এক বুদ্ধিমতি কন্যার গল্প

0
31
এক বুদ্ধিমতি কন্যার গল্প
এক বুদ্ধিমতি কন্যার গল্প

আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দ আমি আজ আপনাদেরকে একটি মজার গল্প বলবো। আর আমি আমার গল্পের নাম দিয়েছি এক বুদ্ধিমতি কন্যার গল্প। তাই বন্ধুরা আমার এই গল্পটি সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

এক বুদ্ধিমতি কন্যার গল্প

বহুকাল আগে এক রাজ্যে এক বৃদ্ধ বাস করতো। তিনি অনেক গরীব এবং অসহায় ছিলেন। অনেক কষ্টে তাদের দিন কাটতো। কিন্তু তার কন্যা যদি না থাকতো। সে ছিল যেমন রুপবতি তেমনি ছিল বুদ্ধিমতি। যেমন তার জ্ঞান তেমনি সে হাসি খুশি। প্রতিদিন তারা দুজন বাজারে গিয়ে খাবারের সন্ধান করতো। তারা রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করতো।

কিন্তু তারা ভাল কিছু পেত না। কোন দিন পেত কোন দিন পেত না। খুব কষ্টে তাদের দিন চলে যেত সেই বুদ্ধিমতি কন্যার। কোন দিন রাতে তারা না খেয়ে রাত কাটাতো। তেমনি এক রাতে বৃদ্ধ তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। আর মেয়ে তার মনের মতো করে গান গাইতেছে। ঠিক তখনি লিনার বাবা লিনাকে বলে, মা আমার খুব খারাপ লাগে যে তোমাকে এত কষ্ট করে দিন কাটাতে হবে।

আমি যদি তোমাকে একটু সুখে রাখতে পারতাম। বাবার কথা শুনে লিনা বলে, তুমি যা আমাকে দিয়েছো তাতেই আমি সুখি বাবা। আমরা আজ রাতে খেতে পারি নাই। এতে মন খারাপের কিছু নেই বাবা। আমরা আগামীকাল আরো বেশি করে চেষ্টা করবো। কিন্তু তবুও বৃদ্ধর মন খারাপ। তিনি তার কন্যা কে খুব ভালবাসত। আর তিনি তার কন্যাকে খুশি দেখতে চান সব সময়।

বৃদ্ধ সারা রাত জেগে ভাবল কিভাবে তার কন্যা কে সুখে রাখা যায়। তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। যদি তিনি উত্তর খুঁজে পান। সেই অপেক্ষায় সকাল হয়ে গেল। পরের দিন সকালে বৃদ্ধ রাজ প্রসাদে চলে গেলেন। রাজার কাছে সাহায্য নেওয়ার জন্য। সেখানে পৌছামাত্রই রাজা তার মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত দেখে নিলেন। আর ভাবলেন কি চান এই বৃদ্ধ।

তখন লিনার বাবা রাজাকে বললেন আমি অনেক ভাগ্যবান যে, আপনার দর্শন পেয়েছি। আর আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন। যা শুধু আজকের জন্য। আমি আর কোঁন দিন আপনার কাছে সাহায্যের জন্য আসবোনা। যাতে করে আমি আমার মেয়ে কে নিয়ে একটু সুখে থাকতে পারি। রাজা লোকটাকে দেখে ভাবলেন, যে লোকটি ভিক্ষুক হলেও কথাবার্তা শুনে মনে হল।

বুদ্ধিমত কন্যার বুদ্ধির পরীক্ষা

লোকটি অনেক জ্ঞ্যানী ও বুদ্ধিমান। রাজা লোকটিকে বললেন,আপনাকে এত সুন্দর করে কথা বলতে কে শিখিয়েছে। তখন বৃদ্ধ লোকটি বলল, আমার কন্যা লিনা। সে আমাকে এত সুন্দর করে কথা বলতে শিখিয়েছে। আমার কন্যা লিনা বলে মানুষের মুখের কথায় অনেক কিছু পাইয়ে দেয়। আর সেটা অনেক মুল্যবান। আর আমার মেয়েটি অনেক বুদ্ধিমতি কন্যা।

আর ও অনেক বুদ্ধিমান সে ছাড়া আমার জীবণের কোন মুল্য নেই রাজা মশাই। তখন রাজা বৃদ্ধ লোকটিকে বলল, আপনার কন্যার বুদ্ধির পরীক্ষা আমি নিতে চাই। এই ধরুন ডিম। আপনার কন্যা কে বলবেন আর এগুলো থেকে যেন মুরগি বের করে নিয়ে আসে। যদি আপনার কন্যা মুরগি বের করে আনতে পারে। তাহলে আপনি পুরষ্কার পাবেন। আর যদি না পারে তাহলে আপনি শাস্তি পাবেন।

বৃদ্ধ লোকটি রাজ প্রসাদ থেকে মন খারাপ করে বের হলেন। লোকটি হাটতে হাটতে বাড়িতে চলে আসলেন। বাড়িতে এসে তার কন্যার হাতে ডিম দিয়ে। রাজা যা যা বলেছিল তা তার কন্যা লিনা কে বলল। আর বৃদ্ধ লোকটি বলল, আমি এখন কি করবো। এই এক হালি ডিম রাজা মশাই আমাকে দিয়েছেন। তখন লিনা ডিম গুলো হাতে নিয়ে দেখলো। বুদ্ধিমতি কন্যার গল্প

আর তার বাবাকে বলল, বাবা এগুলো তো সিদ্ধ ডিম। এগুলো থেকে মুরগি বের হবে কিভাবে।লিনার কথা শুনে বৃদ্ধলোকটি বলল, তাহলে আমি কি শাস্তি পেতে হবে। লিনা বলল, তুমি কিছু ভেব না বাবা আমি অব্যশই এর উত্তর খুজে বের করবো। লিনার কথা শুনে বৃদ্ধ লোকটি বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ঘরে গেলেন। লিনা চিন্তা করল সিদ্ধ ডিম গুলোর কি হবে।

বুদ্ধিমতি কন্যা লিনা সন্ধার সময় গেল তার বাবার কাছে। তার বাবা তখন ছিলেন রাজার সিদ্ধ ডিমের চিন্তায়। তখন বুদ্ধিমতি/বুদ্ধিমান কন্যা লিনা তার বাবা কে বললেন, আমি যা বলছি আপনি তা মন দিয়ে শুনুন। বুদ্ধিমতি কন্যার লিনা তার বাবার হাতে কিছু সিদ্ধ বীজ দিয়ে বললেন,এই বীজ গুলো নিয়ে তুমি খেতে বুনে দাও। যখন রাজা সেখান দিয়ে যাবে তখন তুমি চিৎকার করে বলবে।

বুদ্ধিমতি কন্যার বুদ্ধি

সিদ্ধ ডিম গুলো বেরে যেন ভাল ফসল হয়। আর যখন রাজা তোমাকে বলবে, কি ব্যাপার। তখন তুমি বলবে সিদ্ধ ডিম থেকে যদি মুরগি বের হতে পারে। তাহলে সিদ্ধ বীজ থেকে ভাল ফসল পাওয়া সম্ভব। তার বুদ্ধিমতি/বুদ্ধিমান কন্যা যা বলছিল তিনি তাই করলেন। তিনি যখন ক্ষেতে বীজ বুনতে ছিলেন। ঠিক তখনি রাজা সেই পথ দিয়ে ঘোড়ায় বসে যাচ্ছিলেন।

রাজা কে দেখে বৃদ্ধ লোকটি চিৎকার করতে লাগলো। তিনি বললেন সিদ্ধ বীজ গুলো থেকে যেন ভাল ফসল হয়। এই কথা শুনে রাজা অবাক হয়ে ঘোড়া থামালো। আর তিনি বৃদ্ধ লোকটি কে ডাকলেন, রাজা তাকে বললেন সিদ্ধ বীজ থেকে ফসল কিভাবে হতে পারে। আর আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। রাজার কথা শুনে বৃদ্ধ লোকটি বলল, এটা সম্ভম রাজা মশাই।

যেমন টা সিদ্ধ ডিম থেকে মুরগি বের করা সম্ভব। রাজা লোকটির কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। আর তিনি বুঝতে পারলেন এটা তার বুদ্ধিমতি কন্যার বুদ্ধি আসলে সে একজন বুদ্ধিমতি কন্যা। রাজা তখন বৃদ্ধ লোকটিকে কিছু খর দিলেন। আর তিনি বললেন, এই খর দিয়ে একটা দড়ি বানাও। যেটা দিয়ে জাহাজে ভাসতে হবে। আর যদি এটা না পার তাহলে তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।

এইবার বৃদ্ধ আরো বেশি মন খারাপ করে বাড়িতে চলে গেলেন। রাজার সাথে বৃদ্ধের যা ঘটেছে তা সব তিনি তার কন্যাকে বললেন। আর খর গুলো তার কন্যা বুদ্ধিমতি কে দিলেন। বৃদ্ধের বুদ্ধিমতি কন্যা বলল, তুমি কোন চিন্তা কর না। সব ঠিক হয়ে যাবে। চল ঘুমিয়ে যাই। কাল সকালে আমরা এর উত্তর নিয়ে যাবো।

পরের দিন বুদ্ধমতি কন্যার গল্প এ লিনা তার বাবা কে ছোট একটা কাঠের টুকরা দিল। বুদ্ধিমতি কন্যা তার বাবা কে বলল, তুমি রাজা কে বলবে এই ছোট কাঠের টুকরোটা দিয়ে যেন একটা চড়কা বানায়। আর তা দিয়ে যেন কাপড় বুনানো যায়। আর তিনি যদি এটা পারেন রাজা যা বলবেন আমি তাই করবো। কন্যার কথা মত বৃদ্ধ রাজার কাছে আসলেন এবং লিনার কথা রাজার কাছে বললেন।

বুদ্ধিমতি কন্যাকে রাজার বিয়ে প্রস্তাব

রাজা তখন বললেন আপনার কন্যা আসলে একজন বুদ্ধিমতি। কিন্তু রাজাও হার মানতে রাজি নন। এবার রাজা একটি পেয়ালা বৃদ্ধ কে দিলেন আর বললেন, এই পেয়ালায় সাগরের সব পানি ভরাতে হবে। যতখন না সাগরের পানি শুকিয়ে যায় ততক্ষন পর্যন্ত ভরাতে হবে। আর যদি সে করতে না পারে তাহলে আপনি আর পরের দিন টা দেখতে পারবেন না।

বৃদ্ধ অনেক ভয় নিয়ে রাজার প্রসাদ থেকে পেয়ালা হাতে নিয়ে চলে গেলেন। আর কাঁদতে কাঁদতে তার বুদ্ধিমতি কন্যা লিনা কে রাজার সব কথা খুলে বললেন। লিনা মা রাজা মশাই এবার আমাদের একটা খুব কঠিন কাজ দিয়েছেন। তোমাকে এই পেয়ালায় সাগরের সব পানি ভরাতে হবে। লিনা পেয়ালাটা দেখে খুব হয়ে গেল।

আর বলল, আজ বিকালের মধ্যে আমি এই প্রশ্নের উওর পেয়ে যাবো। বাবা তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি তোমার বুদ্ধিমতি কন্যা আছি। পরের দিন সকালে লিনা নিজেই গেল রাজার কাছে। রাজা লিনার রুপ সৌন্দয্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। রাজা তাকে দেখে বলল, তুমি কি পরাজয় স্বীকার করতে এসেছো।

তখন বুদ্ধিমতি কন্যা লিনা বলল, না মহারাজ। আমি বলতে এসেছি আপনি যদি দয়াকরে নদী আর ঝর্না কে বলেন সাগরের সাথে না মিশতে। তাহলে আমি সাগরের পানি খালি করতে পারবো। রাজা তার কথা শুনে বুঝতে পারলো মেয়েটা অনেক বুদ্ধিমতি। রাজা মেয়েটিকে বলল, তুমি আমার সকল পরীক্ষায় পাশ করেছো। তাই আমি আর একটা প্রশ্ন করতে চাই।

সেটি হলো মানুষ সব থেকে তারাতারি কোন জিনিসটা শুন্তে পায়। তখন বুদ্ধিমতি কন্যা বলল, মহারাজ ঝড় এবং মিত্থ্যা কথা। রাজা তার কথা শুনে খুব খুশি হয়ে গেল। আর বলল, আমার এই দারির মূল্য কত। তখন মেয়েটি বলল, মহারাজ আপনার দারির মূল্য গীষ্মের তিন দিন বৃষ্টির সমান। তখন রাজা বুদ্ধিমতি মেয়েটার উওর শুনে অবাক হয়ে গেল।

বুদ্ধিমতি কন্যার সাথে রাজার বিয়ে

আর বলল, তোমার মত বুদ্ধিমতি মেয়ে এই রাজ্যে আর একটাও খুজে পাওয়া যাবেনা। আমি আমার কথা রাখবো আর তোমার বাবাকে পুরুষ্কার দিব। একথা শুনে বুদ্ধিমতি কন্যা রাজা কে ধন্যবাদ জানালেন। আর রাজা এই বুদ্ধিমতি কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে রাজি আছো। আর আমার সাথে এই প্রসাদে থাকবে।

তখন বুদ্ধিমতি কন্যা লিনা সাথে সাথে জবাব দিলেন না। আর রাজা কি বলছে। জ্বি রাজামশাই আমি আপনাকে বিয়ে করে খুশি হব যদি আপনি আমাকে একটা কথা দেন। রাজা তখন বলল, ঠিক আছে কি কথা। আমাকে কথা দিতে হবে যে, যদি কখনো আপনি আমার উপর রেগে যান তাহলে আমি আপনার প্রসাদ থেকে দামি জিনিসটা নিয়ে যাবো।

রাজা হাঁসতে হাঁসতে বললেন এইটা তোমার ইচ্ছে। ঠিক আছে আমি রাজি আছি। পরের দিন রাজা আর বুদ্ধিমতি কন্যার অনেক ধুমধাম করে বিয়ে হরে গেল। তারা দুজন দুজন কে খুব ভালবাসত। তারা সুখে শান্তিতে জীবণ যাপন করতে লাগলো। কিন্তু রাজার বয়স যত বারতে লাগলো। তার রাগ তত বেশি হয়ে গেল। আগে যারা তার সেবা করতো।

তাদের সাথে খারাপ আচরন করা শুরু করলো। হঠাৎ একদিন রানীর সাথে রাজার তুমুল ঝগরা। রাজা বলল, তুমি আমার থেকে নিজেকে অনেক বুদ্ধিমতি মনে কর। আমি আর তোমাকে সাহায্য করতে পারব না। তুমি যেখান থেকে এসেছিলে ঠিক সেখানে চলে যাও। আপনি যেমনটা বলবেন রাজা মশাই। কিন্তু আপনি আমার সাথে শেষ বারের মত পানি পান করবেন না।

তারপর আমি এখান থেকে চলে যাব আর কোন দিন তোমার কাছে ফিরে আসবো না। আর তখন বুদ্ধিমতি কন্যা লিনা রাজার পানিতে ঘুমের বরি মিশিয়ে দিয়েছিল। আর রাজা সেটা পান করে সাথে সাথে ঘুমের কোলে ঢলে পরলেন। তখন বুদ্ধিমতি কন্যা রাজাকে নিয়ে সেই ভাংগা কুটিরে চলে গেল। আর যখন ঘুম ভেংগে দেখে রাজা তার প্রসাদে নেই দেখে তার রানী লিনা পাশে বসে আছে। সে তার রানী কে দেখে খুব রেগে গেল। তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছো।

রাজা প্রতি বুদ্ধিমতি কন্যার ভালোবাসা

তোমার এতবর সাহস। রাজাকে অপহরন করেছো এর জন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। তখন বুদ্ধিমতি কন্যা রাজা কে বলল, তুমি রেগে যেওনা। তোমার কি মনে আছে তুমি আমাকে কি কথা দিয়েছিলে। যদি তুমি আমাকে কখনো প্রসাদ থেকে চলে যেতে বল। আর আমি প্রসাদ থেকে সেই জিনিসটা নিয়ে যাব।

যে জিনিসটা আমার সব থেকে প্রিয়। এবার বুঝে নাও আমি তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি। আর তোমাকে আমি নিয়ে এসেছি। বুদ্ধিমতি কন্যা লিনার সাথে এরকম আচরন করায় রাজা নিজেই লজ্জা পেয়ে গেলেন। আর রাজা বুঝতে পারল রানী তাকে কতটা ভালবাসে। রাজা নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করলো।

আর রাজা বলল, তোমার মত বুদ্ধিমতি রানী আমি পেয়েছি। সত্যি তোমাকে পেয়ে আমি ধন্য। রাজা রানী খুশি হয়ে আবার তাদের প্রসাদে ফিরে গেল। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করলো। কোনদিন আর তাদের মধ্যে ঝগরা হল না। আর সুখে শান্তিতে তারা সংসার জীবন অতিবাহিত করলো।

বন্ধুরা, এই ছিল বুদ্ধিমতি কন্যার গল্প টি যদি ভালো লাগে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ