কাগজের তৈরী রাজকুমারীর গল্প

0
31
কাগজের তৈরী রাজকুমারীর গল্প
কাগজের তৈরী রাজকুমারীর গল্প

আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের কে একটি মজার গল্প বলবো। আজ যে গল্প নিয়ে আমি এসেছি তার নাম দিয়েছি, কাগজের তৈরী রাজকুমারীর গল্প।

কাগজের তৈরী রাজকুমারীর গল্প

কাগজের রাজকুমারী। ছোট খেয়ামনি গরমের ছুটিতে তার দাদিমার কাছে থাকতে এসেছে। ছোট খেয়ামনি কে দেখে তার দাদিমা অনেক খুশি হয়েছে। কিন্তু ছোট খেয়া মনির মন খারাপ। তার মন খারাপ দেখে তার দাদি মা তাকে বলল( খেয়া মনি ) তোমার খিদা লেগেছে।

খেয়া মনি বলল, না আমার খিদা লাগে নি। আর আমার কিছু চাইনা। আমার বাবা মা আমাকে সাথে নিয়ে যায়নি কেন। তখন খেয়া মনির দাদি মা বলল, তাদের অনেক কাজ রয়েছে আর তারা অনেক ব্যস্ত থাকবে। এই জন্য ওরা তোমাকে সাথে করে নিয়ে যাইনি।

আমি তো তোমার সাথে আছি। আমরা দুজনে একসাথে খেলা করবো ঘুরে বেরাব তাই না খেয়া মনি। তখন খেয়া মনি বলে, না তোমাকে আমার ভাল লাগে না। তখন তার দাদিমা বলে আমার যে তোমাকে অনেক  ভাল লাগে। কারন, আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি (I Love You)।

যাই তোমার খেলনা গুলো আমি নিয়ে আসি। তখন তার দাদিমা গিয়ে খেলনা গুলো নিয়ে আসলো আর খেয়া মনি কে বলল এগুলো আমি তোমার জন্য কিনেছি। তখন খেয়া মনি বলল, এই নোংরা খেলা গুলো আমি চাই না। দাদি মা বলল,খেয়া মনি দেখতো এই পাইলট পুতুল টা তোমার কেমন লাগে।

খেয়া মনি বলল তোমার পাইলট পুতুল আমার চাই না। এই বলে খেয়া মনি সব খেলনা তাদের প্রাসাদের পাশে ময়লা জায়গায় ফেলে দিয়ে আসলো।

এতে তার দাদি মা অনেক অবাক হয়ে গেল। আর তোমরা তো জানো সব দাদা দাদি তাদের নাতি নাতনীর জন্য কি না করতে পারে। তারপর তার দাদি খেয়া কে কাগজের তৈরী রাজকুমারীর গল্প বলে আর তার দাদি সুন্দর করে বিভিন্ন রংগের কাগজ ভাজ করতে থাকে তা দেখে খেয়া মনি অবাক হয়ে গেল।

কিছুখন পর তার দাদি সুন্দর একটি কাগজের তৈরী রাজকুমারীর পুতুল বানিয়ে ফেলল। খেয়া মনি বলল, দাদি এটা কে তার দাদি মা বলল এটা  একটি রাজকজুমারী। তার দাদি বলল এটার তুমি নামও দিতে পার। খেয়া মনি বলল, কাগজের তৈরী রাজকুমারী। এ কথা শুনে তার দাদি হাসতে লাগলো আর বললো এটা খুব সুন্দর নাম।

তুমি এর মাথায় একটা ম্যাজিক টুপিও দিতে পার। ম্যাজিক টুপি। হ্যা, ও যখন ম্যাজিক টুপিটা পরে তখন ও ম্যাজিক দেখাতে পারে। বেশ দেখত ও এখন ম্যাজিক দেখাতে পারে কিনা।

সে দিন রাতে তার দাদিমা খেয়া মনিকে ঘুম পারিয়ে তার রুমে ঘুমাতে গেলেন। সারাদিন দুজনে খেলা করতে বেশ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। যখন তার দাদি ঘুমিয়ে পড়ল তখন খেয়া মনি ঘুম থেকে উঠে কাগজের রাজকুমারীকে বের করলো। কাগজের রাজকুমারীকে বের করে তার মাথায় ম্যাজিক টুপি পরিয়ে দিল।

আর বলল, এসো কাগজের রাজকুমারী ম্যাজিক দেখাও। কোথায় তোমার ম্যাজিক তুমি তো টুপি পরেই আছো। দূর ছাই, তুমি একটা মিত্থ্যাবাদী ঠকবাজ কাগজের তৈরী খেলনা।  তোমাকে আমার লাগবে না। আমি তোমাকে চাই না।

এই বলে খেয়া মনি ঘুমিয়ে পরল। কিছুখন পর মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ বেরিয়ে আসলো। চাঁদের আলো কাগজের উপর পরতেই রাজকুমারী বলল, চাঁদের আলো ওহ কি  সুন্দর। তখন এক মাকড়শা রাজকুমারীর সামনে আসে। রাজকুমারী মাকড়শাকে বলে,আমাকে একটু সাহায্য করবে।

মাকড়শা বলল, কি করতে হবে। রাজকুমারী বলল, আমাকে একটু জালানায় উঠতে সাহায্য করবে। তখন মাকড়শা রাজকুমারীকে উঠতে সাহায্য করে। তারপর রাজকুমারী মাকড়শা কে ধন্যবাদ জানিয়ে ভিতরে চলে যায়। ভিতরে গিয়ে রাজকুমারী প্রথমে তার ম্যাজিক টুপিটা খোজা শুরু করে।

কাগজের রাজকুমারী তার ম্যাজিক টুপিটা দেখতে পায় এবং টুপির কাছে চলে যায়। কিন্তু যখনি টুপিটা নিতে যাবে তখনি খেয়া মনি কাগজের রাজকুমারীকে বলে তোমার ম্যাজিক টুপিটা চাই। খেয়া মনির কথা শুনে রাজকুমারী পালাতে লাগল। কাগজের রাজকুমারী এত ছোট ছিল যে খেয়া মনি খুব সহজেই ধরে ফেলল।

কাগজের রাজকুমারী বলল, আমাকে যেতে দাও। তখন খেয়া মনি বলল, তুমি আমার খেলনা তোমাকে আমি যেতে দেব না। কাগজের রাজকুমারী বলে তুমি তো আমাকে ফেলে দিয়েছিলে। হ্যা, দিয়েছিলাম তো তুমি আমার খেলনা আমার ইচ্ছে হয়েছিল তাই ফেলে দিয়েছিলাম।

তুমি এত নিষ্ঠূর কেন। তখন খেয়া মনি বলল, এখন নতুন কিছু বল। কাগজের রাজকুমারী বলল, দয়াকরে আমাকে ছেরে দাও। ওখানে অনেক বিপদ। তখন খেয়া মনি বলে আমি জানি। কাগজের রাজকুমারী বলল,সুযাস্তের আগে ভাসমান রাজ প্রসাদে না গেলে অনেক বিপদ হবে।

গোলাপি ডাইনি টা আমার রাজ্য ধ্বংস করে ফেলবে। আমাকে যেতে দাও। গোলাপি ডাইনি। এটা আবার কে। কাগজের রাজকুমারী বলল, আমি একজন আসল রাজকুমারী ঐ গোলাপি ডাইনি টা আমাকে যাদু করে ছিল। আর ডাইনি টা আমাকে একটা গাছে পরিনত করেছিল। আমি তো ভেবে ছিলাম মরেই যাব।

তারপর হঠাৎ একদিন এক বুড়ি সন্নাসীনি যখন আমাকে দেখে, আর বলে তুমি এখানে কাদছো কেন। আমি বললাম তুমি আমার কথা শুনতে পারছো। তখন বুড়ি বলল, হ্যা আমি শুনতে পারছি।

আমার সাথে যা যা ঘটেছিল তখন আমি বুড়িকে সব বলে দিলাম। আমার যখন পঁচিশ বছর পূর্ন হবে তখন বাবা আমার রুপ নেওয়া ডাইনি টাকে রাজকুমারী বানিয়ে দিবে। আর আমার বাবার সেই যাদুকরি লাঠি টা ঐ ডাইনি টাকে দিয়ে দেবে।

যা দিয়ে ঐ ডাইনি টা সব কিছু ধ্বংস করে ফেলবে। আমি যানি গোলাপি ডাইনির অনেক শক্তি, ওর যাদু শক্তিও অনেক। আমার কিছু করার নেই আমি শুধু একটা ম্যাজিক করতে পারি।

আমি একটা ম্যাজিক করে দিব যা দিয়ে তুমি আগের জীবনে ফিরে যেতে পারবে। তারপর বুড়ি একটা যাদুকরে দিল। আর বলল, কারিগরি ও প্রকৃতির সহায়তায় তুমি এক অরগানিক রাজকুমারী হয়ে উঠবে। তোমার উপর যখন চাঁদের আলো পরবে তখন তুমি ধীরে ধীরে জেগে উঠবে।

জেগে উঠে তুমি তোমার ঐ যাদু টুপি টা পরবে। টুপি টা পরে তুমি ঐ ভাসমান রাজ্যে উড়ে চলে যাবে। সেখানে গিয়ে তুমি তোমার যাদু টুপি টা ঐদুষ্ট ডাইনি টার প্রান ভোমরার উপর রাখবে। টুপি টা রাখার পর ঐ প্রান ভোমরা টা আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।

তারপর ঐ দুষ্ট ডাইনি টার সব যাদু নষ্ট হয়ে যাবে। আর দু জনে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু মনেরেখ ভাসমান রাজ্যে যাওয়ায় রাস্তাটা খুব কঠিন। সেখানে যাওয়ার পর প্রান ভোমরা টা খুজে বের করতে হবে আর সুয্যাস্তের আগে ওটা নষ্ট করতে হবে।

আর যদি না পার তাহলে তুমি মারা যাবে। এখন চাঁদ কে তুমি অনুসরন করো। তাহলে তুমি আবার তোমার রাজ প্রসাদে ফিরে যেতে পারবে। এই বলে বুড়ি চলে গেল।

হঠাৎ একদিন ঝর উঠলো আর সেই ঝরে আমি একটা আবর্জনার স্তুপে  গিয়ে পরলাম। সেখান থেকে আমাকে নিয়ে গেল একটি কাগজের কারখানায় আর সেখান থেকে  আজ আমি এখানে। তাই বলছি দয়াকরে তুমি আমাকে যেতে দাও। কাগজের রাজকুমারীর কথা শুনে খেয়া মনি অনেকখন ভাবলো, আর বলল, আমিও কিন্তু তোমার সাথে যাব।

খেয়া মনির কথা শুনে রাজকুমারী বলল না ওখানে অনেক বিপদ যাওয়া যাবে না। খেয়া মনি নাছরবান্দা ছারবে না, পরে রাজকুমারী রাজি হয়ে গেল।এতে খেয়া মনি অনেক খুশি হয়ে গেল। খেয়া মনি বলল চলো,কিন্তু তুমি আমাকে ঠকাবে নাতো। তখন রাজকুমারী বলল না।

খেয়া বলল ঠিক আছে। রাজকুমারী তার টুপি টা চাইলো। খেয়া মনি টুপি টা রাজকুমারী কে দিল। রাজকুমারী টুপি টা পরার সাথে সাথে তার শরীর থেকে ঝিরঝির করে আলো বের হতে লাগলো। আর কিছুখন পরে রাজকুমারী উড়ে চলে গেল। তার সাথে খেয়া মনিও চলে গেল সেই ভাসমান রাজ্য।

সেখানে গিয়ে খেয়া মনি অনেক খুশি হয়ে গেল। তখন কাগজের রাজকুমারী তার যাদুর মাধ্যমে মাছ হয়ে নদীর তীরে গিয়ে উঠলো। এদিকে নদীতে হঠাৎ ঝড় উঠলো খেয়া মনি কোন রকমে তীরে গিয়ে উঠলো। সেখান থেকে তারা আবার চলতে শুরু করলো। রাজকুমারী দেখলো খেয়া মনি আর হাটতে পারছে না।

তখন রাজকুমারী রাজ হাঁস হয়ে খেয়া মনিকে উড়ে নিয়ে গেল। তখন নদীর পাথর গুলো ঢেউ এর পানিতে তলিয়ে গেল। খেয়া মনি বলল, ওহ আমরা এসে গেছি। রাজকুমারী বলল, অনেক উড়ে এসেছ এবার হাটো। তখন খেয়া মনি বলল দারাও তুমি যদি যা খুশি তাই হতে পার তাহলে একবারে তুমি নিয়ে যেতে পারছ না কেন।

কাগজের রাজকুমারী বলে আমি কখনো ড্রাগন দেখি নাই। তখন খেয়া মনি বলল ড্রাগন। এই তো ড্রাগন। তখন কাগজের রাজকুমারী একটা বড় ড্রাগন হয়ে গেল যা ওটার থেকেও দ্বিগুন। যা দেখে ছোট ড্রাগন ভয়ে পালালো আর কখনো ফিরে আসল না।

তারপর কাগজের রাজকুমারী ড্রাগন হয়ে উড়তে শুরু করলো। আর একটা বড় ঝঙ্গল পার হওয়ার পর তারা সমুদ্রের কাছে গিয়ে দাড়ালো। সেখান থেকে তারা ভাসমান রাজ্য দেখতে পেল। তখন খেয়া মনি বলল, ঐ ভাসমান প্রসাদে আমাদের যাওয়ার কোন উপায় নেই।

আমরা যাব কি ভাবে। সমুদ্রে তখন অনেক ঢেউ আর বৃষ্টি হচ্ছিল। খেয়া মনি বলল, আমরা এখন কি করি। তখন এক পাইলট আসলো আর বলল, তোমরা কোন চিন্তা করো না আমি আছি। খেয়া মনি বলল, তোমরা এখানে কি করে এলে। তখন কাগজের রাজকুমারী বলল, আমি ওদের কে নিয়ে এসেছি।

তারপর দলে দলে খেয়া মনির সব খেলনা গুলো চলে আসে। কাগজের রাজকুমারী বলল, কখনো কোন জিনিস কে ছোট করে দেখ না। সেটা খেলনা হোক বা অন্য কিছু। সেটা তোমার কাজে আসতে পারে। কাগজের রাজকুমারী পাইলটের কাছে সাহায্য চাইলো।

পাইলট বলল,চিন্তা করো না আমি তো আছি। তখন পাইলট তাদের কে একটি বিমানে করে ঐ ভাসমান রাজ প্রসাদে নিয়ে গেল। সেখনে যাওয়ার পর দুই গ্রপের মধ্যে যুদ্ব শুরু হয়ে গেল। ঐদিকে কাগজের রাজকুমারী আর খেয়া মনি উড়ে প্রসাদের ভিতরে প্রবেশ করলো।

যখনি তারা প্রসাদের দরজা খুললো তারা একটা ভয়ংকর দৈত্য দেখতে পেল। তাদের কে দেখে দৈত্য টি কাগজের রাজকুমারী কে ধরতে গেল। কিন্তু খেয়া মনি তাদের মাঝখানে এসে দৈত্য কে লাথি মারল। আর রাজকুমারী তার যাদুর দ্বারা দৈত্যটি কে মেরে ফেলল।

রাজকুমারী খেয়া মনিকে বলল এটা তুমি কি করতে চেয়েছিলে। তখন খেয়া মনি বলল,( I AM SORRY )। এই বলে খেয়া মনি চোখ বন্ধ করলো আর রাজকুমারী একটা মুচকি হাসি দিল। তারপর তারা ঐ গোলাপি ডাইনির প্রান ভোমরাটা দেখতে পেল।

কাগজের রাজকুমারী তার ম্যাজিক টুপিটা ঐ প্রান ভোমরার উপর রাখল আর নিমিশেই তা হাওয়া হয়ে মিলিয়ে গেল। আর তখনি কাগজের রাজকুমারী একটা সুন্দরী রাজকুমারীতে পরিনত হল। যা অভিশপ্ত হওয়ার আগে ছিল। তার থেকে অনেক সুন্দর যেন এক প্রিন্সেস ডায়না খেয়া মনি। তখন কাগজের রাজকুমারী খেয়া মনি কে ধন্যবাদ দিল আর বলল তুমি আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু।

পরের দিন সকালে খেয়া মনি ঘুম থেকে উঠে অবাক হয়ে গেল। কি আমি এখানে। তাহলে আমি কি সপ্ন দেখেছিলাম। তারপর খেয়া মনির দাদি আসলো, খুকু তুমি ঘুম থেকে উঠেছ। তখন খেয়া মনি বিছানা থেকে নেমে দৌড়ে তার দাদিমার কাছে চলে গেল। আর বলল, (I AM SORRY ) দাদি।

আমি তোমার সাথে অনেক খারাপ আচরন করেছি। আমাকে মাফ করে দাও। তখন তার দাদি বলে SORRY কেন। খেয়া বলে আমি আমার সব খেলনা ফেলে দিয়েছিলাম। তখন দাদিমা বলে ওগুলো তুমি আবার নিয়ে এসেছ। তোমার সব খেলনা বসার ঘরে রয়েছে।

খেয়া মনি দৌড়ে বসার ঘরে চলে যায়। আর সেখানে গিয়ে দেখলো তার সব খেলনা সাজানো আছে মাঝখানে কাগজের রাজকুমারী রয়েছে। খেয়ার দাদিমা দরজায় এসে দাড়াল আর তা দেখে হাসলো। কেননা, তিনি ছিলেন সেই সন্নাসী যিনি কাগজের তৈরী রাজকুমারীকে মুক্ত করেছিলেন। কেননা কাগজের তৈরী রাজকুমারীর গল্প তিনি তার নাতনিকে শিক্ষা দিলেন।