গোলাপি রানী

0
30
গোলাপি রানী শিক্ষনীয় গল্প
গোলাপি রানী

আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের কাছে একটি মজার গল্প নিয়ে এসেছি। আর যে গল্প টি নিয়ে আমি এসেছি সেটি গোলাপি রানী ও তার রাজপুত্র কে নিয়ে। আমার এই গল্প টিতে কিছু শিক্ষনীয় বিষয় আছে তা আপনারা ভালোভাবে লক্ষ্য রাখবেন।

গোলাপি রানী

বহুকাল আগে এক রাজ্যে রাজা রানী বাস করতো। তার নাম ছিল গোলাপি রানীর । তিনি ছিলেন অনেক সুন্দরী। তাদের সংসার জীবন ছিল অনেক সুখের। কিন্তু তাদের কোন সন্তান ছিল না। হঠাৎ একদিন গোলাপি রানীর  তার বাগানে ঘুরতে গিয়েছিল।

আর সেখানে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলো। ঈশ্বরের রহমতে সেখানে দুইটি পরী চলে আসলো। তারা গোলাপি রানীর কে বলল, আপনি চিন্তা করবেন না। আপনার প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে কবুল হয়ে গেছে।

এর ফলাফল আপনি খুব তারাতারি পেয়ে যাবেন। এ কথা শুনে গোলাপি রানী বলল, ঈশ্বর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তখন পরীরা বলল, আপনার ঘরে এমন এক পুত্র সন্তান আসবে। আর সে পুত্র সন্তান হবে ইচ্ছে ধারী। তাই আপনি তাকে ভালভাবে লালন পালন করবেন।

কিছুদিন পরে রাজপুত্রের জন্ম হল। পুরু রাজ্যে তখন যেন খুশির জোয়ারে ভাসছে। রাজ পুত্রের বয়স যখন দুই বছর। তখন গোলাপি রানী তার পুত্র কে নিয়ে নদীতে  গিয়েছিল গোসল করানোর জন্য। কিন্তু তাদের চোখের আরালে সেখানে গিয়েছিল শয়তান রাধুনী।

শয়তান রাধুনীর শয়তানী পরিকল্পনার কথা গোলাপি রানী জানতো না। সে গোলাপি রানীর চোখের আরালে রাজপুত্র কে নিয়ে যায়। এদিকে গোলাপি রানী তার সন্তান কে খুঁজতে থাকে। গোলাপি রানী তার পুত্র কে খুজে না পেয়ে কাদতে কাদতে রাজার কাছে চলে যায়।

আর এদিকে শয়তান রাধুনী রানীর আগেই চলে যায় রাজার কাছে। সেখানে গিয়ে রাধুনী রাজাকে মিত্থ্যা কথা বলতে থাকে। রাধুনী বলে, রাজা মশাই আমাদের রাজপুত্রকে রানী মা রাক্ষসের কাছে তুলে দিয়েছে। রানী মার পোশাকে রক্তের দাগও লেগে আছে।

আর তখনি গোলাপি রানী রাজ দরবারে পৌছিল। রাজা রানীকে দেখে বলল হত্যাকারী, তুমি আমার পুত্র কে রাক্ষসের কাছে তুলে দিয়েছো। তার জন্য তুমি উপযুক্ত শাস্তি পাবে। রাজা রানীর প্রতি রাগ হয়ে পাঁচ বছরের জন্য মৃত্যু দন্ডের ঘরে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ছিল না কোন পানি না ছিল কোন খাবার। তিনি দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঢলে পরেন। কিন্তু ঈশ্বর ছিলেন দয়ালু। তিনি গোলাপি রানীর জন্য পরীর দ্বারায় খাবার পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

রাধুনির লোভ

কিছু বছর পর রাজপুত্র বড় হয়ে সুপুরুষে পরিনত হয়। রাজপুত্র দেখতে ছিল অনেক সুন্দর। কিন্তু তিনি বাবা মার কাছ থেকে ছিলেন অনেক দূরে অরন্য এক জঙ্গলে। সেখানে রাধুনী তাকে বড় করে তুলেছিল। রাধুনী মনেমনে চিন্তা করে এখন আমার সম্পত্তির প্রয়োজন। তখন রাধুনী রাজপুত্র কে বলল, আমার সোনা মানিক।

তোমার চাচা চান যে, তুমি তার জন্য কিছু করো। রাজপুত্র বলল,ঠিক আছে তাহলে আমি আপনার জন্য কি করতে পারি। তখন রাধুনি, রাজপুত্র কে বলল, তুমি এমন কিছু চিন্তা কর। যেখানে একটি বিশাল রাজ্যে আর বিশাল একটি রাজ প্রসাদ তৈরী হোক। সে রাজ্যে তুমি হবে রাজা আর আমি হব তোমার একমাত্র অবিভাবক।

রাধুনী আরো অনেক কিছু আশা করেছিল। তিনি রাজপুত্র কে বলল, তুমি এখন তোমার চোখ বন্ধ করে একটি সুন্দরী নারী চাও। কেননা তোমার সারা জীবন একা থাকা সম্ভব নয়। তাই তোমার জন্য একজন নারী দরকার। আর চাচার কথামত চোখ বন্ধ করে তার মনের মানুষ কে খুজে নেয়। আর তারা দুজনে দুজনার প্রেমে পরে যায়। তারা ঠিক করে নেয় তারা সারা জীবন একসাথে কাটিয়ে দেবে।

এদিকে রাধুনী সেই রাতে নিজের ঘরে বসে শয়তানি বুদ্ধি বের করতে লাগলো। সে আনন্দে আত্বহারা হয়ে গেল হাসিতে ফেটে পরলো। সে আয়নার সামনে গিয়ে নিজেই নিজের সাথে কথা বলছিল। যে এতদিন আমি যাই চেয়েছি তাই পেয়েছি। এখন আমার শুধু একটা জিনিস বাকি রয়েছে। সেটা হচ্ছে রাজপুত্রের মৃত্যু। কারন আমি জানি ওর বাবা মা কে। আর যদি কোন ভাবে রাজপুত্র জানতে পারে তার বাবা মার কথা। তাহলে আমার সর্বনাশ হয়ে যাবে।

তখন রাধুনী ঐ মেয়েটার কাছে যায়। মেয়েটাকে বলে আজ তুমি রাজপুত্র কে ঘুমের মধ্যে মেরে ফেলবে। কারন আমি ওকে জানতে দিতে পারি না ওর আসল বাবা মা কে। আর কিভাবে আমি ওকে ওর মায়ের কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে এসেছি। তা আমি রাজপুত্র কে জানতে দিতে পারি না। তাই বলছি তুমি আমার কথামত কাজ করো। আর তা নাহলে তুমি এ রাজ্যে থেকে উধাও হয়ে যাবে।

রাজপুত্রের জন্য রানীর ভালবাসা

সেদিন রাতে মেয়েটি রাধুনীর কথামত ছুরি নিয়ে চলে গেল রাজপুত্র কে মারতে। কিন্তু মেয়েটি তাকে মারতে পারলো না। তাকে দেখে সে কাদতে লাগলো। তার কান্নার শব্দ পেয়ে রাজপুত্র ঘুম থেকে জেগে উঠল। আর বলল, আমি জানি তুমি আমাকে মারতে পারবে না। আর আমি সব শুনেছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও রাজপুত্র। আমি তোমার আমার জীবন নিয়ে খুব আতংকে আছি। রাজপুত্র বলল, তার ভুলের মাসুল এবার তাকে দিতে হবে।

রাজপুত্র চান রাধুনী যেন কুকুর হয়, আর খাবারের জন্য কয়লা খান ঠিক এ কথা বলতেই তাই হয়ে গেল। এবার রাজপুত্র ভাবলো তার বাবা মার সাথে দেখা করবে। কিন্তু মেয়েটিকে এভাবে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তখন রাজপুত্র তাকে একটি সুন্দর লাল গোলাপ বানিয়ে সাথে নিয়ে গেল সাথে কুকুর কেউ। রাজপুত্র অনেক দূরে চলে যায় আর তার রাজ্যে গিয়ে পৌছায়।

সেখানে গিয়ে রাজপুত্র জানতে পারে তার মায়ের ভাগ্যের কথা। রাজপুত্র রাতে তার মায়ের সাথে দেখা করবে। মায়ের সাথে দেখা করার জন্য রাজপুত্র রাতে দূর্গের কাছে গিয়ে পৌছায়। কিন্তু কিভাবে তার মায়ের সাথে দেখা করবে। তখন রাজপুত্র চাইল একটা মই তার মায়ের কাছে যাক ( কেননা রাজপুত্র ছিল ইচ্ছাধারী )।

সেখানে গিয়ে রাজপুত্র তার মাকে ডাক দিল, আমার রানী মা। আপনি ভাল আছেন। গোলাপি রানী বলল, হ্যা আমি অনেক ভাল আছি। বলার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আর তুমি কে? রাজপুত্র বলল, আমার রানী মা আমি আপনার সন্তান। আমি সেই জঙ্গল থেকে ফিরে এসেছি।

যেখান থেকে ঐ শয়তান রাধুনী আমাকে আপনার কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। আর আপনাকে অন্যায় ভাবে ফাসিয়ে দেয়। আমি তোমাকে এখান থেকে রক্ষা করার জন্য এসেছি মা। তখন গোলাপি রানী বলল, ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনেছে,আমার সন্তান আমার কাছে ফিরে এসেছে।

রাধুনীর লোভের পরিনাম

পরের দিন  রাজপুত্র বনের কিছু হরিণ নিয়ে রাজ দরবারে চলে আসে। এই হরিণ গুলো উপহার দেওয়ার জন্য। তখন রাজা তাকে বলল, এই হরিণ গুলো আমাকে উপহার দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আর এর বদলে তুমি আমার কাছ থেকে কি চাও। তখন রাজপুত্র বলল, আমি শুধু আপনার পরিবার আর দাসদের সাথে নৈশ্য ভোজ করতে চাই।

সে তার ইচ্ছে প্রকাশ করে। আর সে চায় কেউ তার মায়ের ব্যাপারে কথা বলুক। ঠিক তখনে একজন রাজ সদস্য বলল, রাজা মশাই আমরা কি আজ এই খুশির দিনে রানী মাকে নিয়ে নৈশ্য ভোজ করতে পারি। রাজা তখন রাগ হয়ে বলল, তা কখনো হবে না। কেননা সে আমার সন্তান কে রাক্ষসের কাছে দিয়েছে।

ঠিক তখনি রাজপুত্র রাজা কে বলল, এটা মিত্থ্যা কথা। আমাকে সেদিন কোন রাক্ষুস খায়নি। সেদিন রাধুনী আপনার সন্তান কে চুরি করেছিল। আর আমি আপনার চুরি হয়ে যাওয়া সেই রাজপুত্র। রাজা বলল, আমি তোমার কথা বিশ্বাস করি না।

রাজপুত্র তার কথা শুনে হাসলো, আর তখন সে চাইলো কুকুরটা আবার আগের মত হয়ে যাক। সাথে সাথে কুকুরটা রাধুনীর মত হয়ে গেল। রাধুনী বলল, হ্যা রাজামশাই সেদিন আমি রাজপুত্র কে চুরি করেছিলাম। আর রাজপুত্র যা বলছে তা সব সত্যি। আমাকে মাফ করুন। সেদিন লোভ আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল।

রাজা রাধুনীর কথা শুনে রাগ হয়ে বলল,তুমি একটা শয়তান লোভি। ওকে এখনি নিয়ে যাও এখান থেকে আর নিয়ে বন্দি কর ঐ অন্ধকার কারাগারে। রাধুনীকে কারাগারে নিয়ে গেল আর গোলাপি রানীকে কারাগার থেকে বের করে আনলো।

এরপর রাজা গোলাপি রানী রাজপুত্র এবং মহলের সবাই মিলে নৈশ্য ভোজ করলেন। তারপর রাজপুত্র কে নিয়ে সুখে শান্তিতে তারা জীবন যাপন করলো। আর এই ভাবে রাধুনীর শিক্ষা হলো যে, লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু। তাই আমরা সবাই এই শিক্ষনীয় গল্প থেকে শিক্ষা নিতে পারলাম যে, অতি লোভে তাঁতি নষ্ট, আর লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।