগলো। মিম কেক বানানোর পাশাপাশি সে লেখাপড়ায় ও খুব ভাল ছিল। কিছু দিন পর মিমের স্কুলের পরিক্ষার রেজাল্ট বের হল। আর সেই পরিক্ষায় মিম প্রথম স্থান অর্জন করে। মিমদের বাড়ির পাশের বাড়িতে রুনা নামের একটি মেয়ে থাকত। মিম আর রুনা একসাথেই পড়াশুনা করত। তাদের স্কুল ও এক ছিল। মিম পড়াশুনায় ভালো করাতে রুনা তাকে হিংসা করত।

যে পরিক্ষায় মিম প্রথম হলো সেই পরিক্ষায় রুনা ফেল করে গেলো। রুনা যখন তার মায়ের কাছে গেলো তার মা তাকে বললো, লজ্জা করে না তোর? এটা কি রেজাল্ট? সারাদিন তো ঘুরে বেড়াস। মিমকে দেখে কিছু শেখ। সে তোদের ক্লাসে প্রথম হয়েছে। অথচ সে সারাদিন কাজ করে। ওকে দেখে তো অন্তত কিছু শিখতে পারিস। আমাদের সব আত্বীয় এখন ফোন করে জানতে চাইবে যে তোমার রেজাল্ট কি? আমি তাদের তাদের কি জবাব দেবো? তোর বাবা এসে যে কি করবে তোকে আমি তা জানি না। রুনা বলে, আমি তো পড়াশুনা করি কই সারাদিন বেড়াই। এই কথা শুনে রুনার মা বলে, কাকে তুই বোকা বানাচ্ছিস? আজকে থেকে তোর সব খরছ বন্ধ। আজকে থেকে আমি তোকে আর একটি টাকাও দেবো না। মিমের মত পরিশ্রম করে টাকা কামিয়ে খরছ করিস তখন বুঝবি। এসব কথা শুনে রুনা মন খারাপ করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

নিজের ঘরে গিয়ে রেগে একা একা বলে, এই বদমাস মিমের জন্য আমাকে সব সময় কথা শুনতে হয়। আমি ওকে ছাড়বো না। যে করেই হোক আমি ওর অবস্থা খারাপ করে দিবো। এর পর থেকে রুনা সব সময় নজর রাখতে শুরু করলো। মিম কোথায় যায়, কি করে, কখন দোকানে থাকে কখন থাকে না এ সব কিছু সে লক্ষ্য রাখতো। একদিন মিম তার পরিবারের সাথে কোন এক জায়গায় ঘুরতে বের হল। এই খবরটা রুনা জানতে পারলো। সে বুঝতে পারলো এখন মিমদের বাড়িতে কেউ নেই। আর ওইদিন রাতে রুনা মিমদের বাড়িতে যায়। আর সেখানে গিয়ে রুনাদের বাড়িতে সে আগুন লাগিয়ে দেয়। আর সেখান থেকে দ্রুত বাসায় চলে আসে রুনা।

পরের দিন মিম বাসায় আসে। এসে দেখে তাদের বাড়িঘর পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। এই দেখে সে কাদতে থাকে। আর বলে, হায় এসব কি হয়ে গেলো। এখন আমরা কোথায় থাকবো? আমাদের থাকার তো অন্য কোন জায়গাও নেই। কি করব আমরা এখন? মিম তাদের বাড়ির সামনে বসে কাদতে লাগলো।

এসময় রুপা পরী পরী রাণীর জন্মদিনের কেক নিতে মিমদের কেক এর দোকানের সামনে গেল। সামনে গিয়ে দেখে কেকের দোকান বন্ধ আছে। তখন রুপা পরী মিম কে খুজতে খুজতে এসে ওর বাড়ির সামনে দেখা পায়। রুপা পরী দেখে যে মিম বসে কাদছে। তখন রুপা পরী মিমকে বলে, কি হয়েছে তোমার এভাবে কাদছো কেন? আর দেখলাম তোমার দোকান ও বন্ধ। কি হয়েছে আমাকে বলো? তখন মিম রুপা পরীকে সব কথা খুলে বললো।

এসব শুনে রুপা পরী বললো, মিম তুমি খুব ভালো মেয়ে। তুমি কোন চিন্তা করো না, আমি তোমাকে সাহায্য করবো। এই বলে রুপা পরী তার নিজের জাদুর লাঠি বের করলো আর জাদুর সাহায্যে একটি ছোট জন্ম দিনের কেক মিমের হাতে দিলো আর বললো, তুই এই কেক টা তোমাদের বাড়ি যেখানে ছিল সেখানে রেখে দাও আর  তার পর দেখো কি হয়? আর তোমার যখন আমাকে দরকার হবে তখন তুমি আমাকে ডাকবে। আর আমি সেই ডাক শুনে সাথে সাথে চলে আসবো তোমাকে সাহায্য করার জন্য। মিম বলে, ধন্যবাদ পরী। আমি তোমার উপকার কখনো ভুলবো না। আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন।

এই সব বলে পরী সেখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। রুপা পরীর দেয়া কেকটা মিম তাদের বাড়ির জায়গায় রেখে দিলো আর অপেক্ষা করতে লাগলো। রাতে খুব জোরে বৃষ্টি আসলো। আর এজন্য মিম ও তার বাবা মা তাদের দোকানে গিয়ে আশ্রয় নিলো। পরের দিন সকালে উঠে মিম তাদের বাড়ির দিকে রওনা দেয়। যখন সে বাড়ির কাছে পৌছে গেলো তখন তার চোখকে সে আর বিশ্বাস করতে পারছিলো না। কারন সে দেখলো কালকের কেক এর জায়গায় আজকে বিশাল একটি কেক এর বাড়ি হয়ে আছে।

মিম কেক এর বাড়ি দেখে বলে, আরে! এ তো কেক এর বাড়ি। আমি এর ভিতরে গিয়ে দেখি তো কি আছে। এই বলে মিম কেক এর বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। ভেতরে ঢুকে সে দেখলো, কেকের ভিতরে সব কিছু চকলেট দিয়ে তৈরী। আর ঘরের ভিতর একটা ছোট গাছ ছিল। সেখানে অনেক জন্মদিনের কেক ঝুলে আছে। মিম সেখান থেকে কেক গুলো দোকানে নিয়ে যায় আর দোকানে বিক্রি করতে থাকে। আর কিছু দিনের মধ্যে মিমদের অবস্থা আগের থেকে আরো ভাল হয়ে গেল।

এসব দেখে তার ক্লাসমেট রুনা আরো জলতে লাগলো। আর সে মনে মনে ভাবলো, পরী মিমকে জাদুর ঘর দিয়েছে। আর তার সাহায্যে ও আবার বড় লোক হয়ে গেছে। আমি এই ঘরকেও আবার আগুন দিয়ে জালিয়ে দেবো দেখব তখন মিম আবার কি করে।

এই ভেবে রুনা সেই রাতে জাদুর কেক এর ঘরে আগুন লাগাতে গেলো। যখন সে ঘরের কাছাকাছি গেলো তখনই জাদুর কেক এর ঘর থেকে আগুন বের হয়ে রুনার গায়ে লাগলো। আর বললো, আরে বাপরে এই জাদুর ঘর তো আমাকে মেরেই ফেলবে। আমি এখান থেকে পালিয়ে যাই। এই বলে রুনা দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। এর পর রুনাও ভালো মেয়েতে পরিনত হলো। আর ওদিকে মিম ও তার পরিবার  সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে থাকলো।