কলিজা খেকো পরী রানীর গল্প

0
33
কলিজা খেকো পরী রানীর গল্প মজার
কলিজা খেকো পরী রানীর গল্প

আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের কে একটা মজার গল্প বলবো। আশা করি গল্প টি সবার ভাল লাগবে। আর গল্প টির আমি নাম দিয়েছি কলিজা খেকো রানী পরীর গল্প। চলুন বন্ধুরা দেরি না করে শুরু করা যাক কলিজা খেকো রানী পরীর গল্প টি –

কলিজা খেকো রানী পরীর গল্প

পরী রাজ্যে গোলাপি নামে এক পরী বাস করতো। সে অনেক সুন্দরী ছিল। সে যেমন সুন্দরী ছিল ঠিক তেমনি বুদ্ধিমতি ছিল। আর সে ছিল পরী রাজ্যের পরী রানী গোলাপি। গোলাপি পরী তার রাজ্যেকে দেখে শুনে রাখতো।

পরী রাজ্যের সব পরীরাই খুব ভাল ছিল। পরী রাজ্যে সবাই একে অপরের সাথে মিলেমিশে বাস করতো। প্রতিদিন পরী রানীর মেয়ে নিসি পরী তার বান্ধবীদের নিয়ে বিকালে ফুলের বাগানে ঘুরতে যেত।

সে দিন নিসি পরী তার বান্ধবী সোনালি পরি কে বলল, তুমি আজ আমাকে গান গেয়ে শুনাবে। আর সাদিয়া পরী তুমি আজ গানের সাথে নাচবে। তারা দুজনে নিসি পরী কথায় রাজি হয়ে গেল। আর সোনালি পরী গান বলল, আর সাদিয়া পরী তার গানের তালে তালে নাচতে শুরু করলো।

আর বাকি পরীরা তা দেখলো। এভাবে প্রতিদিন তারা বিকালে বাগানে মজা করতো। একদিন পরী রাজ্যের পরী রানীর মেয়ে নিসি পরী বাগানে ঘুরতে গেল তার বান্ধবী দের নিয়ে।

সেদিন তারা সবাই দেখলো পরী রাজ্যে ফুলের বাগানে কলিজা পরে আছে। আর আশেপাশে অনেক রক্ত জমাট বেধে আছে। কলিজা দেখে নিসি পরী অন্য পরীদের বলল, এখানে এই ফুলের বাগানে কাচা কলিজা কে খেয়েছে ছিঃছিঃ।

নিসি পরীর কথা শুনে এক পরী বলল, এই রক্ত আর কাচা কলিজা দেখে আমার বমি চলে আসছে।বাগানের এ অবস্থা দেখে কিছু পরী অসুস্থ হয়ে গেল কেউ কেউ বমি করলো। এ অবস্থায় নিসি পরী তার মা রানী পরীকে বলল, মা আমরা প্রতিদিনের মত সবাই ফুলের বাগানে গিয়েছিলাম ঘুরতে।

সেখানে গিয়ে আমরা দেখি রক্ত আর কাচা কলিজা পরে আছে। নিসি পরীর কথা শুনে রানী পরী বলল, এরকম তো হওয়ার কথা নয়। কেননা আমাদের পরী রাজ্যের কেউ তো কখনো কলিজা খায় না। আবার সে কলিজা তাজা।

তখন নিসি পরী বলল, জ্বি মা তাজা কলিজা। নিসি পরীর কথা শুনে পরী রানী বলল, ঠিক আছে আমি বিষয়টা দেখছি। আর তুমি একটু নজর দিয়ে দেখ আর সাবধানে থেকো। আচ্ছা মা ঠিক আছে, তুমি কোন চিন্তা  করো না।

মজার গল্প কলিজা খেকো পরীর সন্ধানে

এরপর রানী পরীর মেয়ে নিসি পরী সাদিয়া পরী কে বলল, দেখ সাদিয়া আমার সব সময় বাহিরে থাকা সম্ভব না। তাই তুমি একটা কাজ করো, দেখ আমাদের পরী রাজ্যে কে এরকম কাজ করে। তখন সাদিয়া পরী বলল, তুমি ঠিক বলেছো। প্রতিদিন এরকম দেখতে আমাদের আর ভাল লাগে না।

আমার অনেক খারাপ লাগে। নিসি পরী বলল, আমারো অনেক খারাপ লাগে। তারপর নিসি পরী তার কয়েকজন বান্ধবীদের নিয়ে ঐ ফুলের বাগানে নজর দেয়া শুরু করলো। অনেক সময় চলে গেল।

কিন্তু কেউ ফুলের বাগানে আসলো না। তখন নিসি পরী তার বান্ধবীদের বলল, কোথায় কেউ তো আসলো না। তার বান্ধবী বলল, ঠিকি বলছো কেউ তো আসতেছে না। তখন নিসি পরী তার বান্ধবীদের বলল, আমরা আর কিছুখন দাড়িয়ে থাকি।

তার বান্ধবীরা বলল, অনেক রাত হয়ে গেছে। আর কতখন দারিয়ে থাকবো। তখন নিসি পরী তাদের কে বলল, তোমরা এখানে থাকো। আমি একটু আশে পাশে ঘুরে দেখে আসি।

এরপর নিসি পরী তাদের কে রেখে আশেপাশে দেখতে গেল বাগানে অন্য কোথাও আছে কিনা। ঠিক তখনি নিসি পরীর বান্ধবীরা দেখলো কেউ তাদের দিকে আসছে। তখন সাদিয়া পরী তার বান্ধবী কে বলল, এই দারাও কেউ আমাদের দিকে আসছে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখ।

সাদিয়া পরীর বান্ধবী বলল, আমরা তো স্পষ্ট মানুষটাকে দেখতে পাচ্ছিনা। একটু সামনে চলো না। তারপর  তারা সবাই একটু সামনে চলে গেল। তারা সবাই কাছে গিয়ে দেখলো সোনালি পরী কাচা কলিজা খাচ্ছে। আর তা দেখে সব পরীরা অবাক হয়ে গেল।

তখন সাদিয়া পরী বলল, এটা তো আমাদের বান্ধবী সোনালি পরী। আর ও কাচা কলিজা খাচ্ছে। সোনালি পরীর কাচা কলিজা খাওয়া দেখে তারা সবাই নিসি পরীর কাছে চলে গেল।তারপর সব পরী নিসি পরীর কাছে চল গেল। আর সোনালি পরীর সব কথা বলে দিল।

নিসি পরী তাদের কথা শুনে অনেক রেগে গেল। পরের দিন সোনালি যখন নিসি পরীর সাথে দেখা করতে আসলো। তখন সোনালি পরী কে দেখে নিসি পরীর বলল, শোন সোনালি তুমি আর কোন দিন আমার সাথে দেখা করতে আসবে না।

রুপকথার গল্প কলিজা খেকো ডাইনি

আর আমি যেন তোমাকে আমার আশেপাশে না দেখি। তোমার সাথে পরী রাজ্যের আর কেউ মিশবে না। তখন সোনালি পরী বলল, কেন আমি কি করেছি। তারপর নিসি পরী সোনালি পরী কে কাচা কলিজা খাওয়ার কথা খুলে বলল।

নিসি পরীর কথা শুনে সোনালি পরী বলল, নানা এ কাজ আমি কখনো করতে পারি না। সোনালি পরীর কথা শুনে নিসি পরী বলল, অন্য পরীরা কি ভুল দেখেছে। আর তুমি এই কাচা কলিজা খেয়েছো। আমি তোমাকে অনেক ভালবেসে ছিলাম।

আর এখন আমি মাকে গিয়ে কি বলবো। যে আমার বান্ধবী কাচা কলিজা খায়। একথা বলে নিসি পরী সোনালি পরী কে তার ঘর থেকে বের করে দিল। আর সোনালি পরী ঘরে এসে অনেক কাদতে থাকলো। তারপর সোনালি পরী নিজে নিজে চিন্তা করলো।

আমাকে এভাবে ভেঙ্গে পরলে চলবে না। আমাকে খুজে বের করতে হবে পরী রাজ্যে এই কাচা কলিজা কে খায়। সোনালি পরী অন্য পরীদের সাথে কথা বলতে গেল। কিন্তু কোন পরী তার সাথে কথা বলল না।

তারা বলল, আমরা কেউ তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক না। ঠিক আছে, কেউ তোরা আমার সাথে কথা না বলিস। কিন্তু আমি প্রমান করে ছারবো কে এই কাচা কলিজা খায়। তারপর সোনালি পরী একা ঐ ফুলের বাগানে গিয়ে লুকিয়ে থাকলো।

সে বলল,আজ আমি বের করে ছারবো কে এই পরী রাজ্যে কাচা কলিজা খায়। তারপর সে দেখলো কে যেন তার দিকে আসছে। কিন্তু সোনালী পরী তাকে দেখে অবাক হয়ে গেল। সে দেখলো তার মত এক পরী কাচা কলিজা খাচ্ছে।

সে তাকে দেখে বলল, এ তো দেখছি হুবহু আমার মত। এই জন্য সবাই আমার কথা বিশ্বস করে না। আর এটা কিভাবে সম্ভম। তারপর সোনালি পরী দেখলো ঐ পরী কাচা কলিজা খাচ্ছে। সোনালি পরী তার কাচা কলিজা খাওয়া দেখে অসুস্থ হয়ে পরলো।

মজার গল্প পরীর রুপ ধরে ডাইনি

কাচা কলিজা খেয়ে যখন ঐ পরী যাচ্ছিল। তখন সোনালি পরী তার সাথে উরে গেল। এরপর সেই পরী একটা গুহার ভিতরে ঢুকলো। সোনালি পরী ও তার সাথে গুহার ভেতর ঢুকে গেল। সেখানে গিয়ে সোনালি পরী দেখলো, সে কোন পরী না সে হল একজন রাক্ষসি।

সে গুহায় গিয়ে বলল, আমি সেই দিন একটা পরী কে দেখে ছিলাম। আর ওর রুপ ধরে আমি আজ পরী রাজ্যে কাচা কলিজা খাচ্ছি। আর কিছু দিন পর আমি এত কলিজা খাবো। পরীরা তাদের রাজ্যে থাকতে পারবে না। কারন পরীরা কাচা কলিজা খেতে পছন্দ করে না।

এর কারনে পরী রাজ্যের সব পরী, রাজ্যে থেকে চলে যাবে। তারপর আমি হবো পরী রাজ্যের রাজা। হা হা হা। রাক্ষসির সব কথা সোনালি পরী শুনে ফেললো। তারপর সোনালি পরী রানী পরী ও নিসি পরী কে সব কিছু খুলে বললো।

সোনালি পরীর কথা শুনে পরী রানী বলল, ঠিক আছে আমি এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এরপর রানী পরী তার রাজ্যের জন্য নিরাপত্তার  ব্যবস্থা করলো। যখন রাতে রাক্ষসি পরী রাজ্যে ঢুকতে গেল। তখন সে দেখলো ভিতরে ঢুকতে পারছে না।

রাক্ষসি তখন বলল, কি ব্যপার আমি ভিতরে ঢুকতে পারছি না আর কি করেছে পরীরা। ঠিক তখনি নিসি পরী ও সোনালি পরী চলে আসলো। তখন সোনালি পরী রাক্ষসি কে বলল, তুই আমার রুপ নিয়ে এই পরী রাজ্যে কাচা কলিজা খেয়েছিস।

আর তুই কোনদিনও এই পরী রাজ্যে ঢুকতে পারবি না। কেননা আমি তোর সব কিছু জেনে গেছি। তাদের কথা শুনে রাক্ষসি বলল, আমি তোমাদের দেখে নেব। এই বলে রাক্ষসি সেখান থেকে চলে গেল। এরপর পরী রাজ্যের সব পরীরাই আগের মত মিলেমিশে বাস করলো।

বন্ধুরা, আমরা পরীর মজার গল্প থেকে শিক্ষতে পারলাম, নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে কখনো বিপদে ফেলা যাবে না। কেননা, একদিন সেই বিপদে নিজেকে পড়তে হবে। যেমন টা হয়েছে পরীর মজার গল্প রাক্ষসির জীবনে।