কবরস্থান এর গল্প

0
35
কবরস্থান এর গল্প
কবরস্থান এর গল্প

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের কে একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে কবরস্থান এর গল্প বলবো। আর আমি আমার গল্পটির নাম দিয়েছি কবরস্থান এর গল্প। যা ঘটে ছিল আমার বাস্তব জীবনের সাথে। চলুন কথা না বাড়িয়ে গল্পটি শুরু করা যাক-

কবরস্থান এর গল্প

সেই রাত যে রাত আমার জীবনের সাথে কালো রাত হয়ে মিশে আছে। যে রাতের কথা আমি কোন দিন ভুলতে পারবো না। সেই রাত আমার জীবনের সাথে কাহিনী হয়ে মিশে  আছে। যে রাত কোন ভাবেই কোন মানুশ তার জীবন থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। ঠিক তেমনি আমার জীবন থেকে, সেই কবরস্থানের কাহিনী কখনো ভুলতে পারবো না। আজ আমি আপনাদের সেই কবরস্থান এর গল্প বলবো।

সেই রাত যে রাতে আমার বাবা মা কোন এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য আমাকে বাসায় একা রেখে চলে যায় এবং আমার বন্ধুর বাবা মা একই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য আমার বন্ধুকে আমার বাসায় রেখে যায়। তারা সবাই চলে যাওয়ার পর মনে হল আমরা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়ে গেছি। আমরা দুজনে তখন গেম খেলা শুরু করি। গেম খেলতে খেলতে রাত তখন বারটা বেজে যায়।

কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আমাকে বলল, চল আমরা বাহির থেকে ঘুরে আসি। আমিও ওর কথায় রাজি হয়ে গেলাম। তারপর দুজনে মিলে একা একা বাহিরে ঘুরতে বের হলাম। বাহিরে বের হয়ে দেখি রাস্তায় একজন  মানুষও নেই। কিন্তু ওদিকে আমাদের কোন খেয়াল ছিল না। আমরা শুধু সামনে হাটতে থাকি আর এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করি। রাতের আকাশে চাঁদ তারা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। রাতের পরিবেশটা যেন আমাদের কাছে অনেক সুন্দর হয়ে উঠেছিল। কি ভাবে যে সময় পার হয়ে রাত গভীর হয়ে যাচ্ছিল, আমরা দুজনের কেউ খেয়াল করি নাই।

আমরা হাটতে হাটতে দুজনে আমাদের এলাকার কবরস্থানের কাছে চলে আসি। কবরস্থানে যাওয়ার পর আমার বন্ধু আমাকে বললো, আজ আমরা অনেক সময় পেয়েছি তো দেখা যাক কে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাহসী। বেশি কিছু করতে হবে না শুধু কবর স্থানের ভিতরে, একা একা পাঁচ মিনিট থেকে আবার চলে আসবে। আমি ওর কথায় রাজি হয়ে গেলাম এবং আমিই প্রথমে চলে গেলাম। আমি নিজে থেকেই ভিতরে ভিতরে সাহস তৈরী করে নিলাম। আমি ওকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে, ওর থেকে আমি বেশি সাহসী।

কবরস্থান এর ভূত

আমি তখন কবরস্থানের দিকে চলে যাই এবং গেটের ভেতর দিয়ে কবরস্থানে ডুকে পরি। কিন্তু কবরস্থানে যাওয়ার পর আমার অনেক ভয় হয়েছিল। নিজের সম্মানের  জন্য আমি ওখানে থেকে যাই। কথামত আমি পাঁচ মিনিট পর চলে আসি। এবার ওর যাওয়ার পালা। ও কবরস্থানের দিকে চলে গেল। কিন্তু আমার বন্ধু পাঁচ মিনিটের যায়গায় তিন মিনিট পর চলে আসলো। আমি আমার বন্ধুর চেহেরার দিকে তাকাই এবং আমি নিজেই ভয় পেয়ে যাই। ওর চেহেরায় পরিবর্তন আমাকে অনেক ভয় পাইয়ে দেয়। আমি মূদু কন্ঠে বন্ধু কে বললাম কি হয়েছে?

সে বললো, ওখানে কবরের উপর একটি লোক বসে আছে। আমি ওর কথা শুনে অনেক ভয় পেয়ে গেলাম। ওর কথা শুনে আমার বুক থরথর করে কাপতে শুরু করলো। তখন আমার ভয় আরো বেশি বেড়ে গেল। কেননা তখন রাত প্রায় একটা থেকে দেরটা বাজে। তখন আশপাশে কোথাও কোন মানুষ ছিল না। আর এই সময় এত রাতে একা একটি লোক কবরস্থানে কি করে। তখন আমি আমার বন্ধু কে বললাম, চল তোর সাথে আমি গিয়ে দেখে আসি। তুই আসলে কাউকে দেখেছিস কিনা আর কবরের উপর লোক টি কি করে। তখন বন্ধু আমাকে যেতে নিষেধ করে এবং ও যেতে রাজি হয় না। আমি ওকে জোর করে নিয়ে গেলাম।

আমরা দুজনে কবরস্থানের ভেতরে চলে যাই। ভেতরে যাওয়ার পরে আমার বুক আরো বেশি কাপতে শুরু করে। আমার ভয়ের মাত্রা আরো বেশি বেরে যায়। ভেতরে গিয়ে যা দেখতে পেলাম, আমার বন্ধু আমাকে যা বলেছিল তা সব সত্য। আমি ওর কথা বিশ্বাস করে ছিলাম না বলে। তারপর ভেতরে এসে যা দেখলাম, তা দেখে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ও যেভাবে বলেছিল ঠিক সেই ভাবে একটি লোক বসে আছে কবরস্থানের উপর। যে লোকটি একা কবরস্থানের উপর এমন করে বসে আছে যা দেখে আমি নিজেই ভয় পেয়ে গেলাম।

কবরস্থান এর সেই রাত

লোকটি যেভাবে বসে আছে মনে করলাম, ঐ কবরটি যেন ওনার। কবরের উপর বসা থাকা লোকটি চোখ বন্ধ করে বসে ছিল। আমরা যাওয়ার পর লোকটি আমাদের দেখতে পায় নি। কিছুক্ষন পরে লোকটি তার চোখ খুলে আমাদের দেখে এবং হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে ডাকে। যেন আমরা ঐ লোকটির কাছে যাই।তখন আমাদের  ভয় ক্রমশ বেড়ে যায়। শরীর দিয়ে ঘাম বের হওয়া শুরু করে। কিন্তু আমরা ঐ লোকটির পাশে একটি মদের বোতল দেখতে পাই।

মদের বোতল টি দেখে আমাদের ভয় আরো বেড়ে যায়। আর কোন উপায় খুজে না পেয়ে, আস্তে আস্তে ঐখান থেকে পালিয়ে চলে যাই। আর আমরা আমাদের বাসায় চলে আসি। বাসায় আসার পর নিজেকে অনেক অস্থির লাগছিল। মনের ভেতর ছিল ভীষণ ভয়। না জানি কবরস্থানের লোকটি আমাদের সাথে বাসায় চলে এসেছে। কিন্তু তখনো আমাদের বাবা মা অনুষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরে আসেনি। বাসায় ফিরে কাউকে না পেয়ে ভয়ের মাত্রা আরো বেশি বেরে যায়। তখন আমার বন্ধু আমাকে বলে যে, তুই তোর বাসায় থাক আমি আমার বাসায় চলে যাই।

আমি বললাম বন্ধু আমার অনেক ভয় করছে তুই যাসনে। আর তুই এ অবস্থায় কেমন করে বাসায় যাবি। পথে যদি কবরস্থানের ঐ লোকটি তোর সামনে আসে তখন তুই কি করবি। তখন ও বললো আমার কোন সমস্যা নেই আমি একাই বাসায় যেতে পারবো। তখন ও আমাকে এ কথা বলে বাসার উদ্দেশে রওনা দিল। আর আমাকে বললো তুই একাই বাসায় আছিস একটু সাবধানে থাকিস। এ কথা বলে সে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।

আর বললো বন্ধু কাল সকালে তোর সাথে আমার দেখা হবে। আমার বন্ধু যাওয়ার পর আমি তখন বাসায় একা। প্রায় এক ঘণ্টা পর আমার বাবা মা তাদের অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় চলে আসে। তারপর আমার আর কোন সমস্যা হয়নি। আমার বাবা মা আমাকে তাদের অনুষ্ঠানের সব মজার মজার ঘটনা বলা শুরু করলো।

কবরস্থান এর সেই ঘটনা

আমাদের আলোচনার মাঝে হঠাৎ করে পাশের বাসার চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনতে পেলাম। তারপর পাশের বাসার আংকেল আন্টি আমাদের বাসায় এসে বলে তাদের ছেলে কোথায়। আমি বললাম ওতো অনেক আগে বাসায় চলে গেছে। আমরা দুই বন্ধু এতখন এক সাথে এখানে ছিলাম। এতক্ষন ও আমাদের বাসায় ছিল। আর কিছুখন আগে বাসায় চলে গেল। তখন আংকেল আন্টি বলে কই, ওতো বাসায় নেই আর বাসায় তো তালা দেওয়া। আমি তখন তাদের কথা শুনে ঘাবড়ে যাই। আর কি ব্যাপার! ওতো আমার কাছে বাসায় যাওয়ার কথা বলে চলে গেল। নাকি আবার বাসায় যাওয়ার কথা বলে ঐ কবরস্থানে চলে গেছে।

তখন আমি আমার বাবা মা ও আংকেল আন্টি কে সব ঘটনা খুলে বলি। তারা সবাই ঐ কবরস্থানের ঘটনা শুনে অনেক ঘাবরে যায়। তারপর আমরা সবাই আর দেরি না করে ঐ কবরস্থানের কাছে চলে যাই। আর আমরা কবরস্থানের কাছে গিয়ে দেখি একটি কবরের পাশে আমার বন্ধুর নিথর দেহটি পরে আছে। তারপর আমি ভাবি, সেই রাতে আমার সাথে কে বাসায় আসলো? সে কে ছিল? সে কি আমার বন্ধু নাকি কবরস্থানের অন্য কোন আত্বা। যে রুপ নিয়ে আমার সাথে এসেছিল। এই প্রশ্নের জবার আজও পাইনি।