এই গল্প আপনার জীবন বদলে দেবে

0
33
এই গল্প আপনার জীবন বদলে দেবে
এই গল্প আপনার জীবন বদলে দেবে

আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের কাছে ভিন্নধর্মি গল্প নিয়ে এসেছি। যে গল্প জীবনের ভালো মন্দ দিক গুলো পরিবর্তন করে দেয়। যা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। তেমনি একটি গল্প নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। গল্প টি একটি অলস ব্যাক্তি এর জীবনী নিয়ে। এই গল্পটি পড়লে আপনার জীবন বদলে যাবে।

যে গল্প আপনার জীবন বদলে দেবে

এক সময় এক অলস প্রকৃতির মানুষ ছিল। আরো আট দশটা মানুষের মত সব কিছুই তার স্বাভাবিক ছিল। চিন্তা করার জন্য মস্তিস্ক ও ছিল স্বাভাবিক। তবুও সে কোন কাজ করতো না। সে শুধু সারাদিন এ নিজের পেটের জন্য কিছু জোগার করতো। আর তা না পেলে সে চুরি ও করতো। কিন্তু তবুও সে কোন কাজ করতো না।

একদিন সেই ব্যক্তিটি অন্যান্য দিনের মতই এদিক সেদিক ঘুরছিলো, তার পেট এর ক্ষুধা নিবারনের জন্য। কিছু দূর গিয়ে তার নজরে পরে একটি ফলের বাগান। আর ঐ সময় বাগানের আশে পাশে কেউ কোথাও ছিল না। সে ভাবলো এটাই সুযোগ আমার জন্য।

সে এদিক সেদিক তাকিয়ে আর একবার দেখে নিল। কাউকে না দেখে সে একটা গাছ এর দিকে গিয়ে গাছ এ উঠলো। ঠিক তখনি কোথা থেকে যেন বাগানের মালিক তাকে দেখতে পায়। এবং লাঠি নিয়ে তার দিকে আস্তে থাকে তাকে মারর জন্য। এটা দেখে অলস ব্যক্তি টি খুব ভয় পেয়ে যায়।

ভাবে যে আজকে তার অবস্থা খারাপ আছে। আর ফল এর কথা চিন্তা না করে গাছ থেকে তারাতারি নেমে দৌড়ে পালিয়ে আসে ঐ বাগান থেকে। দৌড়াতে দৌড়াতে অলস ব্যক্তি টি একটি জঙ্গলে চলে আসে। জঙ্গলের মধ্যে কিছু দূরে একটি ভাল্লুক দেখতে পায় সে। আর সেই ভাল্লুকের ছিলো মাত্র দুটি পা।

হয়তো কোন কারন বশত বাকি পা দুটো নেই। ভাল্লুকটি কোন রকম ঐ দুটো পায়ে ভর করে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। এই দৃশ্য দেখে লোকটির খুব খারাপ লাগলো ভাল্লুক টার জন্য। এই দৃশ্য দেখে লোকটি ভাবলো ভাল্লুকটির দুটো পা নেই, শুধু দুটি পা নিয়ে এই ভাল্লুক টি কেমন করে বেঁচে আছে। সে তো তার নিজের জন্য পর্যাপ্ত খাবার যোগার করতে পারে না।

তাহলে কেমন করে বেঁচে আছে? এইসব ভাবতে ভাবতে দেখে একটা বাঘ ভাল্লুকটার দিকে এগিয়ে আসছে। বাঘকে এদিক আসতে দেখে বনের সব পশু পাখি এদিক থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। সেই অলস ব্যাক্তি ও প্রাণ বাচাতে একটি বড় গাছ এ উঠে পড়লো। কিন্তু সে আশ্চর্য হলো এই দেখে যে, ভাল্লুকটা পালানোর জন্য বিন্দু মাত্র কোন চেষ্টা করছিল না।

সে আগে যেমন স্বাভাবিক ছিল, এখন ও তেমন স্বাভাবিক এ আছে। তার চেহারায় বিন্দু মাত্র ভয়ের চিহ্ন নেই। বাঘটি ভাল্লুকের কাছে চলে এসেছে। গাছে থাকা অলস ব্যাক্তি দেখলো, বাঘটির মুখে এক টুকরো মাংস। আর বাঘ সেই মাংসের টুকরো টা ভাল্লুকের সামনে রেখে চলে গেল পাশ কাটিয়ে।

আর ভাল্লুক সেই মাংস টুকরো খেতে লাগলো। এই দৃশ্যটি দেখে ঐ লোকটি বুঝতে পারলো যে, কিভাবে ভাল্লুক টি বেচে আছে  তার দুটো পা না থাকা সত্ত্বেও। অলস ব্যাক্তি এটা দেখে সত্যি অনেক আশ্চর্য হয়ে গেল। এটা কেমন করে সম্ভব। বাঘ ভাল্লুককে আক্রমন না করে, তাকে খাবার এনে দিচ্ছে । তাকে বাচঁতে সাহায্য করছে। এই চিন্তায় লোকটি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।

অলস ব্যাক্তি টি ভাবলো এই ঘটনার মাধ্যমে হয়তো আল্লাহ আমাকে কিছু বুঝাতে চাচ্ছেন। তার মানে আল্লাহ সবার জন্য কিছু না কিছু ভেবে রেখেছেন। সবাই বলতে আমিও অর্থাৎ আমার জন্য অবশ্যই কিছু ভেবে রেখেছেন। এই ভাল্লুককে যখন বাঘ এসে সাহায্য করলো আমাকেও কেউ না কেউ একজন সাহায্য করবে।

লোকটা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পাশের গ্রামের একটা রাস্তায় বসে পড়ল। কিন্তু অনেক ক্ষন কেটে গেলো কেউ অলস ব্যাক্তি টিকে সাহায্য করলো না। কেউ তাকে খাবার জন্য খাদ্য ও দিলো না।

এভাবেই সে রাস্তায় বসে আছে একদিন হলো। কিন্তু কেউ তাকে কোন সাহায্য করলো না। এভাবে নিরাশ হয়ে অলস ব্যাক্তি সামনের দিকে এগিয়ে চলতে থাকলো। কিছুদূর গিয়ে লোকটি এক সন্যাসির দেখা পেল। তার কাছে ফল ছিল। লোকটি তার কাছ থেকে কিছু ফল চেয়ে নিয়ে নিলো।

খাবার পর অলস ব্যাক্তি সব কিছু তাকে খুলে বললো। সন্যাসি ঐ লোকটি কে বললো, সত্যি আল্লাহ সবার জন্য কিছু না কিছু ভেবে রেখেছেন। লোকটি বলল, যদি তাই হবে তবে আমার জন্য কেন কিছু সাহায্য এলো না। আমিও তো রাস্তায় বসে ছিলাম একদিন যাবৎ। কোথায় কেউ তো কিছু নিয়ে আসেনি।

যদি তাই হতো, তাহলে মানুষ আমার জন্য কিছু নিয়ে আসতো। যেমন ভাল্লুকটার জন্য যদি একটা বাঘ প্রতিদিন খাদ্য নিয়ে আসে, তবে আমার জন্য কেন কোন মানুষ খাদ্য দিয়ে সাহায্য করে নাই। আমি কি দোষ করেছি।

সন্যাসি বললো তুমি ঠিকি ধরেছো, তোমাকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। কিন্তু তুমি তা ধরতে পারো নাই। আসলে আল্লাহ তোমাকে ভাল্লুক নয়, বাঘের মত হতে ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু তুমি না বুঝে ভাল্লুক এর মত হতে চাইছো। কেননা তোমার তো হাত, পা, চোখ, কান, নাক এক কথায় একজন সুস্থ মানুষের জন্য যা প্রয়োজন, তাই আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন। তাই দিয়ে তুমি তোমার জীবন চালাতে পার।

তুমি কেন ভাল্লুকের মত হতে চাইছো। আর অন্যের খাবারের জন্য চেয়ে থাকো?

অলস ব্যাক্তি গল্প থেকে শিক্ষা

বন্ধুরা ঠিক তেমনি আমরাও অনেকেই নিজেকে অনেক বেশি দুর্বল মনে করি। আর আমরা আল্লাহর কাছে কামনা করি যেন, কেউ আমাদেরকে সাহায্য করে। আমরা এটা ভাবি যে, কেউ একজন আসবে আর আমাদের সাহায্য করবে।

আমরা সব সময় অন্যের সাহায্যের জন্য বসে থাকি। আমরা নিজেরা সাহায্য করতে চাই না। তাই আমাদের উচিত অন্যের সাহায্যের জন্য বসে না থেকে, নিজের সমস্যার জন্য সমাধান বের করা। যাতে আমরা মানুষকে সাহায্য করতে পারি, যাদের আমাদের কাছ থেকে সাহায্যের প্রয়োজন।

কিন্তু আমরা সাহায্য না করে আশা করি, যে কেউ আমাদের সাহায্য করুক। আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই গল্পের বাঘের মত অন্য মানুষদের সাহায্য করা। তাহলে সমাজ এবং সমাজের মানুষ সবাই ভালো থাকবে।