এক গাছে সব ধরনের ফল

0
36
এক গাছে সব ধরনের ফল
এক গাছে সব ধরনের ফল

এক গাছে সব ধরনের ফল গল্পটিতে রাহেলা নামের একটি মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে বাস করতো। অভাবের কারনে সে ফল বিক্রি করতো। একদিন ফল বাগানের মালিক অন্য দোকান দারের কথায় তাকে ফল না দিলে রাহেলা বিপদে পড়ে। কেননা ফল বিক্রি না করতে পারলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি ভালই আছেন। আজকে আমি আপনাদের জন্য অন্য রকম একটি রুপকথার গল্প নিয়ে এসেছি। আশা করছি আপনাদের সবার গল্পটি খুবই ভাল লাগবে। আজকের গল্পের নাম এক গাছে সব ধরনের ফল। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি।

এক গাছে সব ধরনের ফল এর গল্প

এক সময় এক গ্রামের নাম ছিল রজবপুর। সেই রজব পুর গ্রামে রাহেলা নামের এক জন মহিলা বাস করতেন। তার এক মেয়ে ছিল। তার মেয়ের নাম ছিল রিতা। রিতার বাবা রাজেশ অনেক আগেই মারা গেছেন। তাই রাহেলা একা তার মেয়ে কে বড় করে তোলে। রাহেলা তার স্বামী মারা যাওয়ার পর রাহেলা সব ধরনের ফল বিক্রি করে তাদের সংসার চালাত।

রাহেলা তার মেয়েকে ডাকে, মা রিতা কোথায় গেলি মা আমার? রিতা কাছে এসে বলে, এইতো মা আমি তোমার সামনে। কি হয়েছে বলো? রাহেলা বলে, ফল গুলো ঝুড়িতে তুলে দে তো মা। আর ভাল ভাল ফল গুলো বেছে ঝুড়িতে দিবি। আজকাল বাজারে আমের চাহিদা বেড়ে গেছে। রিতা বলে, মা আমি তোমার বলার আগেই সব ভাল ভাল ফল ঝুড়িতে তুলে দিয়েছি।

রাহেলা খুশি হয়ে বলে, আমার লক্ষী মেয়ে। ভাবছি এবার ভাল বেচা কেনা হলে তোর জন্য একটা ভাল গলার হার বানাবো। এই কথা শুনে রিতা বলে কেন মা? আমার হার লাগবে না। রাহেলা তখন বলে, বারে তোর বিয়ে দিতে হবে না বুঝি? তাই তোর জন্য ভাল একটা গলার হার বানাবো। মেয়ে হয়ে জন্মেছিস বিয়ে করে পরের ঘরে তোকে পাঠাতে হবে তো নাকি? রিতা বলে, মা তুমি চুপ করবে। আমি বিয়ে করবো না।

আমি তোমায় ছেড়ে কোথাও যাবো না মা। রিতার মা বলে, এত বড় হয়েছিস তোর তো এখন বিয়ে দেবার সময় হয়ে গেছে। মেয়েদের যে বিয়ে করে পরের বাড়ি যেতেই হয় রে। আর এটাই যে নিয়ম। রিতা বলে, মা আমি এবার কিন্তু রেগে যাচ্ছি। থাক আর রাগ করতে হবে না এই বলে রাহেলা আম নিয়ে বাজারের দিকে রওনা দিলো।

রাহেলার ফলের দোকান

বাজারে গিয়ে রাহেলা সব ধরনের ফল বিক্রি করতে থাকে। আর রাহেলার ফল খুব তারাতারি বিক্রি হয়ে যেত। কারন সে যে ফল নিয়ে যেত তা খুব ভাল মানের ফল। আর রাহেলা সততার সাথে ব্যবসা করত। সে খদ্দের এর কাছ থেকে বাড়তি টাকা চাইতো না। আর রাহেলার পাশেই আর এক ফল বিক্রেতা ছিল। তার নাম ছিল দিনেশ।

কিন্তু তার কাছ থেকে লোকেরা তেমন ফল কিনতো না। কেননা সে ফলের দাম বেশি নিতো। আর তার ফল তেমন তাজাও থাকে না। বিভিন্ন ফরমালিন যুক্ত ফল সে বিক্রি করত। দিনেশ রাহেলা কে হিংসে করত।

আর কিছু দিন পর রাহেলাও বাজারে দিনেশের মত একটি বড় ফলের দোকান দিয়ে ফেলে। যেখানে রাহেলা সব ধরনের ফল তুলে বিক্রি করত। এর ফলে রাহেলার বেচা-কিনা আরো বেড়ে যায়। আর সে ভাল ভাবে ফল বিক্রি করতে থাকে। এই দেখে দিনেশ মনে মনে ভাবে, এই রাহেলা তো আমার ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।

সকলেই শুধু রাহেলার কাছ থেকে আম কেনে, আমার দোকানে এত আম তার পরেও আমার দোকান থেকে কেউ আম কিনছে না। তার মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসে। সে ভাবে, রাহেলা তো ফজলের ফল এর বাগান থেকে ফল কেনে। আমি কাল ফজলের কাছ থেকে তার সব ফল কিনে নেবো। দেখি তার পর রাহেলা কোথায় থেকে ফল নিয়ে আসে।

পরের দিন দিনেশ ফজলের কাছে দেখা করতে যায়। আর তাকে বেশি টাকা দিয়ে তার বাগানের সমস্ত ফল কিনে নেয়। এবং তার দোকানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে শুরু করে। আর এদিকে রাহেলা ফল নিতে যায় ফজলের কাছে। ফজল তাকে বলে যে সে সব ফল বিক্রি করে দিয়েছে। রাহেলা নিরাশা হয়ে যায়।

কেননা বাগানে কেনার মত একটা ফল ও ছিল না। তাই রাহেলা সেদিন আর ফল বিক্রি করতে যায় না। এই সুযোগে দিনেশ চড়া দামে ভালই ফল বিক্রি করতে থাকে। রাহেলা না আসায় লোক জনও কোন উপায় না পেয়ে সেই চড়া দামেই আম কিনে।

ফল খুঁজতে বাগানে

এদিকে রাহেলা ফল বিক্রি করতে না পারায় চিন্তিত হয়ে বাড়ি ফেরে। মায়ের চিন্তিত ভাব দেখে রিতা বললে, মা তুমি এত চিন্তা কেন করছো? রাহেলা উত্তর দেয়, ফজলের বাগানের সব আম কে যেন কিনে নিয়েছে। আমার মনে হয় এটা দিনেশ বাবুর কাজ। সে আমার ব্যবসা দেখে আমাকে হিংসা করত।

এখন আমি আম কোথায় পাবো বল? কি করে সংসার চালাবো বল? রিতা তার মাকে সান্তনা দিয়ে বলে, মা তুমি এত চিন্তা করো না তো।। তুমি বরং এখন একটু শুয়ে আরাম করো এতে তোমার ভাল লাগবে। আর আমি দেখি জঙ্গলের দিকে যাই। ওদিকে কোন ফল পাওয়া যায় কিনা তার খোজ করি।

এই বলে রিতা জঙ্গলে যায়। আর ফল খুজতে থাকে। কিন্তু রিতা জঙ্গলে কোন ফল খুজে পাচ্ছিলো না। সে হাটতে হাটতে বলে, কোথাও তোন ফল খুজে পেলাম না। এখন আমি কি করবো? ফল নিয়ে না গেলে যে মায়ের চিন্তা আরো বেড়ে যাবে। কি যে করি?

এসব বলতে বলতে রিতা আবারো ফল খুজতে থাকে। আর হঠাৎ করেই রিতা কোন কিছুর একটা আওয়াজ শুনতে পায়। সে দেখে একটা পাখি তাকে দেখে বলছে,শোন আমায় ছেড়ে যেওনা আমায় সাহায্য করো। যেও না তুমি। রিতা দেখে বলে, এমা এটা তো একটা পাখি। কি সুন্দর একটা পাখি। কি সুন্দর করে পাখিটা মানুষের মত করে কথা বলে।

পাখি আবার কথাও বলে নাকি? তখন পাখিটা বললো, আমি পাখি নাগো। আমার তোমার সাহায্যের প্রয়োজন। রিতা বলে, তুমি পাখি নও তাহলে কে তুমি? আর আমি তোমায় কিভাবে সাহায্য করব বলো। পাখিটি তখন বললো, আমি এক পরী। একটা ঋষির অভিশাপ এ আমি পাখি হয়ে গিয়েছি।

সে বলেছে কেউ যদি আমায় নারিকেল গাছের পাতা দিয়ে ছোয়ায় তাহলে আমি আবার পরী হতে পারবো। আমি এত দিন অনেক মানুষ খুজেছি যে আমায় নারিকেল গাছের পাতা দিয়ে ছোয়াবে আর আমি আবার পরী হব। আজকে আমি তোমায় দেখলাম। তুমি আমায় নারিকেল গাছের পাতা দিয়ে ছোয়ালে আমি পরী হবো।

পরীর গাছে সব ধরনের ফল

রিতা পাখিকে বললো, তুমি চিন্তা করো না আমি তোমায় হরিকেল গাছের পাতা দিয়ে ছুয়ে দেবো। যাতে তুমি আবার পরী রুপে ফিরে আসতে পারো। এই বলে রিতা জঙ্গলের মধ্যে হরিকেল গাছ খুজতে গেলো। একটু খুজতেই রিতার সামনে পরে সেই হরিকেল গাছ। সে হরিকেল গাছ থেকে পাতা নিয়ে আসে।

হরিকেল গাছের পাতা পাখির গায়ে ছোয়েতেই পাখি সুন্দর একটা পরীতে রুপান্তরিত হয়ে গেলো। পরী অনেক খুশি হয়ে বলে, তুমি সত্যি অনেক ভালো মনের মানুষ। কিন্তু তুমি এখানে কেন এসেছিলে। আর তোমাকে দেখে এত চিন্তিত লাগছে কেন? কি হয়েছে তোমার? এর পর রিতা তার সব কথা পরীকে খুলে বলে। পরী বলে তুমি আমার রুপ ফিরিয়ে দিয়েছো। তাই আমিও তোমায় সাহায্য করবো।

এই বলে পরী রিতাকে একটি বীজ দিলো আর বললো, এই নাও বীজ। এটা কোন যেমন তেমন বীজ নয়। এই বীজ মাটিতে রেখে যদি তুমি মন্ত্র পড় তাহলে এই বীজ থেকে একটি বড় গাছ বের হবে। আর সেই গাছ নানা রকমের ফল দিয়ে পরিপূর্ণ থাকবে। এই এক গাছ থেকেই তুমি বিভিন্ন ধরনের ফল পাবে। বীজটি নিয়ে বাড়ি যাও।

পরীর যাদুর বীজ

এর পর রিতা বীজটি নিয়ে খুশি মনে বাড়ি যায়। আর তার মাকে সব কিছু খুলে বলে। এর পর তার মা আর রিতা দুজনে মিলে তাদের বাড়ির সামনে যায়। আর রিতা বীজটি মাটিতে রেখে মন্ত্র পড়ে। আর তখনি বীজটি থেকে বিরাট একটি গাছ বের হয়। আর এক গাছে সব ধরনের ফল দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এই দেখে রিতা আর তার মার অনেক খুশি হয়। তারা দুজনে এক গাছ থেকে সব ধরনের ফল থেকে সব ফল পেরে নেয়।

এক গাছ থেকে সব ধরনের ফল নেয়ার সাথে সাথেই গাছটি অদৃশ্য হয়ে যায়। আর শুধু বীজটি সেখানে পড়ে থাকে। এর পরের দিন তারা দুজনে ফল গুলো নিয়ে তাদের দোকানে যায়। আর সেখানে ফল বেচতে শুরু করে। দিনেশ তো এত রকমের সতেজ ফল দেখে অবাক হয়ে যায়। গ্রামের সকলে আবারো রাহেলার দোকানে ফল কিনতে ভীড় জমায়। দিনেসের দোকানে কেউই যায় না।

এভাবে প্রতিদিন রাহেলা আর রিতা পরীর সেই বীজের সাহায্যে বিভিন্ন রকমের ফল নেয়। আর তারা বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে থাকে।