আকাশের চাঁদ চুরির গল্প

0
36
আকাশের চাঁদ চুরির গল্প
আকাশের চাঁদ চুরির গল্প

আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের একটা মজার গল্প বলবো। আশা করি গল্পটা সবার ভাল লাগবে। আর আমি আমার গল্পের নাম দিয়েছি আকাশের চাঁদ চুরির গল্প। এই গল্পটি লেখা হয়েছে তালপুর গ্রাম কে নিয়ে। এক অভিশপ্ত ডাইনি যে কিনা আকাশের চাঁদ চুরি করেছে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক আজকের রুপকথার গল্প আকাশের চাঁদ চুরি গল্প টি।

আকাশের চাঁদ চুরির গল্প

বহু বছর আগে তালপুর নামে একটি গ্রাম ছিল। ঐ গ্রামের মানুষ খুব সৎ এবং ভাল ছিল। তারা সবাই মিলেমিশে বসবাস করতো। তাদের সবার পেশা ছিল কৃষি কাজ। তারা সবাই চাষাবাদ করেই তাদের জীবিকা চালাত। তারা সবাই একে অপরের বিপদে আপদে সাহায্য সহযোগিতা করতো। আর ঐ গ্রামের মানুষ সবাই আকাশের চাঁদ কে ঈশ্বর হিসাবে পূজা করতো। এভাবেই তালপুর গ্রামের মানুষের জীবন অতিবাহিত হতো। আকাশের চাঁদ চুরির গল্প টি তাদের কে নিয়ে রচিত।

তালপুর গ্রামে মাহি নামের একটি মেয়ে তার বাবা মার সাথে থাকতো। মাহি তালপুর গ্রামের একটি স্কুলে পড়াশুনা করতো। সে পড়াশুনার পাশাপাশি তার বাবা মার কাজে সাহায্য করতো। এমনি একদিন সকালে মাহি তার বাবাকে মাঠে খাবার দেওয়ার জন্য গিয়েছিল।

তার বাবা কে খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয় করলো। সে ভাবলো তার সাথে কেউ হাটছে। তখন মাহি থামলো আর বলল, কে আমার পিছনে হাটছে। এই বলে মাহি এদিক ওদিক দেখতে থাকলো। কিন্তু হঠাৎ করেই মাহির সামনে এক দুষ্ট ডাইনি হাজির হলো। মাহি ডাইনি কে দেখে ভয় করলো।

তখন দুষ্ট ডাইনি মাহি কে বলল, আমি অনেক দিন হল কাউকে পাইনি। তাই অনেক দিন পর আমি তোমাকে পেয়েছি। এখন থেকে তুমি আমার চাকর হয়ে থাকবে। আজ থেকে তুমি আমার সব খারাপ কাজে সাহায্য করবে। তখন মাহি ডাইনি কে বলল, আমাকে ছেরে দাও। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি তোমার সাথে থাকতে চাইনা। আমি আমার বাবা মার কাছে চলে যেতে চাই। আমি তোমার কোন খারাপ কাজ করতে চাই না। ডাইনি বলল, আমি তোমাকে কোন ভাবেই ছারবো না।

আর কতদিন হয়ে গেল আমি ভাল মন্দ কিছু খেতে পাই না। এখন যা আমার জন্য ভাল ভাল কিছু খাবার তৈরী কর। দুষ্ট ডাইনির কথা শুনে মাহি বলল, আমি ছোট আর আমি খাবার বানাতে পারি না। মাহি কথা বলতে বলতে সে ডাইনির চোখে ধুলা দিয়ে পালাতে চেষ্টা করলো। কিন্তু মাহি যেতে পারলো না। দুষ্ট ডাইনি তার যাদুর দ্বারা মাহি কে ধরে ফেললো।

দুষ্ট ডাইনির অবস্থা

তখন মাহি খুব জোরে জোরে চিৎকার করা শুরু করলো। মাহির চিৎকারের আওয়াজ মাঠে যারা কাজ করছিল তারা সবাই শুনতে পেল। মাহির আওয়াজ শুনে তাকে বাঁচানোর জন্য মাঠের সবাই চলে আসলো। তারা সবাই এসে ডাইনি কে বলল, তোর এতবড় সাহস তুই আমাদের গ্রামের মেয়ে কে আটকে রাখিস।

তুই তারাতারি আমাদের মেয়েকে ছেরে দে। যদি ছেরে না দিস তাহলে তোর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাবে। তখন ডাইনি বলল, আমি ওকে ছারবো না। এ কথা শুনে গ্রামের লোক বলল, এখন দেখ আমরা তোর কি অবস্থা করি। এরপর তারা সবাই ঐ দুষ্ট ডাইনি কে মারতে শুরু করলো।

মার খেয়ে দুষ্ট ডাইনি গ্রামের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিল। আর বলল, আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি আর এই গ্রামে কোন দিন আসবো না। ডাইনির কথা শুনে গ্রামের মানুষ বলল, যদি কখনো আমরা তোকে এই গ্রামে দেখি। তাহলে তোকে আর বাঁচতে দেব না। শেষ বারের মত তোকে যেতে দিচ্ছি। কিন্তু ডাইনি জানত যে, এই গ্রামকে চাঁদ রক্ষা করে থাকে।

সেজন্য ডাইনি তাদের কথা শুনে ভয় পেয়ে গেল। আর সেখান থেকে চলে গেল। কিন্তু যাওয়ার আগে ডাইনি বলল, আমি এই অপমানের প্রতিশোধ নেব। আমি এই গ্রাম কে ধ্বংস করে ফেলবো। তারপর ঐ দুষ্ট ডাইনি গ্রামের পাশের জঙ্গলে থাকতে লাগলো। আর ঐ গ্রামের মানুষদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলো। এভাবে তার কয়েক বছর কেটে গেল।

হঠাৎ একদিন কারিনা নামের এক পরী তার রাজ্যে থেকে পৃথিবীতে ঘুরতে আসলো। সে ঘুরতে ঘুরতে তালপুর গ্রামে চলে আসলো। আর ঐ জঙ্গলের কাছে আসলো, যেখানে দুষ্ট ডাইনিটা থাকতো। আর দুষ্ট ডাইনি পরী কে দেখে তার যাদু দ্বারা তাকে বন্দি করলো। তখন পরী বলল, আপনি এটা কি করছেন।

আমাকে ছেরে দিন। আমাকে পরীর রাজ্যে চলে যেতে হবে। আর পরী রাজ্যের রানী মা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তখন ডাইনি বলল, অনেক দিন পর আমি সুযোগ পেয়েছি। এই তালপুর গ্রামের মানুষ কে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তোমাকে আমি এত তারাতারি কি করে ছেরে দেই।

দুষ্ট ডাইনি পরীকে দিয়ে চাঁদ চুরীর পরিকল্পনা

পরী বলল, তাহলে এখন আমাকে কি করতে হবে। কিন্তু আমি কারো ক্ষতি করতে পারবো না। তখন ডাইনি বলল, তোমার কারো ক্ষতি করতে হবে না। তোমার যে যাদু শক্তি আছে তাই দিয়ে আকাশের চাঁদ কে চুরি করে আমার কাছে নিয়ে আসবে। পরী বলল এটা তো খারাপ কাজ।

আর এটা আমি পারবো না। ডাইনি পরী কে বলল, যদি তুমি এটা করতে না পার। তাহলে তুমি কখনো তোমার পরী রাজ্যে চলে যেতে পারবে না। আর সারা জীবন তুমি আমার কাছে বন্দি হয়ে থাকবে। ডাইনির কথা শুনে পরী খুব ভয় পেয়ে গেল। আর কাঁদতে কাঁদতে ডাইনির কথায় রাজি হয়ে গেল।

পরী যেদিন চাঁদ চুরি করতে গিয়েছিল সে দিন পূণিমার রাত ছিল। পরী তার যাদু শক্তির মাধ্যমে চাঁদ কে তার কাছে নিয়ে আসলো। পরী চাঁদ কে নিয়ে গিয়ে ডাইনি কে দিয়ে দিল। ডাইনি তখন চাঁদ কে বড় একটা গর্তে লুকিয়ে রাখলো।

চাঁদ হাওয়া হয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ খুব বিপদে পরে গেল। তারা নিজেদের মধ্যে কানা কানি করতে লাগলো। তারা বলল, আমরা তো চাঁদের পূজা করি। কিন্তু আকাশে তো আজকে চাঁদ নেই। এখন আমাদের কি হবে। আর কে কিভাবে আকাশের চাঁদ কে চুরি করে নিয়ে গেল।

কেউ বলছে আমাদের মনে হয় কোন অনিষ্ট হয়েছে। গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল। তখন ডাইনি চলে এলো, এসে তাদের সামনে দাত বের করে হাসতে লাগলো। আর বলল, আমি আকাশের চাঁদ কে চুরি করে নিয়েছি। এখন দেখবো কে তোমাদের রক্ষা করে। আর এখন থেকে তোমাদের আমি যা বলবো তোমাদের তাই করতে হবে। ডাইনির কথা শুনে গ্রামের মানুষ ভয় পেয়ে গেল। আর ডাইনির কাছে ক্ষমা চাইলো।

আকাশের চাঁদ চুরি করার পর ডাইনি ঐ গ্রামের মানুষ দের উপর অত্যাচার শুরু করলো। আর গ্রামের মানুষ ডাইনির জন্য খুব ঝামেলায় পরে গেল।

আকাশের চাঁদ চুরি করার পর ডাইনি

একদিন তালপুর গ্রামের মানুষ মাঠে বসে ছিল। ঠিক সেই দিন পরী রাজ্যের পরী রানী, কারিনা পরীকে খুজতে খুজত তালপুর গ্রামে এসেছিল। পরী রানী কে দেখে মাহি  বলল, আপনি কে আর আপনি কি কাউকে খুজছেন। তখন পরী বলল, জ্বী আমি কারিনা পরী কে খুজছি। সে কিছুদিন আগে তোমাদের এই তালপুর গ্রামে ঘুরতে এসেছিল। কিন্তু কারিনা পরী এখনো পরী রাজ্যে ফিরে যায়নি। ওর জন্য আমার খুব চিন্তা হচ্ছে। সেই জন্য আমি এখানে খুজতে এসেছি।

পরী রানীর কথা শুনে মাহি কিছুটা বুঝতে পারলো। আর মাহি পরীকে বলল, আমার মনে হয় ঐ দুষ্ট ডাইনি কারিনা পরী কে বন্দি করেছে। তখন পরী রানী মাহি কে বলল, আপনারা কোঁন ডাইনির কথা বলছেন। তখন গ্রামের সবাই পরী রানী কে সব কিছু খুলে বলল। তাদের কথা শুনে পরী রানী বলল, ডাইনি তাহলে কারিনা পরী কে দিয়ে আকাশের চাঁদ চুরি করে নিয়েছে। এখন আপনারা আমাকে ঐ জঙ্গলে নিয়ে চলুন। তারপর দেখ আমি ডাইনিটার কি অবস্থা করি।

পরী রানীর কথা শুনে গ্রামের মানুষ তাকে ঐ জঙ্গলে নিয়ে গেল। পরী কে দেখে ডাইনি খুব ভয় পেয়ে গেল। আর সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু পরী রানী তার যাদু শক্তির দ্বারা ডাইনি কে বন্দি করলো। আর ঐখানে একটা খাচার মধ্যে থেকে কারিনা পরী কে উদ্ধার করলো। তখন কারিনা পরী আকাশের চাঁদ চুরির কথা বললো।

আর সেই চাঁদ যে গর্তে রেখেছে সেখানে গ্রামের সবাই কে নিয়ে গেল। সবাই মিলে ঐ গর্ত থেকে চাঁদ কে বাহিরে বের করে আনলো। আর সেই চাঁদ পরী রানী আবার আকাশে পাঠিয়ে দিল। এরপর পরী রানী দুষ্ট ডাইনি কে নিয়ে পরী রাজ্যে চলে গেল। তারপর থেকে গ্রামের মানুষের উপর আর কেউ অত্যাচার করতে পারে নি। গ্রামের সবাই তখন মিলেমিশে বসবাস করতে থাকলো।

তাহলে বন্ধুরা আজকে আমরা আকাশের চাঁদ চুরির গল্প থেকে শিখতে পারলাম যে, সব সময় মানুষের উপকার ও সাহায্য করা উচিত। তাহলে আমরাও কোন না কোন ভাবে মানুষের উপকার পাবো।