কান কাটা রাজার মজার গল্প

0
31
কান কাটা রাজার মজার গল্প
কান কাটা রাজার মজার গল্প

কান কাটা রাজার মজার গল্প টিতে এক রাজার অভ্যাস হলো একটু দোষ করলেই সেই রাজা প্রজার কান কেটে নিত। একদিন একটি হনুমান জানালার কাছে এসে রাজার মাথায় এসে হাত বুলিয়ে দেয়।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি, মহান আল্লাহ তা-আলার রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে কান কাটা রাজার মজার গল্প খুব মজার একটা গল্প শুনাবো। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে কান কাটা রাজার মজার গল্প টি শুরু করি।

কান কাটা রাজার মজার গল্প

অনেক দিন আগের কথা। এক ছিল দুষ্টু রাজা। এই রাজার এমন এক বদ অভ্যাস ছিল যে, যে কোন ব্যাক্তি যদি কোন দোষ করত তার কান কেটে নিত। একদিন মন্ত্রী ও রাজা শিকার করতে চলে গেল। রাজা মন্ত্রীকে বলল, তুমি না একটা ইয়ে, মানে ফাজিল। মন্ত্রী বলল, করে ফেলেছি ভুল থাকল না আর মান। রাজা বলে, দ্বিতীয় বার করলে ভুল নিয়ে নেব তোমার কান।

আজকে মোট কয়টা কান শিকার করলে মন্ত্রী। মন্ত্রী বলে, মহারাজ আমি তো গুনে দেখেনি হবে মনে হয় ১৫ থেকে ১৬ টা। ঠিক আছে যা হয়েছে তাই হবে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ি ফিরে চল। ঠিক আছে মহারাজ, আপনি শুয়ে বিছ্রাম করুন আমি সব নিয়ে আসছি। রাজা বিছ্রাম করতে গাছের নিচে হেলান দিয়ে আরাফ ফরমালেন।

এদিকে মন্ত্রী খাবার জোগার করতে গেলেন। আর এদিকে হনুনান রাজার মাথায় এসে থাপ্পর মারে। রাজা বলে, কে রে কার এত বড় সাহস আমাকে থাপ্পর মারে। সেই সময় মন্ত্রী এসে বলে, ওদের থাপ্পর মারা অভ্যাস, ও যে হনুমানের জাত।

রাজা বলে, এই হনুমান আজ তোর শেষ দিন, নেব তোর জান। হনুমান বলে, তার আগে বলুন কি কারণে নিলেন আমার দুটো কান। রাজা বলে, কি তোর এত বড় সাহস তুই আমার কথায় ছন্দ মিলিয়ে আমাকে করিস অপমান। হতভাগা হনুমান নেই তোর বোধ। হনুমান বলে, আপনি আমার  কান কেটেছেন এবার নেব শোধ।

এই কথা বলে, হনুমান রাজার একটা কান ছিরে নিয়ে যায়। রাজা বলে, হায় হায় কি হল আমার কান? এই মন্ত্রী তারাতারী আমার ঘোরা আন। মন্ত্রী বলে, তাতে আপনার ছেড়া কান লাগবে জোরা। রাজা বলে, আরে আমি যেটা বলছি আগে সেটা কর। আমাকে এখানে দেখে ফেলার আগে রাজবাড়িতে যেতে হবে।

এই কথা বলে, রাজা ও মন্ত্রী বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি ফিরতে তাদের রাত হয়ে গেল। তারা খাওয়া শেষ করে  ঘুমিয়ে পড়ল। সকাল হল রাজা জেগে ওঠে তার হাতটা কানের কাছে চলে যায়। আর সে আফছোস করতে লাগে। এর মধ্যেই নাপিত তার ঘরে চলে আসে চুল কাটার জন্য। রাজার কান কাটা দেখে নাপিত তো অবাক।

রাজা মশাই বলে, এই কথা যদি অন্য কানে চলে যায় তাহলে তার ফল খারাপ হয়ে যাবে। এই নাও তোমার উপহার। আজ থেকে মুখ রাখবে বন্ধ, দাঁত ঢেকে মুখ রাখবে বন্ধ। ছন্দ টা কেমন হল বলতো। নাপিত বলে, খুব ভালো হয়েছে। আপনি কোন চিন্তা করবেনা আমার মুখ থেকে এই কথা কেউ শুনতে পারবে না।

আপনার কান কাটার কথা বাহিরে বের হবেনা মহারাজ। রাজা বলে, তাই যেন হয় নাপিত, আনন্দ করে আমরা খেলব ছু কিতকিত। আমার কানের কাছে ছিল হিরা চুন্নি পান্না, কান গেল চলে তাই তো পাচ্ছে আমার কান্না। রাজার সেই ছেড়া কানটা তার হাতে ছিল। এমন সময় রাজার হাত কাক এসে রাজার হাত থেকে কানটা নিয়ে চলে গেল।

রাজা চিৎকার করে বলে, নাপিত তুমি কি দেখছ যাও কানটা নিয়ে আস। নাপিত বলে, তাহলে যাচ্ছি মহারাজ এই বদমাস কাক দাঁড়া। তুই মহারাজের কান নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল। কিন্তু সে কাকের খোজ পেল না। তাই সে যেতে যেতে বলতে লাগল, রাজার কান কাটা তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা। রাজার কান কাটা তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা।

এভাবে নাপিত বেটা বলতে বলতে যাচ্ছিল, হঠাৎ করে তার সামনে কয়েক জন লোক সে গেল তারা বলল, কি হল নাপিত ভাইয়া কত খুশি কেন? নাপিত মনে মনে বলে, আমি যদি এই কথা এদের কে বলি তাহলে আমার মাথা কেঁটে ফেলবে। তাই সে বলে, না ভাই কিছু না আমি এমনিতে হাসছিলাম। এমনিতে খুব খুশি খুশি লাগছিল তো তাই আর কি। আচ্ছা তোমরা কি এদিকে কাকা যেতে দেখেছিলে।

সেই লোকেরা বলে, কত কাক তো উরে যাচ্ছে তুমি কোন কাকের কথা বলছো তা আমরা কি করে জানবো বলতো। তুমি কি ভেবে হাসছিলে নাপিত বলতো। নিশ্চই মজাদার বিষয় তুমি বল আমরাও হাসি। নাপিত বলে না না কিছু হয়নি আমি এমনিতে হাসছি।

এদিকে নাপিত সেই কথা বলতে না পেরে তার পেট ফুলে গেল। আর সে সেখান থেকে দৌরে পালিয়ে গেল। তারপর সে একটা গাছের কাছে চলে যায়। আর ভাবতে থাকে রাজার কান কাটা ছিল অনেক কষ্ট করে তা আমি চেপে রেখেছিলাম।

কিন্তু আমি কথাটা না বলতে পেরে পেট ফুলে গেল। আমি এখন কি করি। রাজার কান যে কাকে নিয়ে গেল সেই কথা চাপতে গিয়ে আমার পেট ফেটে যাওয়ার উপক্রম। কথাটা না বের  করতে পারলে আমি তো মরে যাব। এখন কি করি।

হঠাৎ করে তার পিছনে থেকে একটা গাছ বলছে নাপিত ভাইয়া ও নাপিত ভাইয়া ভাবছো কি? নাপিত  বলে, রাজার কথা। গাছ বলে, কি এমন কথা। নাপিত বলে তুমি তো গাছ তোমাকে কথাটা বলাই যায়। নাপিত বলে, রাজা মশাইর কান কাটা, কান নিয়ে গেল কাক বেটা। এই কথাটি বলার সাথে সাথে নাপিতের পেট টা স্বাভাবিক হয়ে গেল। আর সে বলে, তোমাকে কথাটি বলে খুব শান্তি পেলাম গাছ।

এই কথা বলে, নাপিত সেখান থেকে চলে যায়। আর এদিকে গাছ বলে, রাজার তো কান কাটা, তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা। রাজার তো কান কাটা, তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা। আর সেই সময় এক ঢুলি আসে গাছ কাটার জন্য। ঢুলি দেখে গাছ কথা বলতেছে। তাই ঢুলি বলে, এমন গাছ তো আমাদের দেশে নেই।

গাছ বলে, কে রে তুই। ঢুলি বলে, আমি ঢুলি অনেক দূর থেকে এসেছি। আমি এখানে নতুন। তোমাকে দেখে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। আমি তোমার কাঠ কেটে ঢোল বানাবো। গাছ বলে, খবরদার আমাকে কাটবিনা, একদমি না। এই কথা বলে, ঢুলি কাট কাঁটতে শুরু করে দেয়।

পরের দিন সকালে নাপিত রাজ দরবারে চলে আসে। রাজা নাপিত কে বলে, কি রে নাপিত তুই কাল সেই যে গেলি আর তো এলিনা। কানের কি কোন খোজ পাইলি। না রাজা মশাই? ভাগ্য খারাপ হলে যা হয়। কাক আর কান দুটোই হাওয়া।

আর এদিকে ঢুলি কাট কেটে নিয়ে গিয়ে ঢোল বানিয়ে রাস্তা দিয়ে বলতেছে, রাজার কান কাটা তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা। রাজার কান কাটা তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা। রাজার কান কাটা তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা। এইভাবে ঢোল বাজিয়ে বাজিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে।

এইভাবে বলতে বলতে ঢুলি রাজ বাড়ির সামনে নিয়ে হেটে যাচ্ছিল। এদিকে রাজা তার দরবার থেকে সব কথা শুনতে পায়। আর নাপিত কে বলে, কিরে নাপিত এই কথা তুই ছাড়া তো কেউ জানেনা। রাজা নাপিতকে বলে, তোকে মুখ খুলতে করেছিলা মানা, তুই শুনলি না আমার কথ, এবার ঘার থেকে আলাদা করে দিব তোর মাথা।

নাপিত বলে, বিশ্বাস করেন রাজা মশাই আমি এই কথা কোন মানুষকে বলিনি। শুধু আমি বনের এক গাছকে বলেছি। তা যদি আমি বলতে না পারতাম, তাহলে আমার পেট ফেটে যেত। আর আমি যদি মরে যেতাম তাহলে আপনার দাঁড়ি কে কাটিয়ে দিত। রাজা বলে, চল দেখি সেই গাছের কাছে। এই কথা বলে, রাজা একটি ছুরি নিয়ে চলে যায় সেই গাছের কাছে।

নাপিত বলে, এই সেই গাছ যাকে আমি গতকাল গোপন কথা বলেছিলাম। গোপন কথা তো আর গোপন থাকল না? তাই আমি কাটবো তোমার ডাল। গাছ তখন বিনয়ের শুরে বলে, আমাকে ক্ষমা করুন মহারাজ। আমি বার বার বলেছিলা আমার কাট দিয়ে ঢোল না বানাতে।

কিন্তু সে আমার কোন কথাই শুনল না। তুই ঐসব কথা ছাড়। কি করে আমি হারানো সম্মান ফিরে পাব এখন সেটাই বল। গাছ বলে, এখন একটা উপায় আছে ঐ ঢুলির দুটো সেই দুটো কান কেটে নিতে হবে। ঐযে ঐযে আমি শুনতে পারছি ওর ঢাকের আওয়াজ।

রাজার কান কাটা তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা। রাজার কান কাটা তাই কান নিয়ে গেল কাক বেটা।  এই কথা বলতে বলতে সে আসতেছি সেই গাছের কাছ দিয়ে আর সেই গাছের সামনে ছিল রাজা মশাই। ঢুলি রাজাকে দেখে অবাক। তাদের মধ্যে একজন বলে ওঠল দেখ দেখ রাজা মশাইয়ের সত্যি সত্যি একটা কান নেই।

তারা বলতেছে না আর কান কাটা রাজার প্রজা হয়ে থাকব না। হায় হায় ঢোল হল বনের কাঠ, তাহলে এবার কি ছিকে উঠবে আমার রাজ্য পাত। শোন গাছ তাহলে তুমি কর এর বিচার। গাছ বলে, আমার উপর যেন পরে দায়িক্তের ভার, তাহলে করতেই হবে এর সঠিক বিচার।

গাছ বলে, এই যে, নাপিত তুমি এই ঢুলির একটা কান কেটে রাজার কানে ঝুলিয়ে দাও। তখন নাপিত ঢুলির একটা কান খুলে রাজার কানে লাগিয়ে দিল। ঠিক সেই সময় হনুমান এসে গেল আর সে বলে, আমার একটা বিচার করে দাও। আমারও ফেরত চাই কাটা যাওয়া কান।

রাজা মশাই এবার আপনার পালা আপনি ঢুলির আর একটা কান কেটে হনুমানের কানে লাগিয়ে দিন। বেচারার এক কান কাটা থাকলে বেচারীর খুব অসুবিধা হত। ঢুলির আর এক কান লাগাল হনুমানের কানে। গাছ বলে, ঢুলির দুটো কান কাটা হল এখন সে দেশের ভিতির দিয়ে যেতে পারবে। কি ঢুলি চুপ কেন বাজাও তোমার ঢোল।

গাছ বলে, ঢুলির কান কাটা, ঢুলির কান কাটা, ঢুলির কান কাটা। নাপিত বলে, রাজা মশাই তবে একটা অসুবিধা হল তা হল আপনার একটা কান সাদা আর একটা কান কালো। রাজা বলে, তাতে কি নাই মামার চেয়ে কানা মামা অনেক ভালো। আর এদিকে গাছের কথা না শুনে গোপন কথা গোপন না রেখে তার শাস্তি পেল ঢুলি।