আদর্শ ছেলে

0
31
আদর্শ ছেলের গল্প
আদর্শ ছেলে

রুপকথার আদর্শ ছেলের গল্প টিতে সাম নামের একটি ছেলে ছিল। তার মা সামের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করে যাতে সাম কোন কষ্ট ছাড়ায় বড় হতে থাকে। কিন্তু সামের মায়ের ধারণা ভুল ছিল। সামের বাবা তাকে সহ্য করতে পারতো না। একদিন সামের মা মারা যান।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালই আছেন। আজকে আমি আপনাদের একটি রুপকথার গল্প বলবো। গল্পটির নাম দিয়েছি আদর্শ ছেলের গল্প । আশা করি আদর্শ ছেলের গল্প টি আপনাদের ভাল লাগবে। চলুন শুরু করা যাক আজকের আদর্শ ছেলের গল্প –

আদর্শ ছেলে

এক গ্রামে সাম নামের একটি ছেলে ছিল। সামের যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবা মারা যায়। সামের মা সামের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জয়ন্ত নামের একজনের সাথে বিয়ে করে নেয়। জয়ন্তরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তার ও একটি মেয়ে ছিল। তার নাম ছিল পুজা। পরিবার এক হলেও জয়ন্ত কখনো সাম কে নিজের ছেলে হিসেবে মেনে নিতে পারে নি। সে সাম কে একদমই সহ্য করতে পারতো না। তাকে সব সময় কটু কথা শোনাতো।

এক দিন সাম স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলো। প্রচন্ড রোদের কারনে তার খুব পিপাসা পেয়েছিল। বাড়ি ফিরেই তার বোন পুজাকে বলে একটু পানি দাও। আমার খুব পিপাসা লাগছে। জয়ন্ত তখন বাড়িতেই ছিল। সামের এই কথা শুনে জয়ন্ত রেগে গিয়ে বলে, কেন তুই কি এমন কাজ করে এলি যে তোকে পানি এনে দিতে হবে। নিজে পানি নিয়ে খেতে পারিস না।

আর আমার মেয়ে তোর কাজ কেনো করবে তুই তো ওর নিজের ভাই না। তুই তো আর সারাজীবন ওর দেখাশোনা করবি না তাহলে পুজা কেন তোর কাজ করবে। আর শোন তুই আমার নিজের ছেলে না তুই আমার সৎ ছেলে। পর কখনো আপন হয় না বুজলি? জয়ন্তের কথা শুনে সামের খুব মন খারাপ হলো। সে খাওয়া দাওয়া না করে মন খারাপ করে নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে।

আদর্শ ছেলের গল্প এর সামের খুব কষ্ট অনুভুত হলো এই কথা গুলোয়। তার চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো। এই দেখে তার মা এসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। আর বললো, কি হয়েছে বাবা তুই খাবার খেলি না কেন? সাম উঠে তার মাকে জড়িয়ে ধরলো আর বললো, আমার সাথে বাবা কেন এমন আচরন করে। আমি তো পুজাকে আমার নিজের বোনের মত মনে করি।

মায়ের মৃত্যুর পর

তাহলে বাবা আমাকে কেন সৎ ছেলে বলে। তবে আমার ভাগ্যে কি বাবার আদর নেই? আমার সাথেই কেন এমন হয়? সামের মা তার চোখের জল মুছে দিয়ে বলে, বাবা এরকম করে মন খারাপ করিস না। দেখবি এক দিন ঠিক উনি তোর ভালোবাসা বুঝতে পারবে। আর উনিও একদিন তোকে মন থেকে নিজের ছেলে বলে মেনে নিবে। সাম নিজেকে সামলে নিলো আর বললো ঠিক আছে মা।

এভাবে চলতে থাকলো। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ একদিন সামের মা খুব অসুস্থ হন। তার পর হঠাৎ করেই সামের মা মারা যায়। সামের মায়ের মারা যাওয়ায় সাম খুব একা হয়ে গেলো। সামের রোজ তার মায়ের কথা মনে পরতো। আর নিজেকে একা ও অসহায় মনে করতো। সাম তার মায়ের ছবিকে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকে। এখন সামের না আছে কেউ খোজ নেয়ার, না আছে তাকে খাবার দেয়ার লোক। সাম একদম একা হয়ে গেলো।

একদিন সকাল বেলা জয়ন্ত সব জিনিস পত্র একটি ব্যাগ এ করে ঘরের বাইরে ফেলে দিলো। আর বললো, যখন তোর মা ই বেচে নেই তবে তুই আমার বাড়িতে কেন অন্ন ধ্বংস করবি? এখনি বের হয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। জয়ন্তর কথা শুনে সাম তাকে প্রণাম করে তার সমস্ত জিনিস পত্র নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। সারা দিন তার পেটে কোন খাবার যায়নি। সাম রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকে। ঘুরতে ঘুরতে সাম একটি হোটেলের নোটিশ দেখতে পায়।

যাতে লেখা ছিল এখানে একজন বাসন মাজার কাজের লোক প্রয়োজন। সাম মনে মনে ভাবলো এখানেই কাজ করবে তাহলে সে খেতেও পাবে আর কিছু পয়সাও পাবে। এমনিতেও সারা দিন হয়ে গেলো কিছু খেতে পায়নি। সাম হোটেলের কাজ করতে রাজি হয়ে যায়। এভাবে সে কাজ করে আর পড়াশুনাও করতে থাকে। সাম সারা দিন খুব পরিশ্রম করত। রোজই সাম তার মায়ের কথা চিন্তা করে কাদতে থাকতো। এভাবেই দিন কেটে যেতে থাকলো। সাম খুব পরিশ্রম করে পড়াশুনা করতে থাকে। অবশেষে সামের পরিশ্রম সফল হলো।

সাম চাকুরী পাওয়ার পর

সে গবমেন্ট অফিসার পরিক্ষায় পাস করে গেলো। সাম পানি বিভাগের প্রধান অফিসার হয়ে সামের গ্রামেই পোস্টিং হলো। গ্রামে পানির অভাব দেখা দিলে। গ্রামের লোকজন পানির সমস্যা সমাধানের জন্য পানি বিভাগে গেলো।

আদর্শ ছেলের গল্প এর সামকে তারা পানি বিভাগে দেখে খুব খুশি হয়। আর ভাবে গ্রামের ছেলে আজকে গভমেন্ট এর পানি বিভাগে চাকরি করছে। গ্রামের সবাই সামকে পানির সমস্যার কথা বলে। সাম তাদের সমস্যা তারাতারি দূর করার জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়। ওদের মধ্যে মুন্সিজি সামের সাথে দেখা করে বলে, বাবা সাম কেমন আছো? সাম বললো, আমি ভালো আছি।

আদর্শ ছেলের গল্প এর মুন্সিজি আরো বলে বাবা তুমি আমাদের গায়ের ছেলে, নিজেকে আজকে এই জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছো তাতে আমরা গর্ব করি। তোমার আজকে আমার বাড়িতে দাওয়াত। আজকে রাতে তুমি আমাদের বাড়ীতে খাবে। তুমি না করবেনা বাবা। সাম না না বলা স্বত্ত্বেও তার কথায় রাজি না হয়ে উপায় ছিল না। তাই সামকে ওনার কথায় রাজি হতে হলো।

সন্ধ্যে বেলা যখন সাম মুন্সিজির বাড়িতে গেলো তখন সাম দেখলো জয়ন্ত তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আর তাকে খুব চিন্তিত লাগছিলো। সাম চিন্তিত দেখানোর কারন জানতে চাইলে জয়ন্ত রাগ করে বলে, কিছু না। এই বলে জয়ন্ত চলে গেলো। জয়ন্ত চলে গেলে সাম মনে মনে ভাবে বাবাকে এত চিন্তিত লাগছে কেন?

সাম মুন্সিজির ঘরে যায়। তখন মুন্সিজি কি যেন হিসাব নিকাশ করছিলেন। মুন্সিজি সামকে দেখে খুব খুশি হলেন এবং বসতে দিলেন। তারপর সাম আর মুন্সিজি একসাথে খাবার খেতে লাগলো। খাবার খেতে খেতে মুন্সিজি সামকে বলে, আচ্ছা বাবা তোমার কাজ কর্ম কেমন চলছে? সাম বললো হ্যা মুন্সি কাকা কাজ কর্ম খুব ভালই চলছে।

কাকা একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিল? মুন্সি বললো বলো কি জানতে চাও? সাম বললো, আসার সময় দেখলাম বাবা বাইরে খুব চিন্তিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে? মুন্সি বলে, বাবা কি যে বলি তোমার বোনের বিয়ের জন্য ওনার কাছে পয়সা নেই। তাই জয়ন্ত টাকার জন্য বাড়িটা বিক্রি করার কথা বলতে আসছিলেন। সাম বলে বাবার কত টাকার দরকার কাকা?

বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কর্তব্য

মুন্সি বলে তা প্রায় পাঁচ লাখ। সাম বললো কাকা আপনি বাবার বাড়ীর কাগজ নিয়ে থাকলে তা ফেরত দিয়ে দিবেন। আমি আপনাকে টাকাটা দিচ্ছি। এই বলে সাম মুন্সিজিকে পাচঁ লাখ টাকার একটি চেক দিয়ে তার বাড়ি থেকে চলে আসলো।

এর কিছুক্ষণ পর জয়ন্ত বাড়ি বিক্রি করার জন্য মুন্সি বাড়ি আসলো। মুন্সিকে টাকার কথা বলতেই মুন্সি সামের কথা মত তার বাড়ির কাগজ সহ টাকা জয়ন্ত কে দিয়ে দেয়। জয়ন্ত বলে, একি মুন্সিজি আপনি আমাকে টাকাও দিচ্ছেন আবার বাড়ির কাগজও দিচ্ছেন ব্যাপার কি? মুন্সি বলে দেখ এই টাকাটা আমার না এটা তোমার ছেলে সামের টাকা।

ওই আমাকে এই টাকা দিয়েছে তোমাকে দেয়ার জন্য। আজ তোমার সৎ ছেলে যা করলো নিজের ছেলেও তা এখন আর করে না। মুন্সিজির কথা শুনে জয়ন্তর চোখে জল এসে যায়। জয়ন্ত দৌড়াতে দৌড়াতে সামের বাড়িতে যায় এবং সামকে ডাকতে থাকে। সাম তার বাবার ডাক শুনতে পেয়ে বাইরে আসলো।

আদর্শ ছেলের গল্প এর সামকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে বলতে লাগলো, বাবা সাম তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও বাবা। আমি তোমার সাথে যে অন্যায় করেছি তা আমার করা উচিত হয়নি বাবা। আমাকে মাফ করে দাও। সাম বলে, না না বাবা এ আপনি কি বলছেন ? বাবা কি কখনো তার সন্তানের কাছে ক্ষমা চায়? আর এটা যে আমার কর্তব্য।

এই কথা বলতে বলতে সামের তার মায়ের একটা কথা মনে পড়ে যায়। তার মা তাকে বলেছিল, একদিন তোর বাবা তোকে ঠিকি তোকে বুঝবে তোর ভালোবাসা বুঝবে। তোকে তার নিজের সন্তানের মত করে মেনে নিবে। এই কথা মনে করে সামের চোখে পানি আসে।

এরপর জয়ন্ত আর সাম বাড়িতে গেলো। বাড়িতে গিয়ে পুজার বিয়ে খুব ধুম ধাম করে দিয়ে দিলো। আর তার পর সাম জয়ন্তকে নিয়ে শহরে চলে এলো। শহরে একটা বাসা নিয়ে দুই জনে বাবা ছেলে একসাথে থাকতে লাগলো।

রুপকথার আদর্শ ছেলের গল্প থেকে আমরা শিক্ষা পেলাম যে প্রতিটি মানুষের কিছু না কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। যা কিনা রক্তের সম্পর্কের চেয়ে ভালোবাসার সম্পর্কের দাম বেশী।