এক যাদুকরি আয়নার গল্প

0
32
এক যাদুকরি আয়নার গল্প যাদুকরি আয়না
এক যাদুকরি আয়নার গল্প

আজ আমি আপনাদের এমন একটি রুপকথার গল্প বলবো, যে গল্পটা পরে আমরা সবাই কিছু শিক্ষা নিতে পারবো। আর আমি আমার রুপকথার গল্প এর নাম দিয়েছি যাদুকরি আয়নার গল্প। আর এই যাদুকরি আয়না টি ব্যবহার করে রাজা তা রানী খুঁজে নিয়ে ছিলেন। তো বন্ধুরা চলুন শুরু করা যাক যাদুকরি আয়নার গল্প টি।

যাদুকরি আয়নার গল্প

অনেক বছর আগে গ্রানাডা নামে একটি রাজ্য ছিল। রাজ্যের রাজা ছিলেন অবিবাহিত। রাজা তার মনের মত মেয়ে না পাওয়াতে তিনি বিবাহ করেননি। কিন্তু গ্রানাডা রাজ্যে একটি মাত্র কথায় শুনা যেত, যে এত সুন্দর চেহেরার রাজা অথচ তার হাতে কোন বিয়ের আংটি নেই।

তাহলে রাজা কি কোন দিনও বিয়ে করবেন না? তারা বলত, এই দেশের মেয়েরা কি আসলেই  অসুন্দর শ্যামলা? তার কাছের লোকেরা বলত, বিশেষ করে মেয়েরা, রাজা কি সারা জীবন একা একা কাটিয়ে দেবেন? কিন্তু তারা জানত না, রাজা কি রকম মেয়ে চায়। তারা জানত রাজা অনেক দয়ালু তার উপযুক্ত রানী কে হবে। তখন তারা সবাই রাজার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রাথর্না করলো যাতে রাজা একজন  ভাল রানী পায়।

রাজার এই দুঃখটা রাজ্যের সবাই কে হাপিয়ে তুলেছিল। রাজার সেনাপতি রাজাকে বললেন, মহারাজ রাজ্যের যেকোন মেয়ে আপনাকে বিয়ে করলে সে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করবে। তখন রাজা বললেন, আমি যাকে বিয়ে করবো। যাদুকরি আয়নার গল্প।

সে কখনো নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করবে না। কেননা সে হবে আমার এ রাজ্যের রানী। তাকে হতে হবে দয়ালু, ক্ষমাশীল। তার মন কে হতে হবে অনেক বড় আর আমার রাজ্যের মানুষ কে ভালবাসতে হবে।

সেনাপতি বলল, রাজা মশাই আপনি কিভাবে জানবেন যে তার মধ্যে এসব গুন আছে। রাজা বলল, সেটাই তো সমস্যা। আমি তাকেই বিয়ে করবো, যার মনের মধ্যে কোন হিংসা, অহংকার এক কথায় তার মনে কোন কালো ছাপ থাকবে না।

তারা বলল আমরা তার ডাক্তারী তথ্য চাইতে পারি। রাজা বলল, আমি তো তার সত্যিকারের ছাপের কথা বলি নাই। আমি বলছিলাম, তার হ্রদয় হবে সহজ, সরল ও মলিনতা। তখন সেনাপতি বলল, একাজে যাদু মন্ত্র আমাদের সাহায্য করতে পাররে। যাদুকরি আয়নার গল্প

পরেরদিন রাজা সেনাপতির সে কথার চিন্তায় পরেছিলেন। রাজা তখন ঠিক করলেন কি করবেন। রাজা তখন তার বন্ধু নাপিত বিশুকে তার দরবারে আসতে বললেন। পরেরদিন বিশু তার প্রাসাদে আসলেন। রাজা তখন তার বন্ধু বিশুর কাছে সাহায্য চাইলেন। বিশু তার কথায় অবাক হয়ে গেল।

যাদুকরি আয়না দিয়ে রানী খুঁজবেন রাজা

পরেরদিন কিছু লোক বিশুকে বলল, আচ্ছা বিশু যে রাজ্যে রাজার কোন রানী নেই সে রাজ্যের কি অবস্থা হয়? তখন বিশু বলল, আপনারা এসব কেন বলছেন? আমরা যা বলছি তা সব সত্যি। আমাদের রাজার জন্য তো মেয়ে খোঁজার কোন লক্ষনই দেখতে পারছি না।

তখন বিশু বলল, রাজা ঠিক করেছে তিনি যাদুকরি আয়না ব্যবহার করে তার রাজ্যের জন্য রানী নির্বাচন করবেন। তারা অবাক হয়ে বলল যাদুকরি আয়না! তুমি আমাদের যাদুকরি আয়নার গল্প বলছো। হ্যা তিনি এই কাজটাই করবেন।

বিশু বলল, অনেক বছর আগে গুহায় আমি একটা আয়না পেয়েছিলাম। একমাত্র তিনি যানেন আর বিশ্বাস করে আমার কাছে রেখেছিলেন। তিনি চান এখন সেটা ব্যবহার করি। তার জন্য রানী খুজে নিয়ে আসি।

তার বলল, যাদু আয়নায় কি দেখাবে তার স্ত্রী কোথায়? এখানে কি ভবিৎষত দেখা যায়? বিশু বলল, এরকম কিছু না। তবে এই আয়নার সামনে দাড়ালে আসল চরিত্র দেখা যায়। আর কারো যদি মন পরিস্কার না হয় তার মুখে কালো দাগ দেখা যাবে।

রাজা তাকেই বিয়ে করবেন যে যাদুকরি আয়নার দিকে তাকালে যার মুখের মধ্যে কোন কালো ছাপ থাকবেনা। তারা বলল, তাহলে কি ধনী মেয়েরাই এই আয়নায় মুখ দেখতে পারবে। সে রকম কোন নিয়ম নেই এই আয়নায় যে কেউ মুখ দেখাতে পারবে। তবে শর্ত একটাই যাদু আয়নায় মুখ দেখাতেই হবে।

পরেরদিন সকালে এই খবরটা ছড়িয়ে পরল পুরো রাজ্যে। রাজ্যের সব মেয়েরা আসত বিশুর সেলুনে। এখন এমন কে আছে যে যাদু আয়নায় মুখ দেখায়? দিনের পর দিন কেটে যায় কিন্তু কেউ যাদুকরি আয়নার মুখ দেখানোর সাহস পায় না। সেই রাজ্যের মেয়েরা তাদের চুল লম্বা রাখত। যাতে আর তাদের সেলুনে গিয়ে চুল কাটতে না হয়। সে রাজ্যের মেয়ের বাবারা বেশ চিন্তায় পরে যায়।

হঠাৎ আলিয়া নামের একটা মেয়ের বাবা, আলিয়াকে বলল তুমি কেন একবার চেষ্টা করে দেখো? তখন আলিয়া বলল, বাবা আমার এত সুন্দর চেহেরা আমি নষ্ট করতে চাই না। আমার এসবের দরকার নেই। আলিয়ার বাবা বলল, তাহলে তোমার মন পরিষ্কার নেই। যাদুকরি আয়নার গল্প।

রাজার জন্য রানী খুঁজলেন বিশু

আলিয়া বলল, সেটা না বাবা। আমি আর কোন দিন বিয়ে করবো না সেটা আমি অনেক আগে ঠিক করে নিয়েছি। তখন আলিয়ার বাবা বলল, কি বললে? জ্বী বাবা, আর আমি সারা জীবন তোমার সাতে থাকতে চাই। আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি বাবা ( I LOVE YOU)।

সে রাজ্যে শুধু আলিয়ায় নয় এরকম অনেক মেয়েরাই বিয়ে না করার শপথ নিয়েছিল। বিয়ে করবে না তাও ভাল তবু ঐ যাদু আয়নার সামনে যাবে না। আর রাজাকে বিয়ে করার জন্য তারা এই পরীক্ষা দিতে মোটেও রাজি ছিলেন না।

কিছু কিছু মেয়ে এত ভয় পেত যে তারা কখন আয়নার সামনেই যেত না। নিজেদের আয়না দেখলেও ভয় পেত। শুধু সেখানেই থামলো না, তারা চামুচ ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকলো। কেননা চামুচে যদি নিজেদের চেহেরা দেখতে পায় সে জন্য। এরপর তারা হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করলো।

এদিকে বিশুর সেলুনে আর কোন মেয়ে চুল কাটতে যায় না। সে এখন  ছেলেদের চুল কাটে। বিশুর সেলুনে এক লোক তাকে বলল, দেখুন কোন মেয়েই আয়নার সামনে মুখ দেখতে সাহস পেল না। তখন বিশু বলল, না সাহেব। আর কতদিন আমি অবিবাহিত থাকব বলেন তো। বিশু বলল, আপনি কেন বিয়ে করছেন না। লোকটি বলল, আমিও একজন ভাল মেয়ে কে বিয়ে করতে চাই। যাদুকরি আয়নার গল্প।

রাজা একদিন বিশু কে প্রাসাদে ডাকলেন। রাজা বিশুকে বললেন, আচ্ছা এরকম মেয়ে পাওয়া কি এত কঠিন? আমি কি কোন দিন এরকম মেয়ে খুজে পাব না? আর আমার কি বিয়ে হবে না? বিশু বলল, রাজা মশাই আমি একটা মেয়ের কথা জানি। সে কখনো যাদু আয়নায় মুখ দেখাতে ভয় পাবে না। কিন্তু সে একজন ছাগল চালক। রাজা বলল, কে সে কোথায় থাকে?

তখন রাজার সাথে থাকা সেনাপতি বিশু কে বলল, তোমার এত বড় সাহস একজন ছাগল চড়ানো মেয়ে হবে এই রাজ্যের রানী। রাজা বলল, কেন একজন ছাগল চড়ানো মেয়ে এ রাজ্যের রানী হতে পারবে না?

যাদুকরি আয়না দিয়ে রানী পেল রাজা

তার মধ্যে যদি রানী হওয়ার সব গুন থাকে তাহলে সে ছাগল পালনের ঘরে জন্ম নিয়েছে বলে সে রানী হওয়ার থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। তুমি মনে রেখ সেনাপতি, প্রতিটি রাজাই এরকম পরিবার থেকে এসেছে। তখন রাজা বিশু কে বলল, যাও তুমি এই মেয়ে কে খুজে আমার কাছে নিয়ে আসো। যাদুকরি আয়নার গল্প।

যেদিন সেই মেয়েটিকে রাজার প্রাসাদে আনা হয়েছিল। সে দিনটার অপেক্ষায় ছিল পুরো রাজ্যের মানুষ। তাদের মধ্যে শুধু কানাকানি। কে সে মেয়ে? ছাগল পালনের সে মেয়েটি খুব নম্র ভাবে প্রাসাদে প্রবেশ করলো।

ভিতরে এত মানুষ ছিল যে সে ভয় পেয়ে গেল। রাজা মশাই মেয়েটির কাছে চলে গেল আর বলল, আপনি কেন যাদুকরি আয়নায় মুখ দেখাতে ভয় পাবেন না? আপনি যানেন এর পরিনতি কি হতে পারে।

যদি অতীতে কোন ভুল করে থাকেন আর আপনার মন যদি পরিস্কার না থাকে তাহলে আপনার মুখে কালো ছাপ দেখা যাবে। তখন মেয়েটি বলল, আমি আপনার কথা বুজতে পারছি । কিন্তু আমার বিশ্বাস আর আমি জানি মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। আমরা সবাই কিছু না কিছু ভুল করে থাকি, আমিও ভুল করেছি।

আমিও অনেক সময় অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে অনেক ভুল করেছি এবং সে ভুল থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এখনও সে ভুল থেকে শিখছি আর ভবিৎষতেও শিখবো। আর আমি আমার দোষ নিয়ে কখনো লজ্জিত নই সেগুলো থেকে আমি শিখি আর আমার মনের জোড় বাড়ে।

এ কথা বলে মেয়েটি আয়নার সামনে চলে গেলেন। যেই মেয়েটি আয়নার সামনে দাড়াল সবাই তখন উকি মেরে দেখলো আর অবাক হয়ে গেল। ছাগল পালক মেয়েটির নীল চোখ অপরুপ চেহেরা আয়নার সামনে ঝলঝল করলো।

মেয়েটি আয়না থেকে সরে এসে রাজার সামনে দারালো দেখলো রাজা তার দিকে অপলোক দূষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাজা তখন সবাই কে বলল, এই রাজ্যে এবার তার রানী পেয়েছে। সবাই এবার হাত তালি দিয়ে রানী কে বরন করে নিল। যাদুকরি আয়নার গল্প।

যাদুকরি আয়নার গল্প ভুল থেকেও মানুষ শিক্ষা পায়

কিন্তু হঠাৎ সবার মাঝখান থেকে একজন মেয়ে বলল, দারান আমি এখনি এই যাদুকরি আয়না এর মধ্যে আমার মুখ দেখতে চাই। এই আয়নায় কোন যাদু মন্ত্র নাই। আমি তা প্রমান করতে পারি। এ আয়নার কথা যা যা বলা হয়েছে তা সব মিথ্যা। তখন রাজা বললেন, চুক্তি অনুযায়ী যা বলা হয়েছে তার বাহিরে একটিও হবে না।

আমি সবাই কে যাদুকরি আয়না এর মধ্যে মুখ দেখতে বলেছিলাম। কিন্তু কেউ আয়নার সামনে আসতে সাহস পায়নি। আর যাদুকরি আয়না এর মধ্যে মধ্যে যাদু আছে কি নেই সেটা পরের বিষয়। যখন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তখন দেখা উচিত ছিল। এখন সে সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না।

তারপর ঐ মেয়েটির বাবা এসে রাজার কাছে ক্ষমা চাইল। তিনি বললেন, রানী মা আপনি যা বলেছেন তা সব ঠিক। নিজের ভুল থেকেও মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারে। নিজের ভুল কখনো লুকিয়ে রাখব না, স্বীকার করে নিয়ে সেখান থেকে আমরা শিক্ষা নেব।

এভাবে নিজেকে ক্ষমা করতে পারলে আমরা অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবো। আর তখনি আমাদের মন পরিস্কার হবে। আপনার মন তো অনেক পরিস্কার তাই এই রাজ্যে এবার আপনার মত রানী পেয়েছে।

এবার রাজা তার মনের মত রানী পেয়ে ভীষন খুশি। এই রাজ্যে তাদের মত বিয়ে আর কখনো হয়নি। এ রাজ্যের আর মানুষ কখনো দেখেনি। এই রাজ্যের মানুষ দয়ালু, ক্ষমাশীল ও প্রজাদরদী রানী পেয়ে অনেক খুশি। আর সেই যাদুকরি আয়না এর মধ্যে সত্যি কি যাদু ছিল তা কেউ কখনো জানত না। সে কথা তো রাজার মনে রয়েছে। এভাবে তারা সুখে শান্তিতে তাদের রাজ্যে বসবাস শুরু করলো।

বন্ধুরা, এই ছিল রুপকথার যাদুকরি আয়নার গল্প আশা করি আপনাদের সবার ভালো লেগেছে। আরও এরকম রুপকথার গল্প পড়তে চাইলে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ