জমজ তিন ভাই-মজার গল্প

0
37
জমজ তিন ভাই-মজার গল্প
জমজ তিন ভাই-মজার গল্প

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছো। আশা করি, মহান আল্লাহ তা-আলার রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে জমজ তিন ভাই মজার গল্প টি সম্পর্কে বলবো। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জমজ তিন ভাই মজার গল্প টি শুরু করি।

জমজ তিন ভাই-মজার গল্প

পলাশপুর গ্রামে মল্লিকা নামে এক মহিলা বাস করত, তার জমজ তিন ছেলেকে নিয়ে। আজ থেকে দশ বছর আগে, মল্লিকার স্বামী সুকান্ত বাবু একটা দূর্ঘটনায় মারা যায়। তারপর থেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। তার ছেলেদের কে লালন-পালন করে মল্লিকা।

মল্লিকার জমজ তিন ছেলে শান্ত, স্বজল ও আর এক ছেলের নাম ছিল সাজিত। জমজ তিন ভাই এর মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তারা তাদের মা কে খুব বেশি ভালোবাসত। একদিন ঘুম ভাঙ্গার পর সাজিত রান্না ঘরে চলে যায়। সাজিত বলে, মা তারাতারি খেতে দাও আমার খুব খিদে পেয়েছে। তুমি একটু অপেক্ষা করো বাবা রান্না প্রায় শেষ।

না মা আমি আর একটুও অপেক্ষা করতে পারব না। আজ খুব খিদা পেয়েছে। যা আছে তাই আমাকে খেতে দাও তো, না দিলে আমি মাথা ঘুরে পড়ে যাব। সাজিত খুব খিদে কাতুরে ছিল। সে খিদে সজ্জ করতে পাড়তে না। ছোট বেলা থেকে সে এরকম। তাই সাজেদা বাশি ভাত খেতে দেয়।

যখন সাজিত কে এই খাবার খেতে দেয়। তখন সে বলে মা আমি এই খাবার খাব না। এ ভাত তো নষ্ট হয়ে গেছে আমি খাব না। আমাকে অন্য কিছু খেতে দাও। তোমাকে খেতে হবে না তুই হা কর আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি। শুধু চিবিয়ে গিলে ফেলবি। এটা ইচ্ছা করছে না ওটা ইচ্ছা করছে এরকম করলে হয় না সাজিদ। ঘরে যা থাকবে তাই খেয়ে দিন কাটাতে হবে। আমি হলাম তোর গরিব মা।

তাই আমি এর চেয়ে ভালো খাবার এনে দিতে পারব না। সাজিত তার মায়ের কথা শুনে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে  থাকে। সাজিত বলে, মা আমি এই ভাত খেয়ে নিতে পারব। আমার হাত দিয়ে খেতে ইচ্ছা করছে না। তাই এই কথা বলেছি মা। সাজিতের কথা শুনে মল্লিকা হাসতে লাগল। সাজিত খাবার মুখে দিতে সেই সময় স্বজল আর শান্ত চলে আসে। দেখ ভাই দেখ মা সাজিতকে খাইয়ে দিচ্ছে। হ্যা তাই তো দেখছি চল সাজিতের খাবারে আমরাও ভাগ বসাই। শান্ত ও সজল ওরা দু-জনে ওর মায়ের কাছে যায়।

জমজ তিন ভাইয়ের মায়ের প্রতি ভালবাসা

তারপর তারাও তার মায়ের সাথে খেতে শুরু করে। সাজিদ তার মাকে বলে, মা ওদের কে অল্প অল্প করে দাও। খিদে তো আমার পেয়েছে।মা তোমার হাতের যে কোন খাবার খেতে। আমার বেশি মজা লাগে আমাকে বেশি দাও। শুধু তুই খাবি কেন? আমাদেরও মা আমরাও খাব। সেই বাসি ভাত খাওয়া নিয়ে তাদের মাঝে ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। মল্লিকা বলে, সবাই চুপ কর। সাজিত প্রথমে তুই তো এই ভাত খেতে চাইছিলি না, আর এখন ঝগড়া কেন করছিস।

তোরা তিন জনেই আমার ছেলে তাই আমি তিন জনকে খাইয়ে দিব। মল্লিকা ভালোবেসে তিন জনকেই খাইয়ে দেয়। সে তার জমজ তিন ছেলেকে সমান ভালোবাসত। আর সব-সময় তাদেরকে ভালো শিক্ষা দিত। এভাবেই কাঁটছিল মল্লিকা ও তার তিন ছেলের দিন। একদিন হঠাৎ বিয়ে করে আনে।

মা এ হচ্ছে সনিয়া তুমি একে নিজের বউ হিসাবে মেনে নাও মা। আমরা একে অপরকে পছন্দ করতাম। তাই আমরা বিয়ে করে নিয়েছি। মল্লিকা শুরুর দিকে খুবেই অবাক হয়ে যায়। কিন্তু ওদের সব কথা শুনে সনিয়াকে মেনে নেয়। সনিয়া অনেক লক্ষ্মী প্রকৃতির মেয়ে ছিল। সনিয়া সব-সময় শ্বাশুরী মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করত।

আর বাড়ির সব কাজ গুছিয়ে করত। একদিন ওরা জমজ তিন ভাই বিকেল বেলা বের হয়। সেদিন একটা পরী তার সঙ্গীকে নিয়ে পৃথিবীতে বেড়াতে আসে। পরী বলে, প্রিন্স দেখ পৃথিবীটা কত সুন্দর। পরীর দেশে অনেক কিছু আছে। কিন্তু পৃথিবীতে ভালো লাগার মত আর অনেক জিনিসে আছে। যেটা আমাদের পরীর দেশে নেই। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে তোমাকে নিয়ে এখানে থেকে যেতে।

প্রিন্স বলে, হ্যা সর্মিলা তুমি ঠিকে বলেছো। আমারও এই পৃথিবী অনেক ভালো লাগে। এই কথা বলে, তারা মানুষের রুপ নেয়। তারপর তারা ঘুরতে শুরু করে দেয়। ওরা জমজ তিন ভাই একটা খেলা খেলবে বলে ঠিক করল। তারা বলল আজ আমরা ঢিল ছুরা ছুরী করব, যার ঢিল বেশি দূরে যাবে সেই হবে বিজয়ী।

জমজ তিন ভাই এবং পরী

এই কথা বলে, তারা ঢিল ছুরা শুরু করে দিল। কিন্তু হঠাৎ করে একটা ঢিল প্রিন্সের মাথায় এসে লাগে। রক্তাত্ব হয়ে যায় প্রিন্স। তার কিছুক্ষন পরে প্রিন্স মারা যায়। নিজের সঙ্গীকে হারিয়ে সর্মিলা খুব কাঁদতে লাগে। তারপর সে নিজের রুপ নেয়। তোমরা আমার নির্দোশ বন্ধুকে মেরে ফেললে। আমি তোমাদের কে ছাড়বো না। সর্মিলা পরী অনেক রেগে গেল।

তখল স্বজল, পরীকে বলল, দেখ পরী আমরা দেখে-শুনে এমন কাজ করিনি। আমরা জমজ তিন ভাই খেলছিলাম হঠাৎ করে একটা ঢিল তার মাথায় এসে লেগে গেছে। এটা একটা দূরঘটনা। আরে স্বজল তুই এই তুচ্ছ সামান্য পরীকে কেন এভাবে বলছিস।

ওর সাথে এভাবে কথা বলার কোন প্রয়োজন নেই। আমরা ঢিল ছুরছিলাম, ওদের সামনে আসতে বলেছে কে? শান্ত খুব বাজে ভাবে কথা বলে পরীর সাথে। এতে করে সর্মিলা পরী খুব রাগ হয়। এরপর পরী রাগ করে জাদুর কাঠি নিয়ে আসে।

তখন সাজিত পরীকে বলে, পরী তুমি এমনটা কর না, জানি আমরা দেখে-শুনে এমনটা করিনি। যাই  হোক আমরা অন্যায় করেছি। তুমি তোমার বন্ধুকে হারিয়ে অনেক কষ্ট পেয়েছো। তাই হয় তো ভাবছো আমাদেরও প্রাণ নিয়ে নেবে। একটা প্রাণের জন্য তুমি তিনটি প্রাণ নিতে পারনা।

হ্যা পরী তুমি ক্ষমা করে দাও আমাদেরকে। আমরা না জেনে না বুঝে ভুল করে ফেলেছি। সাজিত আর স্বজল পরীর কাছে ক্ষমা চায়। আরে কি ব্যাপার তোরা কেন ক্ষমা চাইছিস। আমি কখনো ক্ষমা চাইবো না। ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা আমি এবার ওকে বন্ধি করে রাখব।

তারপর পৃথিবীতে একটা চিরিয়াখানায় বন্দি করে রাখব। চিরিয়াখানায় বন্দি করে সবার কাছে ভাইরাল করে দেব পরীকে। শান্ত, সজিব ও সাজিতের থেকে অনেকটাই আলাদা। আর খারাপ ভাবে কথা বলে শান্ত। এটি সর্মিলা পরীর সহ্য হয় না। তাই সে তার জাদুর কাঠি দিয়ে শান্তকে পাথর বানিয়ে রেখে দেয়।

জমজ তিন ভাই শান্তর প্রতি পরীর করুনা

এরপর পরী বলে তোমরা তিন জনেই এক রকম দেখতে। কিন্তু ভিতরের রুপটা আলাদা। কিন্তু এক রকম হওয়া সত্বেও তোমাদের ভাই শান্ত এমন পরিনতি ভোগ করল। এই কথা বলে, পরী তার বন্ধুকে নিয়ে চলে গেল পরীর দেশে। এদিকে ওরা দুই ভাই বাড়িতে চলে আসে এবং তার মাকে সব কথা খুলে বলে। তার মা শান্ত পাথর হওয়ার কথা শুনে অনেক কাঁদতে লাগল। ওদিয়ে সর্মিলা তার বন্দুকে হারিয়ে অনেক কাঁদতে শুরু করে দিল যেন তার কান্না থামছেনা।

মল্লিকা তার ছেলে শান্ত অকালে চলে যাওয়া একদমে মানতে পারছিল না। তাই প্রতিদিন প্রার্থণা করত আর অনেক কান্না-কাটি করত। এভাবে বেশ কিছু দিন কেটে যায়। মল্লিকা আবার প্রার্থণা করতে গিয়ে অনেক কান্না করতে লাগে। আর সেই দিন সর্মিলা পরী পৃথিবীতে চলে আসে। মল্লিকার কান্না সহ্য করতে না পেড়ে। সে শান্তকে আবার মানুষের রুপ দিয়ে দেয়।

শোন শান্ত তোমার মায়ের কান্না সৃষ্টিকর্তা এবং আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। আমি শুধু তোমার মায়ের দোয়ার কারণে তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম। পরী শান্তর মাকে বললেন, ও যেন নিজেকে শুদরিয়ে নেয়। এই কথা বলে পরী চলে যায়। শান্ত নিজের ভুল বুঝতে পাড়ল। আর সে নিজেকে শুদরিয়ে নেওয়া প্রতিজ্ঞা করল। তারপর তারা সকলে মিলে হাসি খুশিতে থাকলে লাগল।

বন্ধুরা আমরা এই, জমজ তিন ভাই-মজার গল্প থেকে শিক্ষা পাই যে, উপরে এক হলেও ভিতরে একদমে এক হয় না। চোখে দেখা জিনিসগুলো সব-সময় সত্যি নয়।