একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প

0
30
একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প
একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প

বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালোই আছেন। আজকে আমি আপনাদের একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প বলবো। সব থেকে মজার বিষয় হলো যে অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি একটি হাতিকে কেন্দ্র করে। চলুন কথা আর না বাড়িয়ে অনুপ্রেরণামূলক গল্প টি শুরু করি।

একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প টি একটি ছোট হাতিকে নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এক বনে একটি ছোট্ট হাতি বাস করত। তার নাম ছিলো আদরিনি। সে তার মায়ের সাথে সব সময় বনের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াত। আর এটাই ছিলো তার প্রতিদিনের কাজ। কারণ হাতিটি বনে ঘুরতে ভালোবাসত।

কিন্তু হঠাৎ একদিন বাচ্চা হাতিটির বিপদ হল। শিকারিদের তৈরি গর্তে আদরিনি হাতিটি আটকা পড়ল। তারপর শিকারিরা এসে তার পায়ে শিকল বাধলো এবং তাকে নিয়ে গেল। এরপর হাতিটিকে শিকারিরা বিক্রি করে দিলো একটি সার্কাস দলের কাছে। সার্কাস দলের যে, হাতি দিয়ে খেলা দেখায়। সে ছোট হাতিটিকে ছয় ফুট শিকল দিয়ে। বড় একটি কাঠের গুড়ির সাথে বেধে রাখলো।

বনের মুক্ত আদরিনি হাতিটি শিকল দ্বারা বন্দি হলো ছয় ফুট বৃত্তের মধ্যে। আদরিনির কাছে মনে হয়েছিল এ যেন এক অসহ্য যন্ত্রণা। কেননা সে বনে তার মায়ের সাথে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াত। আর এখন সে বন্দি হয়ে আছে সার্কাস দলের কাছে।

সে বার বার শিকলটি টান মারতে থাকে যেন শিকলটি ছিড়ে যায়। প্রতিনিয়ত টান মারতে থাকলেও কোন লাভ হয় না আদরিনির। বরং তার পা থেকে রক্ত ঝড়তে থাকে। অসহ্য ব্যথা ও যন্ত্রণা অনুভুত হয় আদরিনির। রক্তাত্ব পায়ে শিকলের টান পরলে ব্যাথা আরো তীব্র অনুভুত হয়। এত ব্যথার মাঝেও আদরিনি চেষ্টা করে যায়।

তবুও তার শিকল ছিড়ে না আর মুক্তিও মিলে না। অনেক চেষ্টার পর তার মনে হতে লাগলো যে শিকল ছিড়বে না। শিকল ছিড়তে গেলেই ব্যর্থতা আসবে। দিন যেতে থাকলো, আদরিনিও আস্তে আস্তে বড় হতে লাগল। কিন্তু শিকল সে ছিড়তে পারলো না। যতই দিন যাচ্ছে তার মুক্তির আকাংক্ষা আরো কমতে থাকে।

তার পৃথিবী ছোট হয়ে ছয় ফুট বৃত্তে পরিণত হল। আগের মত বেড়াতে যাওয়া শুরু করলেই পায়ের শিকল টান পড়ে যায়। ব্যথা অনুভুত হলে আদরিনি বুঝতে পারে তার সীমানা শেষ হয়েছে। কেননা সে শিকলে বন্দি। আস্তে আস্তে সে এসব বিষয়ে অভ্যস্ত হতে থাকে। একসময় তার বিশ্বাস হয় যে, শত চেষ্টা করেও সে এই সার্কাস দলের কাছ থেকে মুক্তি পাবে না।

অনুপ্রেরনার ছয় ফুটের পৃথিবী

শত চেষ্টা করেও সে শিকল টি ছিড়ে ফেলতে পারবে না। আদরিনি এতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠলো। এখন তাকে শিকল বাধার জন্য আর বিশাল গুড়ির সাথে বাধতে প্রয়োজন হয় না। ছাগল বাধার ছোট খুটিতে বাধলেও চলে। পরিনত বয়সে বিশাল দেহের অধিকারি হওয়া সত্তেও আদরিনি তার দীর্ঘ দিনের গড়ে ওঠা ধারণার নিগরেই আটকে থাকলো।

কেননা সে এত দিন উপলব্ধি করেছে যে, তার দ্বারা এই শিকল থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। কেউ তাকে অনুপ্রেরণাও দেয় নি। যে তুমি পারবে এই শিকল থেকে বের হতে। একঝটকায় খুটি থেকে মুক্তি পাওয়া শারীরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তার মনে বিশ্বাস জন্মেছে যে, সে এখান থেকে মুক্তি পাবে না। ছয় ফুটের বৃত্তই তার পৃথিবী।

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প এ, আদরিনি এটাই মনে করে যে, এটাই তার নিয়তি এটি তার ভাগ্য। যখনি তার পায়ে শিকলের টান লাগে তখনি সে বুঝে যে, এর বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। সার্কাস দলের লোক আদরিনিকে নানা জায়গায় নিয়ে যায়। আদরিনিও সার্কাস দলের সাথে যায় এবং তাকে যে খেলা শেখানো হয়েছে সেই খেলা দেখায়।

ফিরে এসে আদরিনি কে ওই ছোট খুটিতেই বেধে রাখা হয়। হঠাৎ করে একদিন সার্কাসের তাবুতে আগুন লেগে যায়। সার্কাসের লোকজন যে যার মত প্রাণ বাচিঁয়ে পালাতে থাকে। আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে এবং সবকিছু পুড়তে থাকে। অনেক চেষ্টার পর আগুন নেভানো হলো। আগুন নেভানোর পর দেখা গেলো অনেক কিছু পুড়ে গেছে।

আরো দেখা গেলো অনেক কিছুর সাথে সাথে আদরিনিও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পায়ে সেই শিকল টি রয়ে গেছে যেটা ঐ যে ছোট খুটির সাথে বাধা ছিল। খুটিটি ও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যথেষ্ট সামর্থ থাকা সত্ত্বেও অনুপ্রেরণার অভাবে ও ভ্রান্তবিশ্বাস এর কারনে সে বাচাঁর কোন চেষ্টাই করেনি আদরিনি।

এটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প হলেও এর সত্যতা রয়েছে। যারা সার্কাস দল দেখেছেন, তারা খোঁজ নিলেই দেখে থাকবেন। বিশাল আকারের হাতি গুলো কে এ ভাবেই বশে আনা হয়। সার্কাসের অনেক হাতি এভাবেই অগ্নিকান্ডে মারা যায়।

অনুপ্রেরনার নেতিবাচক কিছু কথা

এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প টিতে, হত ভাগীনি এই হাতির মত ভ্রান্ত বিশ্বাসের ধারক আমাদের সমাজে অনেক রয়েছে। আমাদের মাঝেও অনেক ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। যেমন আমরা কপালের দোষ দিয়ে বলি, আমার পোড়া কপাল, এত দ্বায়িত্ব পালন আমি করতে পারবো না, এই দ্বায়িত্ব পালনের যোগ্য আমি নই, সে ভালো ইংরেজি মাধ্যমিকে পড়া শুনা করেছে , আমি তার সাথে ইংরেজিতে পারবো না, আমার জীবন এ দুঃখ ছাড়া সুখ নেই, বড় কিছু আমার দ্বারা হবে না এটা আমার কপালে নেই, আমার কপালে সুখ সইবে না এরকম হাজারো নেতিবাচক আত্ববিশ্বাসের ফলে আমরা সেই আদরিনির মত বন্দি জীবন যাপন করছি।

আমরা যে বিশ্বাস অন্তরে পোষণ করছি। সেটা সত্য হোক বা মিথ্যা হোক তার একটি সম্মোহনি ক্ষমতা রয়েছে।  ড.ম্যাক্সওয়েল বিশ্বাসকে এক ধরনের আত্বসম্মোহন বলে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন ভাবে সম্মোহিত হয়ে থাকে। সে নিজের অজান্তেই অন্যের ধারনা শুনেই সম্মোহিত হয় বা নিজের সম্পর্কে বার বার কোন ধারনা ব্যক্ত করে তা বিশ্বাস করে সম্মোহিত হয়।

অনুপ্রেরনামূলক উক্তি

এই বিশ্বাস আমাদের মনোযোগকে খুব শক্তিশালী ভাবে আকর্ষন করে থাকে। এর ফলে আমরা বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে বিশ্বাসের মত জেদ করা শুরু করি। ভ্রান্ত বিশ্বাসের এই গণ্ডি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ড.ম্যাক্সওয়েল এর দেওয়া কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস এর গন্ডি থেকে বের হতে পারবেন। অনুপ্রেরণামূলক গল্প থেকে আপনি নিজেই আপনাকে এই ৪ টি প্রশ্ন করুন-

১. বাস্তবে আপনার প্রতি হুমকি নেই কিন্তু আপনি কি এই পরিস্থিতিতেও কি ভয় বা দুশ্চিন্তায় পড়েন? যেমন ক্লাসে সবার পরিচিত হওয়া সত্বেও দাঁড়িয়ে কথা বলতে ভয় পাওয়া, ক্যামেরার সামনে অস্বস্তীবোধ করা ইত্যাদি এগুলো চিহ্নিত করে রাখুন।

২. আপনি যখন কোন কিছু করতে যান বা কোন কাজ করতে যান। তখন এমন সব ঘটনা ঘটে যা আপনার সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাড়াঁয়? সেগুলো কি কি? চিহ্নিত করুন।

৩. কোন কিছু করতে গিয়ে বা লক্ষ পূরণ করতে গিয়ে। কখনো কি মনে হয়েছে আমি এসব পারবো না। আমাকে দিয়ে এসব হবে না বা আমি এসবের যোগ্য নই, এসবের উপযুক্ত আমি নই। কোন কোন পরিস্থিতিতে এসব মনে হয়েছে ? তা চিহ্নিত করুন।

৪. আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে, আপনি আপনার লক্ষ্য পুরণ করার পথে এক ধরনের দীর্ঘ সুত্রিতায় আটকে যাচ্ছেন। সেগুলো কে নোট করে রাখুন। যেমন- কোন একটি কাজ আজকে না করে মনে হলো কালকে করবো এমনটা কোন পরিস্থিতিতে মনে হয়েছে তা নোট করে রাখুন।

আপনি জানেন যে, এই সব ভ্রান্ত বিশ্বাসের কোন যৌক্তিকতা নেই। তাই সফল হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস আজকে এখন থেকেই ঝেড়ে ফেলুন। নিজেকে চিনতে শিখুন। নিজেকে বলুন যে , আপনি পৃথিবীতে সবার থেকে আলাদা। আপনিই পারবেন। তাহলে আপনিও সফল ব্যক্তিদের মত নিজেকে সফল ব্যক্তির কাতারে দাড় করাতে পারবেন।