কষ্টের গল্প-ভালোবাসার উল্টোপিঠ

0
30
কষ্টের গল্প ভালোবাসার উল্টোপিঠ
ভালোবাসার উল্টোপিঠ

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি, মহান আল্লাহ তা-আলার রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে কষ্টের গল্প সম্পর্কে জানাবো। সেই গল্প টির নাম দিয়েছি ভালোবাসার উল্টোপিড । চলুন আর কথা না বাড়িয়ে করি কষ্টের গল্প ভালোবাসার উল্টোপিড গল্প টি।

কষ্টের গল্প

কষ্টের গল্প ভালোবাসার উল্টোপিড গল্প এর আকাশ বলে, আমি ডিভোর্স চাই মায়া, আমার মা বংশের প্রদীপ চান। তুমি অক্ষম তা তুমি জাননা। আমি আমার মায়ের একমাত্র ছেলে। আমি আমার মায়ের কোন ইচ্ছা পূরণ করতে পারিনি। এটা আমার মায়ের প্রথম ইচ্ছা। আর আমার মায়ের এই ইচ্ছা অমান্য করা আমার পক্ষে সম্ভাব না। আমি তোমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেব। সাক্ষর করে দিও। আর একটা কথা দয়া করে কোন ঝামেলা করনা।

আমি জানি তুমি আমার ও আমার মায়ের কোন ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে না। আমারও একটা সন্তান চাই তুমি পারবে দিতে। আমিও বাবা ডাক শুনতে চাই। এখনো কেন তুমি আমার পথের কাটা হয়ে থাকতে চাইছো বলতো? আমার প্রতি একটু দয়া কর মায়া। সমস্যা তো তোমার, আমার তো নয়। আগামী রোববারে ডিভোর্স লেটার আসবে স্বাক্ষর করে দিও।

আমি সামনের মাসে সাথীকে বিয়ে করছি। তোমার দাওয়াত থাকল। চিঠি পরে থমকে গেল মায়া। আকাশ এতটা পরিবর্তন হয়ে যাবে ভাবতে পারেনি, মায়া। খাটে হেলান দিয়ে বসে রইল মায়া। কি করবে ভাবতে পারেনি সে। চোখের কোনা দিয়ে পানি পড়তে লাগল তার।

এই কি সেই আকাশ যে আমাকে হাজার স্বপ্ন দেখিয়েছিল? তার মনে এই প্রশ্ন জাগলো। বিয়ে প্রথম এক বছর তো ভালই ছিল। তারপর মায়ার বাচ্চা না হওয়ায় তাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। মায়া চোখ বুজে হারিয়ে গেল অতিতে।

কষ্টের গল্প ভালোবাসার উল্টোপিড গল্প এ আকাশের সাথে মায়ার পরিচয় হয়েছিল ক্লাস টেনে। তখন আকাশ কেবল ইন্টারে পড়ে। এক বৃষ্টি মুখর সন্ধায় দেখা হয় তাদের। স্কুল ড্রেস পড়া দুই বেনুনি করা মেয়েটাকে দেখে চোখ আকটাতে পারেনি আকাশ।

সেই থেকে শুরু হয় তাদের প্রেম। মায়ার স্কুলের সামনে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকত আকাশ। মায়া প্রথমে বুঝতোনা। স্কুল শেষ করে যখন মায়া ফুসকা খেতে যেত, তখন আকাশ তার গায়ে ভেজা শার্ট গরমে চুবচুবে হয়েও অনেক প্রশান্তি পেত সে। এই মেয়েটা শান্ত, নিষ্পাস মুখটা দেখতে অনেক মায়াবী। মেয়েতো নয় একটা পরী।

বেকার জীবনের ভালবাসা

মায়া প্রথমে খেয়াল না করলেও পরে তা বুঝতে পারে তার পিছনে একটা ছেলে প্রায়াই পিছু নেয়। মায়া খুব শান্ত, শিষ্ট ও ভদ্র মেয়ে। প্রেম ভালোবাসার পাশ দিয়ে সে যেতনা। একদিন আকাশ মায়াকে বলেই ফেলল তার ভালোবাসার কথা। প্রথমে মায়া তার এই প্রস্তাব রাজি হয়নি।

বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান সে। মূলত সে কারণে মানতে পারেনি। তার বাবা কত স্বপ্ন তাকে নিয়ে। আকাশ ছিল নাছরনান্দা সে যে করেই হোক না কেন সে প্রেম করবে। আকাশ তখন আত্বহত্যার ভয় দেখায় মায়াকে।

আকাশের কথায় কি ছিল তা জানত না মায়া তারপরও মেনে নিল মায়া। তারপর থেকে ঘুরে বেরা, স্কুল ফাঁকি দেওয়া, মুভি দেখা, পার্কে বেড়ানো আরও অনেক কিছু। সাথে বাদাম খাওয়া তো আছে। প্রেমিক প্রেমিকা একসাথে বাদাম খাওয়ার মজাই আলাদা।

কিশোরী মায়া আকাশের প্রেমে পাগল হয়ে গিয়েছিল। আকাশেরও একই অবস্থা। মায়াকে ছাড়া সে যেন একা। তখন মায়া কলেজে পড়ে। আকাশ অনার্সে, একদিন মায়ার বাবা তাদের কে দেখে ফেলে একসাথে। সে দিন হাত ওঠেছিল তার কলিজার টুকরো মেয়ে মায়ার উপর। মায়ার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল তার বাবা।

কষ্টের গল্প ভালোবাসার উল্টোপিড গল্প এর মায়া যখন ভার্সিটিতে পড়ে তখন তার বিয়ের প্রস্তাব আসা শুরু হয়। আকাশের প্রেমে পাগল মায়া বিয়ে করবে না জানিয়ে দেয়। আকাশের তখন চাকুরী নেই, মায়ার বাবা তার মেয়েকে একটা বেকার ছেলের হাতে তুলে দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। এদিকে আকাশ সময় চাচ্ছে, মায়া খুব বিপদে পড়ে গেল। একদিকে পরিবার অন্য দিকে তার ভালোবাসা।

বয়স তো আর থেমে থাকে না। এর মাঝেই মায়ার বাবা মারা যায়। মায়ার মা একবারেই পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলেন। অনেক মানুষের কটু কথা শুনতে হয়েছে মায়াকে। তারপর এল তার শুভক্ষণ। দীর্ঘ আট বছরের ভালোবাসা পূর্নতা পেল তাদের।

প্রথম এক বছর খুব ভালোভাবে ছিল। ভালোবাসায় ভরে গিয়েছিল তাদের সংসার। আকাশের পরিবারে তার বাবা মা আর তার বড় বোন, আর কেউ নেই। আকাশের বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে এখন তিন জনের সংসার আকাশ যেন মায়াকে চোখে হারায়।

বিয়ের পর ভালোবাসার উল্টোপিঠ

মায়ের বারণ না শুনেও ছেলেটাকে বিয়ে করে অনেক সুখি হয়েছে। শাশুড়ি মায়ের ব্যবহারও ভালো। আকাশ মায়াকে বাসর রাতে কপালে চুমু খেয়ে বলেছিল, যতই বিপদ আসুক না কেন আমরা একে অপরকে ছেড়ে যাবনা। পাশে থাকব সবসময়। আকাশ তার কথা রাখেনি।

বিয়ের ছয় মাস পর প্রেগন্যান্ট হয়ে যায় মায়া। চারদিকে খুশির আমেজ। আকাশকে যখন বলেছিন তখন সে খুব খুশি হয়েছিল। সারা গ্রামে মিষ্টি বিতরন করেছিল সে। তবে বিপত্তি ঘটে তিন মাসের বেলায়। সিরি থেকে পড়ে মিসক্যারেজ হয়ে যায় মায়া।

ডাক্তার তখন বলেছিল, মা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম মায়ার। মায়া কখনো কল্পনা করতে পারেনি তার আকাশ, এই আট বছরের ভালোবাসা এতো বাজে ভাবে নিবে। এটা তার কল্পনার বাহিরে ছিল। আকাশ এত নিষ্টুর হবে তার জানা ছিল না। শুরু হয়ে গেল তাদের ভালোবাসার উল্টপিঠ

শাশুড়ির নতুন রুপ দেখে মায়া পুরো অবাক হয়ে গিয়েছিল। কথায় কথায় তাকে বলতো কালনাগিনি, হতভাগি, কলংকিনি আরও কতো কি। আকাশ সব দেখেও ভাবলেশহীন। তার যেন কিছুই আসে যায় না। মায়ার সাথে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছে সে। কেবল তাকে রাতে প্রয়োজনীয় সময় টুকু কাছে টেনে নেয়। সে সময় জান, প্রাণ বললেও সকালে আবার আগের মতো।

একদিন এক ঘটনা ঘটে গেল, মায়ার আজও মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। তরকারিতে লবণ বেশি হয়েছিল বলে মায়ার শাশুড়ি তার দিকে প্লেট ছুরে মেরেছিল। আকাশ বাড়িতে ছিলনা। ইচ্ছা মত গালি দিয়ে মায়ার গালে একটা চর মেরেছিল তার শাশুড়ি। বেয়াদব, অসভ্য তুমি আমার ছেলের মাথাটা খেয়ে ফেলছো।

বাজে মেয়ে, তুই তো মা হতে পারবিনা। যখন তোর মা দেখেছে আমার ছেলে সরকারী চাকুরী পেয়েছে। তখনি তোর মা বিয়েটা দিয়ে দিল। বাটপারের দল কোথাকার। তুই মরতে পারিস না অলক্ষী। তোর বাপ তো বেঁচে গেছে মরে গিয়ে।

মা আপনি দয়া করে আমার বাবা সম্পর্কে বাজে কথা বলবেন না। মায়ার শ্বাশুরী আরও রেগে গেলেন। আজ আমি যদি তোকে বাড়ি থেকে বের করে না দিছি তাহলে আমার নামও আছমা বেগম না। ( কষ্টের গল্প-ভালোবাসার উল্টোপিঠ মায়ার শাশুড়ির নাম আছমা বেগম)।

কষ্টের গল্প সংসার জীবনে অশান্তি

মায়া দৌরে গেল তার ঘরে। আর কত সহ্য করবে সে। সেও তো একটা মানুষ। আর রাতে যখন বাড়ি ফিরল আকাশ তখন তার মা তাকে অনেক কথা বলে রাগিয়ে দিল। এমনিতে কেবল অফিস থেকে ফিরছে সে। তার উপর আবার পারিবারিক এসব কথা। মাথা খারাপ হয়ে গেল এ সব কথা শুনে।

ঘরে গিয়ে ডাকল মায়াকে। মায়া তুমি ঘুমিয়ে গিয়েছ। আকাশের ডাকে ঘুম ভাঙ্গল তার। চোখ মুছে যখনে আকাশ কে কিছু বলতে যাবে তখনি আকাশ মায়াকে একটা চর মেরে দেয়। মূহুর্তে হতভম্ভ হয়ে যায় মায়া। তারপর ইচ্ছা মত মারে মায়াকে। মায়া কোন শব্দও করেনি, মার খেতে খেতে এক সময় জ্ঞান হারায় মায়া।

আকাশ ক্লান্ত হয়ে বের হয়ে যায় ঘর থেকে। পরের দিন মায়া চলে আসে তার বাবার বাড়ি। মায়ার এ অবস্থা দেখে তার মা মামলা করতে চায় কিন্তু মায়া তা করতে দেয়নি। এর পরের দিন আকাশ এসে হাতে পায়ে ধরে মায়াকে নিয়ে যায়। তারপরও একটুও নির্যাতন কমেনি মা ও ছেলের। মায়া অনিচ্ছা থাকা সত্বেও আকাশ মিলিত হত তার সাথে। সে যেন ভোগের পন্য মাত্র।

এভাবে শ্বশুর বাড়িতে ঝামেলা হয়, সে বাপের বাড়ি চলে আসে। আবার আকাশ এসে নিয়ে যায়। কয়েক মাস ধরে এভাবে চলছিল। পাড়া-প্রতিবেশির কথায় আর কান দেয় না মায়া। এইবার যখন আসল তখন আর আকাশ নিতে আসেনি মায়াকে। প্রায় চার মাস একবারের জন্যও আসেনি আকাশ। এবার আসার আগে তার শাশুড়ি তার হাতে গরম তেল ঢেলে দেয় তারপরও আকাশ তার মাকে কিছু বলেনি। সেই রাগে চলে আসে মায়া।

এবারও মায়া ভেবেছিল আকাশ আসবে কিন্তু আসেনি। এক মাস, দুই মাস, তিন মাস, চার মাস কেটে গেলে তারপরও আসলোনা। এসেছে আকাশের ক্ষত-বিক্ষত চিঠি। চোখের পানি মুছে নিজের পেটে হাত বুলায় মায়া। আকাশ কি জানে তার সন্তান আমার পেটে বেড়ে ওঠছে?

মা আকাশ ডির্ভোস চায়। মেয়ের কথা শুনে চমকে ওঠলো মায়ার মা মর্জিনা। কি বলছো তুমি এগুলা। আকাশকে বাডিতে ডেকে নিয়ে আয় আমি তাকে বুঝিয়ে বলবো।

কষ্টের গল্প একে অপরকে ডিভোর্স

আল্লাহর দোহাই লাগে মা। তুমি এমন করবে না। তোর মাথা ঠিক আছে মায়া। পেটে যে একজন বেড়ে ওঠছে সে খেয়াল আছে তোমার। বাবা ছাড়া সন্তানকে কিভাবে বড় করবে তুমি। মা তোমার মেয়ের উপর ভরসা নেই তোমার?

আকাশ আমাকে ছেড়ে দিতে চাইছে আমি কেন তার পথের কাটা হয়ে দাঁড়াব। মর্জিনা বেগম আর কথা বাড়ালেন না। ডির্ভোস পেপারে সাক্ষর করার সময় একটুও কাঁদেনি মায়া। যে ভালোবাসার মর্যাদা দিতে জানেনা তার জন্য চোখের পানি ফেলা বৃথা। কি লাভ হবে আকাশের জন্য কেঁদে।

এর মধ্যেই ডির্ভোস হয়েছে তাদের। মায়া এখনো আকাশের প্রাক্তন। মায়া মৃদু হাসল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে  তার কানে শুধু একটা কথা বাজে প্রান্তণ। পাঁচ মাসে তার পেটটা ফুলে ওঠেছে অনেকটা। মায়া তার পেটে আবার হাত দিয়ে হাসে আর বলে সোনা আমি তোর মা তুই আমাকে বাবা ডাকিস।

আজ আকাশের বিয়ে। সাথী নামের মেয়েটার সাথে। আকাশের মামাতো বোন। মায়ার কেন জানি মনে হত সাথী আকাশকে পছন্দ করে। নারীর মনের শঙ্কাই সঠিক হল। সময় বুঝে সাথী নামের মেয়েটা তাদের সাজানো গোছানো সংসারটা কেরে নিতে যাচ্ছে। আজ আকাশের বিয়ে, কি সুন্দর করে সাজানো হয়েছে চারপাশ। মায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

না, মায়ার একটুও খারাপ লাগছে না। হাতে করে খুব সুন্দর একটা উপহার নিয়ে এসেছে মায়া। আকাশের বিয়ে পরানো শেষ। সোফায় নতুন বউয়ের পাশে বসে আছে সে। মায়া অনেক দূর থেকে এক নজর দেখল। মায়া এই দৃশ্য দেখার পর তার মনে হল কেউ যেন, তার বুকে তীর ছুরে মারছে।

মুখে হাসি ফুটিয়ে এগিয়ে গেল আকাশের সামনে। উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে গেল। আকাশও অবাক হয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে পর্যবেক্ষন করল। উঁচু পেটটা দেখে তার মনে হাজার প্রশ্নের ছড়াছড়ি। আকাশ মায়াকে টেনে নিয়ে গেল তার ঘরে।

আর বলল, মায়া এসব কি? তুমি তো দেখতে পারছ আবার প্রশ্ন কর কেন? একটু ফাজলামি করে বলল মায়া। রাগে মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে আকাশের। পাশ থেকে কাঁচের জগটা তুলে আচার মারল সে। চিৎকার করে বলল, হেয়ালি করবেনা আমার সাথে।

আকাশের বিয়ের দিন

তুমি প্রেগন্যান্ট আমাকে আগে বলনি কেন? মায়া বলল আমি প্রয়োজন মনে করিনি, তাই বলিনি। আমার বাচ্চা ও। তুমি কেন এমন করলে মায়া। বল তুমি? জাবাব দাও? মায়া বলল একদম চিৎকার করবে না। তুমি দাওয়াত করেছ তাই আমি এসেছি।

নিজের চোখে দেখলাম তোমার নতুন বউ। তুমি সুখে থেকো, ভালো থেকো আসি। তুমি কোথাও যাবেনা আমার ভালোবাসার কি কোন মূল্য নেই তোমার কাছে? এই কথাটি শোনার পর হো-হো করে হেসে উঠল মায়া। কে কি বলে। ভেবেছিলাম আজ তোমার খুশির দিন কিছুই বলব না। আর তুমি আমাকে ভালোবাসার গল্প শোনাচ্ছো।

কিন্তু তুমি বাধ্য করলে আমাকে কথা বলতে। আদৌ কি তুমি বোঝ ভালোবাসা কি? তুমি আমার আট বছরের ভালবাসা ছিলে আকাশ। দুই বছরের সংসার। আর আমার একটা অক্ষমতা কতটা পরির্বতন করে দিয়েছে তোমাকে।

তোমার মা আর তুমি দু-জনে মিলে কি করনি আমার সাথে। আমার শরীরের প্রতিটি জায়গায় তোমার মায়ের আঘাতের চিহ্ন আছে। এই তোমার ভালোবাসা। একটা সন্তান কি সব? কথা বলো আমি কিছুই না। আসলে তুমি একটা বিশ্বাস ঘাতক। আমার মনে হয় তোমায় প্রিয়সী ছিলাম না। আমি ছিলাম তোমার মোহ। আকাশ বলল, মায়া তোমার এই কথাটা ভুল।

উঁহু, কোন কথা নয় আকাশ। আমি কোন ভুল বুঝিনি। তুমি আমাকে ভালোবাসলে অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে পারতে না, আকাশ। যেমন সচ্ছ আয়না একবার ভেঙ্গে গেলে আর জোরা লাগেনা তেমনি আমার মনটা ভেঙ্গে গেছে আকাশ। আমি তোমাকে পাগলের মতো চাইতাম। আমি কতটা বোকা তাই না? আমার মায়ের বিরুদ্ধেও তোমাকে বিয়ে করলাম।

আর তুমি? না থাক এসব কথা। বিয়ে তো করলে দোয়া করি নতুন বউ নিয়ে সুখে থাকো। আমি না হয় তোমার সাথে কাটানো সময় গুলো দুঃস্বপ্ন হিসাবে ভুলে যাব। এই নাও তোমার উপহার। দয়া করে আমার জীবলে নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করনা। মায়া চলে এল সকল বন্ধন ছিন্ন করে। পিছনে ফেলে আসল একটা তিক্ত অতীত।

আকাশ হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছে আল্ট্রাসনগ্রাফির রিপর্টের দিকে। কেটে গিয়েছে পাঁচটা বছর। ঢাকা মেডিকেল কলেজের এদিক-ওদিক দৌড়াচ্ছে আকাশ। হাতে ঔষধের লম্বা লিস্ট।

কষ্টের গল্প আকাশের সাথে মায়ার দেখা

হঠাৎ পরিচিত একটা মুখ দেখে থমকে গেল সে। এগিয়ে গেল পরিচিত মুখটার কাছে। মেয়েটার কোলে বছর পাঁচেকের একটা মেয়ে বাচ্চা। কি সুন্দর মুখ। দুইটা বেনি করা। বাচ্চাটা দেখতে পুরোপুরি আকাশের মত।

মায়া ঢাকা এসেছে অনেক বছর পর। প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা সে। মা, মেয়েকে নিয়ে রাশাহীতে থাকত এতদিন। ঢাকা এসেছে একটা কাজে। আশার হঠাৎ জ্বর হওয়ায় হাসপাতালে আসা। মায়া, হঠাৎ ডাকটা শুনে চমকে গেল। সেই তিক্ত পরিচিত ডাক। আস্তে আস্তে সামনে আসে সেই মুখ। বিশ্বাসঘাতকের মুখ।

কেমন আছো মায়া। আশা তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। শত কষ্টের মাঝেও ছোট মেয়েটার চাহনি দেখে মৃদু হাসল আকাশ। হাসতে সে ভুলে গেছে প্রায়। আমাকে জিজ্ঞাস করবে না কেমন আছি। মায়া বলল, ভালো থাকারি তো কথা। তা হসপাতালে কেন? তোমার বউ প্রেগন্যান্ট বুঝি। না সাথীর ক্যান্সার ধরা পরেছে। প্রায় ছয় মাস ধরে হাসপাতালে আছি।

ওহ, তোমার মা কেমন আছে। মা দুই বছর আগে রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে। এই খবরটা শুনে খারাপ লাগল মায়ার। যাই হোক না কেন এক সময় তো মা বলে ডেকেছে ওনা কে। আশা দূরে আচারওয়ালে কে দেখে বলল, মা মা আচার খাবে।

মেয়েটার নাম আশা শুনে অবাক হল আকাশ। অবাক চোখে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। মায়া তার মেয়ের গালে চুমু দিয়ে বলে বাসায় গিয়ে বানিয়ে দেব সোনা। এগুলো ভালো না মা। ছোট আশা মাথা নাড়ায়। সে মায়ের কথা শুলে বলে আচ্ছা। আমার কোলে তোমার মেয়েকে একটু দিবে মায়া।

আকাশ অসহায় গলায় অনুরোধ করে মায়াকে। মায়া আরও শক্ত করে ধরে আশা কে। যদি তার কলিজার টুকরো মেয়েকে নিয়ে যায় আকাশ। আকাশ এই কান্ড দেখে একটু মৃদু হাসে। থাক দেয়া লাগবে না। আমি তোমার মেয়েকে নিয়ে যাব না। হাফ ছেড়ে বাঁচে মায়া। তবে আকাশের দিকে তাকায় সে। লোকটা আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছে। সেই উজ্জলতা আর নেই। চোখের নিচে কালো দাগ পরেছে, কতদিন ঘুমায় না কে জানে।

ভালোবাসার শাস্তি

তুমি জান মায়া আমি আমার শাস্তি পেয়েছি। বিয়ের পর চার বার মিসক্যারেজ হয় সাথীর। তারপর মা মারা যায়। সে শোক না কাটিয়ে ওঠতেই সাথীর ক্যান্সার ধরা পরে। মায়া সব কথা শুনছে সে আর কি বলবে।

তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও মায়া। আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারব কিনা জানিনা তবে তোমার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই। আর আমার মাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। তোমার মাকে আমি অনেক আগে ক্ষমা করে দিয়েছি। আজ আসি, ভালো থেকো। ওখান থেকে চলে আসে মায়া।

আশা তখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আকাশ অনেক বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে। আজ হয়তো তার একটা সংসার হতে পারত। তারপর তাদের আর কখনো দেখা হয়নি, ঠিক ভালোবাসার উল্টোপিড গল্প এর মত।

বন্ধুরা, এই কষ্টের গল্প ভালোবাসার উল্টোপিড গল্প টি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে। তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দেবেন। ধন্যবাদ